Shawpno-Jal

মধ্যবিত্ত পরিবারের সহজ সরল জীবনের আড়ালে কিছু রূঢ় বাস্তবতা

বই পড়ার আগ্রহ যখন হারিয়ে যাচ্ছিলো, তখন হাতে এলো এবারের বই মেলায় প্রকাশিত একটি বই। গল্পকার ফরহাদ হোসেনের নতুন উপন্যাস ‘স্বপ্নজাল’। প্রতিশ্রুতিশীল নবীন লেখকদের মধ্যে ফরহাদ হোসেনের লেখায় তাঁর নিজস্বতা রয়েছে৷ অনলাইনে লেখালেখির প্লাটফর্মগুলোতে আগেই তাঁর লেখা পড়েছি। অনেক অসাধারণ বিষয় তিনি তুলে ধরেন তাঁর লেখায়। আমার পক্ষে তাঁর লেখা গল্পগুলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। গত কয়েকদিন ধরে কাজের ফাঁকে ফাঁকে লেখকের নতুন উপন্যাস ‘স্বপ্নজাল’ পড়ছিলাম। উপন্যাসটিতে মানুষের স্বপ্ন নিয়ে খেলা একটি প্রতারক চক্রের গল্প বলেছেন তিনি। তাঁর গল্প বলার ঢং আমাকে আটকে রেখেছে অসাধারণ মলাটবন্দী বইটির পাতায় পাতায়। কাজের ব্যস্ততায় দৃশ্যত বইটি হাত থেকে নামিয়েছি, কিন্তু মনে মনে অস্থিরতায় ভুগেছি পরেরটুকু পড়ার জন্য।
পড়া শেষ, একটু স্বস্তি একটু অস্বস্তি নিয়ে বইটি সম্পর্কে লিখতে বসলাম। এটাকে ঠিক রিভিউ বলা যায় কিনা জানি না, কারণ বুক রিভিউয়ের নিয়মকানুন আমার জানা নেই। এটা আমার বক্তব্য বলেই ধরে নিতে পারেন।


ফরহাদ হোসেনের উপন্যাসটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সহজ সরল জীবনের আড়ালে কিছু রূঢ় বাস্তবতা আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে, যা অনেকেই তাদের জীবনের সাথে মেলাতে পারবেন। মরীচিকার পেছনে ছুটতে থাকা এক বেকার যুবকের সর্বস্বান্ত হওয়ার গল্পের পেছনে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে তা হলো ভালোবাসা৷ উপন্যাসটিতে ভালোবাসার জটিল রসায়ন অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। প্রতারণা আর প্রেমের গল্প পাশাপাশি ছুটে গেছে সুন্দর একটি পরিণতির দিকে। গল্পের ছলে লেখক একদিকে আমাদের যেমন সাবধান করেছেন, অন্যদিকে শিখিয়েছেন কীভাবে ভালোবাসতে হয়।


অন্যপ্রকাশের বই মানেই চমৎকার কাগজে ছাপানো সুদৃশ্য মলাটের বই- সর্বজন বিদিত এই প্রচলিত কথাটি ‘স্বপ্নজাল’ এর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। মাসুম রহমানের করা প্রচ্ছদে বইটি দেখলেই হাতে নিয়ে দেখতে ইচ্ছে করবে, ইচ্ছে করবে নাকে তুলে ঘ্রাণ নেওয়ার। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আমার মত আপনাদেরও ভালো লাগে নিশ্চয়ই।


আমি নিজে কখনও রিভিউ লিখিনি তাই, তাই অন্যের লেখার ত্রুটি বিচ্যুতি বিশ্লেষণ করা আমার কাছে ধৃষ্টতার নামান্তর। আর স্বপ্নজালের মতো উপন্যাসের ক্ষেত্রে কিছু বলার যোগ্যতা আমার আসলেই নেই। তবুও কিছু বিষয় আমাকে বলতে হবে, নইলে স্বস্তি পাবো না।
প্রথমত, দুএকটি জায়গায় শব্দের ব্যবহার আমাকে কিছুটা এভাবে ভাবিয়েছে যে, এই শব্দটা ব্যবহার না করে অন্য শব্দ ব্যবহার করা যেতো। এটা সম্ভবত লেখকের দীর্ঘসময় প্রবাসে থাকার জন্য হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শেষার্ধে গল্প খুব দ্রুত শেষ হয়েছে। শুরুর দিকে গল্প বলার যে মুন্সিয়না তিনি দেখিয়েছেন তাতে আরেকটু সময় নিয়ে গল্পটা শেষ করলে আমার মত পাঠকদের অন্তরাত্মা অতৃপ্ত থাকতো না।
পরিশেষে আমি চাই এমন বই প্রচুর আসুক, আমরা মন ভরে পড়বো৷ সেগুলো সম্পর্কে লিখতে লিখতে হয়তো কীভাবে বুক রিভিউ লিখতে হবে তাও শিখে যাবো৷ ধন্যবাদ ফরহাদ হোসেন ও অন্যপ্রকাশকে আমার মনে বই পড়ার আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তোলার জন্য।

লিখেছেন: হাসান মাহমুদ পলাশ

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *