ফরিদ ফোন বের করে ডায়াল করল ইকবাল নামে খুব পরিচিত এক ছেলেকে। অপর প্রান্ত থেকে হ্যালো বলতেই ফরিদ বলল, ‘হ্যাঁ ইকবাল?’
‘জি ফরিদ ভাই।’
‘আচ্ছা শোন, শহীদ নামে শিকাগোতে ক্যাব চালায় এমন কাউকে চিনিস?’
‘ক্যান কি হইছে বস?’
‘না মানে আমি তো এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম সেলিমকে ড্রপ করতে। ফেরার পথে দেখি একটা বাংলাদেশি মেয়ে—বিয়ে হয়েছে শহীদ নামে এক ছেলের সঙ্গে—মেয়েটা বসে বসে কাঁদছে। ওর হাজবেন্ড এয়ারপোর্টে ওকে আনতে যায়নি। আমি মেয়েটাকে নিয়ে আসছি শহীদের বাসায়। কিন্তু সে বাসায় নেই। এখন বুঝতে পারছি না কি করব।’
‘আপনি ঐখানে গেলেন ক্যামনে?’
‘লাগেজের উপরের ঠিকানা লেখা ছিল। ঐ ঠিকানা দেখেই এসেছি।’
‘ফ্রড কেস নাকি বস?’
‘না না তা হতে যাবে কেন? তুই এক কাজ কর, তুই একটু খোঁজ নিয়ে দ্যাখ তো—কেউ শহীদ নামে কাউকে চিনে কিনা।’
‘আচ্ছা আমি দেখতেছি। আপনে ঐ পোলার ফোন নাম্বারটা আমারে দেন।’
‘আচ্ছা আমি টেক্সট করে পাঠাচ্ছি। তুই ব্যাপারটা একটু সিরিয়াসলি দ্যাখ, ওকে?’
‘ওকে বস।’
ফোন কেটে দিয়ে ফরিদ দেখল সোমা কাঁচুমাচু হয়ে বসে অঝোরে কাঁদছে।
দিনের আলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। শীতের সময়ে এই শহরে বিকেল চারটা বাজতে না বাজতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। ফরিদ চারিদিকে একবার তাকাল তারপর ফিরে গেল সোমার কাছে। বসল তার পাশে।
সোমার কান্নার গতি বেড়ে গেল—রীতিমত শব্দ করে কাঁদছে মেয়েটি। ঠাণ্ডায় তার নাক দিয়েও পানি ঝরছে। একেই বলে নাকের পানি—চোখের পানি এক হয়ে যাওয়া। সে রুমাল দিয়ে মুছে তাকাল ফরিদের দিকে।
একটু সময় নিয়ে ফরিদ বলল, ‘আমি বলছিলাম কি—আমার বেশ খিদে লেগে গেছে। তারপর আবার ওয়াশরুমে যাওয়া দরকার। চলো, কিছু খেয়ে নেই।’
‘না। আমি যাবো না। এটা যদি শহীদের বাসা হয়ে থাকে তাহলে সে নিশ্চয়ই এখানে আসবে। আমি এখানে বসে থাকি—আপনি যান।’ জেদি গলায় বলল সোমা।
‘না না সেটা তো ঠিকই আছে। শহীদের বাসা—শহীদ তো এখানে আসবেই। আমি বলছিলাম কি, আমি না হয় আমার ফোন নাম্বারটা লিখে ওর দরজায় ঝুলিয়ে রেখে যাই। ও ফিরে এলে আমাকে কল করলেই আমরা চলে এলাম। তাছাড়া এই ঠাণ্ডায় এভাবে বসে থাকাটা ঠিক হবে না। তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে।’
সোমা চুপ করে রইল।
ফরিদ আবার বলল, ‘এক কাজ করি চলো। এখানে ডেভন নামে একটা জায়গা আছে—ডেভন এভিনিউ। সেখানে বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি অনেক রেস্টুরেন্ট আছে। চাই কি দু’একজন দেশী মানুষের সাথে দেখাও হয়ে যেতে পারে। তোমার ভালো লাগবে। সেই সাথে আমরা খেয়েও নিলাম।’
সোমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘না আমি যাবো না। এখানেই বসে থাকব। আপনি চলে যান।’
ফরিদ আর কোনো বাক্য ব্যয় না করে উঠে চলে গেল। সে একবারের জন্যেও পিছনে ঘুরে তাকালো না। দরজা খুলে ফরিদ যখন গাড়িতে উঠতে যাবে তখন সে শুনতে পেল সোমার ডাক—ফরিদ ভাই!
ফরিদ ঘুরে তাকাল। সোমা বলল, ‘আমিও যাবো আপনার সাথে।’
‘চলো।’ ফরিদ এমন ভাবে চলো বলল যার মানে হতে পারে তোমার ইচ্ছা—গেলে যাবে না গেলে নাই। আমার কি? এই মেয়ে কখন আবার মত বদলে ফেলে কে জানে।
‘আমার হ্যান্ডবাগে বোর্ডিং কার্ড আছে। ওখানে চিঠি লিখে রেখে যাই।’ সোমা দ্রুত কয়েক লাইন লিখে ফরিদকে বলল, ‘আপনার ফোন নাম্বারটা লিখে দেন।’
ফরিদ তার নাম্বার লিখে দিল। সোমা তার বোর্ডিং কার্ডটি দরজায় ঝুলিয়ে রেখে ফরিদের পিছে পিছে গাড়িতে গিয়ে উঠল।
ফরিদের গাড়ি ছুটে চলেছে। গন্তব্য ডেভন এভিনিউ।***
লেকশোর ড্রাইভ ধরে লেক মিশিগানের মনোরম সৌন্দর্য দেখতে দেখতে গাড়ি ছুটে চলেছে ডেভনের দিকে। সম্পূর্ণ লেকটি সাদা বরফের চাদরে ঢেকে আছে। লেকের উপর দিয়ে ডানা মেলে শীতের পাখি নীড়ে ফিরে যাচ্ছে—সে এক অপূর্ব দৃশ্য।
ডেভনে এসে গাড়ি পার্ক করে সোমাকে নিয়ে ফরিদ ঢুকল একটা রেস্টুরেন্টে। তাকে জানালার ধারের একটা টেবিলে বসিয়ে রেখে ফরিদ গেল খাবার অর্ডার দিতে।
ইতিমধ্যে সোমা আরেক দফা কান্না শুরু করে দিয়েছে। শব্দ চেপে কান্নার চেষ্টা করছে বলে তার শরীরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। স্বচ্ছ কাঁচের দেয়ালের ভিতর দিয়ে বাইরে থেকে কয়েকজন মানুষ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে সোমাকে। কিন্তু তার কান্নার কারণটা কি কেউ বুঝতে পারছে না।
ফরিদ ফিরে এসে সোমাকে বলল, ‘দেখুন আপনি কাঁদবেন না। একটু ধৈর্য্য ধরুন, সব ঠিক হয়ে যাবে।’
সোমা কান্না থামাল।
‘এখন কি খাবেন সেটা বলুন।’
‘আমি কিছু খাবো না।’
‘সেকি। কিছু তো একটা খেতে হবে। না খেলে চলবে কী করে? এদের বিরিয়ানিটা খুব ভালো—দিতে বলি?’
‘আপনি যা খাবেন তাতেই হবে।’
ফরিদ উঠে গিয়ে আগের খাবারের সঙ্গে একটা বিরিয়ানি যোগ করতে বলল। সে ফিরে এসে বসল। সোমা কাঁচের দেয়ালের বাইরে তাকিয়ে চুপচাপ বসে আছে। ফরিদ জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা, তোমাকে একটা পারসোনাল প্রশ্ন করি?’
‘করেন।’
‘তোমাদের বিয়ে হয়েছে কতদিন?’
‘বছর দুয়েক।’
‘দুই বছর?’
সোমা মাথা নাড়ল।
‘বলো কি? সে তো অনেক সময়।’
‘তা তোমাদের বিয়ে নিশ্চয়ই বাংলাদেশে হয়েছে না?’
‘না। ফোনে।’
‘অ্যাঁ?’ ফরিদ বেশ অবাক হলো।
‘ফোনে।’ সোমা আবার বলল।
‘ও। টেলিফোনে বিয়ে!’ টেলিফোনের বিয়ের ব্যাপারটা ফরিদ শুনে এসেছে অনেক—কিন্তু সত্যি সত্যিই ফোনে বিয়ে হয় কিংবা হতে পারে সেই সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। সে উৎসুক হয়ে জানতে চাইল, ‘তো তুমি এতো দেরী করলে যে? ওর কি কাগজ-পত্র রেডি ছিল না নাকি…’
‘না না ওর কাগজ-পত্র আছে। আমিই ভিসা পাইনি।’
‘ও।’ ফরিদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি পূর্ব পরিচিত?’
‘না।’
‘আত্মীয়?’
‘আমার বোনের দেবর। অনেক আগেই আমেরিকা চলে আসে। তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। তখন আমার সাথে দেখা হয়েছিল। কথা-টথা তেমন ছিল না।’
‘কিন্তু বিয়ের পরে টেলিফোনে নিশ্চয়ই অনেক কথা হতো?’ ফরিদের মুখে দুষ্টমির হাসি।
‘হতো। কিন্তু আমাদের তো ফোন ছিল না। ও সব সময় বলত ফোন নিতে—আর এখন তো মোবাইল।’
‘মোবাইল আসার পরে নিশ্চয়ই আর কোনো সমস্যা হয়নি—সারাক্ষণই কথা বলতে।’
‘না না সারাক্ষণ কথা বলি কেমন করে? ও তো ক্যাব চালায়। গাড়ি চালাতে চালাতে কি কথা বলা যায় নাকি?’
‘বলা যাবে না কেন? গাড়ি চালাতে চালাতেও কথা বলা যায়—অনেকেই বলে।’
‘তাই?’
‘তবে গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইলে কথা না বলাই উচিৎ। এক্সিডেন্ট হতে কতক্ষণ।’
সোমা আর কিছু বলল না। ফরিদও আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। এসব অর্থহীন কথা-বার্তা আর কতক্ষণ বলা যায়। মেয়েটির মনটাকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখার জন্যে যতক্ষণ সম্ভব কথা চালিয়ে যাওয়া।
ফরিদ একবার কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে দেখল খাবার রেডি হয়েছে কিনা। সে সোমাকে আবার বলল, ‘শহীদ নিশ্চয়ই তোমাকে খুব ভালোবাসে?’
সোমা ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতেই বলল, ‘দেখাই হলো না। আর ভালোবাসা।’
ভালো যন্ত্রণা হলো দেখছি। এই মেয়ে দেখি সব কথাতেই কেঁদে ফেলে। অপ্রস্তুত ফরিদ কী বলবে ভেবে পেল না।
সোমা বলল, ‘বাসে। বাসে নিশ্চয়ই।’ একটু থেমে আবার বলল, ‘চলেন ওর বাসায় যাই। এতক্ষণে নিশ্চয়ই চলে আসছে।’
‘এখনই যাবে? মাত্রই তো এলাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে কি ফিরে এসেছে? আর আসলে তো আমাদেরকে কল করতোই।’
‘জানিনা। চলেন আমরা যাই।’ সোমা গোঁ ধরে বসে রইল। সে আর এক মুহূর্তও থাকতে চাচ্ছে না।
ফরিদ বলল, ‘আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। কাঁদতে হবে না। উমম, তাহলে এক কাজ করি—খাবারগুলো টু-গো করে নিয়ে নেই।’
সোমা কিছু বলল না। ফরিদ আবার বলল, ‘তুমি কিছু চিন্তা করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। ট্রাস্ট মি।’ বলেই সে উঠে চলে গেল কাউন্টারে। খাবার নিয়ে এসে তারা আবার চলল শহীদের বাসার উদ্দেশ্যে।
গাড়ি থেকে নেমে সোমা দৌড়ে চলে গেল দরজার সামনে। কলিং বেলে চাপ দিল বেশ কয়েকবার—কিন্তু কেউ দরজা খুলল না। ফরিদ এসে দাঁড়াল দরজার সামনে। উঁকিঝুঁকি দিল জানালার পাশ দিয়ে। দরজায় কান লাগিয়ে শোনার চেষ্টা করল—ভিতর থেকে কোনো শব্দ ভেসে আসে কিনা। কোনো সাড়াশব্দ নেই। সোমার দিকে ঘুরে বলল, ‘কেউ তো আসেনি বোধহয়। কোনো শব্দ পাচ্ছি না।’
সোমা কাঁদ কাঁদ স্বরে বলল, ‘ওমা, আমার তাহলে এখন কি হবে?’
কিছুক্ষণ ভেবে ফরিদ বলল, ‘আচ্ছা, তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন? ব্যবস্থা একটা হবেই। আমাদের এখানে অনেক বাঙালী ফ্যামিলি আছে—তোমার থাকার ব্যবস্থা একটা হয়ে যাবে।’
‘আমি বাংলাদেশে কথা বলতে চাই। আপনি আমাকে দেশে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন।’
‘এক মিনিট।’ বলেই ফরিদ ফোন করল বাদশা নামে শিকাগো বাঙালী কমিউনিটির তার পরিচিত আর এক ছেলেকে। সেও ক্যাব চালায়। ফরিদের ধারণা, বাদশা একটা খোঁজ বের করতে পারবে। অপর প্রান্ত থেকে ফোন তুলতেই ফরিদ বলল, ‘ঐ শহীদ নামের ছেলেটার কোনো খবর পেলি?’
ওপাশ থেকে বাদশা কি বলল সোমা তার কিছুই শুনতে পেল না। ফরিদ কিছুক্ষণ চুপচাপ শুনল তার কথা। তারপর বলল, ‘তুই ইকবালের সাথে যোগাযোগ করে আমাকে তাড়াতাড়ি জানা। দরকার হলে সব হসপিটালগুলোতে খোঁজ নে। জাইকাতে গিয়েছিলি?’
সোমা এসে দাঁড়াল ফরিদের পাশে। এবার ফোনের ভিতর দিয়ে ভেসে আসা কথা শুনতে পেল সে। ওপাশের লোকটি বলছে, ‘গেছিলাম বস—লাস্ট দুইদিনে শহীদ নামে কেউ যায় নাই ঐখানে। লোকাল থানায় একটা রিপোর্ট করলে কেমন হয়? আপনি বললে আমি একটা রিপোর্ট করে আসি।’
ফরিদ এখনো জানে না শহীদের ভিসা স্ট্যাটাস কি। তার কি সিটিজেনশীপ কিংবা গ্রিন কার্ড আছে? যদিও সোমা বলেছে তার কাগজ-পত্র আছে। তবুও তার সম্পর্কে ফরিদ এখনো ডিটেইল কিছুই জানে না—তাই এ মুহূর্তে থানা-পুলিশ এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। ফরিদ রাগান্বিত স্বরে বলল, ‘আরে পুলিশ কল করে একটা মিসিং রিপোর্ট করা যায় সেটা কি আমি জানি না নাকি? দরকার হলে আমি নিজেই যাবো।’
‘ওকে বস ওকে।’ বাদশা আর কোনো কথা বাড়াল না।
‘তুই এক কাজ কর, শহীদের ডিটেইল আমি তোকে টেক্সট করে দিচ্ছি—তুই একটু ইয়েলো ক্যাব অফিসে যেয়ে দেখ কোনো হদিস বের করতে পারিস কিনা।’
‘পাঠান বস—আমি এখুনি যাইতেছি।’
ফরিদ ফোন কেটে দিতেই সোমা উৎসুক দৃষ্টিতে জানতে চাইল, ‘জাইকা কি?’
ফরিদ ঠিক বুঝতে পারল না। সে প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে তাকাল সোমার দিকে। সোমা আবার বলল, ‘আপনি বলছিলেন, জাইকাতে খোঁজ নিয়েছে কিনা।’
‘জাইকা—ও হ্যাঁ।’ ফরিদ হেসে দিয়ে বলল, ‘ওটা ক্যাব চালকদের পছন্দের একটা রেস্টুরেন্ট। খুব সস্তায় খাবার পাওয়া যায়। চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা থাকে। শিকাগো শহরে এমন কোনো ক্যাব চালক নেই যে জাইকাতে খায়নি।’
সোমা চিন্তিত মুখে তাকিয়ে রইল ফরিদের মুখের দিকে। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। মানুষটা তাহলে কোথায় গেল? অন্য কোনো বিপদ হয়নি তো? সোমার মনটা হু হু করে কেঁদে উঠল।
ফরিদ বলল, ‘চলো তাহলে যাওয়া যাক।’
সোমার ইচ্ছে হলো জিজ্ঞেস করতে যে কোথায় যাবো? কিন্তু সে কিছুই জিজ্ঞেস করল না। সে তার সমস্ত শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছে। তার আর কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। তবুও সে মূর্তির মত ফরিদের পিছে পিছে হেঁটে গাড়িতে উঠল।
(চলবে…)
**বাংলাদেশি এবং দক্ষিণ এশিয়ান অধ্যুষিত এই ডেভন এভিনিউ সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমার ‘একজন আজমল হোসেন’ গল্পে লিখেছিলাম। গল্পটি যারা পড়েছেন তারা হয়তো জানেন— আমেরিকাকে যদি সত্যিই বলতে হয় যে এটা ইমিগ্র্যান্টদের দেশ, তাহলে ডেভন এভিনিউকে বলতে হবে এটাই আসল আমেরিকা। শিকাগো শহরের উত্তর দিকে পূর্বে-পশ্চিমে লম্বা এই রাস্তায় একসঙ্গে বসবাস করছে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের একটা বিরাট অংশ। পাশাপাশি সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক থেকে আসা অ্যসিরিয়ান খৃষ্টানরা, রাশিয়া থেকে আসা ইহুদিরাও থাকে এখানে। তাদের সাথে আরো রয়েছে আধুনিক ক্রিস্টিয়ানিটির নানা গোষ্ঠী। কালো-ধলো-বাদামী মিলে একাকার। শুধু তাই না, যেন আমেরিকার বহুত্ববোধকে স্বীকৃতি দিতেই এই ডেভন এভিনিউর একাংশের নাম রাখা হয়েছে গান্ধী মার্গ। একটু দূরে গেলেই চোখে পড়বে সাইনবোর্ড মুহাম্মদ আলী জিন্না ওয়ে কিংবা অনারারি শেখ মুজিব ওয়ে।
*১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে শিকাগো সিটি কাউন্সিলে পাশ হওয়া বিলের মাধ্যমে ডেভন এভিনিউর একটি অংশকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘শেখ মুজিব ওয়ে’ ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শিকাগোর বাঙালীরা বাংলাদেশের পতাকা, বেলুন-ফেস্টুন, ফ্লোট, বাঁশি বাজিয়ে একটা র্যালী করে এগিয়ে যায়। সেই র্যালীর শুরুটা হয় এই ‘শেখ মুজিব ওয়ে’ থেকে।
মেয়েটি এখন কোথায় যাবে (পর্ব-৪)
with
no comment

