a-perfect-revenge

এ পারফেক্ট রিভেঞ্জ (পার্ট-৬)

এলিনা মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। ইরিন যা বলছে তা যদি সত্যি হয়ে থাকে—ওহ মাই গড! সে কিছুতেই ভাবতে পারছেনা তার নিজের মেয়ে—নাড়ি ছেঁড়া ধন—আর তার সাথেই কিনা এসব ঘটেছে। মনে পড়ল সেই দিনটির কথা—যেদিন সেইন্ট মেরি হসপিটালে ইরিনের জন্ম হলো। অনেক কষ্ট হয়েছিল এলিনার। বাচ্চা প্রসবের দেরি দেখে ইমরান ডাক্তারকে সার্জারির কথা কয়েকবার বলেছে কিন্তু ডাক্তারের স্পষ্ট জবাব, সার্জারির দরকার হলে আমরা করব কিন্তু এখনো এমন কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে সার্জারি করতে হবে। আমরা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করছি। বেচারা ইমরান, না পারছে ডাক্তার কে বোঝাতে, না পারছে এলিনার কষ্ট সহ্য করতে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেল কিন্তু নরমাল ডেলিভারির কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। এদিকে এম্নিওটিক ফ্লুইড শুকিয়ে জীবন মরণ দশা হলো দুজনেরই। অবশেষে প্রায় ষোল ঘণ্টা যুদ্ধ আর যমে দূতে টানাটানির পর ভূমিষ্ঠ হলো এক ফুটফুটে পরীর বাচ্চা। তারপর একটানা সাতদিন পরীর বাচ্চাটাকে ইনকিবিউটরে রাখতে হলো বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার কারণে।
কত কষ্ট আর যত্ন করে তিলে তিলে বড় করা তার আদরের মেয়ে ইরিন আর তাকেই কিনা এমন নরক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এলিনার সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। সে নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না। ইচ্ছে হচ্ছে এখুনি ছুটে গিয়ে ঐ সান অফ অ্যা বিচকে খুন করে ফেলতে।
দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে ইরিনের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এলিনা বলল, ‘এসব কথা তুমি আমাকে আগে বলনি কেন?’
‘আগে বললে তুমি কী করতে? কিছু করতে পারতা?’
‘কী করতে পারতাম কী পারতাম না সেটা তো পরের কথা। But you should have told me at least—তোমার অবশ্যই উচিত ছিল আমাকে সব কিছু খুলে বলা। I’m not only your mother Erin, I’m also your friend. You used to tell me every little thing, you remember?’
‘I used to, but you’re not my friend anymore… you left me! আমি বলি নাই তোমাকে—বাট বলতে চাইছিলাম—দেন মনে হইছে তুমি আমাকে বিলিভ করবা না—তাই বলি নাই। plus, I’m not important in your life anymore—you’ve someone more important in your life now! Who cares about me?’
এলিনা অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রইল ইরিনের মুখের দিকে। তাহলে কি সে সত্যিই অনেক দূরে সরে গেছে তার একমাত্র মেয়ের জীবন থেকে? নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হলো তার।
‘তাছাড়া এসব কথা জানাজানি হলে আমাকেই সবাই খারাপ ভাবত। My friends would have bullied me…’ একটু থেমে ইরিন আবার বলল, ‘You also insulted me mom. You yelled at me that; I was a trash. Did you forget everything? ভুলে গেছ?’
