নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
রাজন হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় যেখানে সে সোমার সঙ্গে দেখা করে। হঠাৎ সে শুনতে পেল তার নাম ধরে কেউ ডাকছে। ঘুরে দেখল সোমার ক্লাসের দুজন ছাত্রী—ইরা এবং সিন্থিয়া। ওদের সাথে আগেও অনেকবার দেখা হয়েছে। ইরা হাত নেড়ে আবার ডাকল, ‘রাজন ভাই!’
রাজন ওদের কাছে এগিয়ে গেল। কাছাকাছি যেতেই ইরা বলল, ‘কী রাজন ভাই, পাস টাস করে তো দেখি আমাদের ভুলেই গেলেন? কোন খবর নেই।’
রাজন হাসতে হাসতে বলল, ‘আরে কী বল, ভুলব কেন? আসিতো, প্রায় প্রতিদিনই তো আসি। তোমাদের জন্যেই তো ক্যাম্পাসের মায়া এখনো ছাড়তে পারি নাই।’
ইরা দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল, ‘আমাদের জন্যে, না কার জন্যে সেটা আমরা জানি।’
‘কার জন্যে?’ রাজনও দুষ্টুমির হাসি দিল।
‘কেউ একজন স্পেশাল। আপনি ঘুরলেই দেখতে পাবেন’ ইরা রাজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল।
রাজন ঘুরে দেখল সোমা এগিয়ে আসছে ওদের দিকে।
সোমা কাছে এসে দাঁড়াল। সিন্থিয়া বলল, ‘কি রে সোমা, তোকে যে দেখলাম না কয়েকদিন, ঠিক আছিস তো?’
‘হ্যাঁ ঠিক আছি। তোরা কেমন আছিস?’
‘ভালো আছি রে।’
সোমা আর রাজন ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল ওদের নির্দিষ্ট জায়গায়। ওরা হাঁটল কিছুক্ষণ চুপচাপ। কিছু সময় পার করে রাজন অস্থির কণ্ঠে বলল, ‘কী হয়েছিল বলত? ক্লাসে আসনি, একটা ফোন পর্যন্ত নেই। প্রতিদিন দুবার তিনবার করে এসে অপেক্ষা করেছি। যদি তোমার দেখা পাই।’
সোমা নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, ‘এতটার দরকার ছিল না।’
‘মানে?’
‘শুধু শুধু কষ্ট করেছ।’
‘কী হয়েছে তোমার, সোমা?’ বিস্ময় প্রকাশ করল রাজন।
‘কী হবে? কিছুই না।’
রাজন জোর করে বলল, ‘বল, কী হয়েছে?’
‘বললাম তো কিছু না।’
‘তাহলে এ’কদিন ফোন দাও নি কেন? ফোন করলেও ফোন ধর নি।’
সোমা অন্যদিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঢাকায় ছিলাম না।’
‘ঢাকায় ছিলে না মানে, কোথায় গিয়েছিলে?’
‘গ্রামের বাড়ি।’
‘গ্রামের বাড়ি কেন?’
‘দরকার ছিল।’
‘কী দরকার?’
সোমা রেগে গেল। সে বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘কি আশ্চর্য, এত কথা জিজ্ঞেস করছ কেন? মানুষের প্রয়োজন থাকতে পারেনা?’
রাজন অবাক হয়ে বলল, ‘রেগে যাচ্ছ কেন?’
‘রেগে যাচ্ছি, কেননা তখন থেকে তুমি কি, কোথায়, কেন, একটার পর একটা প্রশ্ন করেই যাচ্ছ।’
রাজন লজ্জা পেয়ে বিব্রত ভঙ্গিতে হাসল। সোমাও আর কিছু বলল না। দীর্ঘ নীরবতা।
সোমা বুঝতে পারল, তার প্রতিক্রিয়াটা একটু বেশি হয়ে গেছে। সে নিজেকে সামলে নিয়ে নীরবতা ভেঙে বলল, ‘সরি, আমি বোধহয় একটু বেশি রিয়্যাক্ট করে ফেলেছি। আসলে আমার মনটা ভাল ছিল না।’
‘কেন?’ বলেই রাজন বলল, ‘সরি…’
সোমা বলল, ‘হঠাৎ করে বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন পড়ল, তাই দেশের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে দিতে হল।
‘ও মাই গড!’ রাজন বিস্মিত হয়ে বলল, ‘তো সে কথাটা আমাকে জানালেই পারতে?’
‘জানালে কী করতে?’
রাজন নিশ্চুপ। সে অবাক হয়ে তাকাল সোমার দিকে। কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। কী সেটা। সোমা কখনই এমন সুরে কথা বলে না। ওকে কিছু একটা বিরক্ত করছে।
সোমা কিছু না বলে অদূরে তাকিয়ে রইল শূন্য দৃষ্টিতে।
রাজন বুঝতে পারছে না, কী করবে। সে কী আজ চলে যাবে? না কি আর কিছুক্ষণ থেকে দেখবে। সে এদিক ওদিক তাকাল। এদিকে একটা পিচ্চি ছেলে চা নিয়ে আসে। এক কাপ চা খেলে মন্দ হত না। তারচেয়ে বড় কথা, সোমাকে চিয়ার আপ করা দরকার। ওকে কি বলে দেখবে আজ আর ক্লাস করা দরকার নেই? চল, একটু ঘুরে আসি। রাজনের বাসাও বেশি দূরে নয়। সোমাকে কতদিন নিয়ে যেতে চেয়েছে, সোমা রাজী হয় নি। একসাথে ভিসিআরে মুভি-ঠুবি দেখলে মন ভাল হয়ে যেতে পারে। সে তাকাল সোমার দিকে।
…
শাহেদ আর নাতাশা একটা মনোরম জায়গায় বসে রয়েছে। অনেকক্ষণ কেউ কোন কথা বলে নি। একটু সময় নিয়ে শাহেদ বলল, ‘তুমি তো আমাকে বল নি যে তোমার কি সব ঝামেলা যাচ্ছে?’
নাতাশা যেন জানতই শাহেদের কাছ থেকে এমন একটি প্রশ্ন আসবে। তার উত্তর তৈরিই ছিল। সে ঝটপট উত্তর দিল, ‘আর বল না। আমার বড় খালা তার ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে দেবার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে। কি যে এক যন্ত্রণা হয়েছে…’
শাহেদ বলল, ‘তোমার খালা কি ঢাকাতেই থাকেন?’
‘শুধু ঢাকাতেই নয়, উনি থাকেন আমাদের বাসাতেই এবং সদলবলে।’
‘তোমাদের বাসায়? মানে?’ শাহেদ অবাক হল।
‘আসলে তোমাকে বলা হয় নি, আমরা কানাডায় সেটেলড হবার পর দেখাশোনার নাম করে আমার বড় খালা আমাদের বাসায় এসে উঠে। সেই থেকে উনারা এখানেই থাকছেন। তাই তো সবকিছু লুকিয়ে করতে হচ্ছে।’
‘লুকিয়ে করতে হচ্ছে কেন?’
‘অনেক ব্যাপার আছে। তুমি বুঝবে না।’
‘ও আচ্ছা।’
‘কি ও আচ্ছা?’
‘না কিছু না।’
‘খালা হার্ট ফেল করবেন, যদি জানেন যে আমি অন্য ছেলেকে… যাই হোক, এই মুহূর্তে আমাদের বিয়েটা খুব সিক্রেটলি সেরে ফেলতে হবে। তোমার ভিসা এবং টিকেট কনফার্ম হয়ে যাবার পর, তুমি যদি চাও ছোট একটা রিসিপশনের ব্যবস্থা তখন করতে পার। What do you say?’
শাহেদ মাথা নেড়ে সায় দিল। একটু ভেবে বলল, ‘আমার মনে হয় সেটাই ভাল হবে।’
…
কয়েকদিন পরের ঘটনা।
খুব সকালে ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল শাহেদের। সে ঘুমের মধ্যে ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো।’ শাহেদ কিছুক্ষণ চুপচাপ শুনল। কথা শুনতে শুনতে সে উঠে বসল। তার চেহারায় একধরণের পরিবর্তন হল। সে বলল,
‘কখন আসতে হবে?’ আবার চুপ। একটু চুপ করে থেকে সে আবার বলল, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে আমি আসছি, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে।’
অপরপ্রান্ত থেকে লাইন কেটে গেল। শাহেদ চিন্তিত মুখে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। আড়মোড়া ভেঙে ঢুকে পড়ল বাথরুমে। বাথরুম থেকে বের হয়ে দ্রুত কাপড় পড়ে বের হয়ে গেল বাসা থেকে।
শাহেদ দ্রুত হেঁটে এসে দাঁড়াল আবাসিক এলাকার একটা মোড়ে। সে হাত নেড়ে একটি রিক্সা ডাকল। রিকশাওয়ালা যাবে না বলে চলে গেল অন্য দিকে। শাহেদ আর একটু এগিয়ে যেতেই শুনতে পেল কেউ একজন তার নাম ধরে ডাকছে, ‘এই যে শাহেদ, এদিকে আস।’
শাহেদ এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল সুজন ভাই, মোড়ের চায়ের দোকানে বসে আয়েসে চা পান করছে। সুজন এই এলাকার বাসিন্দা। বয়স মধ্য তিরিশের কোঁটায়। যদিও বয়সের তুলনায় তাকে একটু বেশিই বয়স্ক দেখায়। বয়স্ক দেখানোর মূল কারণ, সুজনের মাথার সম্মুখ এবং মধ্য অঞ্চলে কোন চুল অবশিষ্ট নেই। মাথার চারিপাশে যেকয়টি অবশিষ্ট চুল আছে তাদেরকে নিয়ে তার চিন্তার সীমা নেই। মাথার বাম অঞ্চল থেকে কয়েক গোছা চুল লম্বা করে মাথার অপর প্রান্তে নিয়ে প্রাণপণে ঢেকে রাখার চেষ্টা করে যায় সে। এ কাজে তেমন সফল হয় না, তবুও তার পকেটে ছোট একটি চিরুনি সব সময় থাকে।
শাহেদ এগিয়ে কাছে গেল। সুজন চায়ের কাপে লাঠি বিস্কিট ভিজিয়ে শব্দ করে খাচ্ছে। শাহেদ সালাম দিয়ে বলল, ‘স্লামালাইকুম, সুজন ভাই, কেমন আছেন?’
‘ওয়ালাইকুমস্লাম।’ সুজন চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ ভাল। তারপর, তোমার খবর কী? এক মহল্লায় থাকি অথচ দেখা সাক্ষাত নাই। চাকরি-বাকরীর কী অবস্থা?’
‘কোন অবস্থা নেই। চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
‘কর। চেষ্টা কর। হাল ছেড়ো না বন্ধু… চা খাবা?’
শাহেদ কিছু বলল না। অন্যমনস্কভাবে ঘড়ি দেখল।
সুজন আবার বলল, ‘আরে কী এত চিন্তা কর! বস, চা খাও।’ দোকানের ছেলেটাকে বলল, ‘এই পিচ্চি, এখানে আর এক কাপ চা দে।’
শাহেদ মাথা নেড়ে বলল, ‘না, সুজন ভাই। চা খাব না।’
‘আরে খাও এক কাপ।’
‘না থাক, আজ না।’
‘তাইলে লাচ্ছি খাও। গরমের মধ্যে লাচ্ছি ভাল লাগবে।’ দোকানের ছেলেটাকে বলল, ‘এই পিচ্চি, চা লাগবে না। এক গ্লাস ঠাণ্ডা লাচ্ছি দে।’
‘বাদ দেন। আরেকদিন খাব। আজ যাই।’
‘যাবা? আচ্ছা যাও।’
শাহেদ আর দেরি না করে দ্রুত বের হয়ে গেল চায়ের স্টল থেকে। সুজন তাকিয়ে রইল ওর চলে যাওয়ার দিকে।
…
ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকল শাহেদ। সে জামানকে দেখল ফোনে কথা বলছে। জামানের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যাপার জামান ভাই, একেবারে জরুরী তলব?’
জামান তার সবগুলো দন্ত বিকশিত করে বলল, ‘ভেতরে যান।’ সে আঙ্গুল দিয়ে একটা রুমের দিকে দেখিয়ে দিল।
শাহেদ কৌতূহলী হয়ে বলল, ‘কে?’
‘গিয়েই দেখেন না।’
শাহেদ উঠে দাঁড়াল। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল নির্দিষ্ট রুমটার দিকে।
শাহেদ রুমের ভেতরে ঢুকে অবাক হয়ে দেখল—নাতাশা একটা লাল শাড়ি পড়ে বসে আছে সোফাতে। এই প্রথম নাতাশাকে শাড়ি পড়া দেখল শাহেদ। কি অসম্ভব সুন্দর যে লাগছে তাকে। লাল শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ, লাল টিপ। সর্বাঙ্গেই যেন লালচে আগুনের ছোঁয়া। শাহেদ অপলক চোখে তাকিয়ে থাকল তার দিকে।
নাতাশার চেহারায় বিষাদের ছায়া—শাহেদ অবশ্য তা লক্ষ করল না। সে হেসে বলল, ‘আরে, এত দেখি একেবারে বউ সেজে বসে আছ? কী ঘটনা?’
নাতাশা কিছু বলল না। শাহেদ এবার লক্ষ করল, নাতাশাকে কেমন অন্যমনস্ক লাগছে। একটু সময় নিয়ে নাতাশা বলল, ‘বস, তোমার সাথে কথা আছে।’
শাহেদ বসল না। ‘এনিথিং রং? কী হয়েছে?’ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল সে।
নাতাশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, ‘শাহেদ, আব্বুর শরীর খারাপ। সম্ভবত স্ট্রোক। হসপিটালে আছে তিন দিন ধরে, অথচ আমি কিছুই জানিনা।’
‘ও মাই গড! কী বল, কখন জেনেছ?’
‘কাল রাতে। আম্মু ফোন করেছিল-’
‘উনি এখন কেমন আছেন?’
‘আই ডোন্ট নো।’ নাতাশা অনিশ্চিত কণ্ঠে বলল, ‘আম্মু ডিটেইল কিছু বলে নি, সম্ভবত আমি কান্নাকাটি করব এই ভেবে। শুধু বলেছে পারলে তাড়াতাড়ি চলে আয়-’
শাহেদ শূন্য দৃষ্টিতে তাকাল। কী বলছে এসব নাতাশা? শাহেদের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠল। নাতাশাকে যদি এখন এই অবস্থায় চলে যেতে হয়—তাহলে শাহেদের কী হবে?
নাতাশা অস্থির কণ্ঠে বলল, আমার কিছু ভাল লাগছে না শাহেদ। আমি কী করব কিছু বুঝতে পারছি না-’
শাহেদ এগিয়ে গিয়ে বসল নাতাশার পাশে। মায়াজড়ানো কণ্ঠে বলল, ‘আমিও বুঝতে পারছি না।’
কিছুক্ষণ নীরবে বসে রইল দুজন।
নাতাশা বলল, ‘আব্বুর কিছু একটা হয়ে গেলে… আমি ভাবতে পারছি না।’ বলতে বলতে চোখ ভিজে এল তার। শাহেদের দিকে ঘুরে আকুল কণ্ঠে বলল, ‘আমাকে যে কোন মুহূর্তে চলে যেতে হতে পারে, শাহেদ।’
শাহেদ তাকাল। কিছু ভাবতে পারছে না সে।
‘সারারাত আমি ঘুমাতে পারি নি।’ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নাতাশা বলল, ‘আমি অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্তে এসেছি।’
‘কী সিদ্ধান্ত?’ শাহেদ উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাল।
নাতাশা আলত করে শাহেদের হাত ধরল। আবেগতাড়িতে কণ্ঠে বলল, ‘তোমাকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে শাহেদ, আমি তোমাকেই বিয়ে করতে চাই।’
শাহেদের শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল। এমন মধুর কথা সে তার জীবনে আর কোনদিন শুনেছে কি না কে জানে। সে সহাস্যে বলল, ‘আমিও চাই।’
‘তাহলে চল বিয়েটা করে ফেলি।’
নাতাশার কথা শুনে মনে হচ্ছে ও বোধহয় এখনই বিয়ে করার জন্য তৈরি হয়ে আছে। শাহেদ বলল, ‘কবে?’
‘আজ। এখনি। তুমি যদি চাও, আমাদের বিয়েটা আজ এবং এখনই হবে। আর তুমি যদি না চাও, or if you change your mind, সেক্ষেত্রে-’
শাহেদ ভ্রূ কুঁচকে বলল, ‘সেক্ষেত্রে?’
একটু ভেবে নিয়ে নাতাশা বলল, ‘I don’t know! দেখ, আমার পক্ষে তো চাইলেই যখন তখন দেশে আসা সম্ভব নয়, তাই না? সেক্ষেত্রে হয়ত আমি অন্য কাউকে বিয়ে করে রেখে যাব। তারপর তার ভিসা হয়ে গেলে সে চলে যাবে কানাডায়। Now it’s your call Shahed—আমি তোমার উপরে ছেড়ে দিচ্ছি।’
শাহেদ বুঝতে পারছে না কী বলবে। অন্যদিকে নাতাশার কথাগুলোকে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না। ওকে যদি চলে যেতে হয়, কাউকে তো ওকে বেছে নিতেই হবে। তবুও শাহেদের মনে আশঙ্কা উঁকি দিল। ম্যারেজ মিডিয়ার এজাজ আর জামানের একটার পর একটা অজুহাত সামনে এনে টাকা চাওয়ার ব্যাপারটা ওকে ভাবিয়ে তুলেছে। যদিও কোনটার ভেতরেই সে অযৌক্তিক কিছু সে খুঁজে পায় নি। টাকা তো লাগবেই। মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করে না। আবার নাতাশার সাথে ঘনিষ্ঠতা হবার পর থেকে একটার পর একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। সব কী কাকতালীয় না কি পুরো বিষয়টাই একটা ছকে আঁকা! সে কি কোন চক্রের গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে গেছে? শাহেদের ভাবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
নাতাশা উত্তরের অপেক্ষায়।
শাহেদ হঠাৎ করেই হতাশা আর ক্ষোভ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল, ‘Are you playing with me?’
নাতাশা ভ্রূ কুঁচকে তাকাল শাহেদের দিকে। আহত কণ্ঠে বলল, ‘কী বলছ তুমি এসব?’
‘ঠিকই বলছি। তোমরা তিনজনে মিলে আমাকে ট্র্যাপে ফেলেছ। আমার আরো আগেই বোঝা উচিৎ ছিল।’
শাহেদের অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়ায় হকচকিয়ে গেল নাতাশা। সে কী বলবে বুঝতে পারল না। আচমকা কান্নায় ভেঙে পড়ল সে।
ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-৯)
with
no comment

