রাতের খাবার শেষ করে শোবার ঘরে বিছানায় আধশোয়া হয়ে টিভি দেখছিলেন রাকিবউদ্দিন সাহেব। জাহানারা পানের ডালা সাজিয়ে ঢুকলেন। পান বানিয়ে তার স্বামীর হাতে দিলেন। রাকিব সাহেব পান মুখে দিয়ে তাকালেন তার স্ত্রীর দিকে। জাহানারা কিছু বলছে না দেখে তিনি নিজেই বললেন, ‘ইমরান ছেলেটাকে তোমার কেমন মনে হয়?’
জাহানারা একটু পান মশলা মুখে দিয়ে বললেন, ‘ভালই তো।’ স্বামীর সঙ্গে তারও একটু আধটু পানের অভ্যাস হচ্ছে।
‘শুধু ভালই তো’র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তো চলবে না। একটু অন্যভাবে দেখতে হবে। বেগম জাহানারা, তুমি কি আমার ইঙ্গিত কিছু বুঝতে পারছ?’
জাহানারা মৃদু হেসে বললেন, ‘মনে হয় পারছি।’
রাকিবউদ্দিন বললেন, ‘ছেলেটাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমি ওর ফ্যামিলি সম্পর্কেও খোঁজ নিয়েছি।’
‘আমি কি সোমার সাথে কথা বলব?’
‘অবশ্যই বলবে। তবে এখনই কিছু বলার দরকার নেই। সময় হোক—তাড়াহুড়ার কিছু নেই। ওকে আর একটু সময় দিতে হবে। সোমা এখন ডিপ্রেশন স্টেজে আছে। শী নীডস টাইম টু হীল।’
জাহানারা আর কিছু বললেন না।
…
শোবার ঘরের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সোমা। তার দ্যুতিময় শান্ত চোখে, অপলক তাকিয়ে আছে সে। গভীরভাবে দেখছে নিজেকে।
সোমা সুন্দর করে সেজেছে। পরিপাটি করে চুল আঁচড়েছে। চোখে কাজল, কপালে লাল টিপ। ঠোঁটে লিপস্টিক। নিজেকে দেখতে দেখতে সে হারিয়ে গেল ইমরানের কথায়। ইমরান বলেছিল, ‘আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, নিজেকে দেখবে, সুন্দর করে হাসবে। আয়নার মধ্যে আবিষ্কার করবে একজন নতুন সোমাকে।’
সোমা হাসল। তার সব মন খারাপের মেঘ এক নিমেষে উড়ে গেল। সে ভুলে গেল তার পেছনের কথা। ভুলে গেল রাজন নামে কোন ছেলেকে সে ভুল করে ভালবেসেছিল। ভালবেসে বিসর্জন দিয়েছিল তার অহংকারটুকু। দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থেকে সত্যি সে দেখল একজন নতুন সোমাকে।
…
শাহেদের ফোন বেজে উঠল। অপরিচিত নাম্বার। শাহেদ বিরক্তি চোখে একবার দেখে লাইন কেটে দিল। ফোনটা বালিশের পাশে রেখে সে ঘুরে শুতে যাবে আর ঠিক তখনই ফোনটা আবার বেজে উঠল। ধরবে না ধরবে না করেও তিন রিং-এর মাথায় ফোন ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো।’
শাহেদ যা ভেবেছিল তাই ঘটল। ওপাশের মানুষটি নিরুত্তর রইল। রাগে ফেটে পড়ল শাহেদ। সে হিসহিস করে বলল, ‘কথা বলছেন না কেন? সাহস থাকে তো কথা বলেন।’
হঠাৎ করেই ফোনের ভেতরে একটি মেয়ের ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ ভেসে এলো। সে ফোনটা চোখের সামনে একবার এনে আবার কানে নিয়ে ধরে চুপ করে রইল। এবার কান্নার শব্দ পরিষ্কার শোনা গেল। শাহেদ অস্ফুটে বলল, ‘নাতাশা!’
ওপাশ থেকে লাইনটা হুট করেই কেটে গেল। শাহেদ সাথে সাথেই সেই নাম্বারে ফোন করল। একবার না কয়েকবার। কিন্তু প্রতিবারই ফোন চলে গেল ভয়েজ মেসেজে—আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি ব্যস্ত আছে…।
ফোন নামিয়ে রেখে শাহেদ বসে রইল ঝিম ধরে। এভাবে কত সময় পার হয়েছে কে জানে, হঠাৎই শাহেদের ফোনে একটা টেক্সট মেসেজ এলো। একটা বাড়ির ঠিকানা। ৫ নম্বর সেক্টর, ৫/এ নম্বর রোড, ৯ নম্বর বাড়ি, উত্তরা। শাহেদ ভ্রূ কুঁচকে তাকিয়ে রইল ঠিকানাটির দিকে। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠল শাহেদ, ‘ইউরেকা।’ সেদিন সুজন এই ঠিকানাটিই লিখেছে। সে খুব ভাল করেই লক্ষ করেছে। সে ঠিকানাটি দেখল আবার। এই ঠিকানাটি কে পাঠিয়েছে? মনে মনে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হল শাহেদ। কিন্তু সে এই কাজটি কেন করল তার বোধগম্য হল না।
…
র্যাব-১ হেড অফিস।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-১) অফিসে যেয়ে শাহেদ আর ইমরান একটি কমপ্লেইন এন্ট্রি করল। একজন অফিসার তাদের অভিযোগটি ভালোমতো দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনারা শিওর?’
ইমরান নিশ্চিত করে বললে, ‘হ্যাঁ।’
‘নিশ্চিত হলেন কি করে?’
‘প্রথম ফোনে কণ্ঠস্বর চিনেছি। তারপর আমার এক বন্ধুকে পাত্র হিসেবে পাঠিয়ে আমরা দূর থেকে দেখেই চিনতে পেরেছি।’
‘দেখি, কোর্ট অর্ডারটি দিন।’
ইমরান আর শাহেদ মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল।
‘কোর্ট অর্ডার এনেছেন?’
ইমরান আমতা আমতা করে বলল, ‘কোর্ট অর্ডার? জি না।’
‘কোর্ট অর্ডার নিয়ে আসুন। আমরা ইমিডিয়েটলি অ্যাকশন নেব।’
‘কোর্ট অর্ডার আনতে হবে?’ ইমরান অনিশ্চিত কণ্ঠে জানতে চাইল।
অফিসার বললেন, ‘জি। এ ধরণের আরও বেশ কয়েকটা কমপ্লেইন আমরা রেজিস্টার করেছি। কোর্ট অর্ডার পাওয়া মাত্রই আমরা রেইড দিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠানে। অবশ্য ধরতে পারি নি কাউকে। সব পালিয়েছে। তবে আমরা ইনফরমার লাগিয়েছি। ধরে ফেলব।’
শাহেদ আর ইমরান উঠে দাঁড়াল। অফিসার বললেন, ‘আপনাদের কেসটা আমরা দেখব। এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। গেট দ্য কোর্ট অর্ডার অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল।’
অফিসারকে ধন্যবাদ দিয়ে ইমরান আর শাহেদ র্যাব-১ অফিস থেকে বের হয়ে গেল।
…
উত্তরার বাসা কাম অফিসে এজাজ আর জামান কথা বলছে। জামান ভীষণ চিন্তিত। ম্যারেজ মিডিয়া অফিসগুলোর ওপর পুলিশ আর র্যাব-এর নজর পড়েছে। ইদানীং ঘন ঘন রেইড দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও তো ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে। জামান চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ‘এজাজ, অনেক দিনতো হল, এবার গা ঝেড়ে খোলস থেকে বের হওয়া দরকার, কি বল?’
‘বুঝলাম না বস, বুঝায় বলেন।’
‘অফিসের কাজ বাসায় হয় না। প্রফেশনাল কাজের একটা ডেকোরাম আছে না?’
‘কিন্তু বস, পরিস্থিতি তো এখনো সুবিধার না। তার উপর হইছে নতুন যন্ত্রণা।’
‘নতুন যন্ত্রণা আবার কী?’
‘রাস্তায় বাইর হইলে মনে হয়, সবাই আমার দিকে তাকায় আছে। এই বুঝি ডাক দেয়। যন্ত্রণা না বলেন?’
‘যন্ত্রণা তো বটেই।’
‘সেদিন তো ধরা পড়তে পড়তে কোন রকমে বাইচা আসছি। তয় বস, আমার নাম ডাইকা গলা ছিঁড়া ফালাইলেও আমি পিছন ফিরা তাকাই না। সাথে সাথে দৌড়। যত তাড়াতাড়ি পারি কাইটা পড়ি।’
‘এখন থেকে লেবাসটা বদলে ফেলতে হবে। কালো সানগ্লাস। মাথায় হ্যাট। যতখানি ঢেকে চলা যায়। সাবধানের মার নেই।’
জামানের পরামর্শে এজাজের দুশ্চিন্তার কোন উনিশ-বিশ হল বলে মনে হল না। সে মুখ অন্ধকার করে বলল, ‘আমার মনে হয় আমরা এবার ধরা খাব। আমার মন টানতেছে না।’
‘এত চিন্তা করলে তো ব্যবসা করা যাবে না। সব ব্যবসাতেই রিস্ক আছে—নো রিস্ক, নো গেইন।’ কথাটি জামান বলল ঠিকই, কিন্তু সে নিজেও চিন্তার সাগরে ডুবে গেল।
…
নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
অনেকদিন পর সোমা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছে। যদিও আগের মত উচ্ছ্বাস কিংবা হাসি-খুশি ভাবটা তার এখনো ফিরে আসে নি। কিন্তু সে ক্লাসে আসছে এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় শামিল হচ্ছে এটাও অনেক। সোমাকে ফোনে একটা এসএমএস এলো। সোমা মেসেজ দেখল—‘স্মাইল, ইট’স দ্যা সেকেন্ড বেষ্ট থিং ইউ ক্যান ডু উইথ ইয়োর লিপস!’
সোমার মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল। সে একবার সামনের দিকে তাকাল। দূরে দৃষ্টি দিয়ে খুঁজল কাউকে। সোমার অবচেতন মন বলছে, মেসেজটি যে পাঠিয়েছে সে তাকে আড়াল থেকে লক্ষ করছে। সোমা স্মিত হেসে উঠে দাঁড়াল এবং বন্ধুদেরকে অবাক করে কাউকে কিছু না বলে হাঁটা শুরু করল। বন্ধুরা অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকাল সোমার চলে যাওয়ার দিকে।
আরেকটি মেসেজ এলো। হাঁটতে হাঁটতে সোমা দ্বিতীয় মেসেজটাও পড়ল—‘ডোন্ট ক্রাই ফর অ্যা ম্যান হু লেফট ইউ, দ্য নেক্সট ওয়ান মে ফল ফর ইয়োর স্মাইল।’ সোমা স্মিত হেসে আর একটু সামনে এগিয়ে গিয়েই থমকে দাঁড়াল। অবিশ্বাস্য দৃষ্টি মেলে এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল তারপরেই চোখে মুখে উজ্জ্বল হাসি ছড়িয়ে এগিয়ে গেল সে।
আকাশ ফুড়ে যেন বেরিয়ে এলো ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটি। চোখে কালো চশমা। চশমা খুলে এগিয়ে গেল সোমার দিকে। সোমা মিষ্টি করে হেসে বলল, ‘এই যে মিস্টার, এখানে কী?’
…
ইমরান আর শাহেদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব-১ এজাজ আর জামান প্রতারক চক্র শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় একদিন র্যাব-১ এর একটি টিম ইমরান আর শাহেদকে সাথে নিয়ে উত্তরা (পশ্চিম) থানাধীন ৫ নম্বর সেক্টরের ৫/এ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে অতর্কিতে অভিযান চালায়। র্যাব সদস্যরা প্রথমেই অফিসটি ঘিরে ফেলে চারদিক থেকে। অফিসে ঢুকেই শাহেদ আর ইমরান শনাক্ত করে এজাজ আর জামানকে। একজন ব্যস্ত ছিল ফোনে আর একজন প্রার্থী বাছাই নিয়ে।
শাহেদ চিৎকার দিয়ে বলল, ‘এইতো এরাই—সেই দুজন।’
ইমরানও নিশ্চিত করে বলল, ‘জি জি, এই সেই দুজন।’
একজন অফিসার দ্রুত হাতকড়া পড়িয়ে দিল এজাজ আর জামানকে। এজাজ-জামানের কয়েকজন অফিস কর্মচারীকেও ধরা হল। তারপর শুরু করল চিরুনি অভিযান। একটি ঘরথেকে ধরে আনা হল সুন্দরী জেরিনকে। র্যাব সদস্যরা সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে উদ্ধার করল যেসব জিনিষ তার একটা তালিকা দেয়া যেতে পারে।
ভুয়া নিকাহ নামা, কম্পিউটার সাথে ছবি পরিবর্তন করার জন্য সফটওয়্যার, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত স্থাপনার ছবি, বিভিন্ন বয়সের সুন্দরী মেয়েদের ছবি, জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি, জন্ম নিরোধক উপাদান, টিভি-ডিভিডি প্লেয়ার, আরো হাবিজাবি অনেক কিছু।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এজাজ, জামান, জেরিন সহ বাকীদেরকে র্যাবের পিকআপ ভ্যানে তোলা হল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। র্যাবের অভিযানের কথা প্রচারের জন্য কিছু মিডিয়া কর্মীকেও দেখা গেল চলে এসেছে।
টিভি রিপোর্টার লাইভ সম্প্রচার শুরু করে দিল, ‘রাজধানীতে ঘটকালির নামে প্রতারণা ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে কয়েকশো প্রতিষ্ঠান। এরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের ম্যারেজ মিডিয়া খুলে প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহ ইচ্ছুকদের ঠকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সঠিক আইনের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইতিমধ্যেই উত্তরা থেকে এক ভুয়া পাত্রী সহ তিনজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র্যাব সদস্যরা।’
ক্যামেরাম্যান ক্যামেরা ঘুরিয়ে এজাজ, জামান আর জেরিনের ওপর ফোকাস করল কয়েক মুহূর্তের জন্য। ক্যামেরা আবার রিপোর্টারের উপর ফোকাস করতেই সে বলে চলল, ‘এই চক্রের হাতে প্রতারিত দুই যুবক, শাহেদ আহমেদ ও ইমরান হোসেন খানের সহযোগিতায় র্যাব সদস্যরা এদের ধরতে সক্ষম হয়। এই তিন প্রতারক গত কয়েক বছর ধরে সহজ প্রাণ যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। শুধুমাত্র একজন সুন্দরী তরুণীকে পুঁজি করে কয়েকজন মিলে দেশের নামি দামি কিছু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় এই প্রতারণা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রতারিত হওয়া অনেকটা লজ্জার বলে অনেকেই আর আইনের সাহায্য নেন না। ফলে নির্বিবাদে এরা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা। জুলিয়া রহমান, স্বাধীনতা টিভি, উত্তরা-ঢাকা।’
…
কয়েকদিন পর। শাহেদ আর ইমরান র্যাব অফিসে গেল খবর নিতে। ওদের কেসটি যে অফিসার তদন্ত করছেন, তিনি বললেন, ‘আমরা এই দুই প্রতারককে রিমান্ডে দিয়েছি। ইন্টারোগেশন চলছে।’
ইমরান আগ্রহী হয়ে জানতে চাইল, ‘সোনিয়া নামে মেয়েটার কোন খবর বের করতে পেরেছেন?’
‘আমাদের কাছে নাম এসেছে সোনিয়া ওরফে তানিয়া ওরফে নাতাশা। ধারণা করছি, শী ইজ ওয়ান অফ দ্যা ইম্পরট্যান্ট মেম্বারস অফ দ্যা নেটওয়ার্ক। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
ইমরান আর শাহেদ দৃষ্টি বিনিময় করল।
‘পুলিশ ওকে খুঁজছে। ওকে গ্রেফতার করতে পারলে এই প্রতারক চক্রের আরও তথ্য আমরা বের করতে পারব।’
ইমরান আর শাহেদ তদন্তকারী অফিসারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বের হয়ে এলো র্যাবের অফিস থেকে।
…
সেদিন মধ্যরাত।
শাহেদের ফোনে ভৌতিক ফোন কল আসার সময় হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন একবার কল আসছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ফোন কেটে দিচ্ছে। শাহেদ জানে এটা নাতাশা। তবে সে কেন কথা বলছে না সেটা একটা রহস্য। ভৌতিক ফোন বাজল। শাহেদ চরম বিরক্তি নিয়ে ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো।’
অপরপ্রান্ত থেকে কেউ সাড়া দিল না।
‘হ্যালো, কথা বলছেন না কেন? আপনি কী চান আমার কাছে? কেন এভাবে বিরক্ত করছেন?’
হঠাৎই অস্ফুটে কেউ বলল, ‘শাহেদ!’
এ নাতাশা না হয়ে যায়ই না। নাতাশার কণ্ঠ শাহেদের ভুল হবার কথা না, ভুল হতে পারে না। সে নিশ্চিত হয়েই বলল, ‘নাতাশা! নাতাশা তুমি? ইজ দ্যাট ইউ?’
‘হ্যাঁ।’ ভাঙা কণ্ঠে বলল নাতাশা।
শাহেদ উত্তেজিত হয়ে পড়ল। সে তার উত্তেজনা চেপে রাখতে পারল না। সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল, ‘ওহ মাই গড! আই ক্যান’ট বিলিভ দিস। আমি জানতাম, তুমি কল করবে!’ একটু থেমে শাহেদ অভিমান আর আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল, ‘কী করে পারলে তুমি, নাতাশা? হাউ কুড ইউ ডু দিস টু মি?’
‘আই’ম সরি।’
হঠাৎ করেই শাহেদ ফেটে পড়ল রাগে। ক্রোধে অন্ধ হয়ে যাবার অবস্থা হল তার। সে গজগজ করতে করতে বলল, ‘জাস্ট সরি? হাউ ডেয়ার ইউ? শোন মেয়ে, তোমার দিন শেষ! ইউ আর অ্যা ডেডগার্ল নাতাশা অর সোনিয়া অর হুএভার ইউ আর। ইউ আর ডেড। তোমার পার্টনাররা ধরা পড়েছে, তুমিও পড়বে। পুলিশ তোমাকে খুঁজছে।’
‘ওরা আমার পার্টনার নয়।’
‘ইউ লায়ার! ওরা তোমার পার্টনার নয়, তবে ওরা কারা?’
‘শাহেদ, শাহেদ প্লিজ!’ নাতাশা অনুনয় করে বলল, ‘আমার একটা কথা শোন। তোমাকে আমি সব বলব। আমার সব কথা শুনলে বুঝতে পারবে। আই’ম নাথিং মোর দ্যান অ্যা ভিক্টিম লাইক ইউ!’
‘আবার, আবার মিথ্যে কথা? আর কোন খেলা তুমি আমাকে নিয়ে খেলতে চাও? রাস্তার মেয়েদেরও একটা ধর্ম আছে, তুমি ওদের চেয়েও নীচ। ভণ্ড! প্রতারক! দে আর অ্যাটলিস্ট অনেস্ট, নট ফ্রড লাইক ইউ!’
নাতাশা ভেঙে পড়ল শাহেদের এহেন কথায়। তবুও সে মরিয়া হয়ে বলল, ‘শাহেদ, আমি বেশিক্ষণ কথা বলতে পারব না। তুমি শুধু একবার আমাকে তোমার সাথে দেখা করতে দাও। তারপর যত খুশি বাজে কথা বলতে চাও, বল। আমি কিছু মনে করব না। শুধু একবার দেখা করতে দাও, প্লিজ!’
‘তোমার কোন কথাই আমি শুনতে চাইনা। ইউ হ্যাভ কজড এনাফ ড্যামেজ ইন মাই লাইফ—নাউ গো টু হেল। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু সি ইয়োর ফেস। নেভার।’
‘শাহেদ প্লিজ!’
তারপর দীর্ঘ নীরবতা। কেউ আর কোন কথাই বলতে পারল না। ওপাশ থেকে ভেসে এলো নাতাশার চাপা কান্নার আওয়াজ। কান্নার ফাঁকে-ফাঁকে জড়ানো গলায় অনুনয় করে চলল—একটিবার তার দেখা করা খুবই জরুরী।
শাহেদ মূর্তির মত বসে রইল।
ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-২০)
with
no comment