এলিনা কোনো উত্তর দিতে পারল না। অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ইরিনের মুখের দিকে। আসলেই তো রজার্সের সাথে সম্পর্কের কারণে সে এই বাচ্চা মেয়েটির সাথে কত দুর্ব্যবহার করেছে। বিচ্ছিরি ভাষায় গালাগাল করেছে। স্বার্থের কারণেই বোধহয় মানুষ এমন অন্ধ হয়ে যায়। এলিনা কি তাহলে হেরে গেল? ইরিনের ঘৃণা ভরা অগ্নিদৃষ্টির দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা সম্ভব হলো না—সে দৃষ্টি সরিয়ে নিল ইরিনের মুখের উপর থেকে।

ইমরানের বাসার বেশির ভাগ বাতি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আলো আঁধারের একটা পরিবেশ বিরাজ করছে ঘরটার মধ্যে। অনেকক্ষণ থেকে ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। জানালার পর্দা গলে বাইরে থেকে আলোর ছটায় দেখা গেল রজার্সকে—একটা চেয়ারে বসা। শক্ত করে তাকে চেয়ারের হাতলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। মাথাটা ঝুঁকে আছে সামনের দিকে। তার চোয়ালে বড় একটা ক্ষত চিহ্ন। নাকের ফুটা দিয়ে রক্ত ঝরছে। নাকটা বেশ খানিকটা থেঁতলে গেছে। ঠোঁট কেটেও রক্ত ঝরেছে অনেক। একটা কালো রঙের গ্যাফার টেপ দিয়ে রজার্সের মুখ আটকানো—যাতে কোনো শব্দ করতে না পারে সে। বিপর্যস্ত রজার্স বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছে সামনে দাঁড়ানো মানুষটির দিকে। মানুষটি আর কেউ নয়—ইমরান। তার হাতে একটা বেসবল ব্যাট।
এলিনা আর ইরিন বাইরে হাঁটতে চলে যাবার পর থেকেই ইমরান কৌশলে রজার্সকে একটার পর একটা ড্রিঙ্কস দিয়ে মোটামুটি মাতাল বানিয়ে ফেলে। তারপর হুট করেই চেয়ারের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে তাকে। বাধা দেবার মতো শক্তি তেমন ছিল না। ঘটনার আকস্মিকতায় থতমত খেয়ে যায় সে। অতঃপর আত্মসমর্পণ।
রজার্সের দিকে কিছুক্ষণ ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শীতল কণ্ঠে ইমরান বলল, ‘Do you realize what I’m going to do to you?’
রজার্স কিছু বলার চেষ্টা করল কিন্তু টেপ দিয়ে মুখ আটকানো থাকায় কোনো শব্দ বের হলো না। ইমরান তার মুখ থেকে হ্যাঁচকা টানে সেঁটে থাকা টেপটি তুলে ফেলল।
‘What’s going on Imran? What are you doing?’ একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল রজার্স।
‘Exactly what you deserve!’
‘This is what you do to your guest?’
‘You don’t deserve a fair trial my friend—after what you did to my family.’ চিবিয়ে চিবিয়ে কথাগুলো বলল ইমরান। তারপর হঠাৎ করেই হাতের ব্যাটটি দিয়ে সজোরে আঘাত করল রজার্সের ঊরুসন্ধির ঠিক মধ্যস্থলে।
চেয়ার উল্টে পড়ে গেল রজার্স। ব্যথায় কুঁকড়ে গেল তার মুখ। ‘Oh my God! You crazy bastard! What the hell is wrong with you?’ হাঁপাতে হাঁপাতে কোনো রকমে বলল সে।
হাঁটু গেঁড়ে রজার্সের সামনে বসল ইমরান। মুখ নামিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ‘I’ve waited a long time for this, Rogers!’
‘I should have known that you weren’t inviting for a social dinner.’ রজার্সের কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। ইমরান তাকে ধরে চেয়ার সোজা করে বসিয়ে দিল।
‘Well what do you expect?’ ইমরান বলল হাতের ব্যাটটি নাড়াতে নাড়াতে।
‘I expect some respect—only if you know how to…’
‘Respect?’ সিনেমার ভিলেনদের মত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল ইমরান। হঠাৎ করে হাসি থামিয়ে বেসবল ব্যাটটি রজার্সের চিবুকে ঠেকাল সে।
ইমরানের দিকে তাকিয়ে রজার্সের হৃৎপিণ্ডে কাঁপন ধরে গেল—ভয়ের শীতল স্রোত শিরশির করে নেমে গেল তার শিরদাঁড়া দিয়ে। ইমরানের চোখে স্পষ্ট খুন দেখতে পেল সে। রজার্স অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, ‘You wanna kill me?’
‘No no no, I cannot kill you. You’re my wife’s boyfriend after all and you’re my guest too, right?’
‘Man, are you psycho or what? I’m telling you Imran—you will regret for this!’
‘Really? Psycho? Me? Oh, I’m no psycho. What I’m doing is purely logical. Revenge. The real psycho is somebody who rapes his girlfriend’s daughter!’ হিশহিশ করে কথাগুলো বলে রজার্সের দিকে হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ইমরান।
রজার্সের চোয়াল ঝুলে পড়ল। হাঁ করে তাকিয়ে রইল ইমরানের মুখের দিকে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে। সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না—ইমরান কী বলল? সে ভাবছিল—এলিনার সাথে তার সম্পর্কের কারণেই তাকে টর্চার করছে ইমরান। কিন্তু—। তার মানে ইমরান আগে থেকেই সবকিছুই জানত। এলিনা? সেও কি জানে? সবটাই কি তাহলে পূর্ব পরিকল্পনা? ইরিনকে নিয়ে এলিনা তাহলে বাইরে চলে যাবে কেন? আর এতক্ষণ হয়ে গেল—এলিনা ফিরছেই বা না কেন? রজার্সের মাথা এলোমেলো হয়ে গেল। তার ব্রেইন কাজ করছে না—চিন্তা শক্তি লোপ পেল পুরোপুরি। চোখেও ঝাপসা দেখছে একটু একটু। এতগুলো ড্রিঙ্কস করাটা তার মোটেই ঠিক হয়নি। নাহলে রজার্সের মতো এমন তাগড়া জোয়ান জিম ইন্সট্রাকটরের সঙ্গে ইমরানের মত এভারেজ হাইটের সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে পেরে উঠার কথা ছিল না। রজার্সের আগেই বোঝা উচিৎ ছিল। তার মত একজন স্মার্ট মানুষের পক্ষে এমন ভুল হয়ে গেল—মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিল সে। চালে মস্ত বড় একটা ভুল করে ফেলেছে সে।
‘Tell me Rogers—who’s real psycho?’ ইমরানের কথায় চিন্তায় ছেদ পড়ল তার।
‘No. This can’t be true. Who told you that? Can you tell me? Can you prove?’
‘You need proof?’
‘Yeah. Prove me.’ সাহস নিয়ে বলল রজার্স।
ইমরান কিছু না বলে তার ফোনটা বের করে রজার্সের চোখের সামনে ধরল একবার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রজার্সের চেহারা পাংশু বর্ণ ধারণ করল। মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হলো না।
ইমরান তার হাতের ব্যাটটি উঁচু করে ধরে রজার্সের মুখের সামনে নিয়ে নাড়াতে থাকল। পরাজিত ভঙ্গিতে রজার্স ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে রইল ব্যাটটির দিকে। যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসবে তার চোয়ালে। সে প্রমাদ গুনল।

এলিনার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে—অনবরত। চোখ মুছতে মুছতে সে বলল, ‘How about your dad? তাকেও কিছু বলনি?’
ইরিন ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘No! Are you out of your mind? He would have had a heart attack. তোমার কি মনে হয়, বাবা জানলে ওকে বাসায় ইনভাইট করত? কক্ষনো না। He would have simply killed him.’
এলিনা কিছু বলল না। সে গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। সে চোখ বন্ধ করে ফেলল কিছু সময়ের জন্যে। তারপর চোখ খুলে তাকাল ইরিনের দিকে। ইরিন তার মায়ের চেহারার দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেল। কেমন অস্থিরতায় ভুগছে সে। হঠাৎ করেই এলিনা উঠে দাঁড়িয়ে বাতাসে হাত ছুঁড়ে বলল, ‘Let’s go.’ বলেই সে ইরিনের হাত ধরল।
ইরিন লক্ষ্য করল, এলিনা কেমন পাগলের মতো এলোমেলো আচরণ করছে। এলিনা বলল, ‘I will kill that bastard myself—in my own hand!’ বলেই ইরিনের হাত ধরে প্রায় টেনে নিয়েই ছুটে চলল এলিনা—গন্তব্য ইরিনদের বাসা।

দু’পা ভাঁজ করে রজার্সের সামনের মেঝেতে ধ্যানে বসা ভঙ্গিতে বসে আছে ইমরান। তাকিয়ে আছে রজার্সের চোখের দিকে।
রজার্সের শরীর বেয়ে ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে গেল। ইমরানের দৃষ্টিতে এমন কিছু আছে যে সে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না—চোখ ফিরিয়ে নিল।
ইমরান বলল, ‘It’s time Rogers. Are you ready?’
‘Go to hell.’
‘Oh I’ve been in the hell. Every time you were in me, it was a living hell.’
‘It was not my fault. She was high on drugs and… she asked for it.’
একথা শুনে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করল ইমরান। তার চোখ ঠিকরে আগুন ঝরতে থাকল। হাতের ব্যাটটি নিয়ে রজার্সের চোয়ালের নিচে চাপ দিয়ে ধরে সে বলল, ‘She asked for it?! How the hell does a fourteen-year-old asks to be raped?!’ বলেই ব্যাটের মাথা দিয়ে সজোরে আঘাত করল রজার্সের মুখে।
রজার্সের মুখ থেকে রক্ত ঝরে পড়ল। কয়েকটা ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। সে একদলা থুথু ফেলল—একটা দাঁত খুলে পড়ল থুথুর সাথে।
রজার্স কোনো রকমে বলল, ‘If you’re going to kill me, just do it already.’
রজার্সের মুখের অভিব্যক্তি দেখে ইমরান অবাক হয়ে তাকাল। অবিশ্বাস্য কণ্ঠে বলল, ‘Oh my God. I can’t believe it…’
রজার্স তাকাল ইমরানের দিকে। প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে।
‘You. Your face. No sign of regret in there. You don’t regret doing it. You raped your girlfriend’s daughter and you don’t feel anything about it. Like it was a normal thing.’
রজার্সের চেহারায় কোনো পরিবর্তন হলো না। সে ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
‘Do you really love Elina?’
ইমরানের হঠাৎ করা প্রশ্নে অবাক হয়ে বলল রজার্স, ‘Why you’re asking me same question again. I answered you before.’
‘Answer me again. Do you love Elina?’ শীতল কণ্ঠে ইমরান বলল।
‘Yes I do.’
‘You wanna marry her?’
‘What nonsense. I told you once.’
‘Tell me again.’
‘Yes. Yes, I wanna marry her. And I’m going to marry her.’
‘Once you marry her, Erin would be your daughter, right?!’
রজার্স কিছু না বলে তাকিয়ে রইল ইমরানের মুখের দিকে।
একটু বিরতি নিয়ে ইমরান আবার বলল, ‘Tell me Rogers, if you ever had a daughter, would you do to her what you did to your soon to be daughter??’
রজার্স তাকিয়ে রইল ইমরানের দিকে। সে কিছু বলল না।
‘Answer me.’
ইমরানের ধমকে একটু নড়ে উঠে বলল রজার্স, ‘No because I would actually love her. She wouldn’t be some spoiled tramp’
কথা শেষ করার আগেই ব্যাটের আঘাতে রজার্সের মুখ ঘুরে গেল। ইমরান অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বলল, ‘You son of a bitch!’
ঠোঁট কেটে আরেক দফা রক্ত বের হলো ফিনকি দিয়ে। চেষ্টা করেও মুখ সরাতে পারল না রজার্স।
ইমরান রজার্সের মুখের কাছে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে রক্ত ছুঁয়ে দেখল। হাতের আঙ্গুলে রক্ত পিষে বলল, ‘You said I’m gonna regret leaving you alive. Perhaps. But now you will regret me leaving you alive.’
‘Why—you don’t wanna kill me?’
‘Nope, I don’t wanna kill you. I will do something far worse. You’ll never be able to do such thing ever again in your life what you did to my daughter.’
‘Worse than killing me? Really? What’s that?’ ঢুলু ঢুলু চোখে কোনো রকমে বলল রজার্স।
‘No rush my friend. Just wait…’
ইমরান একটা ক্রূর হাসি দিয়ে চলে গেল কিচেনে। দুহাতে গ্লাভস ঢুকিয়ে ওভেন খুলে দেখল স্টেইনলেস স্টিলের বারবিকিউ করার গ্রিলিং টংটি এখনো জ্বলছে। জ্বলন্ত টংটি বের করে নিয়ে সে ফিরে এলো লিভিংরুমে। দাঁড়াল রজার্সের সামনে। এক মুহূর্ত তাকাল রজার্সের চোখের দিকে।
রজার্স ভয়ার্ত চোখে দেখল ইমরানের অগ্নিদৃষ্টি—হাতে জ্বলন্ত টং। কিছু বুঝে উঠার আগেই ৪৫০ ডিগ্রী ফারেনহাইট টেম্পারেচারে পোড়ানো জ্বলন্ত টং দিয়ে রজার্সের জেনিটাল চেপে ধরল ইমরান—ধরেই রইল। বাড়তে থাকল চাপ—ধীরে ধীরে।
ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠল রজার্স। চোখে ঘোর অন্ধকার দেখল সে। দাঁতে দাঁত চেপে রইল সে।
ইমরান চার্জ করল আবার। আরেকবার। শেষ বার হাতের কব্জি ঘুরিয়ে থেঁতলে দিল রজার্সের পুরুষাঙ্গটি।
কোঁত করে একটা শব্দ বেরিয়ে এলো রজার্সের মুখ থেকে। চিৎকার দিয়ে চেয়ার থেকে মেঝেতে উল্টে পড়ে গেল সে। একধরণের গোঙানির মতো শব্দ করতে থাকল শুধু। মনে হচ্ছে কেউ তার মুখ চেপে ধরে নিঃশ্বাস বের করে দিতে চাইছে।
ইমরান নিচু হয়ে রজার্সের পাশে বসল আবার। তার বিস্ফারিত চোখের দিকে তাকিয়ে ইমরান বলল, ‘You ruined two lives and now, it’s your turn to payback. Goodbye Rogers. Have a great sleep!’
রজার্স কিছু বলতে পারল না। ধীরে ধীরে তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। ইমরান তার শরীর মনের আক্রোশ নিভিয়ে ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রজার্সের চোখের দিকে। চোখ বন্ধ হয়ে যেতেই দৃষ্টি ঘুরিয়ে সে একবার দেখল—রজার্সের রক্তাক্ত ও থেঁতলানো শরীরের বিশেষ অঙ্গ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পোড়া গন্ধ বের হয়ে এল সাথে সাথেই।
রজার্স জ্ঞান হারাতেই ইমরান উঠে চলে গেল। খুব ধীরে এক শট কানাডিয়ান ক্রাউন রয়েল ঢালল গ্লাসে। একবারে গলায় ঢেলে দিয়ে মাথা ঝাঁকাল। কিছু সময় স্থির হয়ে বসে রইল সে। তারপর হঠাৎ করেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল ইমরান। হাসতে হাসতেই কল করল ৯১১ নাম্বারে। এম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকল সে।

শেষ পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *