সারারাত অস্থিরতায় কাটল অর্ণবের।
রাতটা প্রায় জেগে জেগেই কাটিয়ে দিল সে—দু’চোখের পাতা এক করতে পারে নি। সে জানে, রাচনাও পারে নি ঘুমাতে। এ কীসের অস্থিরতা সে জানে না—জানতে চায়ও না। তার মন শুধু জানে—সে কী চায়।
ভোরের আলো ফোঁটার আগেই সে মনে মনে অন্যরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। সকালে অফিসে যেয়েও তার অস্থিরতা কমল না একটুকুও। ডেস্কে কিছু দরকারি কাজ শেষ করেই সে ফোন হাতে চলে গেল ব্রেক রুমে।
ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে বেশ নামী এবং ব্যস্ত একজন সিপিএ মাহবুব খান—রাচনার বড় ভাই। তার বিজনেস ক্লায়েন্টের সংখ্যা অসংখ্য। সারাবছরই তার ব্যস্ততা লেগেই থাকে। সকালে একটা ক্লায়েন্ট মিটিং-এ যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল। ব্লু-টুথের মাধ্যমে গাড়ির স্পিকারে ফোন অন করে তিনি বললেন, ‘হ্যালো, মাহবুব স্পিকিং।’
‘মাহবুব ভাই, আমি অর্ণব।’
‘অর্ণব?’ মাহবুব খান হঠাৎ করে অর্ণবকে চিনতে পারলেন না। কয়েক মুহূর্ত পরেই তিনি বুঝতে পারলেন এবং বললেন, ‘ও হ্যাঁ অর্ণব—কী ব্যাপার?’
‘আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিল। আমি কি আপনার অফিসে একটু আসতে পারি।’
‘আমি তো এখন অফিসে নেই। একটা ক্লায়েন্ট মিটিং আছে। তুমি বরং লাঞ্চের সময় আমার অফিসে চলে এসো—তখন না হয় কথা বলা যাবে। একটু ধরো, আমি এড্রেসটা দিচ্ছি।’
মাহবুব সাহেব অর্ণবকে অফিসের এড্রেস দিয়ে ফোন কেটে দিলেন।
লাঞ্চ আওয়ার শেষ করে অর্ণব আরেকবার ফোন করল মাহবুব খানকে। ব্যস্ত মানুষ বলা তো যায় না। অফিসে যেয়ে দেখল তিনি নেই। তাই নিশ্চিত হবার জন্যেই ফোনটা করল সে। মাহবুব সাহেব জানালেন তিনি অফিসেই আছেন। অল্প সময় পড়েই অর্ণব হাজির হয়ে গেল মাহবুব খানের অফিসে। রিসেপশনিস্ট মাহবুব সাহেবের অফিস রুম দেখিয়ে দিল। অর্ণব দরজায় টোকা দিয়ে বলল, ‘মাহবুব ভাই, আসব?’
মাহবুব তাকিয়ে দেখলেন অর্ণবকে। তারপর সহাস্যে বললেন, ‘অর্ণব এসো, বসো।’
অর্ণব বসল একটা চেয়ার টেনে।
মাহবুব সাহেব লক্ষ করলেন, অর্ণবের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। মনে হচ্ছে কিছু নিয়ে সে চিন্তিত। তিনি বললেন, ‘কী ব্যাপার অর্ণব? এনিথিং রং? ইউ লুক টেনসড।’
একটু সময় নিয়ে অর্ণব বলল, ‘মাহবুব ভাই, রাচনার ব্যাপারে আমি কিছু কথা বলতে চাই।’
‘কেন, কী হয়েছে রাচনার?’
‘কিছু হয় নি।’
‘তাহলে?’
অর্ণব অস্বস্তিতে ভুগছে। সে বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। মাহবুব বিষয়টা বুঝতে পেরে বলল, ‘ইউ ক্যান টেল মি এনিথিং—ডোন্ট হেজিটেট।’
‘রাচনাকে আমি বিয়ে করতে চাই।’ হুট করে অনেকটা মুখ ফসকে বলে ফেলল অর্ণব।
‘রাচনাকে তুমি বিয়ে করতে চাও?’ মাহবুব সাহেব খুবই অবাক হলেন। একটু ভেবে তিনি বললেন, ‘কিন্তু তুমি কি ওর সব কথা জানো?’
‘হ্যাঁ জানি। আমি জানি রাচনার আগে একটা বিয়ে হয়েছিল—স্টিভ নামে একটা আমেরিকান ছেলের সঙ্গে। বিয়েটা টিকে নি। কেন টিকে নি তাও জানি।’
‘তুমি বলছো তুমি ওর সব কথাই জানো?’
‘জানি এবং সব জেনে শুনেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘ও। তো, তোমার সিদ্ধান্তের কথা রাচনাকে বলেছ? হোয়াট ইজ হার ওপিনিয়ন?’
‘না, এখনো বলি নি। বলব।’
‘ব্যাপারটা উল্টো হয়ে গেল না? তার সাথেই তো তোমার কথা বলা উচিৎ প্রথমে। রাচনার সঙ্গে তো তোমার পরিচয় হলোই মাত্র কিছুদিন আগে।’
‘জি।’ ইতস্তত করে বলল সে।
‘তাহলে? এতো অল্প সময়ের পরিচয়ে কাউকে বিয়ে করতে চাওয়াটা কতখানি লজিক্যাল আমি বুঝতে পারছি না।’
অর্ণব চুপ করে রইল।
‘তোমার কি মনে হয় না—আর একটু সময় নেয়া দরকার? আগে ওকে চেনো-জানো। ওর একটা অতীত আছে…’
‘আমি জানি!’ অর্ণবের কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্ত বোঝা গেল। সে এই অতীত বিষয়টা নিয়ে আর ঘাটাতে চায় না—ওর রুচিতে খুব বাঁধছে।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাহবুব সাহেব বললেন, ‘It’s gonna be a challenging task for you, hope you realize that. I don’t know, how much you really know about her, but…’
অর্ণব মাহবুবকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলল, ‘I know. You don’t have to tell me that… আর একটা ব্যাপার, আপনি হয়ত জানেন না যে, গ্রিনকার্ড কিংবা লিগ্যাল স্ট্যাটাসের কোনো প্রয়োজন আমার নেই। আমি গ্রিনকার্ড নিয়েই এদেশে এসেছি।’
‘না না আমি কিন্তু ঠিক সেটা বলতে চাই নি।’
অর্ণবের হঠাৎ কী হলো কে জানে। সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি আসি মাহবুব ভাই।’ বলেই সে দ্রুত বের হয়ে গেল।
মাহবুব আর কিছু বললেন না। অর্ণব চলে যাওয়ার পর তিনি বেশ খানিকটা চিন্তায় পড়ে গেলেন। অল্প সময়ের পরিচয়ে অর্ণবকে তার বেশ ভালো লেগেছে। সে যদি রাচনাকে পছন্দ করে থাকে তাতে দোষের কিছু নেই। আর রাচনাই বা কতদিন একা থাকবে। বয়স বেড়ে যাচ্ছে। স্টিভের সঙ্গে সেপারেশন হয়ে গেছে সেই কবেই। তবে রাচনা যে প্রকৃতির মেয়ে—তার মনের অবস্থা বোঝা সবচেয়ে কঠিন কাজ। সবকিছু নির্ভর করছে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। মাহবুব তার ছোট বোনকে চেনে। তিনি মনে মনে বললেন, গুড লাক অর্ণব!
…
‘আমি তোমাকে একটা জরুরি কথা বলতে চাই রাচনা।‘
কথাটা বলেই অর্ণব তাকাল তাকাল রাচনার দিকে। রাচনা মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিল লেকের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রঙের লিলি প্যাডস-এর দিকে। লাল-নীল-সাদা পদ্মফুল ফুটে আছে পুরোটা লেক জুড়ে।
কাল রাতে অর্ণব রাচনাকে বলেছিল, আজ বিকেলে তাকে লিলি প্যাডস দেখাতে নিয়ে আসবে। ডালাসের বিখ্যাত হাইল্যান্ড পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত অন্যতম রোমান্টিক এবং এলিগ্যান্ট একটি পার্ক—যার নাম লেকসাইড পার্ক। এই পার্কের বৈশিষ্ট্য, এখানকার লেকটিতে ফুটে থাকে শ’য়ে শ’য়ে বিভিন্ন রঙের পদ্মফুল। স্থানীয়রা বলে লিলি প্যাডস।
রাচনা ঘুরে তাকাল অর্ণবের দিকে। ‘আমাকে আবার কী জরুরি কথা?’ উত্তরের অপেক্ষা না করে সে আবার ঘুরে তাকাল লেকের পানিতে ভাসমান লিলি প্যাডস এর দিকে।
অর্ণব আবার বলল, ‘তুমি চুপ করে শুনবে। দয়া করে রাগ করবে না। এবং কথাগুলো আমার দিকে তাকিয়ে শুনবে।’
অর্ণবের কথার ধরণে রাচনা একটু অবাক হলো। সে বলল, ‘এমন কী কথা যে রাগ করার প্রশ্ন আসে?’
অর্ণব চুপ করে রইল। কীভাবে কথাটা বলবে মনে মনে তাই ভাবছে সে।
‘এমন কী কথা যে রাগ করার প্রশ্ন আসে?’ রাচনা একই কথা আবার জিজ্ঞেস করল।
‘আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি।’
‘এটা তো রাগ করার মতো কোনো কথা হলো না অর্ণব। আমিও তোমাকে পছন্দ করি।’
‘আমি সত্যি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি রাচনা। আমার কী মনে হয় জানো?’
রাচনা কথা না বলে তাকিয়ে আছে অর্ণবের মুখের দিকে—শোনার জন্যে সে কী বলতে চায়।
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যই বোধহয় আমি এতোগুলো বছর অপেক্ষা করেছি। তোমার ভালোবাসা পেলে এ জীবনে আমি আর কিছুই চাই না।’
‘তোমার কী হয়েছে অর্ণব? আর ইউ ওকে?’ অবাক হয়ে বলল রাচনা।
‘ইয়েস আই’ম ফাইন—আই’ম ভেরি মাচ ফাইন। এবার তোমাকে আমি একটা ভয়াবহ কথা বলব।’
‘আমার তো ধারণা সেই ভয়াবহ কথা তুমি অলরেডি বলে ফেলেছ।’
‘না, বলি নি। এখন বলব।’ একটু থেমে অর্ণব বলল, ‘রাচনা, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।’
হঠাৎ করেই চারিদিক নিশ্চুপ হয়ে গেল। রাচনা কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসে রইল। অর্ণব এসব কী বলছে—সে কিছুই বুঝতে পারছে না। রাচনা গভীর দৃষ্টি নিয়ে তাকাল অর্ণবের দিকে তারপর যথাসম্ভব ঠাণ্ডা স্বরে বলল, ‘কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয় অর্ণব।’
‘নয় কেন, কেন নয়?’
‘তুমি তো আমার সব কথা জানো না। তোমাকে আমার সব কথা বলা হয় নি।’
‘আর কী জানার আছে? তাছাড়া, তোমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে, তার জন্য তো তুমি দায়ী নও। তাহলে তুমি কেন নিজের জীবনকে এভাবে বঞ্চিত করবে?’
‘অর্ণব, প্লিজ তুমি আমার সব কথা আগে শোনো…’
‘না, আমি আর কিছুই শুনতে চাই না, জানতেও চাই না।’
রাচনা বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে। সে আর কিছুই বলতে পারল না। একটা দীর্ঘ নীরবতার পর অর্ণব বলল, ‘কিছু একটা বলো রাচনা। আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই।’
‘বুঝতে পারছি না, কী বলব। তুমি আমার মাথা এলোমেলো করে দিয়েছ।’আর কিছু না বলে সে চুপ করে রইল।
অর্ণব তাকিয়ে আছে রাচনার মুখের দিকে।
‘তুমি কাল এসো একবার, তোমার সাথে আমি কাল কথা বলব।’ রাচনা উঠে দাঁড়াল। ‘আমি এখন যাব।’ বলেই সে দ্রুত হেঁটে চলে গেল।
…
রাতে ঘুমানোর আগে মাহবুব খানের অভ্যাস বিছানায় পা লম্বা করে এলিয়ে দিয়ে কোলের উপর একটা বালিশ রেখে তার উপর ল্যাপটপ খুলে ই-মেইল চেক করা। তিনি তাই করছিলেন। মাস্টার বেডরুমের ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে লীনা চুল আঁচড়ে নিচ্ছেন—ঘুমানোর পূর্ব প্রস্তুতি। বিছানার যে পাশটাতে মাহবুব বসে আছেন সেখান থেকে লীনার মুখটা দেখা যাচ্ছে আয়নার ভেতর দিয়ে। সে আয়নার দিকে তাকিয়ে লীনার উদ্দেশ্যে বললন, ‘আচ্ছা, রাচনাকে তো তুমি মাঝে মধ্যে বোঝাতে পারো। এভাবে একা একা আর কতদিন? বয়স তো আর থেমে থাকছে না।’
‘কত ছেলের কথাই তো ওকে বললাম। কাউকেই তার পছন্দ না। সবাই নাকি গ্রিনকার্ডের জন্যে বিয়ে করতে চায়। এটা কোনো কথা? আর গ্রিনকার্ডের জন্যে কেউ যদি ওকে বিয়ে করতে চায়ই, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? এমন তো না যে সে ধোয়া তুলসী পাতা।’
লীনার এভাবে কথা বলার ধরণটা মাহবুবের পছন্দ হলো না। কিন্তু তিনি কিছু বললেন না।
লীনা আবারো বলল, ‘নিজের কথাটাও একটু ভেবে দেখা দরকার, নিজে যদি স্পটলেস হতো তাহলে না হয় একটা কথা ছিল। যার নিজের একটা পাস্ট আছে তার এতো অহংকার মানায় না।’
‘আমাদের সবার জীবনেই কিছু না কিছু পাস্ট আছে, থাকবে—সেটাকে বর্তমানে টেনে এনে ফিউচারের কথা ভাবা যাবে না, এমন তো কোন কথা নেই।’
‘কি বলতে চাও, সরাসরি বলো?’ লীনার নিজের জীবনেও একটা পাস্ট আছে। মাহবুবের কথাটা তাই স্পষ্টতই তার গায়ে লাগল। সে চুল আঁচড়ানো বন্ধ করে ঘুরে তাকাল মাহবুবের দিকে।
মাহবুব প্রসঙ্গ বদলে দিয়ে বললেন, ‘অর্ণব এসেছিল আমার অফিসে।’
‘কেন?’
‘ও রাচনাকে বিয়ে করতে চায়।’ খুব খুশি মনেই কথাটি বললেন মাহবুব সাহেব।
‘অর্ণব রাচনাকে বিয়ে করতে চায়? ও রাচনার সম্পর্কে সবকিছু জানে?’
‘বললো তো সব জানে এবং জেনেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
‘সব জানে? তাহলে তো ভালই!’
লীনার ভঙ্গিটা মাহবুবের ভালো লাগল না। তিনি বললেন, ‘ওদের বিয়ে হলে তুমি খুশি হবে না?’
লীনা দু’পা এগিয়ে এলো মাহবুবের সামনে এবং অনেকটা উত্তেজিত হয়েই বলল, ‘আমার খুশি অখুশির প্রশ্ন আসছে কেন মাহবুব? যার খুশি হবার সে হলেই হলো। আমাদের কথা যদি সেদিন শুনত, তাহলে তো আর…’
মাহবুব বুঝতে পারল লীনা কী বলতে চায়। তিনি বললেন, ‘দেখো লীনা, মানুষের জীবনে অনেক ধরণের ঘটনা ঘটে। এদেশটা হচ্ছে মিক্সড কালচারের দেশ। এখানে ভিন্ন কালচারের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বন্ধুত্ব, প্রেম- ভালবাসা, বিয়ে এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। এটাকে এত বড় করে দেখার কিছু নেই।’
‘সেটাতো বলবেই।’ চোখ ঘুরিয়ে লীনা ফিরে গেল আয়নার সামনে। আয়নার ভিতর দিয়ে মাহবুবের দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘রাচনার যদি কাউকে ভালো লাগে, বিয়ে সে করতেই পারে। তবে ওর উচিত হবে তাকে সবকিছু খুলে বলা।’
মাথা ঝাঁকিয়ে মাহবুব সাহেব চিন্তিত মনে ল্যাপটপে ডুবে গেলেন।
…
অর্ণবকে নিয়ে রাচনা এসেছে একটা আবাসিক এলাকার রিক্রিয়েশন সেন্টার এবং পার্কে। সেখানে অনেক বাচ্চারা খেলছে—বিভিন্ন বয়সের। কেউ স্লাইডিং করছে, কেউ দোলনায় ঝুলছে, কেউ লুকোচুরি খেলছে, কেউ বালুর মধ্যে ঘর-বাড়ি বানাচ্ছে। বাচ্চাদের সাথে তাদের বাবা-মায়েরাও খেলছে কেউ কেউ। কেউ কেউ দুর থেকে তাদের বাচ্চাদের উপর লক্ষ্য রাখছে—যেন কেউ পড়ে গেলে কিংবা সমস্যা হলে দৌড়ে গিয়ে সাহায্য করতে পারে।
পার্ক সংলগ্ন পার্কিং-এ অর্ণব গাড়ি থামাতেই রাচনা নেমে এগিয়ে গেল প্লে-গ্রাউন্ডের দিকে।
অর্ণব গাড়িতে বসে বসে ভাবছে রাচনা আজ হঠাৎ করে তাকে এখানে নিয়ে এসেছে কেন? সে চারিদিকে চোখ বুলিয়ে বোঝার চেষ্টা করল। আসার পথে একবার জিজ্ঞেস করেছিল অর্ণব, আমরা কোথায় যাচ্ছি। রাচনা বলছিল, গেলেই দেখতে পাবে। কিছুটা হেঁয়ালি ভাব ছিল রাচনার কথার মধ্যে। কোনো সারপ্রাইজও হতে পারে। এই ভেবে অর্ণব আর কিছু জানতে চায়নি—চুপচাপ গাড়িয়ে চালিয়ে চলে এসেছে। এসব ভাবতে ভাবতেই অর্ণব দেখল বার্বি ডলের মতো একটা বাচ্চা মেয়ে দৌড়ে আসছে রাচনার দিকে। অবাক হয়ে অর্ণব গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেল এবং দেখতে পেল বাচ্চা মেয়েটি রাচনাকে জড়িয়ে ধরে বলছে, ‘Mommy!’
অর্ণব মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল ঘোর লাগা চোখে।
সেই কফি শপ (পর্ব-৭)
with
no comment

