marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-১০)

নাতাশা কাঁদছে। ফুলে ফুলে কাঁদছে মেয়েটা। পাশেই বসে আছে শাহেদ।
শাহেদ বুঝতে পারছে না কী করবে।
‘তুমি কি করে ভাবলে যে তোমার সঙ্গে আমি এমন কিছু করতে পারি?’ কাঁদতে কাঁদতে বলে চলল নাতাশা। ‘এতগুলো ছেলের মধ্যে আমি তোমাকেই বেছে নিয়েছি, কারণ সত্যি সত্যিই তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমি ভাবতে পারছি না—’ নাতাশা কথা শেষ করতে পারল না। কাঁদতে থাকল অনবরত।
অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেল শাহেদ। সে সহসা কোন কথা খুঁজে পেল না। শাহেদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অভিমানের গলায় বলল, ‘তাহলে তুমিই বা কী করে ভাবতে পারলে যে আমি মাইন্ড চেঞ্জ করব?’ শাহেদের কণ্ঠ ধরে এলো। সে থমথমে গলায় বলল, ‘you know I’m in love with you Natasha! সিচুয়েশন যাই হোক না কেন, বিয়ে আমি তোমাকেই করব। প্রয়োজন হলে এখনই, এই মুহূর্তে।’
নাতাশা মুখ তুলে তাকাল।
‘এবার কান্নাটা থামাও প্লিজ।’
নাতাশা চোখের পানি মুছে নিল। তার মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল। ‘জাস্ট অ্যা মিনিট’ বলে সে উঠে দাঁড়াল। হেঁটে যেয়ে টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটা প্যাকেট বের করে এনে দিল শাহেদের হাতে।
শাহেদ অবাক হয়ে বলল, ‘এটা কী?’
নাতাশা রহস্যমাখা হাসি দিয়ে বলল, ‘খুলে দেখ কী।’
শাহেদ প্যাকেট খুলে দেখল এক সেট পাঞ্জাবী আর পাজামা। ‘পাঞ্জাবী?’ জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল শাহেদ।
‘হ্যাঁ পাঞ্জাবী। এটা পড়ে রেডি হয়ে নাও। কাজী সাহেব চলে আসবেন যে কোন সময়।’
‘মানে?’ শাহেদের মাথায় কিছু ঢুকছে না।
‘মানে অতি সহজ। আমি জানতাম তুমি রাজি হবে। তাই সব ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছিলাম।’
শাহেদ বুঝতে পারছে না কী বলবে। সে বোকার মত তাকাল নাতাশার চোখের দিকে।
নাতাশা বলল, ‘আমি অন্যদিকে তাকাচ্ছি। তুমি ঝটপট বদলে ফেল।’
এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল। ওপাশ থেকে কেউ একজন বলল, ‘ম্যাডাম, কাজী সাহেব চলে আসছেন। আপনারা রেডি হইলে বইলেন।’
নাতাশা শাহেদের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারা করল।
নাতাশার চাহনিতে কী ছিল কে জানে—শাহেদের হিপ্নোটাইজের মত কিছু হয়ে গেল। তার মনে হল সে দিবা স্বপ্ন দেখছে। অথবা কোন বই কিংবা মুভিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে। তার মস্তিষ্কের সচেতন অংশকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নাতাশা তার বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে কেন্দ্রীভূত করে তাকে নির্দেশনা দিচ্ছে। সে রোবটের মত নাতাশার ইশারায় কাপড় বদলে ফেলল। নাতাশা দুষ্টুমির হাসি মুখে ঘুরে তাকাল অন্যদিকে।

এজাজ, জামান এবং ম্যারেজ মিডিয়া অফিসের জনাকয়েক কর্মচারীর উপস্থিতিতে শাহেদ আর নাতাশার বিয়ে সম্পন্ন করালেন কাজী সাহেব। এজাজ, জামান এবং একজন কর্মচারী সাক্ষী হল। শাহেদ এবং নাতাশা নিকাহ্ রেজিস্টার বইতে সাইন করল। অফিসের একজন কর্মচারী সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করল। খুবই ক্ষুদ্র আয়োজনে শাহেদ-নাতাশার বিয়ে হয় গেল। পুরো বিষয়টা এত তাড়াতাড়ি ঘটে গেল যে শাহেদের কাছে মনে হল যেন সে একটা স্বপ্ন দেখছে। ঘটনার আকস্মিকতায় বাক্যহারা হয়ে সে চুপচাপ বসে রইল সোফার এক কোনায়।

আজকের বিকেলটা একটু অন্যরকম লাগছে।
আসলে বিকেল থেকে সন্ধ্যা। শাহেদ এবং নাতাশার জন্য আজ একটা বিশেষ দিন। তারা দুজন সময়টা তাদের নিজের মত কাটাতে বের হয়েছে অনেকক্ষণ আগেই। দুজনে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এসেছে একটা রেস্টুরেন্টে—সন্ধ্যাটা উদযাপন করতে। শাহেদ ক্ষণে ক্ষণে নাতাশার দিকে তাকাচ্ছে আর মিটি মিটি হাসছে। নাতাশা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যাপার, সেই তখন থেকেই দেখছি, তুমি হাসছ!’
শাহেদ বলল, ‘কেমন যেন স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে সবকিছু। বিশ্বাসই হচ্ছে না…’
নাতাশা হাত বাড়িয়ে দিল শাহেদের দিকে। আলতো করে তার হাতটি ধরে মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘আমি জানি তুমি মন খারাপ করেছ, বিয়ে হল অথচ এখনো দূরে দূরে। কিন্তু কী করব বল? তোমাকে তো সব বলেছিই।’
শাহেদ চুপ করে রইল।
‘এই মুহূর্তে কাগজ রেডি করাটাই বেশি জরুরী। মন খারাপ কর না। আমাকে যদি চলে যেতেই হয়, তুমি তো আসছই কানাডায়, অল্প কিছুদিনের ব্যাপার। আমাদের বাসর না হয় তখনই হবে?’
‘তাহলে তোমার আমার বিয়েটা কি শুধুই কাগজের জন্যে?’
‘আপাতত তাই। অন্তত যতদিন তুমি কানাডায় না আসছ, ততদিন আমি শুধুই তোমার কাগজের বউ।’
‘কাগজের বউ!’ শাহেদ অস্ফুটে উচ্চারণ করল, ‘শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়!’
নাতাশা তাকাল। ‘মানে কী? কার কথা বলছ?’
‘না কিছু না। তুমি বুঝবে না।’
‘না বললে কী করে বুঝব?’
‘কাগজের বউ—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাসের নাম।’
‘তাই?’
‘হ্যাঁ।’
‘তুমি পড়েছ?’
‘একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি তার বিবাহিত বউকে ছেড়ে দিতে চায়। এখন ডিভোর্সের গ্রাউন্ড শক্ত করার জন্য তারই এক কাছের বন্ধুকে লেলিয়ে দেয় বউয়ের পেছনে পরকীয়ার জন্য। এই হল ঘটনা।’
‘তারপর?’
‘এখন বউর সঙ্গে যখন বন্ধুর সত্যি সত্যি প্রেম হয়ে গেল, তখন তার মতিভ্রম কেটে গেল। সে আবার তার বউকে ফিরে পেতে চাইল।’
‘ইন্টারেস্টিং।’
শাহেদ হঠাৎ করেই চুপ করে গেল। হুট করেই বিয়ের মত একটা ঘটনা ঘটে গেল অথচ তেমন কিছুই মনে হচ্ছে না। নাতাশা এখন তার বিয়ে করা বউ—অথচ কোথায় যেন একটা শূন্যস্থান, সংকোচ। তাকে কিছুতেই নিজের আপন কেউ মনে হচ্ছে না। শাহেদের ভাবনা এলোমেলো হয়ে গেল।

সোমা তাদের বাসা থেকে হেঁটে এসে দাঁড়াল মোড়ের রাস্তায়। সে হাত ঘড়িতে সময় দেখল। দুই রাস্তার অদূরে তাকিয়ে দেখল কোন রিক্সা আছে কি না। নেই। সে অপেক্ষা করতে থাকল।
‘এই যে, এই মেয়ে শোন, এদিকে।’
সোমা ঘুরে দেখল সুজন ভাই বসে আছে মোড়ের চায়ের দোকানে। সুজন হাত নেড়ে ডাকল আবার।
সোমা এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল সুজনের সামনে। হেসে বলল, ‘সুজন ভাই। আপনি দেখা হলেই শুধু এই মেয়ে বলে ডাকেন কেন? আমার নাম বলতে অসুবিধা কি?’
সুজন বলল, ‘না কোন অসুবিধা নাই। কিসের অসুবিধা?’
‘তাহলে কী?’
সুজন উত্তর না দিয়ে বলল, ‘তুমি ভাল আছ?’
‘জি, ভাল।’
‘রৌদ্রের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে যাও কোথায়?’
‘ইউনিভার্সিটি। কী করব, রিক্সা তো পাচ্ছি না।’
‘রিক্সার ব্যবস্থা হবে। তুমি দাঁড়াও, এক কাপ চা খাও।’
‘আর ইউ ক্রেজি? আমি এখন এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আপনার সাথে চা খাব?’
‘দাঁড়ায় খাবা ক্যান। বইসা খাবা। আস বস এইখানে।’ বলে সুজন তার পাশের বেঞ্চের খালি জায়গাটা হাত দিয়ে একটু মুছে দিল।
‘না সুজন ভাই, এখন বসতে পারব না।’
‘কেন বসলে অসুবিধা কি?’
সোমা বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘কোন অসুবিধা নাই। আমি বাসা থেকে চা-নাস্তা খেয়েই বের হয়েছি। এখন আর চা খাব না, ঠিক আছে?’
সুজন কিছু বলল না।
‘থ্যাংকস এনিওয়ে।
‘আচ্ছা, ঠিক আছে, না খাইলে আর কী করা।’
সুজনের মন খারাপ হল কি না বোঝা গেল না।
কিন্তু সোমার একটু খারাপ লাগল। সে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল, ‘আচ্ছা সুজন ভাই, আপনি কি সবাইকেই এভাবে ডেকে ডেকে চা খাওয়ান?’
সোমার প্রশ্নে সুজন খুবই অবাক হল। সে বিস্মিত কণ্ঠে বলল, ‘সবাইকে কেন খাওয়াতে যাব। আমার কি চায়ের গোডাউন আছে না কি? তোমারা আমার আপনজন।’
সোমা হাসল। সে আবার তাকাল রাস্তার দিকে। কোন রিক্সা দেখা গেল না।
একটু থেমে সুজন বলল, ‘আচ্ছা সোমা, এই যে এত কষ্ট করে পড়াশুনা করতেছ, কী লাভ? চাকরী তো পাবা না।’
সোমা অবাক চোখে বলল, ‘আপনি কী করে জানেন, চাকরি পাব না? আপনি কি ফরচুন টেলার? আর, চাকরি পাব না বলে, পড়াশুনা করব না? এটা কী ধরণের কথা, সুজন ভাই?’
‘না মানে, সেদিন অনেকদিন পর শাহেদের সাথে দেখা—পড়াশুনা শেষ করে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখতে খারাপ লাগে।’
সোমা বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘আপনিও তো বেকার বসে আছেন।’
সোমার কথায় প্রচণ্ড বিরক্ত হল সুজন। ‘আমি বেকার বসে আছি কে বলল তোমাকে?’
‘আপনি কাজ করেন?’
‘অবশ্যই করি।’
‘কী কাজ?’
‘সেটাতো তোমাকে বলা যাবে না। আর বললেও তুমি বুঝবে না।’
‘আমার বুঝে দরকার নাই। আপনি কি আমাকে একটা রিক্সা ডেকে দিবেন?’
‘অবশ্যই দিব। তুমি এই ছায়ার মধ্যে একটু দাঁড়াও, আমি রিক্সা নিয়ে আসতেছি।’
সুজন তড়িৎ গতিতে ছুটে চলে গেল বড় রাস্তায়। সোমা হেসে ফেলল সুজনের ব্যস্ত ভঙ্গিতে বের হওয়া দেখে। সে তাকিয়ে রইল সুজনের গমন পথের দিকে।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
সোমার ক্লাসমেট ইরা, সিন্থিয়া সাথে সজল আর বাপ্পী সহ আরো কয়েকজন ক্লাস শেষ করে করিডোরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। দূর থেকে সোমা আর রাজনকে দেখে বাপ্পী প্রতিবাদী কণ্ঠে বলল, ‘দিস ইজ নট ফেয়ার, ম্যান। সোমা আমাদের ক্লাসের মেয়ে আর প্রেম করবে অন্য একজন সিনিয়রের সাথে, এটা কেমন কথা?’
সজল বলল, ‘আমরা তো আর বন্যার জলে ভেসে আসি নাই। আমাদের একটু চান্স কিন্তু দিলেই পারত।’
ইরা ভ্রুকুটি করে বলল, ‘তোরা নিজেদের দিকে একটু দ্যাখ। আর দ্যাখ রাজন ভাইকে। হাউ হ্যান্ডসাম হি ইজ! সোমা ইজ রিয়েলি লাকি।’
সিন্থিয়া মৃদু হাসল।
ইরা আবার বলল, ‘সোমার সাথে কিছু না হলে, আমি শিওর প্রেম নিবেদন করতাম রাজন ভাইকে।’
‘তাই তো করবি, আমাদের তো চোখে পড়ে না!’ সজল কণ্ঠে কপট রাগ।
ইরা সজলের কথাকে কোন রকম পাত্তা না দিয়ে তাকাল সিন্থিয়ার দিকে। দুজনেই হেসে ফেলল। সিন্থিয়া হাসতে হাসতেই বলল, ‘তুই এখনো ট্রাই করে দেখতে পারিস ইরা। রাজন ভাই পটে যেতেও পারে। শুনেছি উনি সুইং মুডে থাকে।’
ইরা ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘কী যে বলিস না?’
বাপ্পী বলল, ‘আচ্ছা তোরা কী শুরু করলি। এক কাজ করি চল, ওদেরকে একটা সিল দেয়ার ব্যবস্থা করি। অনেকদিন তো হল, আজ রাজন ভাইকে বলব, আমাদের খাওয়াতে হবে।’
সজল বলল, ‘That sounds like a plan. Let’s do that!’
ওদের কথা শেষ হতে না হতেই রাজন এসে যোগ দিল ওদের দলে।

ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে মুখ অন্ধকার করে বসে আছে শাহেদ। নিজেকে সংযত রাখতে কষ্ট হচ্ছে তার। দীর্ঘ সময় পাড় করে অত্যন্ত বিরক্ত এবং উত্তেজিত কণ্ঠে বলল সে, ‘আপনারা আগে বললেন যে একমাসের মধ্যে ভিসার ব্যবস্থা করে দেবেন। আর এখন বলছেন ছয় মাসের নিচে হবে না। এর মানে কী? তাছাড়া, আমার কেসটা তো আর অবৈধ না। বৈধ। লিগ্যাল ম্যারেজ।’
শাহেদ তার বাকী কাগজপত্র রেডি হয়েছে কি না এবং কতদিন লাগবে সে ব্যাপারে জানতে এসেছে। অনেকক্ষণ থেকেই এজাজ এবং জামান সাত-পাঁচ বোঝানোর চেষ্টা করছে শাহেদকে। কিন্তু তাদের চেষ্টা সফল হচ্ছে বলে মনে হল না।
জামান মাথা ঠাণ্ডা রেখে হাসি হাসি মুখ করে বলল, ‘নরমাল প্রসেসে ছয় মাসের মতই লাগে। তবে অন্য রাস্তায় গেলে একমাসের মধ্যেই সব কিছু রেডি করা সম্ভব। আপনাকে তো বলেছিই।’
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শাহেদ শীতল কণ্ঠে বলল, ‘অন্য রাস্তা কী?’
জামান মাথা সামনে এনে গোপন কথা বলার ভঙ্গিতে বলল, ‘অ্যাম্বাসিতে আমাদের পরিচিত লোক আছে। এসব বিজনেস করতে গেলে আসল মানুষদের সাথে পরিচয় থাকাটা খুবই জরুরী। আপনার ভিসা একমাসের মধ্যেই করে দেয়া যাবে।’
‘তাহলে করে দিন।’
জামান তাকাল এজাজের দিকে। এবার এজাজ সামনে ঝুঁকে এসে বলল, ‘আসলে হইছে কি ভাইজান, খালি মুখে তো কেউ কিছু করতে চায় না। বুঝলেন না? এসব কাজে একটু খরচ টরচ করতে হয়…।’
জামান সহমত প্রকাশ করে বলল, ‘তাকে একটু খুশি করে দিতে পারলেই কাজ হয়ে যাবে। এই ধরেন, সোনারগাঁও কিংবা র‍্যাডিসনে একদিন ডিনার আর তার ওয়াইফের জন্যে কিছু গিফট, ব্যাস…।’
‘উনি আবার ক্যাশে কাজ করেন না। তাই কাইন্ডস দিতে হয়…।’ এজাজ সাথে সাথেই যোগ করে দিল।
শাহেদ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে সোজাসুজি তাকিয়ে রইল এজাজের দিকে, স্থির দৃষ্টিতে। এজাজ অন্যদিকে মুখ ঘুড়িয়ে নিল। শাহেদের শীতল চোখের দিকে সে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না।
অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এলো। জামান ভেতরের দিকে তাকিয়ে একজন কর্মচারীকে বলল, ‘এই এদিকে শাহেদ স্যারের জন্য একটা চা পাঠাও। সাথে কয়েক পিছ কেক।’
শাহেদ কোন প্রতিক্রিয়া দেখাল না। অন্যমনস্কভাবে তাকিয়ে রইল—সে বাক্য হারা হয়ে গেল।
কিছু সময় পাড় করে এজাজ মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘ভাইজান তো কিছু বলতেছেন না।’
‘উম?’ রোবটের মত মাথা ঘুড়িয়ে বলল শাহেদ, ‘সোনারগাঁও-এ খাওয়াতে কত লাগবে?’
এজাজ আর জামান নিজেদের মধ্যে চোখ চাওয়া চাওয়ি করল। তাদের মুখে প্রসন্ন হাসি দেখা গেল।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *