Meyeti-Ekhon-Kothay-Jabe

মেয়েটি এখন কোথায় যাবে (পর্ব-২)

এয়ারপোর্ট থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা বাস স্টপেজের যাত্রী ছাউনিতে বসে আছে সোমা।
নিয়মিত বিরতি দিয়ে একটার পর একটা বাস আসে, কিছুক্ষণের জন্যে থামে যাত্রী নামা-উঠার জন্যে তারপর আবার চলে যায়। এক একবার বাস থামে আর সোমা উঠে দাঁড়ায় কারো কাছে কোনো সাহায্য পাওয়া যায় কিনা এই আশায়। যাত্রী ছাউনির ভিতর হিটিং সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও ঠাণ্ডায় প্রায় জমে যাবার মত অবস্থা হলো তার।
সোমা হঠাৎ লক্ষ্য করল একজন মাঝ বয়সী ভদ্রলোক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে হেঁটে আসছেন। তার বেশভূষা দেখে মনে হলো লোকটি ভারতীয় হতে পারে। লম্বা আলখাল্লার মত একটা ওভারকোট গায়ে চড়ানো। মাথায় কানটুপি, গলায় মাফলার, হাতে হাত মোজা। এর মধ্যে কিভাবে সে কথা বলছে এটাই একটা রহস্য।
ভদ্রলোক কাছাকাছি আসতেই সোমা দ্রুত তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। হঠাৎ একটা মেয়ে এভাবে সামনে এসে পড়ল কোথা থেকে তা বোঝার আগেই মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, ‘এক্সকিউজ মি। ক্যান আই ইউজ ইয়োর ফোন?’
লোকটি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে একবার মেয়েটির দিকে তাকালেন এবং বুঝতে পারলেন মেয়েটি সম্ভবত বিপদে পড়েছে। কেমন অসহায় লাগছে তাকে। ভদ্রলোক যার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাকে ‘টক টু ইয়্যু লেটার’ বলে লাইনটা কেটে দিলেন। তারপর মেয়েটির হাতে ফোন এগিয়ে দিলেন।
সোমার চোখ চিকচিক করে উঠল খুশীতে। সে ফোন হাতে ছাউনির ভিতরে ঢুকে সুটকেসের উপরে লাগানো কাগজ থেকে ফোন নাম্বার দেখে একটা একটা করে বোতামে চাপ দিতে থাকল।
লোকটি একটু এগিয়ে এসে দেখলেন কাগজে বড় বড় অক্ষরে লেখা—নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার। নাম দেখে তার মনে হলো মেয়েটি হয়ত বাংলাদেশি। তিনি উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর ইউ ফ্রম বাংলাদেশ?’
সোমা ঘাড় ঘুরিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘হাউ ডু ইউ নো?’
‘কি করে বুঝলাম?’ হেসে দিয়ে পরিষ্কার বাংলায় বললেন তিনি।
‘জি।’
সোমার অবাক দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ভদ্রলোক সুটকেসে লাগানো বড় বড় অক্ষরে লেখা কাগজটির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘আপনার সুটকেসের উপরে সবকিছু লেখা আছে। সোমা ইসলাম। কেয়ার অফ-শহীদুল ইসলাম। নাম-ঠিকানা-ফোন নাম্বার। আমরা বাঙ্গালীরা এই কাজটি সবসময় করে থাকি।’
‘আপনি বাংলাদেশি?’ সোমার চোখ আবারো চকচক করে উঠল খুশীতে।
মেয়েটির উচ্ছ্বাস দেখে ভদ্রলোক হেসে ফেললেন। ‘হ্যাঁ বাংলাদেশি। আমার নাম ফরিদ। ফরিদ আহমেদ।’ তিনি আশ্বস্ত করলেন মেয়েটিকে।
‘আল্লাহর কাছে হাজার শুকুর। এইসময়ে একজন বাঙ্গালী ভাইয়ের দেখা পেলাম।’ সোমা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ‘আমি না খুব বিপদে পড়ছি।’
ফরিদ লক্ষ্য করল মেয়েটির গলায় আঞ্চলিকতার টান স্পষ্ট। তবে কোন অঞ্চলের তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। মেয়েটি কোন অঞ্চলের সেটা অবশ্য মুখ্য কোনো বিষয়ও না—মেয়েটি বাংলাদেশের সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। সে জিজ্ঞেস করল, ‘এয়ারপোর্ট থেকে বের হলেন? দেশ থেকে এসেছেন, না? প্রথমবার?’
‘জি।’
‘কোথায় যাবেন? ট্যাক্সি ডেকে দিব?’
‘এই এড্রেসে যার নাম লিখা, উনার আমাকে রিসিভ করার কথা ছিল। একে একে সবাই চলে গেল। গাড়ি নিয়ে, ট্যাক্সি নিয়ে। আমার জন্যে কেউ এলো না। আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপর ভাবলাম একটা ফোন করি—তাই ফোনের খোঁজে এখানে চলে এলাম। এখন কি করব আমি? কিভাবে যাব?’ সোমার কণ্ঠে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা প্রকাশ পেল।
‘আরে এয়ারপোর্টের ভেতরেই তো ফোন ছিল।’
‘আমি তো চিনি না।’
‘ও।’
‘তাই মানুষের পিছনে পিছনে এখানে চলে আসছি।’
মৃদু হেসে ফরিদ বলল, ‘কিন্তু যিনি আপনাকে রিসিভ করতে আসবেন, তিনি এসে যদি দেখেন আপনার যেখানে থাকার কথা সেখানে আপনি নেই, বাইরে চলে এসেছেন—তখন কি হবে?’
‘সে জন্যেই তো ফোন করতে চাচ্ছি।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে, দেখি ফোনটা আমার কাছে দিন।’ বলেই সে লাগেজের উপর লেখা নাম্বার দেখে রিং করল। বেশ কয়েকবার ফোন রিং হলো কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কেউ ফোন ধরল না। ফরিদ বলল, ‘কেউ তো ফোন ধরছে না।’
সোমা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলল, ‘এখন? এখন কি হবে?’
‘আচ্ছা দেখি আমি আরেকবার চেষ্টা করি।’ ফরিদ আবার চেষ্টা করল এবং যথারীতি অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া পেল না। সে বলল, ‘উমম ফোন ধরছে না। নো রেসপন্স।’
‘তাহলে এখন আমি কি করব—কোথায় যাব আমি?’ এবার কান্নায় ভেঙে পড়ল সোমা।
ফরিদ বলল, ‘আহা কাঁদবেন না। কান্নাকাটি করে কোনো লাভ হবে না। এখন মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে।’ সে তার কোটের পকেট হাতরে একটা রুমাল বের করে সোমার হাতে দিয়ে বলল, ‘এই নিন, চোখটা মুছুন। এসব কথা পরেও চিন্তা করা যাবে। আসুন—ভেতরে বসুন। রিল্যাক্স করুন।’
সোমার কান্না তাতে অবশ্য থামল না। সে কেঁদেই চলল।
ফরিদ আবার বলল, ‘একটা ব্যবস্থা হবেই। আপনি অস্থির হবেন না। আমি দেখছি কী করা যায়।’ ফরিদ একরকম জোর করেই সোমাকে নিয়ে যাত্রী ছাওনীর ভেতরে নিয়ে বসালেন। তিনি নিজেও বসলেন সোমার পাশে। তারপর বললেন, ‘আমার কি মনে হয় জানেন? আমার মনে হয় শহীদ সাহেব চলে আসবেন।’
সোমা অবাক হয়ে জানতে চাইল, ‘আপনি কি করে ওর নাম জানলেন?’
ফরিদ আবার লাগেজের গায়ে লাগানো কাগজটি দেখিয়ে বলল, ‘ঐ যে সবই তো লেখা আছে ওখানে।’
সোমা কিছু বলল না। ফরিদ জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা, আপনি কতক্ষণ এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’
‘তিন ঘণ্টা।’ সোমা বলল।
‘তিন ঘণ্টা?’ ফরিদ আঁতকে উঠে বলল।
‘জি।’
‘তাহলে আপনার পা-টা তো এতক্ষণে ফুলে যাবার কথা।’
‘পা তো প্লেনেই ফুলে গেছে।’
‘ওহো।’ একটু থেমে ফরিদ বলল, ‘তাহলে এক কাজ করি—চলুন কোথাও বসে একটু কফি-টফি খাই। এবং ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখি কী করা যায়। ঠিক আছে?’
সোমা চুপ করে রইল—সে হ্যাঁ না কিছু বলল না। সে কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা অনিশ্চিত ভাবে তাকাল ফরিদ সাহেবের দিকে।
ফরিদ সাহস দিয়ে বলল, ‘আপনার ভয় পাবার কোনো কারণ নেই। আপনি নিশ্চিন্তে আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন। এই শিকাগো শহরে সমস্ত বাংলাদেশি আমাকে চিনে—ট্রাস্ট মি! চলুন। আমার গাড়িটা একটু দূরে পার্ক করা আছে। এগুলো দিন আমার কাছে—চলুন।’
সোমা ইতস্তত করে উঠে দাঁড়াল।
ফরিদ সোমার বড় লাগেজটা নিয়ে বের হয়ে যাবার মুহূর্তে হঠাৎ থেমে গেল। সে সোমার দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করল যে মেয়েটির গায়ে একটি পাতলা জ্যাকেট ছাড়া আর কোনো গরম কাপড় নেই। সে বেশ শঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার তো ঠাণ্ডা লাগার কথা। ঠাণ্ডা লাগছে না?’
‘না।’
‘বলেন কি?’ ফরিদ অবাক হয়ে বলল, ‘ভয় এবং উত্তেজনায় আপনি ঠাণ্ডাটা বুঝতে পারছেন না। একটু পরেই বুঝতে পারবেন—একেবারে নার্ভে গিয়ে লাগবে।’
সোমা বুজতে পারছে না—তার আসলেই ঠাণ্ডা লাগছে না। অথবা ঠাণ্ডা হয়ত ঠিকই লাগছে কিন্তু সে বুঝতে পারছে না। কেমন যেন অসাড় হয়ে আছে তার শরীর। তার মনের উপর দিয়ে ছোটখাটো একটা ঝড় বয়ে গেছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে ইতিপূর্বে সে আর কখনোই পড়ে নাই। এয়ারপোর্ট থেকে সে কোনোদিন বের হতে পারবে এই আশা সে প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। তার বুক ফেটে কান্না আসছিল। ভাগ্যিস এই মানুষটির সাথে তার দেখা হয়েছিল।
‘আপনার সঙ্গে আর কোনো শীতের কাপড় নেই?’
ফরিদের কথায় তার সম্বিত ফিরে এলো। সোমা বলল, ‘আছে। সুটকেসে একটা উলের সোয়েটার আছে।’
‘শিকাগোর ঠাণ্ডা সম্পর্কে দেখি আপনার কোনো ধারণাই নেই। আপনাকে কেউ কিছু বলে নাই আগে?’
‘ও বলেছিল।’
‘ও-টা কে?’
সোমা একটু লজ্জা পেয়ে বলল, ‘আমার হাজবেন্ড।’
‘শহীদ সাহেব? তা কি বলেছিল?’
‘বলেছিল কষ্ট করে শীতের কাপড় আনতে হবে না। সে আমার জন্যে গরম কাপড় কিনে রেখেছে—এয়ারপোর্টে নিয়ে আসবে।’
ফরিদ একটু মুচকি হাসল। সে লক্ষ্য করল, মেয়েটির হাতে কোনো হাত মোজা না থাকায় হাত দুটি ঠাণ্ডায় নীল হয়ে আছে। সে বলল, ‘আপনি এক কাজ করুন—আপত্তি না থাকলে এই মাফলারটি গলায় জড়িয়ে নিন।’ বলেই ফরিদ তার গলা থেকে মাফলার খুলে নিয়ে সোমার দিকে বাড়িয়ে দিল।
সোমা ইতস্তত করে মাফলারটি নিল। ফরিদ বড় লাগেজটি নিয়ে ছাওনী থেকে বের হতেই সোমা ডাকল, ‘ফরিদ ভাই?’
ফরিদ দাঁড়াল। সোমা ইতস্তত করে বলল, ‘থাক, আমি যাবো না। আপনি চলে যান। আমি এখানেই থাকি।’
ফরিদ অবাক হলো—হঠাৎ করেই মন বদলে ফেলেছে মেয়েটি। কিন্তু কেন? সে বলল, ‘ঠিক আছে। থাকুন। কিন্তু কেন জানতে পারি?’ বিরক্ত কণ্ঠে সে জিজ্ঞেস করল।
‘ও হয়ত আসতে পারে।’
এবার ফরিদ রেগে গেল। সে বলল, ‘আরে বাবা, ও আসবেটা কোথায়?’ ফরিদ অত্যধিক বিরক্ত হয়ে আবারো বলল, ‘এখানে তো আসবে না। তুমি তো এয়ারপোর্ট থেকে চলে এসেছ অনেকদূরে—একটা বাস স্ট্যান্ডের কাছে। তোমার যেখানে থাকার কথা ছিল—তুমি তো সেখানে নেই। শহীদ এসে তোমাকে কোথায় খুঁজবে?’ ফরিদের কণ্ঠে স্পষ্ট উষ্মা প্রকাশ পেল।
সোমা কী বলবে বুঝতে পারছে না। সে বোকার মত তাকিয়ে রইল ফরিদের মুখের দিকে। সে লক্ষ্য করল, রেগে গিয়ে লোকটি তাকে তুমি তুমি করে বলছে।
ফরিদ আগের মতই রাগান্বিত স্বরে বলল, ‘তুমি এখানে কতক্ষণ বসে থাকবে? কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি ঠাণ্ডায় জমে যাবে। এতক্ষণ যে তুমি টিকে আছো, তাতেই আমি অবাক হচ্ছি। শিকাগোর ঠাণ্ডা সম্পর্কে কি কোনো ধারণা আছে তোমার? নাই। থাকলে এমন বোকার মত কথা বলতে না।’
সোমা আবার কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতেই বলল, ‘তাহলে, আমি এখন কি করব?’
ফরিদ ধমকে উঠে বলল, ‘আহা আবার কাঁদছ কেন? প্লীজ কান্না থামাও।’
সোমা কান্না থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে—কিন্তু থামাতে পারছে না। ফরিদ এবার লক্ষ্য করল মেয়েটির শরীর কাঁপছে। এ কাঁপন কান্নার নয়—শীতের।
ফরিদ বুঝতে পারল যে সে আসলে রেগে গেছে। এভাবে রেগে যাওয়াটা বোধহয় ঠিক হয়নি। মেয়েটারই বা কি দোষ—সে কি আর জানত যে তাকে এই পরিস্থিতিতে পরতে হবে। ফরিদ এবার নরম স্বরে বোঝানোর চেষ্টা করল, ‘বললাম তো—আপনার কোনো সমস্যা হবে না। আপনার কাছে তো ঠিকানা আছেই। আমিই আপনাকে পৌঁছে দেব। তার আগে চলুন, কোথাও গিয়ে একটু বসি। শহীদ সাহেবকে আবার ফোন করি। ব্যবস্থা একটা হবেই—ট্রাস্ট মি। বলুন এবার কি করতে চান।’
সোমা চোখ মুছল এবং বেশ খুশী মনেই বলল, ‘ঠিক আছে চলেন।’
‘যাবেন?’
‘হ্যাঁ।’
‘চলুন।’
ফরিদ আর দেরী না করে সোমার লাগেজটা নিয়ে হাঁটা শুরু করল। সোমা পাশে পাশে হেঁটে চলল। হাঁটতে হাঁটতেই ফরিদ বলল, ‘গাড়িতে উঠার আগে বুদ্ধিমানের মত দুটো কাজ করতে হবে। আসুন আমার সঙ্গে। আসুন।’
সোমা অবাক হয়ে লক্ষ্য করল, কত অল্প সময়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষকে আর দূরের কেউ মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে খুব কাছেরই কেউ—আপনজন। বাংলাদেশে হলে অনুভূতিটা কি এমন হতো নাকি দেশের বাইরে বলে এমন লাগছে। কে জানে?
সোমার মত একজন অচেনা মানুষের সঙ্গে ফরিদের এমন চেনা ভঙ্গিতে কথা বলার বিষয়টি তার ভালো লেগেছে। শুরুতে যেই অস্বস্তিবোধ ছিল, সেটা কেটে গেছে—ভয়ও লাগছে না। সে নির্দ্বিধায় অজানা-অচেনা একজন মানুষের সাথে রওনা হলো।
গাড়িতে উঠে সোমা বলল, ‘ফরিদ ভাই, আমাকে তুমি করেই বলেন। আপনি-তুমি মিশিয়ে ফেলছেন—ভালো লাগছে না।’
‘মিশিয়ে ফেলছি নাকি? হা হা হা।’
শিকাগোর হাইওয়ে ধরে ফরিদের গাড়ি ছুটে চলেছে প্রচণ্ড বেগে। পাশের সীটে চুপচাপ বসে আছে সোমা। প্রচণ্ড অনিশ্চয়তার যে মেঘ তাকে ঘিরে ছিল তা কেটে যেতে শুরু করেছে। সোমার মনে হচ্ছে এই মানুষটিকে বিশ্বাস করা যায়—হয়ত নির্ভর করাও যায়। যদিও মানুষটা সম্পর্কে তার এখনো কোনো ধারণা নেই। তবুও একধরনের স্বস্তিবোধ তাকে আচ্ছন্ন করে রাখল।
গাড়িতে উঠেই ফরিদ গাড়ির হিটিং সিস্টেম চালু করে দিয়েছে। সোমা এক ধরণের আরামদায়ক উষ্ণতা অনুভব করছে। প্রশান্তিতে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। চারিদিকে কী সুন্দর। হাইওয়ের দু’ধারের জায়গাটা বরফের আচ্ছাদনে ঢেকে আছে। মধ্যদিনের সূর্যের আলোতে সেই বরফ চিকচিক করছে। সোমার খুব ইচ্ছে করছে চোখ জুড়িয়ে সেই সৌন্দর্য দেখতে—কিন্তু আয়েসে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। কিছুতেই সে তার চোখ খুলে রাখতে পারছে না।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *