-Shei-Coffe-Shop

সেই কফি শপ (শেষ পর্ব)

ছুটির সকাল।
আজ সকাল থেকেই কেমন অস্থির লাগছে রাচনার। এতদিনে তার এমন কখনোই লাগে নি। প্রতিটি ছুটির সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা আর একটি বই নিয়ে রাচনা বসে লীনাদের বাসার পেছনের ছাউনির নীচে।
একটা সুন্দর সকাল। মৃদু মন্দ বাতাস বইছে ঝিরঝির করে। সেই বাতাসে রাচনার চুল সরে গিয়ে কপালে মুখের সামনে এসে পড়ছে। হঠাৎ চুল সরাতে গিয়ে চায়ের কাপে ধাক্কা লেগে কাপটা উলটে পড়ে গেল। কাপ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো। রাচনা চুপ করে বসে রইল। তার এমন লাগছে কেন? কাপের ভাঙা টুকরোগুলো তুলে নিয়ে ফেলে দেয়া দরকার। কিন্তু তার ইচ্ছে হচ্ছে না। আর এক কাপ চাও বানিয়ে আনতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু তার ইচ্ছে হচ্ছে না উঠে গিয়ে আর এক কাপ চা বানিয়ে আনে। অথচ সকালে এক কাপ চা না খেলে তার সারাদিন অবশ অবশ লাগে।
অবশ লাগে লাগুক। সে যেভাবে বসে ছিল সেভাবেই রইল। বাতাসের বেগ সহসাই একটু বেড়ে গেল। কথিত আছে টেক্সাসের আবহাওয়া আর মেয়েদের মনের কোনো গ্যারান্টি নাই—যে কোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাতাসের বেগ বেড়ে গেল আরো। রাচনা আকাশের দিকে তাকাল। পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ জমে আছে আকাশে। বৃষ্টি হবে কি না কে জানে?
রাচনা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, বৃষ্টি যদি নামেও তবুও সে বসে থাকবে। আবেশে রাচনার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। তার মনের মধ্যে একধরণের তোলপাড় হচ্ছে, কেন হচ্ছে সে নিজেও জানে না। হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিল রাচনাকে—চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির মধ্যে বসে রইল সে।
বৃষ্টি থেমে গেছে সেই কখন। টেক্সাসের বৃষ্টি বলে কথা। এই আছে এই নেই। সারাদিন মেঘ আর রোদের খেলা চলেছে। মেঘ সরে গিয়ে রোদের আলোয় মোটামুটি আলোকিত ছিল সারাদিন।
দিন শেষ হতে এখনো ঢের বাকি। বিকেলের রোদ মিইয়ে যেতে শুরু করেছে।
মাহবুব সাহবের বাসার দরজায় কলিং বেলটা বেজে চলেছে অনেকক্ষণ থেকে। ডিং ডং। ডিং ডং।
লীনা তার ছাত্র-ছাত্রীদের গানের তালিম দিচ্ছিল। সপ্তাহে ছুটির দু’দিন লীনা ডালাসে বসবাসরত বাঙালি পরিবারের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের বাংলা গান শেখায়। কলিং বেলের শব্দে সে একবার ঘুরে তাকাল। ভাবল রাচনা খুলে দেবে। মাহবুব বাসায় নেই—সে গেছে কিছু গ্রোসারি করতে। কলিং বেল বেজেই চলেছে। কেউ খুলছে না দেখে অগত্যা লীনাকে উঠতে হলো। সে বাচ্চাদেরকে প্র্যাকটিস করতে বলে চলে গেল দরজা খুলতে।
দরজা খুলে লীনার চোখ বড় হয়ে গেল। সে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল অর্ণব দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপাশে।
‘আপনি?’ লীনা প্রায় চিৎকার দিয়ে উঠল।
‘হ্যাঁ, আমি।’
‘হাউ স্ট্রেঞ্জ! এতদিন কোথায় ছিলেন?’
