marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-১১)

ম্যারেজ মিডিয়া অফিস।
শাহেদকে জরুরী তলব দিয়ে ডেকে আনা হয়েছে। শাহেদ অফিসে ঢুকতেই জামান তার বিখ্যাত হাসি দিয়ে বলল, ।কংগ্রাচুলেশনস শাহেদ সাহেব। আপনার কাগজপত্র প্রসেস হয়ে গেছে।’
শাহেদ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকাল জামানের দিকে তারপর এজাজের দিকে।
জামান আবার বলল, ‘আশা করছি আগামী মাসেই আপনার যাবার ডেট ফাইনাল হয়ে যাবে।’
এজাজ বলল, ‘ভাইজান ডাবল মিষ্টি পাওনা রইল। মিষ্টি খাওয়াবেন কবে?’
শাহেদের হঠাৎ করেই মনটা ভাল হয়ে গেল। কিছুদিন আগে এদের সাথে খারাপ আচরণ করায় তার মনটা কিঞ্চিত খারাপ হল। নাহ, এরা কাজের লোক। কথায় এবং কাজে মিল আছে। তাছাড়া বিদেশে যাওয়া তো আর মুখের কথা না। কত ধরণের ঝামেলা থাকে। শাহেদের মুখের হাসি বিস্তৃত হল। সে বিগলিত কণ্ঠে বলল, ‘খাওয়াব, খাওয়াব। অবশ্যই খাওয়াব। যাবার আগেই একটা রিসেপশান পার্টি দেব। আপনারাতো থাকবেনই।’
জামান বলল, ‘আপনার টিকেটটা তো এখন বুকিং দিতে হয়। পরিচিত কোন ট্রাভেল এজেন্ট আছে আপনার?’
‘ট্রাভেল এজেন্ট? আমার পরিচিত?’ একটু ভেবে শাহেদ বলল, ‘না নেই। ট্রাভেল এজেন্সির আবার পরিচিত, অপরিচিত কী? একটাতে বুকিং দিলেই তো হয়।’
এজাজ এবং জামান দু’জনেই হেসে দিল। এ হাসির অর্থ এ কোন বেকুব! এজাজ বলল, ‘আরে ভাই, আপনে কোন জগতে আছেন? আপনার তো দেখি কোন আইডিয়াই নাই। এমন টিকেট ধরায়ে দিবে, বোর্ডিং নিয়ে যাইয়া দেখবেন আপনার নামে কোন টিকেটই ইস্যু হয় নাই। অথবা একই টিকেট বুকিং দিছে দুইজনের নামে।’
শাহেদ আকাশ থেকে পড়ল। সে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল, ‘এমনও হয় নাকি?’
‘দেশটার নাম বাংলাদেশ! এই দেশে আবার কি না হয়? সবই হয়।’
এজাজের কথায় শাহেদ চিন্তায় পড়ে গেল। সে কী বলবে বুঝতে পারছে না।
জামান পরামর্শ দেবার ভঙ্গিতে বলল, ‘আমাদের পরিচিত এজেন্ট আছে। আপনি চাইলে আমরাই বুকিং দিয়ে দিতে পারি। এ নিয়ে আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না।’
এজাজ বলল, ‘আমাদের বেশিরভাগ ক্লায়েন্টের টিকেট বুকিং আমরাই করে দেই।’
শাহেদ বলল, ‘তাহলে তো ভালই হয়। টিকেটের দাম কত হতে পারে?’
জামান একটু চিন্তা করে বলল, ‘এখন তো হাই সিজন, দাম একটু বেশী পড়বে। অবশ্য আপনার সুবিধা আছে, ওয়ান ওয়ে টিকেট। ঢাকা-টরেন্টো ওয়ান ওয়ে টিকেট পড়বে আটশো ডলারের মত। সেক্ষেত্রে…’ জামান একটা ক্যালকুলেটর নিয়ে দ্রুত হিসেব কষে বলল, ‘আটশো টাইমস আশি, উমম, চৌষট্টি হাজার। ধরেন, পঁয়ষট্টির মধ্যেই হয়ে যাবে।’
‘ঠিক আছে, আমি বরং দু’একদিনের মধ্যে এসে টিকেটের টাকাটা দিয়ে যাব। আমি আসি তাহলে।’
‘আমাদের মিষ্টি?’ এজাজ মনে করিয়ে দিল।
‘হবে হবে।’ শাহেদ খুশি মনে বের হয়ে গেল ম্যারেজ মিডিয়া অফিস থেকে।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
সোমা আনমনে তাকিয়ে আছে সামনের রাস্তার দিকে—গাছের ফাঁক দিয়ে।
রাজন অনেকক্ষণ থেকেই একটা কথা বলতে চাচ্ছে। কিন্তু সোমার প্রতিক্রিয়া কী হয় সে ব্যাপারে সে নিশ্চিত নয় বিধায় ইতস্তত করছে। শেষ পর্যন্ত সে বলেই ফেলল, ‘সোমা, আজ কিন্তু আমার সঙ্গে যাচ্ছ।’
সোমা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ‘কোথায়?’
রাজন হেয়ালী করে বলল, ‘আমি যেখানে নিয়ে যাব, সেখানে।’
‘আহা, সেখানটা কোথায় সেটাই তো জানতে চাচ্ছি।’
‘কেন? আমাকে বিশ্বাস কর না।’
‘রাজন, এখানে বিশ্বাস, অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসছে কেন? অবশ্যই আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। বল, কোথায় যেতে হবে?’

দূর থেকে সোমা আর রাজনকে দেখে সিন্থিয়া বলল, ‘যাই বলিস, মেয়েদের ব্যাপারে রাজন ভাইয়ের রেপুটেশন কিন্তু ভাল না।‘
ইরা ভ্রূ কুঁচকে বলল, ‘রেপুটেশন ভাল না মানে?’
বাপ্পী সুযোগ পেয়ে বলল, ‘ভাল না মানে ভাল না। আমি আগেও শুনেছি, আবার সেদিনও দেখলাম—নায়লার সঙ্গে ফ্লার্ট করছে।’
সজল বাপ্পীকে সমর্থন দিয়ে বলল, ‘বাপ্পী ঠিকই বলছে। সোমা কয়েকদিন ক্লাসে আসেনি আর উনি ঐ ফাঁকে ঘুরে বেড়িয়েছে নায়লার সাথে। লাঞ্চেও নিয়ে গেছে। ভাবছি ব্যাপারটা সোমাকে জানানো দরকার।’
সিন্থিয়া বলল, ‘সুযোগ পেলে তোমরাও অন্য মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট কম কর না।’
সিন্থিয়ার সমর্থন পেয়ে ইরা বলল, ‘আমার কিন্তু রাজন ভাইকে ভালই মনে হয়। আমার মনে হয় ইউ গাইস আর জেলাস।’
বাপ্পী বলল, ‘জেলাস হতে যাব কেন। বন্ধু হিসাবে এটা আমাদের রেস্পন্সিবিলিটি। উই মাস্ট টেল সোমা!’
সিন্থিয়া বলল, ‘যদি সত্যিই তেমন কিছু হয়, সোমা নিজেই বুঝে যাবে সেটা। তোদেরকে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে হবে না।’
এর পরে ওরা আর কেউ কিছু বলল না।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স।
নাতাশাকে চলে যেতে হবে কানাডায়, তাই শাহেদ ওকে নিয়ে এসেছে কিছু কেনা কাঁটা করতে। ওরা অনেকক্ষণ হাত ধরাধরি করে ঘুরল। দু’জনকেই বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে ওরা এসে দাঁড়াল গোলাকার জায়গাটাতে। উপর থেকে কিছুক্ষণ দেখল—মানুষের চলাফেরা। লিফট দিয়ে কেউ নামছে, কেউ নামছে এস্কেলেটর দিয়ে। শাহেদ
কাছে ঘেঁষে দাঁড়াল নাতাশার। হাত বাড়িয়ে ধরল নাতাশার হাত। নাতাশাও তার হাতের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল শাহেদের হাত। শাহেদ তাকাল নাতাশার দিকে। গভীর দৃষ্টিতে। তার ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছে নাতাশাকে জড়িয়ে ধরতে, একান্তে কিছু সময় কাঁটাতে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিরাগপূর্ণ চোখে বলল সে, ‘You are so beautiful. My heart is racing. I can’t wait to…’
‘Wait to…? থামলে কেনো, বল?’ নাতাশা তাকাল আয়ত চোখে।
‘…see you!’ শাহেদ বলল।
নাতাশা মিষ্টি করে হাসল। ‘সেতো তুমি আমাকে দেখছই, প্রায় প্রতিদিনই।’
‘তা দেখছি, কিন্তু… আমি তোমাকে সম্পূর্ণভাবে দেখতে চাই। You know what I mean?’
‘I know dear! But…’ নাতাশা শাহেদকে আশ্বস্ত করে বলল, ‘Ok, I’ll think about it.’
শাহেদ আর কিছু বলল ন।।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নাতাশা বলল, ‘চল, আজ যাই। একটু তাড়া আছে, আমার কাজিনরা আসবে।’
শাহেদ অন্যমনস্কভাবে বলল, ‘হুম।’
নাতাশা শাহেদের হাত ধরেই টেনে নিইয়ে চলল। হঠাৎ একটা শাড়ির দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময়, কাঁচের ভেতর দিয়ে শাড়ি পড়ানো মডেল দেখে নাতাশা একটু দাঁড়াল। তারপর ঘুরে দাঁড়াতেই শাহেদ বলল, ‘চল, তোমাকে একটা শাড়ি কিনে দেই।’
‘আরে নাহ, শাড়ি কিনতে হবে না। এমনিতেই তোমার কত খরচ হয়ে যাচ্ছে।’
‘আহা চলই না কিছু হবে না, চল।’
‘আর ইউ শিওর।’
‘আই অ্যাম শিওর।’
শাহেদ নাতাশাকে নিয়ে শাড়ির দোকানে ঢুকল।

অনেকক্ষণ থেকে লম্বা মত একটা যুবক, সুদর্শন, কোঁকড়ানো চুল, বয়স শাহেদের মতই হবে—নাতাশার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার চোখে মুখে বিস্ময়—সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল শাড়ির দোকানের সামনে। আরো একটু কাছে যেয়ে সে নিশ্চিত হল। মেয়েটি তার পরিচিত। অতি চেনা। সে অস্ফুটে উচ্চারণ করল, ‘সোনিয়া!’
শাড়ির দোকানের সামনে সুদর্শন যুবক অপেক্ষা করতে থাকল।
বেশ কিছুক্ষণ পরে শাহেদ আর নাতাশা একটা শাড়ির প্যাকেট হাতে করে প্রফুল্ল চিত্তে বের হয়ে এলো। যুবক ডাকল, ‘সোনিয়া!’
ডাক শুনে নাতাশা থমকে দাঁড়াল। যুবকটি কয়েক পা এগিয়ে এসে দাঁড়াল নাতাশার সামনে। নাতাশা ভূত দেখার মত চমকে উঠল। তার মুখ থেকে রক্ত সরে গেল। সে অজান্তেই শাহেদের হাত চেপে ধরল।
যুবক আবার বলল, ‘সোনিয়া, তুমি কবে এসেছ? তোমার আব্বু কেমন আছে? আশ্চর্য, তোমাকে তো চেনাই যাচ্ছে না। কী ভয়টাই না আমি পেয়েছিলাম। ও মাই গড, আমি তো ভেবেছিলাম তোমার সাথে আর দেখাই হবে না।’ এক নাগারে কথা বলে সে শাহেদকে লক্ষ করল। নাতাশার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ছেলেটা কে? তোমার কাজিন?’
নাতাশা খুব দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। অপরিচিত একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলার ভঙ্গিতে বলল, ‘এক্সকিউজ মি! আই অ্যাম সরি। আমার মনে হয় আপনার কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। আমি সোনিয়া নই। নাতাশা। এস শাহেদ, লেট’স গো।’ যুবককে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নাতাশা শাহেদের হাত ধরে দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করল। কিছুদূর যেয়ে শাহেদ ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখল, বিস্ময়ভরা চোখে যুবকটি তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।
শপিং মল থেকে বের হয়ে শাহেদ একটা সিএনজি ডাকল। নাতাশা আর শাহেদ উঠে বসতে যাবে আর ঠিক তখনই সেই সুদর্শন যুবক ক্ষিপ্র গতিতে কোথা থেকে এসে দাঁড়াল ওদের সামনে। যুবককে দেখে নাতাশা আঁতকে উঠল। সে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘ও মাই গড, আপনি আবার এসেছেন? দেখুন, একবার তো বলেছিই আপনি ভুল করছেন।’ নাতাশা উঠে বসল স্কুটারে। শাহেদ উঠে বসতেই নাতাশা বলল, ‘ড্রাইভার ভাই চলুন। তাড়াতাড়ি।’
ড্রাইভার স্কুটার ছেড়ে দিল। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে সে বেশি গতি বাড়াতে পারল না।
যুবকটি স্কুটারের দরজা ধরে হাঁটতে হাঁটতে বলল, ‘তুমি বললে, একমাসের মধ্যে ফিরে এসেই তুমি আমাকে…’
নাতাশা তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলল, ‘দেখুন আমি আবারো বলছি, আপনি ভুল করছেন। আমি সোনিয়া নই। ড্রাইভার ভাই প্লিজ তাড়াতাড়ি চালান।
যুবক বেশ জোর দিয়েই বলল, ‘অবশ্যই তুমি সোনিয়া। আমার ভুল হতেই পারে না। আই অ্যাম হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর—তুমি সোনিয়া।’
নাতাশা এবার কঠিন স্বরে বলল, ‘আপনি যদি এভাবে আমাদের ফলো করেন, তাহলে কিন্তু পুলিশ ডাকতে বাধ্য হব।’
‘পুলিশ ডাকবে? ডাক? দেখি তোমার কত সাহস?’ বলতে বলতে যুবক নাতাশার হাত চেপে ধরল।
নাতাশা ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘হাত ছাড়ুন, হাত ছাড়ুন বলছি। ড্রাইভার ভাই, আপনি যাচ্ছেন না কেন?’
রাস্তা একটু ফাঁকা পেয়েই ড্রাইভার সিএনজির এক্সিলেটরে চাপ দিল। মুহূর্তেই ছুটে চলল। যুবক তখন বাধ্য হল নাতাশার হাত ছেড়ে দিতে। সে হাত নেড়ে চিৎকার করে ডাকল, ‘সোনিয়া, সোনিয়া, তোমার ব্যাগ!’
যুবক নাতাশার হ্যান্ডব্যাগের স্ট্র্যাপের মধ্যে দিয়ে ওর হাত চেপে ধরেছিল যে কারণে সিনএনজিওয়ালা গতি বাড়িয়ে দিলে নাতাশার হাত থেকে তার ব্যাগ যুবকটির হাতে চলে আসে। যুবক নাতাশার ব্যাগ হাতে নিয়ে বোকার মত তাকিয়ে রইল।

কিছুদূর যাওয়ার পরে নাতাশা হঠাৎ বুঝতে পারল তার হ্যান্ডব্যাগটি নেই। ঘটনার আকস্মিকতায় সে চুপ করে ছিল। এখন বুঝতে পেরে সে উচ্চস্বরে বলল, ‘আমার ব্যাগ! ও মাই গড! আমার ব্যাগ তো নেই। ও আমার ব্যাগটা নিয়ে গেছে। এখন কি হবে? শাহেদ!’ বলেই সে শাহেদের দিকে ভয়ার্ত এবং করুণ চোখে তাকাল।
শাহেদ ড্রাইভারকে বলল, ‘এই মামা গাড়ি ঘুরান। ঐ হারামজাদাকে ধরতে হবে।’
ড্রাইভার নির্বিকারভাবে বলল, ‘কোন লাভ নাই ভাইজান। সামনের মোড় ছাড়া ঘুরান যাইব না। ততোক্ষণে হয়ে পগার পাড়।’
নাতাশা হতাশ কণ্ঠে বলল, ‘থাক বাদ দাও। যেতে হবে না।’

রাস্তার পাশে কিছু হকার আর কিছু পথচারী তাকিয়ে আছে যুবকেরর দিকে। সে হঠাৎ করে ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মনে মনে শঙ্কিত গেল। ওদের কেউ যদি একবার উচ্চারণ করে ‘ছিনতাইকারী, ধর’, তাহলে ওর ভবলীলা সাঙ্গ হতে বেশি সময় লাগবে না। সে আড় চোখে তাকাল চারিপাশে। অগণিত কৌতূহলী চোখ অধীর উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষায়। সে মনে মনে প্রমাদ গুনল। তাকে এখুনি সরে পড়তে হবে—যত দ্রুত সম্ভব।
যুবকটি পা বাড়াতেই একজন পথচারী তার পথ আগলে দাঁড়াল। কৈফিয়ত চাওয়ার ভঙ্গিতে বলল, ‘ঘটনা কী?’
যুবক ধমকের সুরে বলল, ‘ঘটনা কী সেটা দিয়ে আপনি কী করবেন? নিজের কাজ করেন, যান।’ যুবক কাল ক্ষেপণ না করে একটা খালি রিক্সা পেয়ে উঠে বসল।
রিকশাচালক বলল, ‘কই যাইবেন?’
‘এই তো সামনে।’
রিকশাওয়ালা প্যাডেলে চাপ দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিক্সা মোড় ঘুরে অন্য রাস্তায় এসে পড়তেই যুবক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল পেছনে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে মনে মনে বলল, ‘আরেকটু হলেই গেছিলাম—।’

শাহেদ নাতাশার সিএনজি’র মধ্যে বরফ শীতল নীরবতা চলছে। শাহেদ মুখ অন্ধকার করে বসে আছে। সে বুঝতে পারছে না, একটা অজানা অচেনা ছেলে কোন কারণ ছাড়া কেন নাতাশা বলবে সে তাকে চেনে। ছেলেটির কথার ধরণে মনে হল, শুধু চেনে তাই না, ভাল করেই চেনে।
নাতাশা শাহেদের হাত ধরে তাকিয়ে আছে বাইরে। তার মনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বইছে। গভীর চিন্তায় ডুবে আছে সে।
শাহেদ কয়েকবার তাকাল নাতাশার দিকে। তার অস্বস্ত্বি কাটছে না কিছুতেই। দীর্ঘ নীরবতা কাটিয়ে সে শীতল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘ছেলেটা কে? তুমি চেন?’
নাতাশা চুপ করে রইল।
শাহেদ আবার বলল, ‘তোমার আব্বু অসুস্থ ও জানল কী করে?’
নাতাশা বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘সেটা আমি বলব কী করে?’
নাতাশার কথার ধরণে শাহেদ অবাক হল। আর কিছু বলাটা ঠিক হবে কি না বুঝতে পারছে না। নাতাশাকে কেমন অন্যমনস্ক লাগছে। কিন্তু কিছু প্রশ্ন তার মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে—তার উত্তরগুলো জানা দরকার নয়ত সে স্বস্তি পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শাহেদ আবার বলল, ‘ছেলেটা জানতে চাচ্ছিল তুমি কবে এসেছ? তারমানে সে জানে যে তুমি…’
নাতাশার কপালে চিকণ ঘাম দেখা দিল। সে মনে মনে প্রস্তুতি নিল, কথা গুছিয়ে নেবার—কিন্তু সে বুঝতে পারছে না তার কোন কথা শাহেদকে আশ্বস্ত করতে পারবে কি না। তবুও সে মরিয়া হয়ে বলল, ‘ছেলেটাকে আমি চিনি।’
শাহেদ তাকাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে।
‘He is a crazy guy. Yes, I know him. অনেক দিন ধরেই আমাকে বিরক্ত করছে। যখন তখন বাসায় চলে আসে। থ্রেট করে-’
‘থ্রেট করে, কেন?’
‘ওকে বিয়ে করে কানাডায় নিয়ে যাবার জন্য। তাই বাসায় বলে রেখেছিলাম, ও এলে যেন বলে দেয় যে আমি ফিরে গেছি। আব্বু অসুস্থ।’
‘আর সোনিয়া?’
নাতাশার চেহারা রক্ত শূন্য হয়ে গেল। তার চোখ ছল ছল করে উঠল এবং মুহূর্তের মধ্যেই অঝরে কেঁদে ফেলল। সে কাঁদতে কাঁদতেই বলল, ‘Why are you asking so many questions Shahed? You don’t believe me?’ নাতাশা শাহেদের হাত ছেড়ে দিল। তার কান্নার বেগ বেড়ে গেল। সে ফুলে ফুলে কাঁদতে থাকল।
‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি, আমি আসলে কনফিউজড।’ শাহেদ বোকার মত তাকিয়ে রইল নাতাশার দিকে।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *