দু মাস আগের ঘটনা।
ইরিনের কয়েকজন বন্ধু ইরিনকে এলিনার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। ইরিন টেক্সট করে জানালেই তাঁরা এসে আবার তাকে নিয়ে যাবে। এক বিশেষ প্রয়োজনে ইরিন এসেছে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।
ডোরবেল বাজতেই রজার্স দরজা খুলে দিয়ে দেখল ইরিনকে। সে কিছু বলার আগেই ইরিন দ্রুত ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ল। দরজা বন্ধ করে রজার্স ইরিনের কাছে এসে অবাক হয়ে তাকাল। ইরিন রজার্সকে উপেক্ষা করে ঢুকে পড়ল বাথরুমে। কোনো রকমে কমোডের ঢাকনা খুলে হড় হড় করে বমি করে দিল। বমি করার শব্দে রজার্স কিঞ্চিত শঙ্কিত বোধ করল। সে বাথরুমের দরজার দিকে উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল ইরিন বের হওয়া পর্যন্ত।
বেশ কিছুক্ষণ পর ইরিন বের হয়ে এসে লিভিং রুমের সোফাতে বসে পড়ল। তার চেহারা দেখে যে কারো ধারণা হবে সে অসুস্থ। কেমন মাদকাসক্তদের মতো অস্থিরতায় ভুগছে সে।
ইরিনের উল্টো দিকের সোফাতে বসে রজার্স সন্দেহজনক চোখে তার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল, ‘Everything alright? You look terrible. Are you ok?’
‘Yea I’m fine.’ রজার্সের উৎকণ্ঠিত প্রশ্ন ভেসে আসতেই ইরিন কোনোক্রমে নিজেকে সামলে নিয়ে আড়ষ্ট গলায় উত্তর দিল। ‘Where’s mom?’ জানতে চাইল সে।
‘At work.’
‘Work? Isn’t she supposed to be home today?’
‘She got a call from work. She’s covering a shift.’ একটু থেমে রজার্স আবার বলল, ‘Is there anything I can do for you?’
ইরিন হাতের উল্টো দিক দিয়ে তার নাক মুছল। নাকের ভিতর এক ধরনের জ্বালা পোড়া অনুভূতি হচ্ছে তার। সে হাতের উল্টো দিক দিয়ে আবার একটু ঘষল। তার অস্থিরতা বেড়ে গেল। আবার শীত শীতও লাগছে। নিজেকে উষ্ণ রাখার জন্যে দুহাত ভাঁজ করে বুকের উপর রাখল।
রজার্স তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখল ইরিনকে। তার চেহারা এবং আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষণীয়।
ইরিন একটু চুপ করে থেকে ভয়ে ভয়ে খুব দ্রুত বলল, ‘I need some money.’
‘You need some money! Okay, why do you need money for?’
ইরিন কিছু বলল না। তবে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
রজার্স গভীরভাবে ইরিনকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করল। ইরিনের এলোমেলো আচরণ যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি করল তার মনে। ইরিনের চোখের দিকে তাকিয়ে সে উৎসুক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘Are you doing drugs?’
ইরিন শীতল দৃষ্টি নিয়ে মুখ তুলে তাকাল রজার্সের দিকে। ‘No I’m not.’ দৃঢ়তার সাথেই জবাব দিল সে।
ইরিনের উত্তরে রজার্স খুব একটা আশ্বস্ত হলো বলে মনে হলো না। সে আবার বলল, ‘Did you ask your dad?’
ইরিন প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে তাকাল রজার্সের দিকে। রজার্স বলল, ‘…for the money?’
ইরিন কোনো উত্তর না দিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার চোখে মুখে হতাশা আর বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।
…
সকালে খাবার টেবিলে নাস্তা করার সময় ইমরান দেখল ইরিন চুপচাপ বসে আছে। একটু অন্যমনস্ক দেখাচ্ছে তাকে। বাবা-মেয়ের খুব একটা কথাবার্তা কখনোই হয় না। ইরিনের সব কথা হয় তার মায়ের সঙ্গে। মা-ই তার বন্ধু। এলিনা চলে যাবার পর থেকে ইরিনের তাই কথা বলা হয় না। ইমরানের সাথে প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা হতো না—এখনো হয় না। ইমরানও বাসায় ফিরে রাত করে। অনেকটা যার যার তার তার অবস্থা। ইমরান আর ইরিন দুজনেই প্রায় একই সঙ্গে ঘুম থেকে উঠে। দুজনে একসঙ্গে নাস্তা করে। তারপর যে যার মত চলে যায়। ইমরান তার কর্মস্থলে আর ইরিন স্কুলে।
ইমরান দু স্লাইস ব্রেডের উপরে বাটার আর জ্যাম লাগিয়ে এগিয়ে দিল ইরিনের দিকে। কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল সে, ‘তোমার স্কুল কেমন যাচ্ছে ইরিন?’
‘এইতো যাচ্ছে—নাথিং স্পেশাল।’
ইমরান লক্ষ্য করেছে ইদানীং ইরিন বেশ চুপচাপ থাকে। অথচ মেয়েটি কখনোই এরকম ছিল না। বেশ চটপটে স্বভাবের মেয়েটি হঠাৎ করেই কেমন হয়ে গেছে। ইরিনেরই বা কী দোষ? কথা বলার জন্যে একটা মানুষ তো চাই। আগে ওরা তিনজন—ইরিন, এলিনা আর ইমরান যখন কোথাও বের হতো, গাড়িতে উঠেই ইরিন বকবক শুরু করতো। এলিনা চলে যাবার পর থেকেই তার সমস্ত উচ্ছ্বাস নিমিষেই কোথায় হারিয়ে গেছে। হঠাৎ করেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে সে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। ইরিনের কাছে এখনো অনেক কিছুই স্পষ্ট নয়—তার বাবা মায়ের বিচ্ছেদটা কেন হলো? সবকিছুই তো ঠিক ছিল।
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ইমরানের মনে অজানা আশংকা দোলা দিল। ইরিনের কোন সমস্যা হয়নি তো? হয়েছে নিশ্চয়। কিন্তু কী?
‘নাথিং স্পেশাল বলছ যে? ক্যান ইউ বি স্পেসিফিক?’ খানিকটা অবাক হয়ে ইমরান জিজ্ঞেস করল।
‘আই ডোন্ট নো বাবা। আই হ্যাভ নো ফ্রেন্ডস এনিমোর। আই হ্যাভ নো বডি টু টক টু—ফিলিং লোনলি।’
ইমরান ভাবল সত্যিই তো। মেয়েটা তো একাই হয়ে গেছে। খুব মায়া হলো তার মেয়েটির জন্য। বাবা হিসেবে সে নিজেই বা কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছে? এলিনা চলে যাবার পরপর এক ধরণের একাকীত্ব তাকে গ্রাস করে—মাঝে মাঝেই তার খুব অসহ্য লাগত। তাই অফিসের কাজের পরে সেই একাকীত্ব কাটাতে সে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে যায়—আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরতে বেশ দেরি করে ফেলে। বেশিরভাগ সময় ইরিন ঘুমিয়ে পড়ে। মেয়েটিকে তাই খুব একটা সময় দেয়া হয় না তার। ইরিন নিজেও প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা বলে না। যতক্ষণ বাসায় থাকে তার রুমের মধ্যেই থাকে।
একটু চুপ করে থেকে ইরিন হঠাৎ করেই খুব দ্রুততার সাথে বলল, ‘Dad, I need some money!’
চিন্তাচ্ছেদ হতেই ইমরান মাথা তুলে তাকাল ইরিনের দিকে। প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে তাকিয়ে রইল। ইরিন আবার বলল, ‘আমার কিছু টাকা দরকার।’
‘কেন?’ ইমরান অবাক হয়ে জানতে চাইল। মাসের শুরুতেই ইরিনকে লাঞ্চ মানি দিয়ে দেয় ইমরান। মাসের মাত্র দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে—যদি অন্য কোনো কারণে টাকা লাগে সেটা জানা দরকার। ইমরান আবার জানতে চাইল, ‘টাকা কেন দরকার?’
ইদানীং অল্পতেই রেগে যায় ইরিন। একমাত্র মেয়ে ছোটবেলা থেকে আদরে আর প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠায় না শুনতে অভ্যস্ত নয় সে। ইরিন অত্যন্ত বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘I just need it. I am a grown up girl and I have some needs.’ সিরিয়াস মুহূর্তগুলোতে ইরিন তার বাবা মাকে ড্যাড এবং মাম বলে ডাকে—নাহলে বাবা-মাই বলে।
ইমরান তাৎক্ষণিক ভেবেই জিজ্ঞেস করল, ‘Ok, how much do you need?’
‘১০০ হলেই চলবে।’
‘১০০ ডলার? এত টাকা দিয়ে কী করবে?’
‘It’s not a huge amount of money!’
‘Yes it is. At least for some people. Ok, tell me. তোমাকে তো লাঞ্চ মানি দেয়া হয়েছে অলরেডি—টাকাটা কেন লাগবে সেটা বলতে কি সমস্যা আছে?’
‘I have needs dad!’
‘তাতো বুঝলাম। কিন্তু নিডসটা কী, সেটা অন্তত বলো।’
‘আমার নিডস থাকতে পারে না? Ok, never mind. I don’t need your money.’ কিছুটা অভিমান মিশ্রিত কণ্ঠে রুক্ষতার সাথে বলল ইরিন।
ইমরান অবাক হয়ে তাকাল ইরিনের চোখের দিকে। ইরিনও কঠিন চোখে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ তারপর হঠাৎ করেই উঠে চলে গেল।
ইমরান বলল, ‘Erin Stop!!’
ততক্ষণে দরজা খুলে বের হয়ে গেছে ইরিন। মেয়েটির এমন ব্যবহার ইমরানকে আহত করল। বেশ ভাবিয়েও তুলল। স্কুল থেকেও একবার ওর টিচার রিপোর্ট করেছে—কিছুদিন পর পর সবার সাথে তার ঝগড়া বিবাদ হয়। সামান্যতেই গণ্ডগোল লেগে যায়। আশেপাশের সবার সাথেও তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করেছে। ইরিন নিজেই সেটা বলল আজকে। গভীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে বসে রইল ইমরান।
…
ইরিনকে গভীর ভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করল রজার্স। সে মোটামুটি নিশ্চিত ইরিন দুষ্ট পাল্লায় পড়েছে। আমেরিকায় এটা একটা কমন ঘটনা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিসংখ্যান থাকুক আর না থাকুক, এটা বলা যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হলে তার সব চেয়ে বড় প্রভাব গিয়ে পরে তাদের সন্তানদের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের। টিনেজ ছেলে-মেয়েরা ড্রাগে আসক্ত হয়ে পড়ে অনেকক্ষেত্রে। কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটে আরো ভয়াবহ।
একটু সময় নিয়ে রজার্স সহানুভূতির সুরে বলল, ‘We were all young once, you know. You can trust and tell me anything you want. You look pale. Washed out. Believe me, you look like you’re doing drugs!’
‘I told you–I’m not doing drugs. How many times I’ve to say that?’ রজার্সের কথার তীব্র প্রতিবাদ করল ইরিন।
‘Let me see your eyes. It looks dialated’ বলেই ইরিনের চোখের দিকে হাত বাড়িয়ে এগিয়ে গেল রজার্স।
ইরিন এক ঝটকায় রজার্সের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল, ‘What the hell is wrong with you?’
‘Alright, alright. Take it easy. I’m sorry. You look pale, I’ve noticed it for a while. I just want to check to see if you’re anaemic?’
‘What are you—a doctor? I told you I’m fine.’
‘Well, you don’t look like you are. How do you feel? Do you feel nausea? Headaches?’
ইরিন উত্তর দিল না। কিন্তু তার অস্থিরতা অনেক বেড়ে গেল। সে উঠে দাঁড়িয়ে অস্থির ভাবে পায়চারী শুরু করল। একবার বসে আবার উঠে দাঁড়ায়—কিছুতেই অস্থিরতা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে রজার্সকে তার অসহ্য মনে হচ্ছে। সে হঠাৎ করেই রজার্সের সামনে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল, ‘Yeah, I’ve got a headache. Earache too. Would you please stop questening me?’ বলেই সে দু হাতে তার কান চেপে ধরল।
রজার্স কিছুটা থতমত খেয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ইরিনের দিকে।
একটু দম নিয়ে অত্যন্ত কঠিন স্বরে ইরিন আবার বলল, ‘You’re not my dad—so please, stop interrogating me!’
এক ধরণের অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এলো অল্প সময়ের জন্য। ইরিনের অস্থিরতা প্রকট আকার ধারণ করল। বাসায় এসে এলিনাকে না পাওয়ায় তার প্রচণ্ড রাগ উঠেছে। এলিনাকে সে বলেছিল তার প্রয়োজন হলেই সে আসবে। এলিনার বন্ধের দিনগুলো ইরিন জানে। তাই সে আজকেই এসেছে। এলিনাকে কাজে যেতে হবে—ইরিনকে সেটা জানালেই হতো। তাকে জানানোর কোনো প্রয়োজন মনে করে নি সে। তারমানে এলিনার কাছে ইরিনের আর কোনো গুরুত্বই নেই।
ইরিন একা একা বলে চলল, ‘She doesn’t care about me any more. She only cares about herself. Selfish woman!’
এক নাগারে কিছুক্ষণ কথা বলে ইরিন খুব বিরক্ত হয়ে সোফার এক কোণায় আবার বসে পড়ল। সে তার দু’পা সোফায় তুলে ভাঁজ করে বসে শরীরটাকে সামনে-পিছনে নিয়ে দুলতে থাকল।
ইরিন একটু শান্ত হতেই রজার্স উঠে দাঁড়াল। ‘You must be thirsty. Let me get you something to drink. How about some icecream?’
ইরিন হ্যাঁ-না কিছুই বলল না। রজার্স চলে গেল কিচেনের দিকে।
কিচেনে ঢুকে রেফ্রিজারেটর খুলে আইসক্রিমের বাক্স বের করে আনল। কেবিনেট থেকে ছোট একটা বাটি এনে দু’স্কুপ আইসক্রিম তুলে রাখল বাটিতে। একবার দূর থেকে তাকিয়ে দেখল ইরিনকে—সে মাথা নিচু করে বসে রয়েছে। কিছুক্ষণ চুপ করে রইল রজার্স। কী যেন ভাবল। তারপর এগিয়ে গেল মেডিসিন কেবিনেটের দিকে।
ইরিন চোখ বন্ধ করে আছে। তার চোয়াল শক্ত হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সে দ্রুত তার হাত ব্যাগ থেকে একটা ছোট কালো রঙের বাক্স বের করে খুলে দেখল—কিছু নেই ভিতরে। সে বাক্সটি হাত ব্যাগের ভিতরে রেখে দিয়ে শরীর সামনে-পিছনে করে আগের মতোই দুলতে থাকল। প্রচণ্ড পানি পিপাসা পেল তার।
ঠিক সে সময়েই রজার্স ফিরে এল আইসক্রিম নিয়ে। সে ইরিনের হাতে বাটিটি তুলে দিল। ইরিন আইসক্রিমের বাটি থেকে গপাগপ কয়েক চামচ আইসক্রিম মুখে দিয়ে আয়েশ করে খেল। এবং হঠাৎ সে মুখ বিকৃত করে ফেলল। আইসক্রিমের স্বাদ কেমন যেন তেতো লাগছে। এমন তেতো আর বিস্বাদের আইসক্রিম আগে কখনো খায়নি সে। ইরিন বাটির দিকে তাকিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখল সাদা সাদা পাউডারের মতো কিছু একটা আইসক্রিমের উপর ভাসছে। ইরিনের সন্দেহ হলো। রজার্সের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘What’s this? It tastes strange. It doesn’t taste right.’ সে আবার বলল, ‘What is this Rogers?’
রজার্স আমতা আমতা করে বলল, ‘It’s probably an icecream additive. No worries—just move them on the side.’
ইরিন অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে রজার্সের দিকে শুধু তাকাল একবার তারপরই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ল। হঠাৎ করেই তার সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে এল। তার হাত থেকে আইসক্রিমের বাটিটি পড়ে গেল মেঝেতে। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সোফাতে ঢলে পড়ল ইরিনের শরীর।
রজার্স চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। ইরিন যেভাবে পড়ে গেছে সেভাবেই পড়ে রইল। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ইরিনের নিস্তেজ শরীরটাকে আলতো করে তুলে নিল রজার্স। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেল বেডরুমের দিকে।
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ইরিনকে বিছানায় শুইয়ে দিল রজার্স। সে নিশ্চিত—সহসা সংজ্ঞা ফিরে আসবে না ইরিনের।
ঘুমন্ত একটা পরীর মতো লাগছে ইরিনকে। কী নিষ্পাপ চেহারা মেয়েটির। রজার্স অপলক তাকিয়ে রইল ঘুমন্ত পরীর দিকে।
এ পারফেক্ট রিভেঞ্জ (পার্ট-৪)
with
no comment

