একপর্যায়ে শাহেদের মন দ্রবীভূত হল। নাতাশার কান্নায় সিক্ত হল তার মন। শাহেদ সিদ্ধান্ত নিল দেখা করার।
…
দেখা হল তাদের। সেই রেস্টুরেন্টে মিলিত হল শাহেদ আর নাতাশা। একটা বিশেষ দিনে তারা এখানে এসেছিল। কিছু অনন্য মুহূর্ত কাটিয়েছিল শাহেদ, নাতাশার সান্নিধ্যে। কিছু কিছু বিশেষ মুহূর্ত আছে যেগুলো সত্যিই একটু আলাদা। সেই অনুভূতির কোন তুলনা হয় না। অন্যরকম।
প্রথম দেখায় নাতাশাকে চিনতে শাহেদের কষ্ট হল। মাথায় সিল্কের স্কার্ফ, চোখে কালো চশমা, গায়ে একটা ওভারকোটের মত কিছু। নাতাশাই শাহেদের সামনে এলো। চোখ থেকে চশমা সরাতেই শাহেদ চিনতে পারল তাকে। কেমন মলিন হয়ে আছে মুখখানি। শান্ত গভীর বিষাদের ছায়া ভরা ঐ মলিন মুখখানির দিকেই শাহেদ তাকিয়ে রইল পলকহীন চোখে।
কিছু সময় পার করে একটা কর্নার টেবিলে বসল ওরা। দীর্ঘসময় চুপ করে থেকে নাতাশা বলল তার জীবনের কিছু না জানা কথা। শাহেদ মন দিয়ে শুনল সব কথা।
থেমে থেমে নাতাশা বলল, ‘ছোটবেলা থেকেই বান্ধবীরা সবসময় বলতো তুই দেখতে সিনেমার নায়িকাদের মত। সেই থেকে শখ ছিল বড় হয়ে মডেল কিংবা একট্রেস হব।’
শাহেদ মনে মনে ভাবল, আসলেই তো তাই—নাতাশার মধ্যে মডেল কিংবা নায়িকা হবার মত সব যোগ্যতাই তো ছিল। সুযোগ পেলে হয়ত সে ভালই করতে পারত।
‘মফস্বল শহর থেকে পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় এসে আমার এক খালাত বোনের বাসায় উঠলাম। বেশ কিছুদিন মডেলিং এজেন্সিতে ঘুরাঘুরিও করলাম। চেষ্টা করলাম অনেক, কিন্তু কাজ পেলাম না। আমি ভীষণভাবে মূষরে পড়লাম। আমাকে কাজ পাইয়ে দেবার জন্য এজেন্সিগুলো তাদের বসদের ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে কখনো কক্সবাজার কখনো ব্যাংকক যাবার প্রস্তাব দিতে থাকল—যা আমার পক্ষে কখনই মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন একটা পত্রিকায় দেখলাম মডেল খুঁজছে। একটা সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। আমাকে সাক্ষাতের জন্য ডাকা হল।’
এটুকু বলে নাতাশা চুপ করে রইল। শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কাঁচের জানালা ভেদ করে যতদূর দৃষ্টি যায়।
…
ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিস।
এক বছর আগের কথা। এজাজ আর জামানের সামনে জড়সড় হয়ে বসে আছে একটি মেয়ে। জামানের হাতে মেয়েটির সিভি এবং কিছু ছবি। সেগুলো একবার ভাল মত দেখে জামান তাকাল মেয়েটির দিকে।
‘কী নাম আপনার?’
‘জোবাইদা গুলশানারা। ডাকনাম পলি।’
জামান তাকাল এজাজের দিকে।
এজাজ বলল, ‘এই জাতীয় নামে তো চলবে না। নাম বদলাইতে হবে।’
জামান বলল, ‘ঠিক আছে, নাম নিয়ে এখন ভাবতে হবেনা। ওটা পড়ে বদলান যাবে।’ জামান মেয়েটির দিকে ঘুরে বলল, ‘পড়াশুনা কতদূর?
‘বিএ অনার্স।’
‘ম্যারিড অর আনম্যারিড?’
‘আনম্যারিড।’
‘গুড! একটু দেখি দাঁড়ান তো?’
মেয়েটি উঠে দাঁড়াল।
জামান বলল, ‘একটু ঘুরেন। ডান দিকে, হ্যাঁ। ঠিক আছে। এবার একটু বাম দিকে ঘুরেন। হ্যাঁ, বিইইইউটিফুল। এবার একটু দূর থেকে হেঁটে আসেন।’
মেয়েটি কয়েক পা দূরে গিয়ে হেঁটে আসল।
‘এবার আপনি বসতে পারেন।’
মেয়েটি বসল। জামান তার ছবিগুলো আরেকবার দেখে বলল, ‘প্রোফাইল তো বেশ ভাল। মনে হয় আপনাকে দিয়ে হবে।’ বলেই এজাজের দিকে তাকাল। এজাজ মাথা নেড়ে সমর্থন দিল।
জামান বলল, ‘ইংরেজিতে কথা বলতে পারবেন তো?’
‘অভ্যাস নেই, তবে চেষ্টা করলে পারব। ইউটিউব দেখে শিখে নিব।’ মেয়েটি চটপট উত্তর দিল।
‘গুড। আই লাইক দ্য কনফিডেন্স। শুনুন মিস—’ জামান তাকাল এজাজের দিকে, ‘উনার নাম কী রাখছ?’
এজাজ বলল, ‘নাতাশা।’
জামান মেয়েটির দিকে ঘুরে বলল, ‘এখন থেকে আপনার নাম নাতাশা। শুনুন মিস নাতাশা, আমরা যে প্রজেক্ট করছি, সেটা একটু ভিন্ন ধরণের। আপনাকে ট্রেইন্ড করা হবে। ফটোসেশন, গ্রুমিং এবং মেকওভার করা হবে। তারপর আপনি অ্যাসাইনমেন্ট পাবেন। যদি ভাল করেন, আপনাকে আমরা মোটা অংকের বেতন দিব। আর প্রতিটা অ্যাসাইনমেন্টের কমিশন তো থাকবেই।’
মেয়েটির মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল। সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল, ‘অ্যাসাইনমেন্টটা কী?’
‘সেটা এজাজ আপনাকে বুঝিয়ে বলবে।’
…
দীর্ঘ নীরবতা। যেভাবে তাকিয়ে ছিল, সেভাবেই তাকিয়ে রইল নাতাশা। মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘পরিচয় হল, এজাজ আর জামান ভাইয়ের সাথে। আর এভাবেই আমি জড়িয়ে গেলাম এই চক্রের সাথে।’
শাহেদ অবিশ্বাস্য কণ্ঠে বলল, ‘জেনে শুনে এধরণের একটা কাজ বেছে নিলে তুমি?’
‘কী করব? উপায় ছিল না। অন্য কাজের চেষ্টা করেছি, পাই নি। তাছাড়া, খালাত বোনের সংসারে চেপে বসে কয়দিন থাকা যায়? আমার জন্যে দুলাভাইয়ের কাছ থেকে অনেক কথা শুনতে হত আপাকে। তাছাড়া…’
‘তাছাড়া?’
‘দুলাভাই সুযোগ পেলেই আমার শরীরে হাত দেয়ার চেষ্টা করত। আমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করত। ইনিয়ে বিনিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইত। বোনকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে, রাতে আমার রুমেও আসতে চাইত। আমার বোনের কথা ভেবেই, ঐ বাসায় আর আমার পক্ষে থাকা সম্ভব ছিল না। কিন্তু থাকার জন্য একটা জায়গা তো দরকার আর তার জন্য চাই টাকা।’
‘তাহলে গ্রামে ফিরে যেতে? এখানে থাকার দরকার কী ছিল?’
‘গিয়েছিলাম।’ বলল নাতাশা, ‘আবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি।’
‘কেন?’
‘বিপদ যখন আসে তখন চারিদিক দিয়েই আসে। আমার বাবা শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন দীর্ঘদিন থেকে। হঠাৎ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা যায়। সংসার আর ছোট দু’ভাই বোনের লেখা পড়ার খরচ চালানোর মত সামর্থ্য আমার মায়ের ছিল না। অগত্যা আমাকে কাজটি করতে হয়েছে।’
শাহেদ কী বলবে ভেবে পেল না।
‘প্লিজ তুমি আমাকে ভুল বুঝ না, শাহেদ। পরিস্থিতি মানুষকে এর চেয়েও খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে। বল করে না?’
‘কিন্তু তোমার এসব কথা আমি বিশ্বাস করব কেন? গিভ মি অ্যা গুড রিজন।’
নাতাশা চুপ করে রইল। চোখ ছলছল করে উঠল তার। সে ভেজা চোখে তাকাল শাহেদের চোখের দিকে।
‘বিসাইডস বিইং অ্যা গুড লায়ার, হোয়াট এলস ইউ হ্যাভ? প্রুভ মি?’
নাতাশা তাকাল আহত দৃষ্টিতে। বুঝতে পারল তার বলা কথার সুরেই শাহেদ বলল কথাটি। সে কী বলবে।
শাহেদ কিছুতেই সন্দেহ মুক্ত হতে পারছে না। সে থমথমে গলায় বলল, ‘আমি সত্যি সত্যি কনফিউজড নাতাশা! তোমার কোন কথাটা সত্যি আর কোন কথাটা মিথ্যা, আমি বুঝব কী করে?’
‘শাহেদ, প্লিজ!’ অস্ফুটে বলল নাতাশা।
‘আই’ম সরি।’ শাহেদ উঠে দাঁড়াল। সে চলে যেতে উদ্যত হতেই নাতাশা ওর হাতটা ধরল। তাকাল অনুনয়ের দৃষ্টিতে। সে দৃষ্টিতে প্রেম, সে দৃষ্টিতে ভালবাসার ছোঁয়া। সব কিছু উপেক্ষা করা যায় কিন্তু ভালোবাসার দৃষ্টি উপেক্ষা করা যায় না। মানুষ ভুল করেই, কিন্তু সে ভুলগুলোকে বড় করে না দেখে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাও ভালোবাসার আরেক নাম। শাহেদ কী করবে? শাহেদ কি পারবে নাতাশার হাত ছাড়িয়ে চলে যেতে?
শাহেদ আস্তে করে নাতাশার হাতটি ছাড়িয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল নাতাশার দৃষ্টির আড়ালে।
নাতাশা ভেঙে পড়ল অঝর কান্নায়। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল শাহেদের চলে যাওয়ার দিকে।
…
নাতাশা টেবিলে দু’হাত ভাঁজ করে চুপ করে বসে আছে।
দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। হঠাৎ তার কাঁধে কারো মৃদু হাতের স্পর্শ পেয়ে চকিতে ঘুরে তাকাল নাতাশা। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। শাহেদ দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে।
শাহেদ বলল, ‘বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে খিদেও পেয়েছে ভীষণ। সকালে নাস্তা করি নি। তোমার কি অবস্থা? এক সাথে লাঞ্চটা করা যেতে পারে, কী বল?’
নাতাশার বুক হু হু করে উঠল। চোখ ভিজে উঠল আবার। ধাক্কাটা কিছুতেই সইতে পারল না সে। তার ইচ্ছে হল গলা ফাটিয়ে কাঁদে। কিন্তু সব কান্না সব সময় কাঁদা যায় না। তবুও জলের ধারায় চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে তার। কান্না লুকাতে নাতাশা বাইরে তাকাল। অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি, অথচ সে কিছুই লক্ষ করে নি।
শাহেদ টেবিল থেকে একটা নরম টিস্যু এগিয়ে দিল নাতাশার দিকে। নাতাশা কান্না চোখেই হেসে ফেলল।
…
জোৎস্না-স্নাত শরতের সন্ধ্যা। এরই মধ্যে আকাশের বিশাল শরীরে ফুটে উঠছে স্বচ্ছ চাঁদ।
কোথাও কালো মেঘের আঁচড় নেই, ঘন হয়ে দলা বেঁধে জমাট নেই—সাদা শাড়ি পড়ে কোন এক শুভ্র কিশোরী যেনো তাথৈ তাথৈ নেচে বেড়াচ্ছে ঘুঙুর পায়ে। সারা শরীর নীল।
আকাশের নীলের সাথে মিলিয়েই যেন একটি সাদা আর আসমানির মিশ্রণের সুতি শাড়ি পড়েছে সোমা। শিউলি ফুলের নকশা, হাতের কারুকাজ করা শাড়িতে কাশফুলের শুভ্রতা। দু’পাশের চুল শিউলি ফুলের মালা দিয়ে বেনী করা। হাতে নীল কাঁচের চুড়ি। কপালে নীল টিপ।
অধিকতর বিস্ময়ে ইমরানের মুখ হা হয়ে গেল। এমন রূপে সোমাকে দেখে তার ঘোর কাটছে না।
ইমরানের হা করা মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা বলল, ‘কী দেখছেন, অমন হা করে?’
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে ইমরান ঘোর লাগা কণ্ঠেই বলল, ‘তোমাকে। ইজ দ্যাট ইউ? রিয়েলি? আনবিলিভেবল!’
‘খুব খারাপ লাগছে?’
‘না। একটুও না, ভারী মানিয়েছে। অসম্ভব সুন্দর লাগছে তোমাকে। ভয়ংকর সুন্দর।’
‘ভয়ংকর? ভয়ংকর কেন?’
‘তোমার রূপে একধরণের রহস্য আছে, সোমা—যে বুঝতে পারবে না তার নির্ঘাত মৃত্যু।’
‘আপনি পারবেন তো?’
‘মনে হয় পারব। তুমি যদি একেবারে অন্যরকম হয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াও, আমি তোমাকে ঠিকই চিনতে পারব।’ ইমরানের মুখে দুষ্টুমির হাসি।
‘অন্যরকম মানে?’
‘এই ধরো, সিল্ক কিংবা সূতি শাড়ি না পড়ে, তুমি যদি একটা ভেবেলিন শাড়ি পড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াও…’
কথা থামিয়ে সোমা বলল, ‘ভেবেলিন শাড়ি আবার কী?’
ইমরান দুষ্টুমির হাসি মুখে রেখেই বলল, ‘ভেবেলিন শাড়ি হচ্ছে, তুমি মনে মনে ভেবে নিলে যে তুমি একটা শাড়ি পরেছ, কিন্তু আসলে কিছুই পড় নি।’
সোমা কপট রাগ করল তারপর হেসে দিল। প্রাণ খুলে হাসতে থাকল সে। হাসতে হাসতেই বলল, ‘অসভ্যতা হচ্ছে কিন্তু!’
‘তা একটু হচ্ছে।’ ইমরানও হাসল।
সোমা হেসেই যাচ্ছে। ইমরান বুঝতে পারছে না—এত হাসির কথা সে কী বলেছে? সোমার হাসির রহস্য উদঘাটন করাটা তেমন জরুরী না। হাসতে থাকুক। এমন মন খুলে প্রাণ খুলে মেয়েটি শেষ কবে হেসেছে কে জানে?
সোমার খুশিতে শামিল হয়ে ইমরান বলল, ‘আজ খুব ভাল লাগছে, সোমা।’
‘কেন?’
‘অনেকদিন পর তোমাকে হাসতে দেখলাম।’
‘আর কখনই কাঁদব না। আমার মনের সমস্ত বরফ গলে গেছে।’
সোমা শূন্যে দু’হাত ছড়িয়ে কয়েকবার চক্কর দিল। তারপর বলল, ‘আচ্ছা, এখন কী কাল?’
ইমরান বলল, ‘শরতের শুরু।’
‘কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে বসন্ত। চারিদিকে বসন্ত। আমার মনেও বসন্তের রঙ লেগেছে। বলুন, আমি কেন কাঁদব? আমিও এখন গলা ছেড়ে গাইব, ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে।’
সোমার সাথে ইমরানও সুর মেলাল, ‘ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, এখন যে প্রয়োজন তোমাকে, নিঃসঙ্গ এই হৃদয়ে!’
গানের সুর ভাঁজতে ভাঁজতে সোমা তার হাত দুটি বাড়িয়ে দিল ইমরানের দিকে। ইমরান পরম যত্ন নিয়ে ধরল সোমার হাত।
আকাশে রূপার থালার মত একটা চাঁদ উঠেছে। এই রূপালী রাত্রিতে একজোড়া মানব-মানবী ছায়াসঙ্গী হয়ে জোছনায় ভিজে একাকার হতে থাকল।
(সমাপ্ত)
লেখকের কথা: ২০১০ সনে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় এক কলামের একটা খবর ছাপা হয়। প্রবাসী পাত্রী বিয়ে করে বিদেশ গমনের সুযোগ এবং ভুয়া ম্যারেজ মিডিয়া খপ্পরে পড়ে শত শত যুবক সর্বস্বান্ত। খবরটি পড়ে আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকি। তখন ইন্টারনেটের খবর এখনকার মত এতটা তথ্যবহুল ছিল না। তারমধ্যেও যতটুকু পেয়েছি সেগুলোই নোট করে রেখেছি। তথ্য আবিষ্কার করতে যেয়ে ভুয়া ম্যারেজ মিডিয়ার পাশাপাশি আরো জানতে পারলাম—কীভাবে জমির দালালি করে একের জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে ভুয়া দলিল করে ঠকানো হচ্ছে সরল মানুষদের। আর প্রেমের প্রতারণা—সে তো সার্বজনীন। প্রতিদিনই প্রেম হচ্ছে, ভেঙেও যাচ্ছে। তো এই তিন ধরণের প্রতারণাকে সমন্বয় করে শুরুতে টেলিভিশনের জন্য একটি এক খণ্ডের নাটক লিখেছিলাম। নাটকের স্ক্রিপ্ট পড়ে আমার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন, অগ্রজ অভিনেতা এবং পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম বললেন, এই গল্প থেকে ধারাবাহিক নাটক লিখতে। তারই অনুরোধ এবং অনুপ্রেরণায় লিখে ফেললাম ১৩ পর্বের ধারাবাহিক। যা পরবর্তীতে এটিএন বাংলায় সম্প্রচারিত হয়েছিল। এবার আমার ফেসবুক পাঠকদের জন্য আরো বর্ধিত কলেবরে লিখলাম ২১ পর্বের ধারাবাহিক।
ম্যারেজ মিডিয়া (শেষ পর্ব)
with
no comment

