দীর্ঘদিন পরে প্রিয় কাউকে কাছে পেলে যেমন আনন্দ হয়, বার্বি ডলের মতো দেখতে বাচ্চা মেয়েটির চোখে মুখে তেমন আনন্দের ঝিলিক দেখা দিল।
বার্বি ডলকে জড়িয়ে ধরে রাচনা বলল, ‘Hello my baby doll, how’re you doing?’
‘I’m doing just fine. But you know you are late. I missed you so much.’ বার্বি ডল হাত নেড়ে নেড়ে বলল।
‘I missed you too baby.’
অর্ণব পাশে এসে দাঁড়াতেই বার্বি ডল তার মাকে ইশারায় মাথা নিচু করতে বলল। রাচনা নিচু হতেই সে কানে কানে বলল, ‘Mommy, who is he?
‘He is a very good friend of mine.’
এবার বার্বি ডল অর্ণবের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে বলল, ‘What’s your name Mr.?’
অর্ণবের ভেতরে তোলপাড় হলেও সে নিজেকে খুব স্বাভাবিক রাখল। সে হেসে উত্তর দিল, ‘Arnab. My name is Arnab. What’s your name pumpkin?’
‘My name is Tanisha and I’m not a pumpkin!’ ডান হাতের তর্জনী উঁচু করে সে অর্ণবকে তার ভুল ধরিয়ে দিল।
অর্ণব হেসে ফেলল। সে বলল, ‘Nice to meet you Tanisha. You are so cute!’
‘I know I am! Thank you very much!’ তানিশা তাকাল রাচনার দিকে তারপর আবার অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘Are you my mommy’s boyfriend?’
অর্ণব মোটেও প্রস্তুত ছিল না এমন কিছু শুনবে বলে। সে রাচনার দিকে তাকিয়ে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে মৃদু হাসল—কিছু বলল না।
তানিশা রাচনার দিকে বড় মানুষের মতো মিট মিট করে দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল, ‘Mommy?’
রাচনা কপট রাগ দেখিয়ে বলল, ‘Ok Tanisha that’s enough now!’
‘Hi Rasna?’ কাছে থেকেই কেউ একজন রাচনার নাম ধরে ডাকল।
রাচনা ঘুরে তাকিয়ে দেখল স্টিভ এসে দাঁড়িয়েছে। রাচনা বলল, ‘Hi, Steve.’
স্টিভকে দেখে অর্ণবের চেহারায় সামান্য পরিবর্তন হলো—সে অবাক হলো এবং কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেল।
স্টিভ অর্ণবের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে খানিকটা অস্বস্তিবোধ করল অর্ণব।
রাচনা পরিচয় করিয়ে দিল। ‘Arnab, this is Steve. Steve, this is Arnab.’
স্টিভ আর অর্ণব দুজন হ্যান্ডশেক করে বলল—Nice to meet you.
রাচনা তানিশাকে ধরে বলল, ‘How’s your vacation? Having fun with daddy?’
‘You know what mommy…’ তানিশা হাত নেড়ে নেড়ে আরো কত কথা বলে গেল। রাচনা হাসতে হাসতে মেয়ের কথা শুনল।
হঠাৎ করে অর্ণবের কি হলো কে জানে—সে ওদেরকে কথা বলতে দিয়ে ফিরে গেল গাড়িতে।
কিছুক্ষণ পর রাচনা তানিশাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিল তারপর স্টিভের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসে উঠে বসল গাড়িতে।
অর্ণবের গাড়ি ছুটে চলেছে হাইওয়েতে। ফিরে যাচ্ছে তাদের এপার্টমেন্ট বিল্ডিং-এ। রাচনা বসে আছে পাশের সীটে। গাড়িতে উঠার পর থেকে কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলেনি। একটা অস্বস্তিকর নীরবতায় ছেয়ে আছে গাড়ির ভিতরটা।
‘তুমিতো তানিশা’র কথা আমাকে কিছুই বলোনি। তোমার একটা মেয়ে আছে, অথচ সে কথাটা তুমি আমাকে বলোনি।’রাচনার দিকে না ঘুরেই অর্ণব বলল।
অর্ণবের কথায় রাচনা ঘুরে তাকাল তার দিকে। দৃঢ়তার সাথেই বলল, ‘বলতে চেয়েছি অর্ণব, তুমি শুনতে চাওনি। তারপরেও মনে হলো, তানিশার কথা তোমার জানা দরকার—তাইতো তোমাকে নিয়ে এলাম আজ।’
এস্কেলেটরে চাপ দিয়ে অর্ণব গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিচ্ছে আবার সাথে সাথেই কমিয়ে দিচ্ছে। কী জানি তার মনের ভেতরেও কিছু একটা হচ্ছে—যার গতিবেগ একবার বাড়ছে, একবার কমছে। অর্ণবের মুখের দিকে তাকিয়েই বলে দেয়া যায় সে আকাশ-পাতাল ভাবছে।
গাড়ির ভিতর আবারো নীরবতা নেমে এলো। গাড়ি এগিয়ে গেল অনেকটা পথ। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অর্ণব একসময় জানতে চাইল, ‘স্টিভ এর সাথে তোমার প্রায় দেখা হয়?’
‘প্রায় না। মাঝে মাঝে—যখন স্টিভ আমার এপার্টমেন্টে আসে।’
অর্ণবের বুকের মধ্যে একটা ধাক্কা মতো লাগল। মানে কী?
অর্ণবের মুখের দিকে তাকিয়ে রাচনা বুঝতে পারল তার মনের মধ্যে কিছু একটা ঘটছে। সে সঙ্গে সঙ্গেই বলল, ‘তানিশাকে নিতে। এখন তানিশার সামার ব্রেক চলছে। ওর স্কুল বন্ধ বলেই স্টিভ ওকে নিয়ে এসেছে। ব্রেক শেষে ওকে আবার আমার কাছে দিয়ে আসবে। আর স্কুল যখন খোলা থাকে, তখন শুধু উইকএন্ডে স্টিভ সারাদিনের জন্যে তানিশাকে নিয়ে যায়।’
‘ও।’অর্ণব ছোট্ট করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। তাতে কতটা স্বস্তি পেল সে তা অবশ্য বোঝা গেল না।
এরপরে অর্ণব আর কিছু জানতে চাইল না। রাচনাও চুপ করে রইল। কথা আর এগুলো না। মুখে কেউ কারো সাথে কোনো কথা না বললেও মনে মনে যে হাজারো কথা বলছে, সে কথা বুঝতে হলে মনোবিজ্ঞানী হবার প্রয়োজন নেই।
কিছুক্ষণের মধ্যে ওদের গাড়ি বিল্ডিং এর পার্কিং এ এসে দাঁড়াল। গাড়ি থামিয়ে বসে রইল দুজনেই—চুপচাপ। হঠাৎ করেই যেন সব কিছু কেমন হয়ে গেল। অর্ণবের মধ্যে এক ধরণের দ্বিধা চলে এসেছে, তার চেহারায় সেটা স্পষ্ট। রাচনা আর কিছু বলল না। সে অর্ণবকে ভাববার সময় দিল। অর্ণবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে চলে গেল তার এপার্টমেন্টে।
…
রাতে ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে শুয়ে অর্ণব ভাবল—রাচনার কি তাহলে স্টিভের সাথে এখনও সম্পর্ক আছে? না না তাই বা হতে যাবে কেন? কোথাও কি কোন ভুল হচ্ছে? তানিশার কথাও তো কিছু বলেনি—সেটা কি ইচ্ছাকৃত ভাবেই এড়িয়ে গেছে? একটা দীর্ঘ সময় অর্ণব অস্থিরতায় ভুগলো। এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই এক সময়ে ঘুমিয়ে পড়ল সে।
রাত তখন তিনটারও বেশি। অর্ণব গভীর ঘুমে, হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল। অর্ণব ঘুম জড়িত কণ্ঠে বলল, ‘হ্যালো।’
ওপাশ থেকে কার ফোন বোঝা গেল না—কিন্তু অর্ণবের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।
…
পরেরদিন রাচনা নিজ থেকে অর্ণবকে ফোন করে নি। কিন্তু সে মনে মনে অপেক্ষায় ছিল, অর্ণবের ফোন কলের। সকাল পেরিয়ে দুপুর। দুপুর পেরিয়ে বিকেল-সন্ধ্যা। না অর্ণবের দিক থেকে কোনো সারা পাওয়া গেল না।
বিকেলের পর থেকেই রাচনার একটু একটু খারাপ লাগতে লাগল। অফিস থেকে ফেরার আগেই তাই সে নিজে থেকেই ফোন দিল অর্ণবকে। কিন্তু অর্ণবের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। একটু অপেক্ষা করে সে আরো দুবার চেষ্টা করল—অর্ণব ফোন ধরল না।
রাচনার ধারণা অর্ণব তানিশার ব্যাপারটা ঠিক মতো নিতে পারেনি। ও হয়তো কষ্ট পেয়েছে—সেটা সে পেতেই পারে। তানিশার কথা অর্ণবকে আরো আগেই হয়ত বলা যেত—কিন্তু পরিচয়ের মাত্র এ’কদিনের মধ্যেই সব কথা বলতেও সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনি। আর তাছাড়া সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। অর্ণব যে এত তাড়াতাড়ি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে—তাই বা কে জানত। আর এই পুরো ব্যাপারটা রাচনাকে এখন পীড়া দিতে থাকল। তার নিজের কাছেও খারাপ লাগতে লাগল। অর্ণবকে বিষয়টা ব্যাখ্যা করা দরকার। কিন্তু সে তো ফোনই ধরছে না।
কাজ থেকে ফিরে রাচনা সরাসরি চলে গেল অর্ণবের এপার্টমেন্টে। বেশ কিছুক্ষণ দরজায় নক করল সে—কিন্তু কোনো সাড়া পেল না। বেশ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে চিন্তিত মনে সে ফিরে গেল তার এপার্টমেন্টে।
রাতের বেলা আবার ফোন করল রাচনা। এবারো উত্তর দিল না অর্ণব। অতঃপর সে ভয়েজ মেসেজ রাখল। ‘অর্ণব আমি বুঝতে পারছি, ইউ আর শকড! তোমার যদি কিছু বলার থাকে আমাকে সরাসরি বলতে পারো। এভাবে ফোন না ধরে, দেখা না দিয়ে শুধু আমার কষ্ট বাড়িও না। প্লিজ, একবার দেখা করো, এসো কথা বলি।’
অর্ণব এভাবে তাকে এড়িয়ে যাবে এটা ঠিক মেনে নিতে পারছে না রাচনা। অর্ণবকে যতটুকু চিনেছে তার ব্যক্তিত্বে কি সেটা যায়? ওর মনে যাই থাকুক না কেন, সরাসরি বললেই তো হয়। খারাপ তার লাগতেই পারে—সে কথা বলতে সমস্যা কোথায়। এভাবে ইগ্নোর করছে কেন? রাচনা ফোন রেখে দিয়ে মন খারাপ করে শুয়ে রইল। তবুও ওর ক্ষীণ ধারণা, ঘুমনোর আগে অর্ণব তাকে ফোন করবে একবার।
এবং ভাবতে ভাবতেই রাচনার ফোন বেজে উঠল। সে ধড়মড় করে উঠে বসল। কার ফোন সেটা না দেখেই ফোনটা কানে নিয়েই সে রাগত স্বরে বলল, ‘এভাবে আমাকে কষ্ট দেবার কী মানে অর্ণব? এটা কেন তুমি করলে?’
‘Rasna, it’s me, Steve. Not sure what are you talking about. You seem very angry.’
ওপাশ থেকে স্টিভের কণ্ঠ শুনে রাচনার এই মুহূর্তে সত্যি সত্যি মাথায় রাগ চড়ে গেল। সে রীতিমতো ঝাঁঝাল কণ্ঠে ধমকের সুরে বলল, ‘Why did you call me now? Did you see the time? Don’t you have a watch?’
‘I’m sorry, I didn’t want to call you but Tanisha… she wants to talk to you.’ স্টিভ ঘাবড়ে গিয়ে কোনো রকমে বলল।
‘Why what happened to her?’
‘Wait…’ স্টিভ কথা না বাড়িয়ে তানিশার হাতে ফোন ধরিয়ে দিল।
ফোন ধরে তানিশা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল, ‘Mommy, I wanna go back to you.’
‘কেন কী হয়েছে বেবি?’
‘I don’t know, I’m just missing you a lot.’
‘Tanisha baby, I will be very busy in next few days. Ask daddy to drop you in the weekend. Ok baby?’
তানিশা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘Ok mommy.’
‘Rasna, do you have few minutes to talk’ তানিশার হাত থেকে ফোন নিয়েই স্টিভ জানতে চাইল।
‘Now?’
‘Yes.’
‘Sorry Steve, I had a long and bad day today. Having a terrible headache, can’t really talk right now.’
‘Ok ok no problem.’
রাচনা ফোন কেটে দিয়ে বসে রইল মূর্তির মতো।
সকাল বেলা কাজে যাবার পথে রাচনা গেল যেখানে অর্ণব তার গাড়িটা পার্ক করে। গাড়ি যেখানে থাকার সেখানেই আছে। তার মানে অর্ণব যেখানেই যাক, গাড়ি নিয়ে যায়নি। হঠাৎ রাচনার মনে অন্য চিন্তা এলো। তার বুক ধড়ফড় করে উঠল। উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগে তার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। সে কী করবে বুঝতে পারল না।
রাচনা অফিসে তার ম্যানেজারকে ফোন করে কাজে যেতে পারবে না জানিয়ে দিল। এবং সত্যি সত্যি তার মাথা ঘুরে উঠল। সে দ্রুত তার এপার্টমেন্টে ফিরে গেল। কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে আবার উঠে দাঁড়াল রাচনা। এক ধরণের দিশাহীনতা এবং অস্থিরতায় পেয়ে বসল তাকে। সে বাথরুমে যেয়ে বেসিনে পানি ছেড়ে মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিল কয়েকবার। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে, ফ্রিজ থেকে পানির বোতল বের করে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খেল। তারপর এপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেল সে।
রাচনা সিঁড়ি বেঁয়ে নেমে গেল নিচে। দ্রুত হেঁটে গেলে বিল্ডিং ম্যানেজারের অফিসে। রুমে ঢুকেই সে ম্যানেজারকে বলল অর্ণবের কথা। অর্ণব ফোন ধরছে না, দরজায় নক করেছে—সে দরজা খুলছে না। পার্কিং এ অর্ণবের গাড়ি আছে অথচ সে নেই—এটা কী করে সম্ভব? রাচনা বলল, ‘Can you please go and check his apartment?’
ম্যানেজার বলল, ‘Mam, I just can’t go and check his apartment as you asked. There are some rules to follow. For privacy reason—I’ll follow the proper procedure.’
রাচনা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর বেরিয়ে গেল।
বিল্ডিং ম্যানেজারের অফিস থেকে বের হয়েই রাচনা ফোন করল তার ভাইয়াকে। অপরপ্রান্ত থেকে মাহবুব সাহেব ফোন ধরতেই কান্না চেপে রাচনা বলল, ‘ভাইয়া, অর্ণবকে পাওয়া যাচ্ছে না।’
মাহবুব খান একটু দেরি করেই অফিসে যায়। সে এক কাপ কফি নিয়ে ল্যাপটপে ইমেইল চেক করছিল ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসেই। তিনি বললেন, ‘পাওয়া যাচ্ছে না মানে কী?’
‘হ্যাঁ ভাইয়া, দু’দিন ধরে ওর কোনো খোঁজ নেই। ফোন করছি, ধরছে না। ওর এপার্টমেন্টেও নক করেছি অনেকবার, খুলছে না।’
‘দেখ অফিসের কাজে হয়ত আউট অফ টাউন গেছে।’
‘আউট অফ টাউন গেলে ফোন ধরবে না কেন? কল ভয়েজ মেসেজে চলে যাচ্ছে।’
‘হয়ত ব্যস্ত আছে সে। এত টেনশন করছিস কেন? অপেক্ষা কর, নিশ্চয়ই চলে আসবে।’
রাচনা আর কী বলবে ভেবে পেল না। সে বুঝতে পারল ওপাশ থেকে মাহবুব ফোন কেটে দিয়েছে। সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
দিনটা ভীষণ অস্থিরতায় কাটল রাচনার। কিছুই ভালো লাগছে না তার। আর কেনই বা এমন লাগছে তাও সে ঠিক বুঝতে পারছে না। মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়, কয়েক দিনের মেলামেশা—এই ছেলেটির জন্যে তার এমন লাগছে কেন? একটা কষ্ট এমন ভাবে আকড়ে ধরে আছে যে মনে হচ্ছে গলায় কি যেন আটকে আছে।
দিনটা কোনো রকমে পার করে পরের দিন আবার বিল্ডিং ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে গেল রাচনা। রাচনা ঢুকতেই ম্যানেজার বলল, সে অর্ণবের এপার্টমেন্ট খুলে দেখে এসেছে। তার চোখে অস্বাভাবিক কোনো কিছুই পড়েনি। সব কিছুই ঠিক-ঠাক আছে। এরচেয়ে বেশি কিছু সে জানাতে পারছে না। এর বেশি সে কিছু করতেও পারবে না। একমাত্র পুলিশ যদি মিসিং রিপোর্ট নিয়ে আসে তাহলেই শুধু অন্যভাবে দেখতে পারে কেসটা। যেহেতু মিসিং রিপোর্ট নেই—তার পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব না।
রাচনা কেঁদে ফেলল।
বিল্ডিং ম্যানেজার অপ্রস্তুত হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘অর্ণব তোমার কী হয়?’
রাচনা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল—সে কোনো উত্তর দিতে পারল না।
সেই কফি শপ (পর্ব-৮)
with
no comment

