রাচনা আশ্চর্য রকমের শীতল কিন্তু অত্যন্ত কঠিন স্বরে জিজ্ঞেস করল, ‘What’s going on, Steve?’
স্টিভের মুখে কোন কথা নেই।
‘I can’t believe this is happening. For how long this has been going on?’
স্টিভ নিরুত্তর।
‘How long have you been cheating on me?
স্টিভ এবারো কোনো উত্তর দিল না।
এবার রাচনার কণ্ঠে আগুন ঝরে পড়ল। সে চিৎকার করে বলল, ‘Answer me Steve?’
‘Listen, Rasna… calm down, let me explain.’ স্টিভ রাচনার হাত ধরার চেষ্টা করল।
রাচনা এক পা পিছিয়ে সরে গিয়ে বলল, ‘Explain what? I’ve seen, what there’s to see. No need of any explanation. This is it…’
‘No, this is not it… you gotta listen to me Rasna…’
স্টিভ মরিয়া হয়ে রাচনার হাত ধরার চেষ্টা করল। রাচনা কিছুতেই স্টিভকে তার হাত ধরতে দিল না। এক পর্যায়ে স্টিভ জোর করে রাচনার হাত ধরল এবং সজোরে চাপ দিতে থাকল। রাচনার মাথায় আগুন উঠে গেল। সে স্টিভের হাতে একটা কামড় বসিয়ে দিল।
স্টিভ ব্যথায় ককিয়ে উঠল। এবং তৎক্ষণাৎ সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিল রাচনার গালে।
রাচনা মুখে হাত দিয়ে পিছিয়ে গেল এক পা এবং অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল স্টিভের মুখের দিকে।
এক মুহূর্তের মধ্যেই স্টিভ বুঝে গেল কী ভুল সে করেছে। সে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাইল রাচনার কাছে। ‘Oh my God! What did I do? I’m so sorry Rasna. Please forgive me. I’m really sorry. I didn’t mean to…’
রাচনা এখনো সেই একই দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে স্টিভের দিকে।
স্টিভ নিজের কাছেই যেন বলল, ‘Oh shit.. I’m in big trouble.’
রাচনার চোখে মুখে ঘৃণা ঝরে পড়ছে। খুব ধীরে ধীরে এক পা এক পা করে পিছিয়ে গেল সে—স্টিভের দিক থেকে চোখের পলক না সরিয়েই।
স্টিভ বুঝতে পারল ঘটনা অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। সে বলল, ‘No… please don’t go. Please!!!’
দরজা খুলে বের হয়ে এলো রাচনা। স্টিভের মুখের উপর সজোরে দরজা বন্ধ করে দ্রুত নেমে গেল সিঁড়ি বেয়ে।
স্টিভ দ্রুত বের হয়ে এলো পিছে পিছে—দেখল রাচনা সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে নেমে যাচ্ছে। সে অনুনয় মিশ্রিত কণ্ঠে বলল, ‘Rasna, please stop… don’t go. Please give me a chance!’
রাচনা ততক্ষণে নিচে নেমে গেছে। লম্বা লম্বা পা ফেলে মুহূর্তের মধ্যে সে তার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল আবাসিক এলাকার গেট পেড়িয়ে।
স্টিভ বোকার মত তাকিয়ে রইল রাচনার গমন পথের দিকে।
…
দীর্ঘ নীরবতা।
অর্ণব তাকিয়ে আছে রাচনার মুখের দিকে। তার চাহনিতেই বলে দেয় সে জানতে চাইছে তারপর কী হলো?
রাচনা অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এরপর যা হবার তাই হলো। আমরা আলাদা হয়ে গেলাম।’
একটু থেমে রাচনা আবার বলল, ‘আমার এখনো বিশ্বাস হয় না। ভেবেছিলাম আমেরিকান বর্ন একটা ছেলে—অন্তত একটা মেয়েকে কিভাবে রেসপেক্ট করতে হয় জানে। কিন্তু আমার ধারনা ভুল ছিল।’
অর্ণব আবার তাকাল উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে।
রাচনা বলল, ‘আসলে সাদা, কালো, বাদামী এগুলো কোন বিষয় নয়। এদের আউটার লুকটাই শুধু আলাদা—ভেতরে সবাই এক। একই রক্ত-মাংসের মানুষ।’
এরপরে রাচনা আর কোনো কথা বলল না। হঠাৎই যেন চুপ করে গেল।
অর্ণবও আর কিছু বলল না। আসলে এরপর আর কোনো কিছু জানতে চাওয়াটা বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। একদিনে যথেষ্ট জানা হয়েছে। এদিকে সময় গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়েছে অনেক আগেই।
অর্ণব বলল, ‘চলো ফেরা যাক।’
‘হুম, চলো।’
তারা ফিরে গেল তাদের নীড়ে।
…
সেদিনের পর থেকে রাচনাকে নিয়ে অর্ণব ভেবেছে। মেয়েটার জীবনে এমন একটা দুঃখজনক অধ্যায় আছে সেটা জানার পর থেকে রাচনার প্রতি একধরনের সহানুভূতি অনুভব করতে লাগল সে। অর্ণব হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিল, রাচনাকে একটা সারপ্রাইজ দিয়ে তার মনটাকে ভালো করে দেয়া যায়। রাচনার সৌন্দর্য, মাধুর্য এবং সরলতা অর্ণবকে খুব টানছে। একটু একটু করে মেয়েটিকে তার ভালো লাগা শুরু হয়েছে। মেয়েটির প্রতি একটা অন্যরকম টান অনুভব করছে সে। একদিন সন্ধ্যায় সে ফোন করল রাচনাকে।
ওপাশ থেকে ফোন ধরতেই অর্ণব বলল, ‘আমি।’
‘কি ব্যাপার অর্ণব?’ রাচনা হেসে জিজ্ঞেস করল।
‘আমার এখানে একটু আসতে পারবে?’
‘এখন?’
‘হ্যাঁ।’
‘জরুরী কিছু?’
‘কেন, জরুরী কিছু না হলে বুঝি আসা যাবে না?’
‘না না, তা হবে কেন?’
‘তা হলে এসো।’
‘মাত্র তো কাজ থেকে এলাম। একটু ফ্রেশ হয়ে আসি। গিভ মি লাইক থার্টি মিনিটস।’
‘ওকে।’
ফোন রেখে দিয়ে রাচনা দ্রুত তৈরি হয়ে নিল। কিছুক্ষণ আগে গোসল করাতে চুল এখনো ভেজা। হেয়ার ড্রাইয়ার দিয়ে চুল তাড়াতাড়ি শুকিয়ে নিল যতটুকু সম্ভব। রাচনার চুল কিছুটা কোঁকড়ানো—সে চুল না বেঁধে ছেড়ে দিল ঘাড়ের দুপাশে। অনেকদিন হলো রাচনা সেই অর্থে সাজগোজ করে না বললেই চলে। আজ একটু করল। সুন্দর গোলাপী রঙের একটা লং-স্কার্টের সঙ্গে হালকা মেকআপ দিল। গলায় একটা সুন্দর হার পড়ল। কপালে যত্ন করে একটা টিপ দিল। স্কার্টের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা গোলাপী রঙের লিপস্টিক দিল ঠোঁটে। একবার আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখল নিজেকে। এবং নিজেই খানিকটা মুগ্ধ হয়ে গেল। বাহ, বেশ সুন্দর লাগছে তো?
সবশেষে রাচনা তার প্রিয় জুসি কুটর ফারফিউম সারা শরীরে স্প্রে করে বের হয়ে গেল ঘর থেকে।
দরজায় টোকা দিতেই অর্ণব দরজা খুলে দিল।
রাচনা অবাক হলো—মনে হচ্ছে অর্ণব বুঝি দরজা ধরেই দাঁড়িয়ে ছিল। রাচনাকে দেখে অর্ণবের হাসি বিস্তৃত হলো। সে হাসি মুখেই বলল, ‘এসো।’
অর্ণব দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে রাচনাকে ঢুকতে দিল। রাচনা ভিতরে ঢুকেই বলল, ‘এলাম। এবার বলো কী ব্যাপার?’
ঘরে ঢুকতেই অর্ণবের বাসার ডাইনিং এরিয়ায় চোখ পড়ল রাচনার। সে লক্ষ করল হরেক রকমের আইটেম দিয়ে টেবিল সাজানো—একেবারে দেশি রান্না। টেবিলটা সুন্দর করে সাজানো। মোমবাতি জ্বলছে কয়েকটা মোমদানিতে। এক তোরা গোলাপ সাথে অন্যান্য ফুলের মিশ্রণে ফুলদানিতে ফুল সাজানো। সারা বাসায় আধো আলো আধো ছায়ায় একটা মায়াবী পরিবেশ তৈরী হয়ে আছে। ইংরেজিতে যাকে বলে রোমান্টিক ক্যান্ডেলাইট ডিনার! রাচনা অভিভূত হয়ে পড়ল। সে কিছু বলার আগেই অর্ণব তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘ক্যান উই হ্যাভ ডিনার টুগেদার, প্লিজ!’
রাচনা মুখে হাত দিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, ‘Oh my God! What a pleasant surprise. I can’t believe this. It’s so romantic!’
অর্ণব খুশি হলো।
‘এসব তুমি আমার জন্যে করেছো?’
অর্ণব হাসল। তার হাসির মধ্যেই উত্তর আছে আর সেটা হলো, অবশ্যই তোমার জন্যে রাচনা!
রাচনা বলল, ‘হাউ সুইট।’
রাচনা আবার সব খাবার আইটেম গুলো পরখ করে দেখল। অর্ণব একটা চেয়ার টেনে রাচনাকে বসতে দিল। রাচনা বসতেই তার প্লেটে খাবার তুলে দিল। রাচনা যার পর নাই খুশি এবং একই সাথে যথেষ্ট অবাকও হলো। অর্ণবের এমন আতিথিয়েতায় রাচনা সত্যিই অভিভূত। সে মহা উদ্যমে খাওয়ার জন্যে বসে পড়ল।
‘তোমার ভালো লাগবে কিনা জানিনা, বাট আই ট্রাইড মাই বেস্ট।’
‘যে সুন্দর করে সাজিয়েছ, আমার তো অনেক ভালো লাগছে।’
‘আমি রান্নার কথা বলেছি।’
‘ও আচ্ছা, খেয়ে দেখি।’
রাচনা প্রতিটা আইটেম টেস্ট করে বলল, ‘রান্নাও বেশ মজা হয়েছে। তুমি দেশে থাকতে রান্না করতে?’
‘কক্ষনো না। গ্রামে থাকতে তো প্রশ্নই আসে না—আর ঢাকায় থাকতাম হলে। রান্নার সুযোগ কোথায়? এখানে বাধ্য হয়ে করি। তাছাড়া, এখানকার ফাস্ট ফুডে আমি অভ্যস্তই নই। আর প্রতিদিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার মত বিলাসিতাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই একটু আধটু রান্নার অভ্যাস করেছি।’
‘ভালো করেছো। এখানকার বাইরের খাবার খেতে আমারও ভালো লাগে না। আবার রান্না করতেও আমার ভালো লাগে না। বাট আই মাস্ট এগ্রি, তোমার রান্না খেলে যে কোন মেয়েই তোমার প্রেমে পড়ে যাবে।’
অর্ণব হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই বলল, ‘তাই, যে কোন মেয়ে আমার প্রেমে পড়ে যাবে?’
‘আমার তো তাই ধারণা।’
‘তুমি পড়বে?’ বলে রাচনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল অর্ণব।
রাচনাও তাকাল অর্ণবের দিকে। বোঝার চেষ্টা করল অর্ণবের কথায় কতটা দুষ্টুমি আর কতটা সত্যতা মিশে আছে। চেহারা দেখে অবশ্য কিছু বোঝা গেল না। রাচনা হেসে দিয়ে বলল, ‘পড়তেও তো পারি। মানুষ হিসেবে তো তোমাকে ভালোই মনে হচ্ছে। দেখতেও খারাপ না। হান্ডসাম, কেয়ারিং, ফ্রেন্ডলি—তার উপর এখন দেখছি ভালো রান্নাও করো। দ্যাটস অলওয়েজ এ প্লাস!’
‘শুনতে কিন্তু ভালোই লাগছে।’
রাচনা শব্দ করে হেসে উঠল। এবং সে হাসতেই থাকল। এই মুহূর্তে হাসির এমন কী ঘটল তা অবশ্য বোঝা গেল না। অর্ণবের ভীষণ ভালো লাগল রাচনাকে এভাবে উচ্চস্বরে হাসতে দেখে। সে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল রাচনার দিকে।
রাচনা হঠাৎ লক্ষ্য করল এবং ইশারায় ভ্রূ কুঁচকে চাইল প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে।
মাথা নেড়ে অর্ণব বোঝাল না কিছু না। একটু চুপ করে থেকে সে বলল, ‘এভাবে হাসতে পারো না? তুমি কি জানো, হাসলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে? সারাক্ষণ এতো গম্ভীর হয়ে থাকো কেন বলতো?’
রাচনা অবশ্য কিছু বলল না। চুপচাপ খাওয়া শেষ করল। অর্ণব তার প্লেটখানি নিয়ে বেসিনে রেখে দিল। তারপর সেখান থেকেই রাচনাকে জিজ্ঞেস করল, ‘কফি খাবে?’
‘এখন? না বাবা, এতো রাতে কফি খেলে আমি সারারাত ঘুমাতেই পারব না।’
‘একটা রাত না হয় না ঘুমলে… ভালই হবে গল্প করা যাবে।’
‘উহু—তার কোন সম্ভাবনা নেই।’
‘ঠিক আছে তুমি বসো, আমি আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আসি।’
রাচনা উঠে এসে সোফায় বসল। সেখান থেকেই অর্ণবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা তুমি বিয়ে করনি কেন? তোমার মত একটা অলরাউন্ডার ছেলের বিয়ে হয়নি, ভাবাই যায় না।’
অর্ণব কোনো জবাব দিল না। সে তার কফি নিয়ে এসে বসল রাচনার সামনে। কফিতে একটা চুমুক দিয়ে বলল, ‘পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্মই হয় শুধু যুদ্ধ করার জন্য। আমি তাদেরই একজন। জীবন যুদ্ধে প্রথম সারির একজন সৈনিক বলতে পারো। আমার জীবনটা অনেকটা প্যালেস্টাইনদের মতো। জন্মের পর থেকেই যারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শুধু যুদ্ধ করেই যাচ্ছে। স্বাধীনতা বলে ওদের কিছু নেই।’
‘এখন তো তুমি আমেরিকায়। এখানে চাইলেই তুমি তোমার মতো স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারো।’
‘না, পারিনা। চাইলেই আমরা অনেক কিছুই করতে পারিনা, রাচনা। করা উচিতও নয়।’
‘উচিৎ নয় কেন?’
অর্ণব কিছুক্ষণ ভাবল। কিন্তু রাচনার প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলল, ‘বাদ দাও আমার কথা। তুমি কেন বিয়ে করলে না? স্টিভের সাথে ডিভোর্সের পরে ছয়টি বছর কাটিয়ে দিলে—একা। ছয় বছরতো আর কম সময় না। একা একা খারাপ লাগে না?’
‘খারাপ তো লাগেই। একা জীবন কার ভালো লাগে।’
‘তাহলে?’
‘স্বার্থপর কারো সাথে নিজেকে জড়ানোর চেয়ে একা থাকাই ভালো।’
‘মানে?’
‘আমাকে একা দেখে অনেকেই আসে, কথা বলতে চায়, ভালোবাসতো চায়। ব্যস, ঐ পর্যন্তই। বেশিরভাগই আসে গ্রিনকার্ডের লোভে।’
‘আর যাদের সে লোভ নেই?’
রাচনা তাকাল অর্ণবের দিকে, কিন্তু কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল।
‘কাউকে দেখে একেবারও মনে হয়নি যাকে আবার জীবন সঙ্গি হিসেবে বেছে নেয়া যায়?’
‘মনে করার সময় পাইনি। আমিও যে তোমার মতই যুদ্ধ করে যাচ্ছি অর্ণব।’
এরপর আর কোনো কথা বলল না কেউ। অর্ণব তার কফিতে চুমুক দিয়ে ভাবছিল কিছু কথা। হঠাৎ রাচনা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘অনেক রাত হয়েছে। থ্যাংকস ফর সাচ এ ওয়ান্ডারফুল সারপ্রাইজ। তোমার সাথে সময়টা বেশ ভালোই কাটল অর্ণব।’
‘আমারও।‘
‘যেতে ইচ্ছে করছে না।’
‘তবে থাকো না আর একটু—কেউ তো জোর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে না।’
‘না থাক, আজ যাই।’ বলেই রাচনা উঠে দাঁড়াল।
‘ঠিক আছে।’
রাচনাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল অর্ণব। রাচনা বিদায় নিয়ে কয়েক পা এগিয়ে যেতেই পেছন থেকে অর্ণব ডাকল, ‘রাচনা।’
রাচনা ঘুরে দাঁড়াল এবং তাকাল অবাক হয়ে।
অর্ণব কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু কিছুতেই বলতে পারছে না।
রাচনা তাকিয়েই আছে।
শেষ পর্যন্ত ইতস্তত করে বলেই ফেলল অর্ণব, ‘আই থিংক, আই’ম ইন লাভ উইথ ইউ!’
রাচনা কিছুই বলল না। তার চেহারায় কোনো পরিবর্তন হলো কিনা কিছুই বোঝা গেল না। এক মুহূর্ত অপেক্ষা করে সে বলল, ‘গুড নাইট অর্ণব।’
যথাসম্ভব দ্রুত পা ফেলে রাচনা পার হয়ে গেল লম্বা করিডোর তারপর নেমে গেল সিঁড়ি বেয়ে।
সেই কফি শপ (পর্ব-৬)
with
no comment

