a-perfect-revenge

এ পারফেক্ট রিভেঞ্জ (পার্ট-৩)

আমেরিকার প্রতিটি আবাসিক এলাকায় কম করে হলেও একটি করে বাচ্চাদের খেলার পার্ক থাকে। কোথাও আবার থাকে রিক্রিয়েশন সেন্টার। বিভিন্ন রকমের খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকে সেখানে। থাকে বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের উপযোগী খেলার সরঞ্জাম—স্লাইডস, বেবি সুইংস, ক্লাইম্বার, মাঙ্কি বার, টিউব স্লাইড, ওয়াটার স্লাইড, জাম্পিং বাউন্সার, ট্রাম্পোলিন, হাইড এন্ড সিক সহ আরো অনেক কিছুই। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্কগুলো প্রায় পূর্ণ থাকে বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায়। বাচ্চাগুলো খেলাধুলা করে—ধুলোবালিতে গড়াগড়ি খায় আর বাবা-মায়েরা ছাউনির নিচে বেঞ্চে বসে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বাচ্চারা কেউ ব্যথা না পাওয়া পর্যন্ত ফোন থেকে কেউ মাথা তুলে তাকায় না। বাচ্চাগুলো কে কোথায় কী খেলছে সেদিকেও লক্ষ্য থাকে না অনেকের। সন্ধ্যা মিলিয়ে যেতেই কিছু কিছু পার্কে আবার ফ্লাড লাইট জ্বলে উঠে। বিশেষ করে যে সব পার্কের সংগেই থাকে সকার কিংবা বেসবল খেলার মাঠ অথবা জগিং এন্ড রানিং ট্র্যাক।
ইরিনকে নিয়ে কত বিকেল-সন্ধ্যা কাটিয়েছে এলিনা এই পার্কটিতে। ওদের বাসা থেকে হেটেই আসা যায়। সন্ধ্যা মিলিয়ে যেতেই গরমের তাপ কমে এসেছে। চারিদিকে মৃদু মন্দ বাতাস বইছে। এমন বাতাসে হাঁটতে ওদের বেশ ভালই লাগছে। তাই হাঁটতে হাঁটতে দূরের এই পার্কটিতেই চলে এসেছে এলিনা আর ইরিন।
অনেকক্ষণ থেকে পার্কের একটি বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে রয়েছে ইরিন। এলিনাও বসে আছে তার পাশে। ইরিনের কাঁধে হাত রেখে সে বলল, ‘ইয়োর ড্যাড এন্ড আই—ডু উই মিন এনিথিং টু ইউ?’
‘অফ কোর্স ইউ ডু। ইউ আর দ্য অনলি টু পিপল ইন মাই লাইফ—যারা আমাকে কেয়ার করে, লাভ করে।’
এবার এলিনা ইরিনের চিবুক উঁচু করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ডু ইউ কেয়ার এবাউট আস? আমাদের জন্য কি তোমার কোনো মায়া হয়? আমাদেরকে ফিল করো? আমাকে—তোমার বাবাকে?’
ইরিন ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলল। এলিনা আবার তার কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘হোয়াই ক্যান’ট ইউ অ্যাক্ট লাইক ইউ কেয়ার এবাউট আস। আই হেট টু সি ওয়েস্ট ইয়োর লাইফ! ডোন্ট ইউ হ্যাভ ড্রিমস—সামথিং ইউ ক্যান লিভ ফর?’
ইরিন মাথা না তুলেই বলল, ‘দ্য ট্রুথ ইজ—আই ডোন্ট। আই লিভ ফর টুডে—আই ডোন্ট থিংক এবাউট টুমরো।’ একটু চুপ করে থেকে সে আবার বলল, ‘বাট আই লাইক টু হ্যাভ অ্যা ড্রিম।’
‘লুক এট মি—মাই লাইফ হ্যাজ নেভার বিন ইজি—ফ্রম ডে ওয়ান। বাট আই হ্যাভ নেভার গিভেন আপ বিকজ আই হ্যাভ অল দিজ ড্রিমস দ্যাট কিপ মি গোয়িং। আই লিভ ফর মাই ড্রিমস এন্ড আই উড ডাই ফর দেম।’ তারপর নিচু গলায় যেন নিজের কাছেই বলল, ‘আমার স্বপ্নই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’
ইরিন অবাক হয়ে তাকাল এলিনার দিকে। তার খুব কষ্ট হলো এই মুখটার দিকে তাকাতে। তার মায়ের সেই স্বপ্ন আদৌ কোনোদিন পূরণ হবে কিনা সে ব্যাপারে ইরিনের যথেষ্ট ধারণা নেই। কিন্তু সে কিছুতেই বুঝতে পারে না—তার জন্যে তার মাকে বাসা ছেড়ে আরেকজনের সাথে চলে যেতে হবে কেন? বাবার সাহায্য কি যথেষ্ট ছিল না—নাকি এর পেছনে আরো কোনো কারণ আছে? যদি থাকে কী সেই কারণ? বলবে না বলবে না ভেবেও ইরিন জিজ্ঞেস করল, ‘ইউ স্টিল ড্রিম ফর হলিউড?’
হঠাৎ করেই ইরিনের এমন প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে গেল এলিনা। কোনো উত্তর না দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল সে চুপ করে। তার চোখের কোনটা চিকচিক করে উঠল।
‘হোয়াই ডিড ইউ হ্যাভ টু গো মাম? কেন—কেন চলে গেছ?’
এলিনার চোখ থেকে টপটপ করে কয়েকফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল। ‘এর কোনো সহজ উত্তর আমার কাছে নেই ইরিন। আই রিয়েলি ডোন্ট।’ একটু থেমে চোখ মুছল এলিনা। তারপর আস্তে করে বলল, ‘আই’ম বিগিনিং টু ওয়ান্ডার মাইসেল্ফ—মে বি বিকজ আই নিডেড সামওয়ান টু শেয়ার মাই লাইফ উইথ…’ এলিনার কথায় মনে হলো সম্ভবত সে নিজেও নিশ্চিত নয়, সে কী বোঝাতে চাইছে।
‘সো বাবা ওয়াজ নট গুড এনাফ ফর ইউ টু শেয়ার ইয়োর লাইফ উইথ?’
ইরিনের জেরার মুখে এলিনা অসহায় বোধ করতে লাগল। এবার শেষ অস্ত্র প্রয়োগ—মানুষের জীবনের জটিলতা বোঝার বয়স তোমার হয় নি জাতীয় কিছু একটা বলে ওকে থামানোর চেষ্টা করল। সে তার কণ্ঠে জোর ফিরিয়ে এনে বলল, ‘আই টোল্ড ইউ—ইটস কমপ্লিকেটেড। তুমি বুঝবে না। হয়ত একদিন বুঝতে পারবে—কিন্তু এখন না।’
ইরিন কিছু একটা বলতে যেয়েও বলল না। সে চুপ করে রইল। অথচ তার মনে কত কথা—কত প্রশ্ন। সে এখনো জানে না কিংবা বুঝে না, কেন তার মা-বাবার সেপারেশন হয়েছে। কেন তার মা এভাবে তাদেরকে ফেলে এক আমেরিকানের হাত ধরে চলে গেল। তার ছোট মনে আরো এমন কত প্রশ্ন আনাগোনা করে—কিন্তু কে দেবে তার এসব প্রশ্নের উত্তর।
এলিনা ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘লুক ইরিন, ইয়োর ড্যাড ইজ অ্যা গুড ম্যান। বাট উই হ্যাভ সো মাচ ডিফারেন্সেস। উই জাস্ট ডোন্ট কমপ্লিমেন্ট ইচ আদার। ইউ আর অ্যা গ্রোন আপ গার্ল নাউ—ইউ মাস্ট আন্ডারস্ট্যান্ড…’
‘…ইভেন টু গুড সোলস ক্যাননট স্টে টুগেদার ফরএভার।’ এলিনার মুখের কথা কেঁড়ে নিয়ে ইরিন বাকী কথাটুকু শেষ করল—বিষয়টা এমন যেন ইরিন খুব ভাল করেই জানে এলিনা এখন কী বলবে। ‘সামটাইমস, নো ম্যাটার হাউ হার্ড দে ট্রাই, দেয়ার রিলেশনশিপ জাস্ট ডোন্ট ওয়ার্ক। থিংস হ্যাপেন, দে গেট সেপারেটেড।’ একথাগুলোই এলিনা ইরিনকে একবার বলেছিল যখন সে প্রথমবার ইরিনকে বলেছিল—সে তার বাবার সঙ্গে আর থাকছে না—ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সেদিন থেকেই সেই কথাগুলো ইরিনের মস্তিষ্কে গেঁথে রয়েছে। এসব কথা বোঝার মতো বয়স কিংবা ক্ষমতা হয়ত তখন তার ছিল না। কিন্তু এখন অনেক কিছুই বোঝে সে।
এলিনা কী বলবে ভেবে পেল না। সে ইরিনের মুখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল। মনে মনে ভাবল—তার মেয়েটা সত্যি সত্যিই বড় হয়ে গেছে।

রজার্স হঠাৎ লক্ষ্য করল ইমরানের চেহারার মধ্যে এক ধরণের অস্বাভাবিকতা। তার কেমন একটু অস্বস্তি হতে লাগল। কিছুটা ভয়ও। সে খানিকটা শঙ্কিত হয়েই ডাকল, ‘ইমরান!’
ইমরানের দৃষ্টিভঙ্গির তেমন কোনো পরিবর্তন হলো না।
ইমরানের হিমশীতল দৃষ্টির দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে রজার্সের খুব অস্বস্তি হতে লাগল। অস্বস্তি কাঁটাতে সে আবারো বলল, ‘ইমরান—হোয়াটস রং?’
ইমরান সহসাই চেহারার পরিবর্তন করে ফেলল। হাসি হাসি মুখ করে সে বলল, ‘হাউ’জ দ্য ড্রিঙ্ক?’
রজার্স একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর মিন মিন করে বলল, ‘ইট’স গুড। রিয়েলি গুড।’
আবার একটা অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এল। গ্রীষ্মের সন্ধ্যা—তাপমাত্রা বেশ খানিকটা কমে এলেও সেন্ট্রাল এসির দুটো ইউনিটই চলছে সারাক্ষণ—অতিরিক্ত নীরবতায় শুধু এসির হাম শব্দ ছাড়া আর কোনো কিছু শোনা যাচ্ছে না।
হঠাৎ নীরবতা ভেঙ্গে ইমরান বলল, ‘ফিলিং বোর্ড—উড ইউ লাইক টু প্লে অ্যা গেম?’
‘হোয়াট গেম?’ রজার্স ঠিক বুঝতে পারল না ইমরান কী খেলার কথা বলছে।
‘ট্রুথ অর ডেয়ার!’
রজার্সের বুঝতে এবং দ্বিধা কাটতে একটু সময় লাগল। কিছু সময় ভেবে নিয়ে সে বলল, ‘ট্রুথ…’
‘ডু ইউ লাভ এলিনা?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে রজার্সের চোখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল ইমরান।
রজার্স অবাক হলো। মনে মনে ভাবল এটা আবার কেমন প্রশ্ন। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে বলল, ‘অফ কোর্স আই ডু।’
‘ইউ ওয়ানা মেরি হার রাইট?’
‘ইয়েস। অফ কোর্স।’ একটু হেসে বেশ জোর দিয়েই সে বলল।
‘ওয়ান্স ইউ মেরি হার, ইরিন উড বি ইয়োর ডটার, রাইট?’
‘স্টেপ ডটার।’ রজার্স ভ্রূ কুঁচকে বলল।
‘ইয়েস স্টেপ ডটার। উড ইউ একসেপ্ট হার—এজ ইয়োর ডটার?’
‘জেসাস! হোয়াট কাইন্ড অফ কোশ্চেন ইজ দ্যাট?’
‘ট্রুথ অর ডেয়ার!’
রজার্সের কপালে চিকণ ঘাম দেখা দিল। তার মনে ভয়ের কুডাক দিল। পরিষ্কার বুঝতে না পারলেও তার মনে হচ্ছে—কিছু একটা ঘটছে যার কোনো ক্লু সে পাচ্ছে না। ইমরানের চাহনির মধ্যে কিছু একটা আছে। আজকেই তার সাথে প্রথম পরিচয় তাই ইমরানের ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া হাসির রহস্য সে ধরতে পারছে না। কিন্তু তার অবচেতন মন বলছে—কিছু একটা ঘটবে। সে একবার ঘড়ি দেখল। এলিনা আসছে না কেন এখনো?
‘ট্রুথ অর ডেয়ার?’ ইমরান আবারো শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।
রজার্স বুঝতে পারছে, ইমরানের ফেলে রাখা কোনো ফাঁদে সে আটকা পড়েছে অথবা পড়তে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সুতো ছাড়ছে সে। এখনো হয়তো ধরতে পারছে না—একবার ঠিক মত গেঁথে গেলেই হলো। রজার্স মনে মনে ভাবল—তাকে সাবধান হতে হবে। প্রয়োজনে সে আর কোনো কথার উত্তর দেবে না। সে ঝিম ধরে বসে রইল।
‘ইউ আর অ্যা লায়ার, রজার্স। ইউ ডোন্ট হ্যাভ গাটস টু টেল দ্য ট্রুথ। ইউ এইন্ট গোনা ম্যারি এলিনা, রাইট?’
রজার্স ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল ইমরানের মুখের দিকে। তার মাথা ঘুরছে। এতগুলো ড্রিঙ্ক করা মোটেই উচিৎ হয় নি। মাথা কাজ করছে না। সবকিছু কেমন এলোমেলো ঠেকছে।
‘হ্যাভ এনাদার ড্রিঙ্ক মাই ফ্রেন্ড—নাইট ইজ স্টিল ইয়াং!’ হুইস্কির বোতল থেকে এক শট হুইস্কি রজার্সের গ্লাসে ঢেলে দিয়ে ইমরান মিটমিট করে হাসল।
রজার্স আবারো দ্বিধায় পড়ে গেল। কিছুতেই বুঝতে পারল না—এ হাসির অর্থ কি?

এলিনা বলল, ‘তুমি রজার্সকে পছন্দ করনা আমি জানি। আমি এক্সপেক্টও করিনা যে তুমি তাকে পছন্দ করবে বাট এট লিস্ট, বি লিটল মোর কার্টেয়াস টু হিম—দ্যাটস অল আই’ম আস্কিং।’
‘হাউ ক্যান আই বি মোর কার্টেয়াস? দ্যাট’স নট পসিবল মাম। আই ক্যান্ট বি অ্যা হিপোক্রাইট। দ্যাটস সিমপ্লি নট পসিবল।’ ইরিনের কণ্ঠস্বরে ফুটে উঠল কাঠিন্য।
‘হোয়াই নট?’
‘ইউ ডোন্ট ওয়ান্ট টু নো মাম। ইউ ওন্ট বি এবল টু হ্যান্ডেল দ্যাট। সো ডোন্ট আস্ক—জানার দরকার নাই।’
এলিনার চোখে মুখে অশুভ ছায়া দেখা দিল। সে কাঁপা গলায় বলল, ‘কী—কী বলছো তুমি?’
ইরিন তার মায়ের মুখের দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল দূরের খোলা মাঠের দিকে। মাঠকে সবুজ সতেজ রাখার জন্যে স্প্রিঙ্কুলার সিস্টেম থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ছে—ফ্লাড লাইটের আলোতে সে পানি চিকচিক করছে। এক দৃষ্টিতে সেদিকেই তাকিয়ে রইল ইরিন।
ইরিনের দিকে তাকিয়ে একটা অশুভ আশঙ্কা জেগে উঠল এলিনার মনে। সে উঠে গিয়ে দাঁড়াল ইরিনের পাশে—দুহাতে ধরে ইরিনকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল, ‘কী হয়েছে ইরিন? আমাকে বলা যায় না? আমি তোর মা!’
ইরিন চুপ করে রইল।
এলিনা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। ‘কী এমন কথা আমাকে বলতে পারিস নি আগে?’
‘আমি বলতে চাইছি—অনেক বলতে চাইছি। আই ওয়ান্টেড টু টক উইথ ইউ ব্যাডলি। বাট ইউ ডিডন্ট হ্যাভ এনি টাইম ফর মি। আই ওয়াজ গোয়িং থ্রু হেল। অল অফ মাই ফ্রেন্ডস রিজেকটেড মি। আই হ্যাভ নোবডি টু টক টু… এন্ড আই নিডেড সাম এক্সট্রা মানি, ডেসপারেটলি।’
‘তোমাকে তো হাত খরচের টাকা দেয়াই হয়—হোয়াই ডিড ইউ নিড এক্সট্রা মানি ফর?’
‘আই’ম অ্যা গ্রোন আপ গার্ল মাম। আই হ্যাভ নিডস। ইউ শুড নো দ্য ডিম্যান্ড অফ অ্যা গার্ল অফ মাই এজ। ডোন্ট ইউ?’
‘জানব না কেন? তোমার মতো এই বয়সটা একসময় আমারও ছিল। বাট আওয়ার ডিম্যান্ড ওয়াজ লিমিটেড—তোমাদের মতো মডার্ন টিনেজদের মত এত ডিম্যান্ড আমাদের কখনোই ছিল না। এখনকার বাচ্চারা বাবা-মাকে সাতপাঁচ বুঝিয়ে যা খুশি তাই করে।’
এলিনার কথায় ইরিন খুবই বিরক্ত হলো। সে ভ্রূ কুঁচকে তাকাল তার মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দেখলা?’
এলিনা বুঝতে পারল এভাবে বলাটা ঠিক হয় নি। সে কথার সুর বদলে বলল, ‘টাকা লাগবে তো বাবাকে বললেই পারতে। তাকে বলো নাই কেন?’
‘বলছিলাম বাট হি ডিডন্ট কেয়ার। সো আই ওয়েন্ট টু ইয়োর এপার্টমেন্ট ওয়ান ডে—কিন্তু তুমি বাসায় ছিলা না।
‘কই আমি তো কিছুই জানি না? রজার্স বাসায় ছিল না?’
ইরিন সে কথার কোনো উত্তর না দিয়ে যেভাবে তাকিয়ে ছিল সেভাবেই দূরের মাঠের দিকে তাকিয়ে রইল। মাঠের পানি চিকচিক করছে—ইরিনের চোখের পানিও।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *