a-perfect-revenge

এ পারফেক্ট রিভেঞ্জ (পার্ট-৫)

একটা দীর্ঘ সময় পার করে জ্ঞান ফিরে এলো ইরিনের। চরম এক অস্বস্তিবোধ নিয়ে সে চোখ খুলে তাকাল। একবার দেখল চারপাশটা তারপর নিজেকে আবিষ্কার করল সম্পূর্ণ অনাবৃত অবস্থায়—বিছানায়। লিভিং রুমের সোফাতে সে বসা ছিল, সেখান থেকে বেডরুমের বিছানায় কখন কিভাবে এলো—ইরিন বোঝার চেষ্টা করল। সোফাতে বসা অবস্থায় তার মাথাটা ঝিম ঝিম করছিল… তারপর মনে পড়ল রজার্সের কথা—আইসক্রিম! আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না ইরিনের—সে বুঝে গেল আসলে কী ঘটেছে। সে জানে এলিনার ইনসমনিয়া আছে। আইসক্রিমের উপরে ভেসে থাকা পাউডার আর কিছুই না—নিশ্চয়ই ঘুমের ওষুধ ছিল। যে কারণে তার মুখে আইসক্রিম তেতো লেগেছিল। তাকে অজ্ঞান করে তাহলে… ওহ গড, ওহ গড!
এটুকু ভাবতেই ধরমর করে দ্রুত বিছানায় উঠে বসল ইরিন। মাথাটা আবার ঘুরে উঠতে চাইল একবার। নিজেকে স্থির করে নিয়ে সে দ্রুত তার কাপড় পড়ে নিল। এবং সঙ্গে সঙ্গেই সে আবিষ্কার করল একটা টুকরা কাগজ তার হাতের সঙ্গে লেগে রয়েছে। চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখল সে—রজার্সের কোনো অস্তিত্ব বোঝা গেল না। সে হাতের কাগজটি খুলে দেখল একটা মেসেজ।
‘You fell in sleep. When you wake up—if you remember anything, just erase that from your memory. If you try to tell this to anybody, I will make your life miserable and you’ll regret it for rest of your life!’
ইরিনের শরীরে কাঁপুনি দেখা দিল। কুঁকড়ে গেল তার শরীর। তেষ্টায় বুক ফেটে যাচ্ছে। জিভ তালু সব শুকিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এখনই বমি হয়ে যাবে। সে দ্রুত বাথরুমে গিয়ে ঢুকল।
বাথরুমের আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে উঠল ইরিন। শরীরে এগুলো কিসের দাগ? এসব দাগ তো আগে ছিল না। হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করল শরীরের নিচের অংশে। কোমরটা ভেঙ্গে যাচ্ছে—পা দুটো অবশ হয়ে আসছে। দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে খুব। ইরিন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে সে চিৎকার করল। এমন কিছু একটা ঘটে যেতে পারে সে কোনোদিনই ভাবেনি। এমন কিছু তো সে চায়ও নি। তাহলে এমন কেন হলো?
ইরিনের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো আবার। ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলল মেয়েটি। চোখ ভরে গেল কান্নার পানিতে।
কিছু সময় পার করে নিজেকে গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করল সে। বেসিনের পানি ছেড়ে দিয়ে চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে নিল। বাথরুম থেকে বের হবার আগে তার চোখ চলে গেল আয়নায়, নিজেকে দেখল আরেকবার—কেমন অচেনা লাগছে নিজেকে।
এলিনাকে একবার ফোন করল সে—কিন্তু কোনো সাড়া পেল না। ইরিন আর এক মুহূর্ত দেরি না করে লিভিংরুম থেকে তার হাত ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেল অভিশপ্ত বাড়িটি থেকে।

গত এক ঘণ্টা ধরে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আছে ইরিন। পানির ধোঁয়ায় শাওয়ারের কাঁচের দেয়াল ঢেকে গেছে। ইরিন তার শরীর থেকে সব নোংরা ধুয়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই পরিষ্কার হচ্ছে না। সমস্ত শরীর সাবান মেখে স্ক্রাব দিয়ে কতবার ঘষেছে তার ঠিক নেই—তবুও মনে হচ্ছে শরীর থেকে নোংরা যাচ্ছে না। চিৎকার করে কাঁদছে মেয়েটি। তার চোখের পানি আর শাওয়ারের পানি মিশে একাকার হয়ে গেল।
ঐদিনের পর থেকে ইরিন একেবারেই চুপ হয়ে গেল। কিছুদিন স্কুলেও গেল না। ইমরান বেশ কয়েকবার জানতে চেয়েছে তার কী হয়েছে। শরীর খারাপ বলে এড়িয়ে গেছে। এলিনা বলেছিল, পিরিয়ডের সময় অনেক পেইন হয় ইরিনের। ব্যথায় মেয়েটি কাৎরাতে থাকে—একেবারেই ব্যথা সহ্য করতে পারে না। ইরিনের হয়ত পিরিয়ড চলছে, তাই সে আর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করেনি। সে একবার শুধু বলেছে, দুটো মাইডল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। ইমরান দেখেছে মিন্সট্রুয়াল ক্রাম্পিং এর জন্যে দুটো করে মাইডল ট্যাবলেট এলিনা খাইয়ে দিত ইরিনকে।
এলিনা কয়েকবার ফোন করেছে—কিন্তু ইরিন কথা বলেনি। তার বন্ধুরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে—সে কারো সঙ্গেই কোনো কথা না বলে নিজেকে গৃহবন্দী করে রাখল সম্পূর্ণভাবে।
এভাবেই কেটে গেল কিছুদিন।
ইতিমধ্যেই ইরিনের ফোনে বেশ কিছু টেক্সট মেসেজ এলো। হঠাৎ একদিন বেশ কিছু মেসেজ এসেছে রজার্সের—ইরিনকে সাবধান করে দেয়া মেসেজ। ইরিন একটা খুলে দেখল। রজার্স লিখেছে, ‘Why are you not replying me? If you do not listen to me, I will tell everyone that you sell your body for money to buy drugs!’
‘What?’ নিজের অজান্তেই চমকে উঠল ইরিন। এসব কী বলছে পিশাচটি?
পরের মেসেজে একটি ছবি—খুলতেই দেখল একটি মেয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ঘুমিয়ে আছে। জুম করতেই ইরিনের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে এলো বরফঠাণ্ডা জলের স্রোত। ভয়ের একটা শীতল শিহরণ তার ভেতরে পাক দিয়ে উঠতে লাগল। মনে হলো ওর পাকস্থলীটা কেউ যেন খামচে ধরল। চোখ বড় বড় করে ছবিটির দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল ইরিন। মেয়েটিকে দেখতে অবিকল তার মত লাগছে কেন? কয়েক সেকেন্ডের জন্য ইরিন বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।
ইরিন হিস্টিরিয়ার রোগীর মত আচরণ করতে লাগল। সে দ্রুত রজার্সের পাঠানো পরের মেসেজটিও পড়ল। ‘I’ve some more surprises like these. If you do what I ask you to do, I promise, I will delete all the pictures… will delete all the surprises too.’
‘Surprise? What surprise? What is he talking about?’ ইরিন আর চাপ নিতে পারছে না। তার ভয় হলো, বিষয়টি যদি সত্যিই জানাজানি হয়ে যায় তাহলে খুবই লজ্জার হবে। সে কিছু ভাবতে পারছে না। সে রজার্সের পরের মেসেজটি খুলে দেখল। ‘If you don’t want trouble—you follow my instruction and do what I want you to do… out and clear.’
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল ইরিন। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে তার। বিষণ্ণতা ঘিরে ধরল তাকে। অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ল তার সমস্ত শরীর। ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ছে তার মাকে। ইচ্ছে হচ্ছে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে। এখন তার মা কাছে থাকলে এসব কিছুই হতো না। আবার পরক্ষণেই প্রচণ্ড অভিমান হলো তার। সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, এ জীবনে সে তার মাকে আর কোনোদিনই ক্ষমা করবে না। যে নিজের স্বার্থের জন্য ছোট একটা মেয়েকে এভাবে ফেলে যেতে পারে—এমন মায়ের কথা সে কেনই বা ভাববে।

রাতে ঘুমানোর আগে ইমরান রুটিন মাফিক একবার এসে ঘুরে গেল ইরিনের রুম থেকে। সে দেখল ইরিন বিছানায় মাথা নিচু করে বসে আছে। ইমরান দরজায় নক করতেই ইরিন মাথা তুলে তাকাল। ইমরান জিজ্ঞেস করল, ‘ঘুমাওনি এখনো?’
ইরিন কোনো উত্তর দিল না। সে যেভাবে ছিল সেভাবেই চুপ করে বসে রইল। ইমরান কাছে এগিয়ে এসে ইরিনের কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘এভাবে বসে আছ কেন? মন খারাপ?’
ইরিন হঠাৎ করেই কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতেই সে বলল, ‘I miss mommy so much. I need her.’
ইমরান কী বলবে ভেবে পেল না। সে ইরিনের মাথায় হাত রাখল।
‘Why did you let her go? Why couldn’t you keep her? Was it too difficult?’ ইরিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল কিছুক্ষণ। ইমরান তার মেয়েকে কাঁদতে দিল—কিছু বলল না।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ইমরান বোঝানোর চেষ্টা করল। ‘ইরিন, তুমি এখন বড় হয়েছ। তুমি নিশ্চয়ই বুঝবে, even two good souls cannot stay together forever. Sometimes, no matter how hard they try, their relationships just don’t work. Things happen, they get separated.’ একটু থেমে ইমরান আবার বলল, ‘When people divorce, it’s always such a tragedy. At the same time, if people stay together it can be even worse!’
মানব সম্পর্কের জটিলতা বোঝার মতো গ্রে ম্যাটার ইরিনের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে এখনো তেমন হয় নি—সে আনমনে বলল, ‘Yea, I guess it’s complicated.’
‘Yes, it is.’ ইমরান আবার বলল, ‘কিছু সময় আছে—কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি, মারামারি কিংবা কেউ কারো কোনো ক্ষতি না করে আলাদা হয়ে যাওয়াই কি ভাল না? Sometimes it’s better to light a candle than curse the darkness!’
এসব কথায় ইরিনের কষ্টের কোনো হেরফের হলো না। সে মাথাটা এলিয়ে দিল বাবার কোলে।
ইরিনের মাথার চুলে কিছুক্ষণ আদর করে দিয়ে ইমরান বলল, ‘অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়—ট্রাই টু গেট সাম স্লিপ।’ ইরিনের কপালে আলত করে একটা চুমু দিয়ে ইমরান কয়েক পা দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই ইরিন ডাকল, ‘বাবা!’
ইমরান ঘুরে দাঁড়াল। ইরিন তাকিয়ে আছে তার দিকে—সে কি কিছু বলতে চায়? কিন্তু কিছু না বলে চুপ করে রইল ইরিন। ইরিনের মনের ঝড় ইমরান বুঝতে পারল না। পারার কথাও না। ইমরান অবাক হয়ে বলল, ‘কী মা—কিছু বলবে?’
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ইরিন বলল, ‘I’m sorry for the other day.’
‘I’m sorry too.’
‘Goodnight baba.’
‘Goodnight sweetheart.’
ইরিনের রুমের দরজা ভিজিয়ে ধীর পায়ে ইমরান চলে গেল তার রুমে।

আরো কিছুদিন কেটে গেল। ইরিন ভুলে যাবার চেষ্টা করছে—প্রাণপণে—সেই বিভীষিকাময় দিনটির কথা। যদিও ক্ষণে ক্ষণেই তার শরীর কেঁপে উঠল দিনটির কথা মনে হতেই।
ক্লাস হোমওয়ার্কে পিছিয়ে যাচ্ছিল সে—কয়েক সপ্তাহ হলো শরীরের অসুস্থতার কথা বলে বন্ধুদের সঙ্গ পরিত্যাগ করে স্কুল হোমওয়ার্ক গুলো শেষ করার চেষ্টা করছে ইরিন। একদিন সন্ধ্যায় পরার টেবিলে বসে ইরিন হোমওয়ার্ক করছিল। তার হাতে একটা চকোলেট ক্যান্ডি বার। সে মাঝে মাঝে একটা কামড় দিচ্ছে আর হোমওয়ার্ক দেখছে। হঠাৎ তার সেল ফোন বেজে উঠল। সে অন্যমনস্ক ভাবে নাম্বার না দেখেই ফোনটা কানে তুলে নিয়ে বলল, ‘Hello!’
‘Hello Erin…’ অপর প্রান্ত থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এলো। শীতল—কর্কশ।
‘Who’s this?’
‘You cannot recognize me? Wow, I’m surprised!’
মুহূর্তেই রক্ত শূন্য হয়ে গেলে ইরিনের মুখ। তার আর বুঝতে অসুবিধা হলো না—ওপাশে কে কথা বলছে। জমে বরফ হয়ে রইল সে।
‘I’m glad you’ve been quiet as I asked you to be. Good girl!’
‘What do you want?’ যথেষ্ট বিরক্তি নিয়ে ঝাঁঝাল কণ্ঠে সে জানতে চাইল।
‘I want to see you again baby girl!’
সঙ্গে সঙ্গেই ইরিন লাইন কেটে দিল। ভীত চোখে তাকিয়ে রইল ফোনের দিকে।
কয়েক মুহূর্তে পরেই ইরিনের ফোন বেজে উঠল আবার। সে লাইন কেটে দিল। একটা ছোট বিরতি দিয়ে আবার বাজল ফোন। এবং বেজেই চলল। ইরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোন ধরে বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘What else you want from me?’
‘Erin, is everything alright? What are you talking about?’ ওপাশ থেকে ইমরান উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
ইরিন চুপ করে রইল। তার মাথা খারাপের মত হয়ে গেল। ধাতস্থ হতে একটু সময় লাগল তার। সে ভেবেছিল রজার্স।
‘Is everything alright?’ ইমরান আবার জিজ্ঞেস করল।
ইরিন যখন বুঝতে পারল ফোনের ওপাশে মানুষটি তার বাবা—সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ‘তুমি কখন আসবা?’
‘কেন কী হয়েছে মা?
‘I’m scared.’
‘Anything wrong?’
ভয়ার্ত এবং কান্না জড়িত কণ্ঠে ইরিন বলল, ‘Yes, something is very wrong but I can’t tell you now. Please come home soon.’ তার কণ্ঠে ভয় স্পষ্ট।
‘Are you crying?’
ইরিন কোনো উত্তর দিল না। কিন্তু তার কান্নার শব্দ ঠিকই বোঝা গেল। ইমরান আবার ডাকল, ‘ইরিন?’
ইরিন কিছু বলতে পারল না। কান্নার দমকে শরীরটা ফুলে ফুলে উঠছে ওর।
‘I’m on my way…’ ফোনটা কেটে দিয়ে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে গাড়ি স্টার্ট দিল ইমরান। তারপর দ্রুত গতিতে ছুটে চলল বাড়ির দিকে।
ইমরানের সঙ্গে কথা বলে উঠে দাঁড়াতেই ইরিনের সেল ফোন আবার বেজে উঠল। ফোনের শব্দে সে চমকে উঠল। এবার সে ফোনের নাম্বার দেখল—অপরিচিত। সে লাল বোতামে চাপ দিয়ে ফোন কেটে দিল। একটা বিরতি দিয়ে ফোন আবার বাজল—
ইরিন ফোন হাতে নিল। সে ভয়ে ভয়ে বলল, ‘Hello?’
অপর প্রান্ত থেকে সেই কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। ‘Check your email right now!’
‘Why? Why? What is in there?’ ইরিন চিৎকার করে বলল।
‘Surprise!’
ইরিন বুঝতে পারছে না সে কী করবে। অনেকক্ষণ দ্বিধায় থেকে ভয়ে ভয়ে তার ল্যাপটপ থেকে কাঁপা হাতে ইমেইল খুলল এবং সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে পেল একটা ভিডিও ক্লিপ। নিচে লেখা, ‘Play this video and see what surprise is waiting for you!’
ইরিনের হার্ট বিট বেড়ে গেল। সে ভয়ে ভয়ে ক্লিক করতেই ভিডিওটি চালু হয়ে গেল। মনে মনে ঠিক যে আশঙ্কা করছিল—শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটতে যাচ্ছে। সে নিজের দু চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। সে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘What the hell is this Rogers?’
রজার্স শীতল কণ্ঠে বলল, ‘Now hear me out clearly. You will comply to everything that I say, and I, in return, will not put you down or any of your close loved ones.’
ইরিন চুপ করে রইল—তার মুখে কোনো কথা আসছে না।
‘If you do not listen to me, I will post the footage to the teenage porn site. I will make it public. Your friends will find out, your dad will find out, your mom will find out… and everyone will know you did it for money to buy drugs!’ একটা ক্রূর হাসি দিয়ে কথাগুলো বলল রজার্স।
ইরিন কিছু ভাবতে পারছে না। তার মাথা দপদপ করছে। কী করবে সে। বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত মেয়েটি অসহায় কণ্ঠে বলল, ‘Can you please just tell me what you want?’
‘Just do what I ask you to do.’
‘What the hell do you want me to do?’
‘I’m texting you an address. You will meet me there tomorrow after school. I’ve a client—he’s very interested to meet with you.’
এসব কথার মানে কী? রাগে ক্ষোভে ইরিনের নিজের চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে হলো। সে আর একটিও কথা না বলে ফোন কেটে দিল। দুহাতে তার চুল মুঠি করে চেপে ধরল। কিছুতেই বুঝতে পারছে না—কেন এসব হচ্ছে তার সঙ্গে। সে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘I swear, Rogers, I will tell my dad everything what you’ve done to me and he will tear you in pieces!’
নিজেকে শান্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা করল ইরিন। কিছু সময় পার করে একটু স্থির হতেই নিজের অজান্তেই আরেকবার ভিডিও ক্লিপটি পলে করল ইরিন—কয়েক সেকেন্ড দেখেই জ্ঞান হারাল মেয়েটি।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *