marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-৬)

সকাল ৯টা।
শাহেদ তার পছন্দের ব্লু লিভাইস জিন্স এর সাথে হোয়াইট পোলো টি-শার্ট চাপিয়ে দাঁড়াল আয়নার সামনে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল নিজেকে। একবার মুখে হাত বুলিয়ে দেখল, শেভ করা হয়েছে কি না ঠিকমত। মনে হল কোন সমস্যা নাই। সে সন্তুষ্ট চিত্তে তার পছন্দের পারফিউম বাতাসে স্প্রে করে তার শরীরটা এগিয়ে দিল। স্প্রে করা মিষ্ট তার শরীরে এসে লাগল।
সোমা এলো শাহেদের জন্য এক কাপ চা নিয়ে। শাহেদ দেরিতে নাস্তা করে, তাই সকালের চা’টা সোমা তার রুমেই দিয়ে যায়। দূর থেকে শাহেদের পারফিউম স্প্রে করার দৃশ্য দেখে ফিক করে হেসে ফেলল সোমা। হাসতে হাসতেই বলল, ‘কি ব্যাপার ভাইয়া, সকাল সকাল হেভি মাঞ্জা মেরে কোথায় যাচ্ছ? দেখে তো মনে হচ্ছে ডেটিং! না কি ইন্টারভিউ?’
শাহেদ আয়নায় নিজেকে আবার দেখে দৃপ্ত কণ্ঠে বলল, ‘আরে না, ইন্টারভিউ দেবার দিন শেষ। No more interviews.’
‘তাহলে?’
‘অত কথা তো এখন বলতে পারব না। একবার তো বলেছি সময় হলে সবই জানতে পারবি। চা দিতে এসেছিস, চা দিয়ে বিদায় হ।’
‘হাউ রুড! এভাবে কথা বলছ কেন?’
সোমার হাত থেকে চায়ের কাপ নিয়ে শাহেদ দ্রুত কয়েকবার চুমুক দিয়ে কাপ ফিরিয়ে দিল। সোমা বিস্মিত হয়ে কাপ হাতে দাঁড়িয়ে রইল। শাহেদ তার হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে বলল, ‘Oh my God, I’m getting late.’
শাহেদ আয়নায় আরেকবার নিজেকে দেখে সন্তুষ্ট মনে ঘুরে দাঁড়াল। সোমা লক্ষ করল শাহেদ কম করে হলেও তিনবার আয়নায় নিজেকে দেখল। সে মুচকি হাসল।
শাহেদ রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে থমকে দাঁড়াল দরজার সামনে। তারপর সোমার দিকে ঘুরে বলল, ‘Soma, I need a big favor. তুই ছাড়া কাজটা আর কেউ করতে পারবে না।’
সোমা নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, ‘I know. কাজটা কি সেটা আমি জানি ভাইয়া, তোমাকে আর বলতে হবে না।’
‘You’re the best sister ever!’
‘থাক আর বাটার দিতে হবে না। যেখানে যাচ্ছিলে যাও।’
শাহেদ খুশি মনে বের হয়ে গেল।

ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তা পার হয়ে শাহেদের রিক্সা একটি আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করল। তার হাতে ঠিকানা লেখা একটি কাগজ। শাহেদ রিকশাওয়ালাকে বলল একটু ধীরে চালাতে। রিক্সা চলছে ধীর গতিতে। সে নাম্বার মিলিয়ে দেখতে থাকল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুন্দর একটি বাড়ির সামনে এসে রিক্সা থামাতে বলল শাহেদ।
দূর থেকে শাহেদকে দেখল নাতাশা। সে হাত নাড়ল।
শাহেদ অবাক হয়ে দেখল নাতাশাকে। সুন্দর একটি সুতি সালোয়ার-কামিজ পড়েছে সে। যত্ন করে চোখে কাজল দিয়েছে। ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক। চুলে সোনালি রঙের আভা। কোন বিদেশিনীকে দেশি পোশাক এবং সাজে যেমন অন্যরকম সুন্দর দেখায়—নাতাশাকে ঠিক তেমনি দেখাচ্ছে।
রাজ্য জয়ের হাসি মুখে নিয়ে রিক্সা থেকে নেমে দাঁড়াল শাহেদ।
নাতাশা দ্রুত এগিয়ে গেল। সে হাত নেড়ে বলল, ‘আরে- আরে নামছ কেন? নামতে হবে না, এই রিক্সা নিয়েই চল।’
নাতাশা রিক্সায় উঠে বসল। শাহেদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘উঠে এস, কুইক।’
শাহেদ অল্প সময়ের জন্য কিছু বুঝে উঠতে পারল না। নাতাশার মধ্যে কেমন যেন অস্থিরতা লক্ষ করল সে। একবার চারিদিকে তাকাল শাহেদ।
নাতাশা চোখের ইশারায় তাড়া দিল। শাহেদ একটু ইতস্তত করে উঠে বসল নাতাশার পাশে।
রিক্সা চলতে শুরু করল। এবার রিকশাওয়ালাকে তাড়া দিয়ে নাতাশা বলল, ‘এই মামা, একটু তাড়াতাড়ি চালান।’
রিকশাওয়ালা খুব মজা পেল। সে পঙ্খিরাজের মত শো শো করে রিক্সা চালিয়ে আবাসিক এলাকার গলির রাস্তা ছেড়ে প্রধান সড়কে গিয়ে উঠল।
কিছুক্ষণ যাওয়ার পরেই শাহেদ উৎসুক হয়ে জানতে চাইল, ‘কী ব্যাপার নাতাশা? Anything wrong?’
নাতাশা সহজ ভঙ্গিতে বলল, ‘Nothing wrong. Why?’
‘না মানে, এই যে কেমন যেন পালিয়ে আসার মত করে চলে এলে।’
‘আর বল না। পেপারে অ্যাড দেবার পর থেকে বাসায় থাকাই মুস্কিল হয়েছে। গেটের বাইরে যে একটু দাঁড়াব তারও উপায় নেই। এমন ভাবে সবাই তাকায় যে মনে হয় আমি যেন ভিন দেশী কেউ—না পালিয়ে উপায় কি বল?’
‘তুমিতো ভিন দেশীই।’
‘এখন তো দেখছি অ্যাড দেয়াটাই ভুল হয়েছিল।’
‘ভাগ্যিস দিয়েছিলে, তা না হলে তো তোমার সাথে আমার দেখাই হত না।’
‘দেখা না হলে কী এমন ক্ষতি হত?’
‘তোমার হয়ত হত না, তবে আমার হত। অনেক বড় একটা ক্ষতি হয়ে যেত।’
ঘুরে তাকিয়ে বলল নাতাশা, ‘তাই? কী রকম? শুনি একটু।’
শাহেদ নিশ্চুপ। সহসাই কিছু বলতে পারল না সে। সে সময় নিল।
নাতাশা তাকিয়ে থাকল।
শাহেদ গভীর কণ্ঠে বলল, ‘I think I’m in love with you, Natasha!’
‘Love in first sight?’ বলেই নাতাশা খিলখিল করে হাসল।
‘That’s right. Love in first sight!’ শাহেদও মৃদু হাসল।
‘Man, you will be in big trouble! তুমিতো বিপদে পড়বে, শাহেদ!’
‘কেন বলছ এ কথা?’
‘পরিচয় হতে না হতেই ধুম করে কারো প্রেমে পড়া কোন কাজের কথা না।’
‘কিন্তু প্রেমে তো মানুষ ধুম করেই পড়ে। ভেবে চিন্তে পরিকল্পনা করে কি প্রেম হয়?’
নাতাশা আর কিছু বলল না। আলত করে একটি হাত বাড়িয়ে দিল শাহেদের দিকে।
রিক্সা ছুটে চলল পঙ্খিরাজের গতিতে।

দুপুর ছুঁইছুঁই করছে।
রাকিবউদ্দিন সাহেব পত্রিকা নিয়ে বসেছেন বাসার সামনের বারান্দায়। তার হাতে দৈনিক পত্রিকা। তিনি প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা উল্টেপাল্টে দেখছেন। খবরের কাগজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়া তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস, বিশেষ করে উপ-সম্পাদকীয়গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন তিনি। তাছাড়া ছুটির দিনে এই সময়ে পত্রিকা নিয়ে সময় কাঁটাতে তার ভাল লাগে। একধরণের অলসতা ভর করে। এই অলস সময়টুকু তিনি উপভোগ করেন। এসময়টা তার একান্ত নিজের। পত্রিকা পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তিনি সামনে তাকান। সামনের রাস্তায় রিক্সার টুং-টাং আওয়াজ, ফেরিওয়ালাদের আওয়াজ—মাছ, মুরগি, সবজি বিক্রেতাদের ডাক শুনতেও তার ভাল লাগে।
রাকিবউদ্দিন সাহেব মাঝে মাঝেই ভাবেন, ঢাকার অলিতে-গলিতে ফেরিওয়ালার ডাক আর রাস্তার আওয়াজ একেবারেই অন্যরকম। পৃথিবীর অন্য কোন শহরে আছে কি না কে জানে? যদিও এখন আগের মত এদের হাঁকডাক আর শোনা যায় না। সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে ফেরিওয়ালার ডাক, জীবন জীবিকাও।
সোমা তার বাবার জন্য এক কাপ চা নিয়ে এসে দাঁড়াল বারান্দায়।
‘বাবা তোমার চা।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব পত্রিকা নামিয়ে দেখলেন সোমাকে। অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, ‘সকালেই না একবার চা দিলি? আবার চা কেন?’
‘বন্ধের দিনে চা এক কাপ বেশি খেলে কিছু হবে না। নাও।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব চশমা খুলে সোমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘উদ্দেশ্যটা কি? কিছু বলতে চাস মনে হয়। শাহেদের ব্যাপারে সুপারিশ করতে এসেছিস?’
সোমা মিষ্টি করে হেসে বলল, ‘You are a very smart dad! And sweet!’
রাকিবউদ্দিন সাহেব হেসে ফেললেন। ঈষৎ উদ্বেগ ভরা কণ্ঠে বললেন, ‘কিন্তু ও তো কিছু বলছে না। কী করছে কিছু তো বুঝতে পারছি না। তুই কি কিছু জানিস?’
‘ভেবো না, আমি আজ রাতেই সব কিছু জেনে নেব। তুমি শুধু ভাইয়ার টাকার ব্যবস্থাটা করে দাও।’ সোমা তার বাবাকে আশ্বস্ত করল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে রাকিবউদ্দিন সাহেব বললেন, ‘হুম। আচ্ছা যা আমি দেখছি কি করা যায়।’
সোমা গেল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
রাকিব সাহেব বললেন, ‘আর কিছু বলবি?’
‘হ্যাঁ।’
‘বল।’
‘ভাইয়ার সঙ্গে তুমি সবসময় এমন ব্যবহার কর, এটা কিন্তু ঠিক না। তুমি কি জান, ভাইয়া এটা নিয়ে কত মন খারাপ করে থাকে? বেকার ছেলেরা একটু সেনসিটিভ বেশি হয়। তাছাড়া এমন তো নয় যে ও কোন কাজের চেষ্টা করছে না।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব চুপ করে রইলেন।
‘ভাইয়ার সঙ্গে তুমি আর এরকম করবে না।’
‘আচ্ছা, যা আর করব না। কিন্তু ছেলেটা যে কেন এমন হল। এত সহজ সরল হলে কি আর আজকাল চলে।’
‘আমার ধারণা, এই স্বভাবটা ও তোমার কাছ থেকেই পেয়েছে।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বললেন, ‘আমার কাছ থেকে?’
‘হ্যাঁ। পৃথিবীর সব মানুষকে বিশ্বাস করা আর বিশ্বাস করে ঠকা, এ ব্যাপারে তোমাদের দুজনের অদ্ভুত মিল।’
‘মানুষ হচ্ছে, আল্লাহতালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হচ্ছে এই মানুষ। মানুষকে তো বিশ্বাস করতেই হবে?’
‘যাই হোক, এ নিয়ে আমি তোমার সাথে তর্ক করতে চাইনা।’
‘আচ্ছা তোকে আর তর্ক করতে হবে না। দেখত তোর মা কোথায়?’
‘কোথায় আবার রান্নাঘরে! ওটাই তো তার স্থায়ী ঠিকানা। কিছু করার থাক বা না থাক দিনটা কাটাতে হবে রান্নাঘরেই।
সোমার কথার ধরণে রাকিবউদ্দিন সাহেব ভীষণ মজা পেলেন। তিনি উচ্চ স্বরে হেসে ফেললেন।
সোমা বারান্দা থেকে বের হয়ে এলো। যেতে যেতে গানের সুর ভাজল, ‘এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই। মানুষ নামের মানুষ নামের মানুষ আছে দুনিয়া বোঝাই। এই মানুষের ভিড়ে আমার সেই মানুষ নাই।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব মুগ্ধ নয়নে ঘুরে তাকালেন সোমার চলে যাওয়ার দিকে। মেয়েটার গানের গলা এত ভাল, তিনি আগে কখনো লক্ষ করেন নি ব্যাপারটা। তিনি চট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন, শাহেদের ভাল কিছু হয়ে গেলে, সেদিন রাতেই একটা গানের আড্ডার আয়োজন করবেন।
সোমা রান্নাঘরে এলো। জাহানারা বেগম দুপুরের রান্না শেষ করে সব কিছু ধুয়ে মুছে রাখছিলেন। সোমা ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘মা, সারাদিন রান্নাঘরে এত কী কর বলতো? কাজ না থাকলেও দেখি তুমি এখানেই বসে থাক।’
জাহানারা বিপন্ন কণ্ঠে বললেন, ‘যাব টা কোথায়? আমার আর কোথাও যাবার জায়গা আছে?’
‘এত বড় একটা বাড়ীতে তোমার আর কোথাও যাবার জায়গা নেই?’ সোমা এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল মায়ের পাশে। মায়ের শাড়ির আচল ধরে মুচকি হেসে বলল, ‘তোমার রিটায়ার্ড হাজব্যান্ড সারাদিন একা একা বসে থাকে। তুমি তার সঙ্গে একটু সময় কাটাতে পার না?’
জাহানারা কঠিন চোখে তাকালেন সোমার দিকে। অত্যন্ত বিরক্ত কণ্ঠে বললেন, ‘বেয়াদবের মত কথা বলিস না তো?’
‘আচ্ছা, এই ক্লিনিং- এর কাজটা তো ফুলির মা-ই করতে পারে।’ সোমা বলল, ‘ওকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিচ্ছ কেন?’
‘কী বলতে এসেছিস, বলে বিদায় হ। বেশি ঘ্যানর ঘ্যানর করিস না।’
‘ভাইয়ার ব্যাপারে একটা জরুরী কথা আছে। আই হ্যাভ অ্যান একসেলেন্ট আইডিয়া। তোমাদের দু’জনের সঙ্গেই ডিসকাস করতে চাই। একটু আসবে?’
বিস্মিত কণ্ঠে বললেন জাহানারা, ‘তোর মাথায় যে কত আইডিয়া আছে? ‘আচ্ছা যা আমি আসছি।’

শাহেদ আর নাতাশা অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়াল রিক্সায়। টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা-ও খেল।
রিক্সায় ঘুরতে ঘুরতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দুজন দুজনের কাছাকাছি চলে এলো। প্রথম দিকে শাহেদের জড়তা থাকলেও, সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। নাতাশাই তার হাতটা বাড়িয়ে দিল প্রথমে। শাহেদ আলত করে ধরল তার হাত—একটা অদ্ভুত ভালোলাগা যেন তাকে ছুঁয়ে গেল। নাতাশা কথা বলে গেল আনমনে। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে নাতাশার আনমনে বলা কথাগুলি শুনল। কথা যেন শেষই হয় না।
রিকশাওয়ালা মাঝে মাঝে ওদের দিকে ঘুরে তাকায়। হাসে। এমন দৃশ্য নতুন নয় তার জন্যে। সে মনের আনন্দে প্যাডেল ঘুরাতে থাকে।
দুপুর পার করে শাহেদ আর নাতাশা এসে ঢুকল একটা রেস্টুরেন্টে। কর্নারের একটা টেবিল বেঁছে নিয়ে বসল তারা। ওয়েটার এসে কোল্ড ড্রিংকস আর পানি দিয়ে গেল টেবিলে। মেনু দেখতে দেখতে শাহেদ হঠাৎ করেই বলল, ‘এখানে রিকশাওয়ালাদের মামা বলে ডাকে, সেটা তুমি জানলে কী করে?’
নাতাশার গা বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। সে কোল্ড ড্রিংকসে চুমুক দিতে যাচ্ছিল। সে মুখ থেকে স্ট্র সরিয়ে শীতল দৃষ্টিতে তাকাল শাহেদের দিকে। প্রাণপণে মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করল নাতাশা। কিন্তু তার সহাস্য মুখটি হঠাৎ করেই মলিন হয়ে গেল।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *