বেশ অনেকক্ষণ হয়ে গেল সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাতের শুরু হয়েছে শিকাগো শহরে।
ফরিদের গাড়ি তার ডুপ্লেক্স টাউন-হোমের পার্কিং এ এসে থামল। সোমার লাগেজগুলো বের করে ফরিদ সোমাকে সিঁড়ি দেখিয়ে দিল।
সোমা দাঁড়িয়ে আছে মূর্তির মত। সে বুঝতে পারছে না কি করবে। একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে একা একা তার বাসায় যাওয়াটা ঠিক হচ্ছে কি না। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত নিজের সব কাজ ফেলে রেখে এই মানুষটা তার জন্যে যা করেছে সেখানে তার বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে ভিন্ন কিছু চিন্তা করাটা হবে নিতান্তই অন্যায়। সোমা সব দ্বিধা ছেড়ে ফেলে ফরিদের পেছনে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল। ফরিদ দরজা খুলে সোমাকে লিভিং রুমে এনে বসাল।
সোমা আড়ষ্ট হয়ে বসল। সে চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। অন্য কাউকে চোখে পড়ল না।
ফরিদ বলল, ‘রিল্যাক্স।’ ফরিদ তার গায়ের ওভারকোট, হাত মোজা খুলতে খুলতে বলল, ‘তুমি কোনো চিন্তা করো না। শিকাগো শহরটা অনেক বড় হলেও, এখানে বাঙালীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। আমরা তোমার স্বামীকে খুঁজে বের করবোই। ঠিক আছে?’
সোমা চুপ করে রইল। ফরিদ আবার বলল, ‘আমি একটা ফোনকার্ড এনে দিচ্ছি এবং কিভাবে দেশে ফোন করতে হবে বলে দিচ্ছি। তুমি নিশ্চিন্তে কথা বলতে পারবে।’ বলেই সে তার ডুপ্লেক্স বাসার উপরের তলায় উঠে গেল।
সোমা আবার ডুকরে কেঁদে উঠল। তার শরীর ঝাঁকি দিয়ে কান্না পাচ্ছে। কিছুতেই নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না। তার সামনে এখন কি অপেক্ষা করছে একমাত্র আল্লাহই জানে—সে কিছুই ভাবতে পারছে না।
ফরিদ ফোনকার্ড নিয়ে এসে দেখল সোমা আবারো কাঁদছে। সান্ত্বনা দিয়ে সে বলল, ‘আহা, তুমি এতো কাঁদছ কেন? কাঁদতে কাঁদতেই তো তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে। তোমাকে তো বলেছি ভয়ের কিছু নেই। আমি যতক্ষণ আছি—কোনো সমস্যা হবেনা। এই যে নাও ফোনকার্ড। তুমি ফোনটা করো। আমি গাড়ি থেকে খাবারগুলো নিয়ে আসছি।’ ফরিদ ফোনকার্ড আর কর্ডলেস ফোনটা সোমার হাতে দিয়ে নীচে নেমে গেল।
সোমা ফোনকার্ড হাতে নিয়ে উল্টে পালটে দেখল কিন্তু সে কিছুতেই বুঝতে পারল না কিভাবে এটার ব্যবহার করতে হবে। সে কার্ড হাতে চুপ করে বসে রইল।
ফরিদ খাবারগুলো রান্না ঘরের ফ্রিজে রেখে ফিরে এসে দেখল সোমা কার্ড হাতে বসে রয়েছে। সে জিজ্ঞেস করল, ‘কি হলো ফোন করেছ?’
সোমা না-সূচক মাথা নাড়ল।
‘কেন?’
‘আমি তো জানিনা কার্ড দিয়ে কিভাবে ফোন করতে হয়।’
‘দেখি কার্ডটা দাও।’ ফরিদ কার্ড হাতে নিয়ে বলল, ‘ফোনকার্ড দিয়ে বাংলাদেশে ফোন করা খুবই সহজ। আমি শিখিয়ে দিচ্ছি। প্রথমে এই টোল ফ্রি নাম্বার ডায়াল করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। তারপর এই যে, এই পিন নাম্বারটা দিয়ে বাংলাদেশের নাম্বারটা চাপলেই হয়ে যাবে। এই যে নাও—রিং হচ্ছে। ইউ হ্যাভ টুয়েন্টি এইট মিনিটস।’ ফরিদ ফোনটা দিল সোমার হাতে।
সোমা ফোন কানে ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে সোমার বড় বোন রুমার ঘুম জড়ানো কণ্ঠ শোনা গেল।
সোমা বলল, ‘হ্যালো আপা, আমি সোমা।’
‘হ্যালো? হ্যালো?’ ওপাশে রুমা চিৎকার করছে।
‘আপা আমি সোমা। আমেরিকা থেকে…’
‘সোমা! কখন পৌঁছেছিস? ঠিকমত পৌঁছেছিস?’
সোমা একটু থেমে বলল, ‘হ্যাঁ আমি ঠিকমত পৌঁছেছি।’
‘আরে ফোন করতে এত দেরী হলো কেন? আগে ফোন করিস নাই কেন? এদিকে আমরা কি টেনশনেই না ছিলাম…’
‘লন্ডনে ফ্লাইট ডিলে ছিল।’
‘কোথায়?’
‘লন্ডনে। কেন, শহীদ কল করে জানায় নাই?’
‘না তো। শহীদ ফোন করে নাই তো। শহীদ ফোন করবে কেন? তুই করিস নাই কেন? আচ্ছা শহীদ কই? দে তো ওকে…’
সোমা চুপ করে রইল।
‘শহীদকে দে।’ রুমা আবার চাইল।
‘আপা, আমি আবার পরে কল করব। এখন রাখি—পরে কথা বলব নে।’
‘তুই ভালো আছিস তো?’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ আমি ভালো আছি। চিন্তা করো না। আচ্ছা এখন তাহলে রাখি?’
‘শহীদ কোথায় বললি না তো। ও ভালো আছে?’
সোমা কোন উত্তর দিল না। ফোনের ভেতর থেকে রুমার কণ্ঠ শোনা গেল, হ্যালো হ্যালো? সোমা খট করে ফোন কেটে দিল।
ফরিদ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সোমার মুখের দিকে। একটা ব্যাপার ঠিক বুঝতে পারছে না—সোমা শহীদের ব্যাপারটা এড়িয়ে গেল কেন? কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে বলল, ‘তুমি মিথ্যে বললে কেন?’
সোমা বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। তারপর আস্তে করে বলল, ‘সত্যি বললে কি হতো? সব সময় কি সত্যি বলা যায়? আর তাছাড়া আমার আপার টেনশনটা এমনিতেই বেশি—দেখা যাবে সবার ঘুম হারাম করে দিয়েছে।’
‘না না না কাজটা তুমি ঠিক করো নি। একটা মিথ্যে ঢাকতে অনেক মিথ্যে বলতে হয়। মিথ্যে বলাটা…’ কথা শেষ হবার আগেই ফোন বেজে উঠল। ফরিদ কথা থামিয়ে দ্রুত ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো।’
‘শহীদ নামে কোন ক্যাব ড্রাইভারকে কেউ চিনে না বস।’ ইকবালের কণ্ঠ শোনা গেল ফোনের ভিতর দিয়ে। ‘বাদশাও চিনে না। আমি আরো খোঁজ লাগাইছি বস—আপনি চিন্তা কইরেন না।’
‘ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা কর—একটু সিরিয়াসলি নে। কেমন একটা ঝামেলার মধ্যে পড়েছি বুঝতে পারছিস?’
ফরিদের এই কথায় সোমার মুখ কালো হয়ে গেল। সে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
‘বস, আমি জাইকা’তে আবার আসলাম। এইখানে পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান যত ক্যাব’য়ালা আছে কেউ তারে চিনে না। আচ্ছা বস, তার আর কোনো নাম আছে নাকি?’
ফরিদ ফোন চেপে ধরে সোমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা, ওর আর কোনো নাম আছে? ডাকনাম?’
সোমা মাথা নেড়ে জানাল, নেই।
‘না আর কোনো নাম নেই।’ ফোনে ফরিদ আবার বলল, ‘ঐ শহীদই নাম, শহীদুল ইসলাম—তুমি খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করো।’
‘আচ্ছা বস, ব্যবস্থা করতেছি। আপনি টেনশন নিয়েন না।’
ফরিদ ফোন রেখে দিয়ে সোমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঐ শহীদ বোধ হয় খুব একটা কারো সঙ্গে মেশে না। কেউ তো ওকে চেনে না। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক লাগছে। ওর কি কোনো বন্ধু-বান্ধব অথবা পুরনো রুমমেট—জানো কিছু?’
সোমা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘রুমমেট তো বোধহয় ছিল না। ও তো একাই থাকত। তবে বাবু নামে একটা ছেলের কথা মাঝে মাঝে বলত।’
‘বাবু? বাবু নামে শিকাগোতে কে আছে? আচ্ছা দেখছি।’ বলতে বলতেই সোমার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে ফরিদ বলল, ‘তুমি লম্বা জার্নি করে এসেছে। আমার মনে হয় তোমার একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার। একটু রেস্টও দরকার।’
সোমা নিজেই ভাবছিল তার ফ্রেশ হওয়া দরকার। দু’দিনের জার্নি, ধকল সব মিলিয়ে সে খুব ক্লান্ত। এক কাপড়েও সে কখনো এত সময় থাকেনি। গা-টা যেন কেমন ঘিনঘিন করছে। মাথাটাও ধরে আছে। বমি বমি ভাব হচ্ছে। ওর মনে হচ্ছে যে কোনো সময় পড়ে যেতে পারে। সে বলল, ‘হ্যাঁ একটু ফ্রেশ হতে পারলে ভালো লাগত। খুব টায়ার্ড লাগছে।’
‘টায়ার্ড তো লাগারই কথা। এখন তো তোমার গভীর ঘুমের সময়। তুমি এক কাজ করো, একটা শাওয়ার নিয়ে নাও—দেখবে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।’
সোমা মাথা নেড়ে সায় দিল।
ফরিদ উপর তলায় ঘর দেখিয়ে বলল, ‘তুমি উপরের ডান দিকের রুমটাতে যাও—ওটাতে এটাচড বাথ আছে… আচ্ছা, আমি দেখিয়ে দিচ্ছি—এসো আমার সাথে।’
সোমার ছোট ব্যাগটা নিয়ে ফরিদ সিঁড়ি ভেঙে উপর তলায় গিয়ে সোমার জন্যে ঘর দেখিয়ে দিল। বাথরুমে কিভাবে গরম পানি আর ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয় দেখিয়ে দিল। সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে নীচে নামার সময় বলল, ‘একটা হট শাওয়ার নিয়ে কিছুক্ষণ ন্যাপ নিয়ে নাও—দেখবে ভালো লাগছে। ভয়ের কিছু নেই—বী ইয়োরসেলফ!’
‘থ্যাঙ্ক ইউ ফরিদ ভাই!’
‘ইউ ওয়েলকাম।’
ফরিদ নীচে নেমে গেলে সোমা দরজা আটকিয়ে চারিদিকে একবার দেখে নিয়ে বিছানায় গা-টা এলিয়ে দিল এবং মুহূর্তের মধ্যেই সে ঘুমিয়ে পড়ল।
ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখল সোমা।
কলেজ থেকে ফিরে সোমা শুয়ে আছে। হুট করে রুমা এসে ওকে ডেকে তুলল, ‘এই সোমা ওঠ। জরুরী কথা আছে।’
ঘুম জড়ানো কণ্ঠে সোমা বলল, ‘কি হয়েছে?’
‘তোর শহীদের কথা মনে আছে?’
‘কোন শহীদ?’
‘আরে আমার দেবর শহীদ—আমেরিকায় থাকে।’
‘হ্যাঁ—কি হয়েছে তার?’
‘কিছু হয় নাই। শহীদ বিয়ে করবে। মেয়ে খুঁজছে।’
‘তো?’
‘আমি বলেছি তোর কথা।’
সোমা বড় একটা হাই তুলে উঠে বসতে বসতে বলল, ‘আমার কথা মানে?’
‘শোন, আমার শ্বশুর বাড়িতে কথা বলেছি। তারা তো এক পায়ে রাজী। শহীদ তোর সাথে কথা বলতে চায়। তুই আজ রাতে আমাদের বাসায় চল। শহীদ রাতে কল দিবে—তোর সাথে কথা বলতে চায়।’
‘আমার সাথে কথা বলতে চায় মানে কি?’
‘এত মানে বলতে পারব না। সেটা কথা হলেই বুঝতে পারবি। তুই রেডি হয়ে নে—চল আমার সাথে।’
‘আপা হেঁয়ালি করিস না তো!’
সোমাকে কোন রকম পাত্তা না দিয়ে রুমা প্রায় জোর করে সোমাকে নিয়ে চলে গেল তার নিজের বাসায়।
সন্ধ্যা মাত্র ৭টা। শহীদ ঘুম থেকে উঠে শিকাগো সময় সকাল ৯টায় রুমাদের বাসার ফোনে কল দিবে—তখন ফরিদপুরে সময় হবে রাত ৯টা।
‘তুই এখানে বসে পড়াশুনা কর। আমি চাই, শহীদের ফোন এলে তুইই প্রথমে ধরবি—দারুণ সারপ্রাইজ হবে।’ রুমাদের ড্রইং রুমের একটা টেবিলে রাখা ল্যান্ডফোনের পাশে সোমাকে বসিয়ে রেখে রুমা চলে গেল রাতের খাবার তৈরী করতে।
তখন থেকেই অত্যন্ত অস্বস্তিকর সময় কাটছে সোমার। কিন্তু একটা পর্যায়ে সেও তার ঘড়ি দেখা শুরু করল। ৯টা বাজতে আর কত দেরী। সোমা পড়ায় মন দেয়ার চেষ্টা করল—কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারল না। তার অস্থিরতা বেড়ে গেল। সোমার নিজের কাছে বিরক্ত লাগছে—সে ভেবে পেল না, তার কেন এত অস্থির লাগছে।
সোমা পড়ায় ডুব দিল। একটা পর্যায়ে ফোনের কথা প্রায় ভুলেই গেল সে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! রুমাদের বসার ঘরের ফোন বেজে উঠল—ক্রিং ক্রিং।
ক্রিং ক্রিং… অনেকক্ষণ থেকে একটা ফোন বেজে চলেছে। অনেক দূর থেকে ফোনের শব্দ ভেসে আসছে। ফোনের শব্দে সোমার ঘুম ভাঙল। সে চোখ মেলে তাকাল। সে কতক্ষণ ঘুমিয়েছে? এই মুহূর্তে সে কোথায় আছে সেটাও মনে করতে পারল না। চোখে রাজ্যের ঘুম—কিছুতেই চোখ মেলে তাকাতে ইচ্ছে করছে না। এখন কি রাত না দিন? রাত হলে কত রাত?
লিভিং রুমের কফি টেবিলের উপর থেকে কর্ডলেস ফোনটা নিয়ে ফরিদ বলল, ‘হ্যালো?’
‘বস আমি ইকবাল।’
‘হ্যাঁ ইকবাল বল।’
‘বস আমি ইয়েলো ক্যাব অফিসে। ওরা কোনো ইনফরমেশন দিতে চায় না। জিগায় তুমি কে? আমি কইলাম, আমি তার ফ্রেন্ড। কিন্তু কাজ হইল না বস। ওরা পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া কোনো ইনফরমেশন দিবে না।’
‘ও।’ ফরিদ আর কিছু না বলে চিন্তিত মুখে ফোন রেখে দিল।
লিভিং রুমের মেঝেতে দাঁড়িয়ে ফরিদ কিছুক্ষণ ভাবল। এলোমেলো ভাবনা। অন্যমনস্ক হয়ে গেল সে। অন্যমনস্কভাবেই একবার তাকাল উপরের দিকে। অজান্তেই বেরিয়ে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস।
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে উঠে বসল সোমা। এবং হঠাৎই তার মনে পড়ল সারাদিনের সব ঘটনা।
আরো কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাল সোমা। এবং অবাক হয়ে দেখল—চারিদিক সাদা বরফের আবরণে ঢেকে আছে। রুপোর মতো ঝলমল করছে সারিবদ্ধ বাড়ির ছাদগুলি।
ফরিদ ভাই বলছিল রাতে স্নো পড়বে। সাদা সাদা পেঁজা তুলোর মত তুষার—এখনো ঝরছে ঝিরিঝিরি। নিয়নের আলো আর চাঁদের আলোর মিশ্রণে চিকচিক করছে চারিদিক—এ এক অপূর্ব দৃশ্য। সোমার কল্পনাতে এমন দৃশ্যের কথা কখনো আসেনি। সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল বাইরে।
রাতের নিস্তব্ধতায় মগ্ন হয়ে আছে সোমা। নিস্তব্ধতা যখন চারিদিকে গ্রাস করে আছে হঠাৎ তখন দরজায় শব্দ হলো—ঠক ঠক। সম্বিত ফিরে পেয়ে ভয়ার্ত চোখে দরজার দিকে তাকাল সে। এক অজানা আশঙ্কায় বুকটা দুরু দুরু কেঁপে উঠল তার। হৃৎপিণ্ডের দপ দপ শব্দ শোনা যাচ্ছে পরিষ্কার। সোমা কাঁপা স্বরে বলল, ‘কে? ফরিদ ভাই?’
কেউ কোনো সাড়া দিল না—দরজার ওপাশ থেকে।
মেয়েটি এখন কোথায় যাবে (পর্ব-৫)
with
no comment