সে কথার কোনো উত্তর না দিয়ে অর্ণব জিজ্ঞেস করল, ‘রাচনা এখন কোথায় আছে, কিছু বলতে পারেন?’
‘আপনি তো অদ্ভুত মানুষ। কাউকে কিছু না বলে হুট করে নাই হয়ে গেলেন। আর এখন এসে বলছেন, রাচনা কোথায় আছে?’
‘ভাবী প্লিজ, ওকে আমার ভীষণ প্রয়োজন।’
লীনা চুপ করে রইল। ইতস্তত করে সে একবার ঘরের ভেতরের দিকে তাকাল। তারপর আবার তাকাল বাইরে। রোদ পড়ে গেছে। দিনের এই সময়টাতে রাচনা সাধারণত ওদের বাসার বাগানের পরিচর্যা করে। সে নিশ্চয়ই সেখানে আছে। লীনা বুঝতে পারছে না, সে কি রাচনাকে ডেকে দেবে না কি অর্ণবকে ভেতরে নিয়ে বসাবে।
লীনা কিছু বলছে না দেখে অর্ণব আবার বলল, ‘ভাবী প্লিজ!’
‘আসুন।‘ লীনা অর্ণবকে ভেতরে এনে বসাল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই মাহবুব সাহেব গাড়ি গ্যারাজের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন। তিনি গ্রোসারীগুলো কিচেনে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই লক্ষ করলেন অর্ণব বসে আছে লিভিং রুমে।
অর্ণবকে দেখে মাহবুব সাহেব দাঁড়ালেন এক মুহূর্ত—হাতের গ্রোসারি মেঝেতে ফেলে দিয়ে এগিয়ে গেলেন অর্ণবের কাছে—উচ্চস্বরে বললেন, ‘তুমি? এতদিন পর তুমি কোত্থেকে? কেন এসেছ?’
অর্ণব বিনয়ের সাথে বলল, ‘আমি বুঝতে পারছি, আপনারা সবাই আমার উপর রেগে আছেন। আর সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার সব কথা না শুনলে আপনারা কিছুতেই বুঝতে পারবেন না, হোয়াট আই হ্যাভ বিন থ্রু!’
‘তোমার কোনো কথা শোনার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তোমাদের মতো ছেলেদের আমি ভালো করেই চিনি। ইউ আর নাথিং বাট অ্যান ইররেস্পনসিবল পারসন। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল।‘ মাহবুব সাহেব অত্যন্ত রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন।
অর্ণব চুপ করে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।
‘আচ্ছা অর্ণব, রাচনার তো কোনো দোষ ছিল না, তাহলে কেন তুমি তার সঙ্গে এমন একটা কাজ করলে? কাপুরুষের মতো পালিয়ে না গিয়ে কথাটা সরাসরি জানালেই পারতে। একটা ফোন করেও তো বলা যেত?’
‘মাহবুব ভাই, বিশ্বাস করুন, রাচনার সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো কোন উপায়ই আমার ছিল না। থাকলে আমি…’
‘তোমার কোনো কথা বিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’
‘আহা, এত রিয়্যাক্ট করছো কেন। মানুষের বিপদ হতে পারে না? শুনেই দেখিনা।‘ লীনা অর্ণবের ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করে বলল।
লীনার কথায় মাহবুব আরো রেগে গেলেন। ‘তোমার শুনতে হয় তুমি শোনো। আই হ্যাভ নো ইন্টারেস্ট।‘ লীনা এবং অর্ণবের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তিনি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেলেন।
অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তার অস্থিরতা বাড়তে থাকল। ইতোমধ্যেই কপালে কিঞ্চিত ঘাম দেখা দিয়েছে। সে হাতের উলটো দিক দিক দিয়ে ঘাম মুছল।
লীনা অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি এনে দেব?’
অর্ণব মাথা তুলে তাকাল কিন্তু কিছুই বলল না।
লীনা উঠে গিয়ে বরফ কুচি মিশিয়ে এক গ্লাস শীতল পানি এনে দিল অর্ণবের হাতে। অর্ণব ঢক ঢক করে সব পানিটুকু খেয়ে গ্লাসটা নামিয়ে রাখল সামনের কফি টেবিলে। তারপর একটু স্থির হয়ে বলল, ‘ভাবী, কী হয়েছিল আমি সব বলব। তার আগে একবার রাচনাকে আমি দেখতে চাই। বলবেন ও কোথায়?’
‘হাই আঙ্কেল?’
অর্ণব তাকিয়ে দেখল, সিঁড়ির নিচে তানিশা দাঁড়িয়ে আছে। তানিশাকে দেখে অর্ণব উৎফুল্ল হয়ে উঠল। দেহে প্রাণ ফিরে পেল যেন। হৃৎপিণ্ড লাফিয়ে উঠল। সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে উচ্চারণ করল, ‘তানিশা!’
অর্ণব উঠে দাঁড়াতেই তানিশা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে। অর্ণব তানিশাকে ধরে বলল, ‘হোয়্যার ইজ মামি?’
তানিশা বলল, ‘কাম উইথ মি।‘ তানিশা অর্ণবের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেল পেছনের দরজা দিয়ে ঘরের বাইরে।
বাড়ির পেছনের বাগানে রাচনা পানি দিচ্ছিল।
ব্যাকইয়ার্ডের ছাউনির নীচে এসে দূর থেকে রাচনাকে দেখল অর্ণব । দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইল অপলক। তারপর অস্ফুটে ডাকল, ‘রাচনা!’
রাচনা ঘুরে তাকিয়ে দেখল অর্ণবকে। সে কয়েক মুহূর্ত মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে। তারপর পানির পাইপটি হাত থেকে ফেলে দিয়ে এক পা এক পা করে এগিয়ে গেল সে। একটু কাছে যেয়েই দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল অর্ণবের বুকে। অর্ণবও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল রাচনাকে।
[প্রিয় পাঠক, হাত তালি দিয়ে গল্পটি এখানে শেষ করে দিলে কেমন হয়? অর্ণবকে ফিরিয়ে আনার কথা, ফিরিয়ে এনেছি, সিনেমাটিক স্টাইলে মিল হয়ে গেল—মূল গল্প বলাও শেষ। তবে কিছু পাঠকের কৌতূহল থেকেই যেত, তাহলে অর্ণব কোথায় গিয়েছিল? আসুন দেখা যাক—সেদিন কী ঘটেছিল…]
কিছু মুহূর্ত পার হয়ে গেল এভাবেই—হঠাৎ নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এক পা পিছিয়ে গেল রাচনা।
অর্ণব এগিয়ে গিয়ে রাচনার হাত ধরতে চাইলে সে তাকে ধরতে দিল না। বরং পাগলের মতো কাঁদতে কাঁদতে অর্ণবের জামা ধরে ঝাঁকি দিয়ে এক নাগাড়ে বলে চলল, ‘এতদিন কোথায় ছিলে তুমি? কী হয়েছিল—কী হয়েছিল আমাকে বলো। কেন তুমি আমাকে এভাবে ফেলে চলে গিয়েছিলে? তাহলে কেন বলেছিলে ভালোবাসি। ভালোই যদি বাসবে তাহলে–’
অর্ণব রাচনার হাত ধরে বলল, ‘রাচনা, আমার কথা শোন।’
‘বলো, বলো তোমার কী কথা, শুনি। জানি তো কী বলবে…’
‘না তুমি জানো না। তোমার কোন ধারণাই নেই।’
অর্ণবের কথার মধ্যে এমন কিছু ছিল যে রাচনা আর কিছু না বলে তাকিয়ে রইলে তার মুখের দিকে।
‘সেদিন রাতে, তোমার কথা ভাবতে ভাবতে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। গভীর রাতে আমার একটা ফোন আসে বাংলাদেশ থেকে। আমার ছোট ভাই আকাশ—এমন একটা খবর আমাকে দেয় যা শোনার মানসিক শক্তি আমার ছিল না। আমি কেন, পৃথিবীর কোন ছেলেরই সে শক্তি থাকার কথা নয়।’
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অর্ণব বলল সেদিনের পুরো ঘটনা।
ঘুম চোখে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে আকাশ কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘হ্যালো, ভাইয়া? আমি আকাশ। ভাইয়া, তুমি কি দেশে আসতে পারবে?’
অর্ণব বলল, ‘কেন কী হয়েছে?’
‘সর্বনাশ হয়ে গেছে ভাইয়া। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। সব শেষ।’
আকাশের মুখে সব কিছু শুনে অর্ণব পাথরের মতো শক্ত হয়ে বসে রইল। তার চিন্তাশক্তি এলোমেলো হয়ে গেল। সে উদ্ভ্রান্তের মতো আচরণ করতে থাকল। সে দ্রুত কয়েকটি কাপড় একটা সুটকেসের মধ্যে ভরে নিয়ে আরো দ্রুততার সঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
অর্ণব চলে যাওয়ার সময় তার অজান্তেই একটা ছোট্ট ঘটনা ঘটল, ঘটনা না বলে দুর্ঘটনাই বলা চলে। যে ঘটনা অর্ণব ও রাচনার জীবনে এক বিষাদময়তা সৃষ্টি করল।
বিছানার উপর অর্ণবের ফোনটা যেখানে ছিল তার পাশেই সুটকেস রেখে কাপড় ভরে বের হবার সময় সুটকেসের ধাক্কায় তার ফোনটা পড়ে গেল বিছানা থেকে এবং একই সাথে তার পায়ের ধাক্কায় চলে গেল বিছানার নিচে। মেঝেতে কার্পেট থাকায় কোনো ধাতব শব্দ হলো না, হলেও তা অর্ণবের কানে পৌঁছুত কি না সন্দেহ। অর্ণবের অজান্তেই ঘটল সবকিছু—তাড়াহুড়ো আর অস্থিরতায় সে টেরই পেল না, কী ঘটে গেল।
রাচনা তাকিয়ে আছে অর্ণবের মুখের দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে।
রাচনার মুখের দিকে তাকিয়ে অর্ণব বলল, ‘আমার মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না অনেকদিন থেকেই। ঢাকায় গিয়ে একটা ভালো ডাক্তার দেখানো দরকার ছিল। তাই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আমার ছোট বোন রুনির ভর্তি পরীক্ষার সময় মা আর বাবাও গিয়েছিল ওর সঙ্গে ঢাকায়। ভেবেছিল রুনির পরীক্ষা শেষে মাকে ভালো একজন ডাক্তার দেখিয়ে আসবে।’
এটুকু বলে অর্ণব থেমে গেল। বাকী কথাগুলো বলতে তার গলা ধরে এল। সে থেমে থেমে বলল, ‘ফেরার সময় চালকের খামখেয়ালি আর বেপরোয়া চালানোর জন্যে ভারসাম্য হারিয়ে একটা ব্রিজের উপর থেকে ওদের বাসটি নদীতে পরে যায়। এবং অর্ধেকেরও বেশি প্যাসেঞ্জার মারা যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে বাবা আর মায়ের লাশ পাওয়া গেলেও, রুনিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি।’
রাচনা অস্ফুটে বলল, ‘ও মাই গড!’ সে অর্ণবের হাত ধরল শক্ত করে।
‘আকাশের ফোন পাওয়ার পর থেকেই আমি কেমন জানি উদভ্রান্তের মতো হয়ে যাই। ঠাণ্ডা মাথায় কিছু ভাবতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে হাতের কাছে যা পেয়েছি, তাই নিয়েই আমি এয়ারপোর্ট চলে যাই।’

‘এয়ারপোর্টে পৌঁছে আমি নিউ ইয়র্কের একটি কানেকটিং ফ্লাইট পেয়ে যাই। আমি দেশে যাচ্ছি এই কথাটা তোমাকে জানানো দরকার। ফোন করতে গিয়ে দেখি আমার ফোনটা নেই। কোথায় ফেলেছি মনে করতে পারলাম না।’
‘এতগুলো দিন যোগাযোগ বিহীন থাকতে হবে তোমার সাথে—ভাবতেও পারিনি কোনোদিন। বিশ্বাস করবে কি না জানি না—প্রতিটি দিন আমার কেটেছে শুধু তোমার কথা ভেবে।’
রাচনা কিছু বলতে পারল না। অর্ণবের কথা শুনতে শুনতে তার চোখ ভিজে উঠল।
অর্ণব বলল, ‘ছোট ভাইগুলোকে সান্ত্বনা দেবার মতো কোন ভাষা আমার ছিল না। ওদেরকে কী বলবো, আমি নিজেই কেমন যেন অসুস্থ হয়ে গেলাম। আমি যাওয়ার এক সপ্তাহ পর, রুনির লাশ পাওয়া যায় একটা গ্রামে। আমরা দু’ভাই গিয়ে লাশ সনাক্ত করে নিয়ে আসি। যদিও তাকে চেনার কোনো উপায় ছিল না। বাড়ি ফিরে আমি এতটাই অসুস্থ হয়ে যাই যে কেবলই মনে হতো, তোমার সাথে বুঝি আমার আর দেখা হবে না। আমি বুঝি সুস্থ হয়ে আর তোমার কাছে ফিরে আসতে পারব না। শুধু তোমার ভালোবাসাই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে এখানে আবার।’
দীর্ঘ সময় পার হলো নীরবতায়। ওদের দুজনের চোখই ভেজা। ভেজা চোখ মুছতে মুছতে অর্ণব বলল, ‘আই লাভ ইউ রাচনা। ইউ আর দ্য লাভ অফ মাই লাইফ।’
‘আই লাভ ইউ টু।’রাচনার চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে।
দূর থেকে তানিশা তার মাকে আবার কাঁদতে দেখে এগিয়ে এসে অবাক হয়ে জানতে চাইল, ‘Why are you crying mommy?’
রাচনা কিছু বলল না।
তানিশা বুঝতে পারল না তার মা-কেন কাঁদছে। তবে এর পেছনে যে এই মানুষটির হাত আছে, সেটুকু সে তার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে ঠিকই বুঝতে পারল। সে এবার অর্ণবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘Hey Mr., you made her cry again?’
অর্ণব হেসে ফেলল। তানিশার হাত ধরে বলল, ‘I’m so sorry. I won’t make her cry anymore!’
‘Promise?’
‘That’s a promise pumpkin!’
‘Hey, I’m not a pumpkin!’ হাত নেড়ে নেড়ে রাগের ভঙ্গি করে বলল তানিশা।
তানিশার কথার ভঙ্গিতে রাচনা হেসে ফেলল। কান্নার মধ্যেই হাসি। অর্ণব অবাক হয়ে দেখল রাচনার হাসিমাখা মুখখানি।
তানিশা একবার অর্ণবের দিকে তাকাল তারপর অবাক হয়ে দেখল তার মা-কে। অনেকদিন পর তার মাকে হাসতে দেখে তার ছোট মনটিও আনন্দে নেচে উঠল।
অর্ণব একহাতে তানিশাকে ধরে আরেকটি হাত বাড়িয়ে দিল রাচনার দিকে। রাচনা ধরল অর্ণবের হাত।
অর্ণব, তানিশা আর রাচনাকে কাছে টেনে নিল—পরম ভালোবাসায়।
(সমাপ্ত)
“Life isn’t always romantic. Sometimes, it’s realistic. Sometimes, things don’t work out the way you want them to.”

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *