marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-৭)

নিজেকে স্বাভাবিক চেহারায় ফিরিয়ে আনতে নাতাশার বেশি সময় লাগল না।
মুহূর্তেই সে তার মুখে একটা দুষ্টুমির হাসি ফুটিয়ে তুলল। তারপর কোল্ড ড্রিঙ্কসে ছোট একটা চুমুক দিয়ে মিষ্টি কণ্ঠে বলল, ‘আমার কাজিনদের কাছ থেকে শিখেছি। এখানে রিকশাওয়ালা, ফুচকাওয়ালা, ঝালমুড়িওয়ালা সবাইকে দেখি মনের আনন্দে মামা বলে ডাকে। অনেক নাটকেও দেখেছি।’
শাহেদ শব্দ করে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই বলল, ‘তাই বলো।’
‘শুনেছি, এখানে বেষ্ট ফ্রেন্ডকেও নাকি মামা সম্বোধন করে। ইজ দ্যাট ট্রু?’
শাহেদ আবারো হেসে বলল, ‘ইয়া, দ্যাটস ট্রু।’
‘আর প্রেমিক-প্রেমিকারা? তারা কিছু বলে না?’
‘তা তো বলতে পারব না।’
‘কেন প্রেম কর নি কখনো?’
শাহেদ চুপ করে রইল।
নাতাশা প্রসঙ্গ বদলে বলল, ‘সেই তখন থেকে আমি একাই কথা বলে যাচ্ছি। এতক্ষণ তো শুধু আমার কথাই শুনলে। এখন তোমার কথা কিছু বল, শুনি।’
শাহেদ একটু সময় নিয়ে বলল, ‘বলার মত আমার তেমন কোন কথা নেই নাতাশা। কি বলব?’
‘তোমার ফ্যামিলি সম্পর্কে বল। তাদের সম্পর্কে তো কিছুই বললে না। ক’ভাইবোন তোমরা? ফ্যামিলিতে আর কে কে আছে?’
‘বাবা, মা, ছোট একটা বোন আর আমি, এই নিয়ে আমাদের সংসার। মোটামুটি সুখী পরিবার বলতে পার।’
নাতাশা বলল, ‘দেখি তোমার হাতটা এদিকে দাও তো।’
শাহেদ অবাক হয়ে বলল, ‘কেন?’
‘আহা দিতে বলছি দাও।’
শাহেদ হাত বাড়িয়ে দিল। নাতাশা ছোট করে একটা চিমটি কাটল শাহেদের হাতে।
‘আউচ! এটা কী হল?’
‘চিমটি দিলাম।’ নাতাশার মুখে দুষ্টুমির হাসি।
‘চিমটি দিলাম মানে? এটার রহস্য কী?’
‘এটার রহস্য জান না? রহস্য হচ্ছে—তোমরাও দু’ভাইবোন, আমরাও দু’ভাইবোন। মিলে গেল, তাই চিমটি।’
‘আর বাবা-মা?’
নাতাশা ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। কাঁচের জানালা দিয়ে তাকাল বাইরে। একটু সময় নিয়ে বলল, ‘এক সময় আমাদের সংসারটাও সুখের ছিল, তবে এখন আর নেই।’
‘এখন আর নেই কেন?’
‘সে অনেক কথা। এসব কথা বলতে ইচ্ছা করছে না এখন। তুমিতো যাচ্ছই কিছুদিন পর, তখনই সব দেখতে পাবে।’
শাহেদ আর কিছু বলল না। নাতাশাও নিশ্চুপ। দু’জনে দু’জনের ভাবনা নিয়ে চুপচাপ বসে রইল।
ইতোমধ্যে ওয়েটার খাবার পরিবেশন করে গেল। নাতাশা তাকাল শাহেদের দিকে। শাহেদ নাতাশার প্লেটে খাবার তুলে দিল। ওরা দুজন খেতে খেতে কথা শুরু করল আবার।
নাতাশা বলল, ‘তোমার ছোটবোনের কথা বলেছিলে—কী নাম ওর?’
‘সোমা।’
‘রিয়েলি?’ নাতাশা চোখ নাচিয়ে বলল, ‘সোমা আমার খুব প্রিয় একটা নাম। বিয়ে হয়ে গেছে, না কি পড়ছে?’
‘নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ করছে। বিয়ে এখনো হয় নি। মা অবশ্য ছেলে খুঁজছেন…’
‘চিন্তা কর না। কিছুদিনের মধ্যে কানাডায় সেটেলড হয়ে তুমিই সোমার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারবে। মাকে আর চিন্তা করতে হবে না।’
শাহেদ ভীষণভাবে আপ্লুত হল। নাতাশার মুখে ‘মাকে আর চিন্তা করতে হবে না’ শুনে মনে হচ্ছে ওদের বুঝি সত্যি সত্যিই বিয়ে হয়ে গেছে। শাহেদের মা-অ এখন নাতাশার মা। মা-ই তো। কৃতজ্ঞতায় শাহেদের মন ভরে গেল। নাতাশাকে নিয়ে তার মনে আর কোন সংশয় রইল না।

এদিকে নাতাশা আর শাহেদ যখন ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে কপোত-কপোতীর মত, ওদিকে ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে এজাজ এবং জামান তাদের নতুন নতুন পাত্র দেখা এবং পাত্রের ইন্টারভিউ নেবার আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছে।
পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছরের কিছু যুবক, বুক ভরা সীমাহীন স্বপ্ন নিয়ে ম্যারেজ মিডিয়া অফিসের ওয়েটিং রুমে বসে রয়েছে।
এজাজের সামনে বসে আছে জনৈক প্রার্থী। সে কৌতূহলী হয়ে বলল, ‘শুনেছি কানাডায় নাকি অনেক শীত?’
এজাজ বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘সেইটা তো আমি বলতে পারব না। আমি তো আর ঐ দেশে থাকি না।’
‘আপনার কি মনে হয়, কিছু শীতের কাপড় নিয়ে যাওয়া ভাল, তাইনা? ওখানে নিশ্চয় অনেক দাম হবে।’
এই পর্যায়ে জামান ঘুরে তাকাল যুবকের দিকে। সে রুক্ষ স্বরে বলল, ‘আপনার নাম?’
‘হায়দার হোসেন।’
‘আপনার ফর্ম ফিল আপ করছেন?’
‘জি।’
‘রেজিস্ট্রেশন ফি? বায়োডাটা—জমা দিয়েছেন?’
‘জি জি। সব কিছুই দিয়েছি।’
জামান অপেক্ষারত অন্যান্য প্রার্থীদের বসার জায়গা দেখিয়ে বলল, ‘দেখেন হায়দার সাহেব, আমরা এখন অনেক ব্যস্ত আছি। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, আরো কতজন ক্যান্ডিডেট বসে আছে। আপনার এসব খেজুরে আলাপের সময় আমাদের হাতে নাই। আপনি এক কাজ করেন, আপাতত ঐখানে গিয়ে বসেন। আপনার ইন্টারভিউ ডেট ঠিক হলে আপনাকে আমরা জানাব।’
হায়দার হোসেন জামানের কথায় কিছুই মনে করল না। বরং হাসি মুখেই উঠে চলে গেল। সে চলে যেতেই জামান বিরক্ত হয়ে এজাজের দিকে ঘুরে বলল, ‘এত ভাল যন্ত্রণা শুরু হল দেখি!’
পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, মান-অপমান তাদের গায়ে লাগে না। হায়দার হোসেন সেই গোত্রেরই একজন। সে দমে যাবার পাত্র নয়। বেশিক্ষণ চুপ করে থাকার মানুষও সে নয়। সে ওয়েটিং এরিয়াতে বসেই তার পাশের যুবকের সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিল। প্রাথমিক পরিচয় পর্ব শেষ করে সে বিজ্ঞের মত বলল, ‘আপনি কি জানেন, ১৯১১ সনে নায়াগ্রা ফলসের সব পানি জমে বরফ হয়ে গেছিল?’
পাশের যুবক অবাক হয়ে বলল, ‘তাই নাকি? জানিনা তো? ইন্টারেস্টিং!’
‘আমার কাছে ছবি আছে। এ ভেরী রেয়ার ফটো। আপনি চাইলে আপনাকে পাঠাতে পারি। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেসটা দেন, ফরওয়ার্ড করে দেব।’
হায়দার হোসেন তার নোটবুক বের করে যুবকের ইমেইল অ্যাড্রেস লিখে নিল।

শাহেদ বিছানায় শুয়ে আছে।
নাতাশার সঙ্গে সুন্দর কিছু সময় কাটিয়ে তার মন এখন ফুরফুরে। এক সপ্তাহ আগেও তার জীবনটা ডুবে ছিল হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। ঘরবন্দী জীবনটা তার কাছে অসহ্য যন্ত্রণার হয়ে উঠছিল। নাতাশা যেন তার জীবনে আলাদিনের যাদুর চেরাগ হয়ে এসেছে।
নাতাশা তাকে একটা ছবি দিয়েছে। ছবিটি তার হাতে। নায়াগ্রা জল্প্রপাতের সামনে দাঁড়ান নাতাশা, চুল উড়ছে। পেছনে বিশাল বিস্ময়কর জলপ্রপাত। ছবিটির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে থাকতে নাতাশার রূপ আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ডুবে গেল শাহেদ। মনের অজান্তেই সে গুনগুন করে উঠল—
‘আমি আকাশে পাতিয়া কান
শুনেছি শুনেছি তোমারি গান
আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ
ওগো বিদেশিনী…’
শাহেদের নির্জন তপস্যার ব্যাঘাত ঘটাতেই যেন হঠাৎ করেই সোমার আবির্ভাব ঘটল। সে এসে দাঁড়াল শাহেদের রুমের দরজায়। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে হালকা গলায় কাশি দিল।
সোমার উপস্থিতি টের পেয়ে নাতাশার ছবিটি দ্রুত বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেলল শাহেদ।
সোমা কিছু বুঝল কি না, তা বোঝা গেল না। সে কাছে এসে বলল, ‘ভাইয়া, তোমার জন্যে একটা ভাল খবর আছে। উঠে বস, বলছি।’
শাহেদ উঠে বসল।
সোমা বলল, ‘বাবা আর মাকে আমি কনভিন্স করেছি। আমার বিয়ের ফান্ড থেকে তোমার জন্যে আরও ৫০ হাজার টাকা দেয়া হবে। অবশ্যই লোন হিসেবে এবং একটা শর্তে।’
‘শর্ত? শর্ত আবার কিসের?’
‘তোমার পরিকল্পনাটা কি, এ ব্যাপারে আমাকে বিষদ বিবরণ দিতে হবে।’
‘কী যে সব বলিস? বিষদ বিবরণ আবার কী?’
‘টাকাটা কোথায় ইনভেস্ট হচ্ছে, রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট কী, ইত্যাদি—সব আমাকে বলতে হবে। পেটের মধ্যে কোন কথা রাখতে পারবে না। এবার বল—what is your master plan?’
‘মানে?’
‘মানে হচ্ছে টাকা দিয়ে তুমি কী করছ অথবা কী করবে?’
শাহেদ বালিশের নিচ থেকে নাতাশার ছবিটি বের করে শান্ত ভাবে বলল, ‘বিয়ে করব।’
‘কী করবে?’
‘বিয়ে।’ ছবিটা সোমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘এই মেয়েটাকে।’
সোমা ছবি হাতে নিয়ে একবার শাহেদের দিকে আর একবার ছবিটার দিকে তাকাল।
শাহেদ বলল, ‘ভেবে দেখলাম—আমি বিয়ে না করলে তো তোর কোন গতি হবে না। তোর কথা ভেবেই…’ কথা বলতে বলতে শাহেদ লক্ষ করল সোমা মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে ছবিটার দিকে। ওর চাহনিই বলে দিচ্ছে নাতাশাকে সোমার পছন্দ হয়েছে।
‘মেয়েটা কেমন?’ প্রশ্ন করল শাহেদ।
সোমা অস্ফুটে বলল, ‘Gorgeous! Stunning beauty! Who is she?’
‘A bride from Canada!!’
সোমা একে একে দুই, দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে বলল, ‘ও আচ্ছা, এই তাহলে তোমার সেই লাইফ টাইম অপরচুনিটি?’
শাহেদ বলল, ‘হ্যাঁ। কানাডার সিটিজেন। দেশে এসেছে বিয়ে করে হাজব্যান্ডকে কানাডা নিয়ে যাবে।’
‘তা এই কানাডিয়ান ব্রাইডের সঙ্গে তোমার পরিচয়টা হল কি করে? ইন্টারনেটে নিশ্চয়?’
‘আরে না, ইন্টারনেটে হতে যাবে কেন? নিউজপেপারে অ্যাড দেখে যোগাযোগ করলাম, ইন্টারভিউ দিলাম। ব্যাস!’
‘ব্যাস?’
‘চাকরীটা পেয়ে গেলাম। আই মিন, সিলেকশনটা পেয়ে গেলাম।’
‘ভুয়া! পত্রিকার এ সমস্ত দু’নম্বরি অ্যাড দেখে তুমি ধরা খেয়েছ। তোমার বুদ্ধি সুদ্ধি আর কবে হবে ভাইয়া?’ সোমা বিস্ময় প্রকাশ করল।
‘শোন সোমা, তোদের এই হচ্ছে একটা সমস্যা। সব কিছুতেই সন্দেহ করিস। যা জানিস না, তা নিয়ে কথা বলতে আসিস না।’
সোমা ছবিটা হাতে নেড়ে চেড়ে আবারো কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে দেখল। ‘বয়সে তো তোমার চেয়ে বড় হবে মনে হচ্ছে।’ সোমার কণ্ঠে সংশয়।
‘দু’তিন বছরের বড় হবে হয়ত, তাতে কিছু যায় আসে না। বয়স কোন ব্যাপার না। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা:)…’
‘বুঝেছি। থাক আর বয়ান দিতে হবে না। আব্বু চেক লিখে দিয়েছে। কাল সকালে ব্যাঙ্ক থেকে টাকাটা তুলে নিয়ে এস।’
সোমা চলে যাচ্ছিল, শাহেদ ডাকল ওকে। সোমা ঘুরে দাঁড়াল।
শাহেদ কৃতজ্ঞচিত্তে গভীর কণ্ঠে বলল, ‘Soma, thank you. Thanks for being so supportive. You’re a great sister!’
সোমা দাঁড়িয়ে রইল। একটু চুপ করে থেকে থেমে থেমে বলল, ‘ভাইয়া তোমার উপর আমাদের অনেক বিশ্বাস। আমি জানি তুমি কোন ভুল করবে না। তবু ভয় হয়, আব্বুর অনেক কষ্টের জমানো টাকা। যাই কর, ভেবে চিন্তে কর।’
সোমা কথা শেষ করতে পারল না। বলতে বলতে তার চোখ ভিজে এল। সে দ্রুত বের হয়ে গেল শাহেদের রুম থেকে।

ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিস।
শাহেদ তার ব্যাগ থেকে একটা কাগজের প্যাকেট বের করে এজাজের হাতে দিল। এজাজ বিগলিত হাসি দিয়ে প্যাকেট থেকে কয়েকটি টাকার বান্ডিল বের করে গণনা শুরু করল।
শাহেদ চারিদিকে একবার তাকিয়ে দেখল। অফিস মোটামুটি ফাঁকা। অন্যান্য প্রার্থীদের কাউকে চোখে পড়ল না। ওয়েটিং এরিয়াতে কেউ নেই। অভ্যর্থনা ডেস্কে দুজন অফিস স্টাফকে দেখতে পেল শুধু।
জামান ভেতর থেকে এসে শাহেদের সাথে হ্যান্ডশেক করে বসল তার চেয়ারে। এজাজ টাকা গণনা শেষ করে বলল, ‘নেন, আর কোন টেনশনের কারবার নাই। এইবার আসল কাজ সাইরা ফেলা দরকার।’
শাহেদ প্রশ্ন করল, ‘আসল কাজ মানে?’
এজাজ মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ‘সেইটাও বুঝলেন না? নাতাশা ম্যাডামের সাথে আপনার বিয়ে। কাগজপত্র রেডি করতে হবে না? কানাডার ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, আপনার পাসপোর্ট।’
জামান তার বিখ্যাত কাস্টমার সার্ভিস হাসি মুখে লাগিয়ে বলল, ‘শাহেদ সাহেব, আপনার কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল আপনি ডিপোজিট মানি নিয়ে আসবেন, তাই দেরী না করে আমরা পেপার প্রসেসিং অলরেডি শুরু করে দিয়েছি।‘
শাহেদের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে ভেতরে ভেতরে উত্তেজিত হয়ে পড়ল। উত্তেজিত কণ্ঠেই সে বলল, ‘Thank you. Thank you so much.’
জামান বলল, ‘শাহেদ সাহেব, এখন মন দিয়ে কিছু কথা শুনুন। আপনাকে তো আগেই বলেছিলাম পেপার প্রসেসিং-এ কিছু খরচ আছে।’
শাহেদ শীতল দৃষ্টিতে তাকাল জামানের দিকে। হঠাৎ করেই তার সমস্ত উত্তেজনা নিমিষেই উবে গিয়ে অন্ধকার নেমে এল তার চেহারায়।
‘আপনাকে যে আরো কিছু টাকা জোগাড় করতে হবে।’
‘কত টাকা?’
‘ওয়ার্ক পারমিট করতে লাগবে পঞ্চাশ হাজার আর আপনার পাসপোর্ট করতে লাগবে হাজার দশেক। পাসপোর্টটা আগে করা থাকলে অবশ্য এই টাকাটা লাগত না।‘
‘পাসপোর্ট করতে দশ হাজার লাগবে?’
এবার এজাজ ঝুঁকে এসে বলল, ‘জরুরী পাসপোর্ট, দালাল ধইরা করতে হবে। দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে দিয়া যাবে। আমাদের নিজেদের লোক বলতে পারেন। দুইনম্বরী না। আমরা দুইনম্বরী কারবার করি না।’
জামান বলল, ‘অবশ্য আপনি নিজে যদি দু’দিনের মধ্যে পাসপোর্ট করে আনতে পারেন, তাহলেও হবে। আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। পরিচিত কেউ আছে?’
‘আমার? মানে পাসপোর্ট অফিসে? না না আমার কেউ পরিচিত নেই।’
চিন্তিত ভঙ্গিতে জামান বলল, ‘তাহলে তো ঝামেলা হয়ে যাবে।’
‘ঠিক আছে অসুবিধা নেই। পাসপোর্টটা আপনারাই করে দিন। আমি পাসপোর্টের টাকাটা কাল এসে দিয়ে যাব।’
এজাজ সাথে সাথে বলল, ‘তিন কপি ফটো লাগবে ভাইজান। ফটো না থাকলে বলেন, আমাদের পরিচিত স্টুডিও আছে। হাতে হাতে ফটো দিয়ে দিবে।’
‘না না তার আর প্রয়োজন পড়বে না। ফটো আছে।’
শাহেদ উঠে দাঁড়াল। আর কোন কথা না বলে সে দরজার দিকে পা বাড়াল।
‘বেশি সময় নিয়েন না। বাকি টাকার ব্যবস্থাটাও একটু তাড়াতাড়ি কইরেন। ম্যাডামের সময় কিন্তু শেষ হইয়া আসতেছে।’ এজাজ মনে করিয়ে দিল।
শাহেদ ঘুরে দাঁড়াল। এজাজের দিকে কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। টেবিলের সামনে এগিয়ে এসে দৃঢ়তার সাথে হিস হিস করে বলল, ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট দিয়েছি। This deal should be locked. বাকি টাকার ব্যবস্থা করতে কয়েকদিন সময় লাগবে।’ বলেই সে ধীরে ধীরে বের হয়ে গেল ম্যারেজ মিডিয়া অফিস থেকে।
এজাজ আর জামান অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল শাহেদের গমন পথের দিকে।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *