marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-৪)

ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে জামান আর এজাজের সামনে বসে আছে আরো একজন নতুন প্রার্থী। জামান অ্যাপ্লিকেশান ফর্মের ওপর চোখ বুলাচ্ছেন। দেখে মনে হচ্ছে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে সব কিছু ঠিক ঠাক আছে কি না। এজাজ ব্যস্ত ভঙ্গিতে টাকা গুনছে।
আরেকজন নতুন প্রার্থীর কানাডা দেশটি সম্পর্কে জানার খুব আগ্রহ। সে এজাজের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কানাডা দেশটা কেমন ভাই?’
এজাজ টাকা গণনা বন্ধ করে বিরক্ত ভঙ্গিতে তাকাল তার দিকে। সে রুক্ষ কণ্ঠে বলল, ‘কানাডা দেশটা কেমন সেইটা আমি কেমনে বলব? আমি তো আর কানাডার সিটিজেন না। যিনি সিটিজেন তার সাথে যখন কথা হবে, তাকেই জিজ্ঞেস করবেন।’
প্রার্থী চুপ করে গেল। এজাজ পুনরায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল টাকা গণনায়। কিছুক্ষণের নীরবতা। নতুন প্রার্থী ইতস্তত করে আবার বলল, ‘আপনার কি মনে হয়, একবার কানাডায় ঢুকতে পারলে…… ঐখান থিকে আমেরিকায় ঢুকাও সহজ হবে, কি বলেন?’
এজাজ টাকা গণনা বন্ধ করে তাকাল প্রার্থীর দিকে। ভ্রূ কুঁচকে বলল, ‘আগে ক্যানাডায় ঢুকেন, তারপর আমেরিকায় ঢুকার চিন্তা কইরেন। কাঁঠালেরই খবর নাই, আপনে মিয়া তেলের জন্যে ব্যস্ত হইয়া পড়ছেন। আগে ইন্টারভিউ দেন, সিলেকশন পান, তারপর ক্যানাডা না আমেরিকা সে চিন্তা কইরেন।’
এবার জামান অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলল, ‘আপনি একটু ঐখানে গিয়া বসেন। ইন্টারভিউর সময় হলে আপনাকে ডাকা হবে।’
নতুন প্রার্থী বিব্রত ভঙ্গিতে উঠে গিয়ে বসল অন্যান্য অপেক্ষারত প্রার্থীদের সারিতে।

জাহানারা আহমেদ রান্নাঘরে চা বানাচ্ছিলেন।
ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার আগে হন্তদন্ত হয়ে রান্না ঘরে ঢুকল সোমা। সে দ্রুত একগ্লাস পানি খেয়ে তার মায়ের দিকে তাকাল। জাহানারা বললেন, ‘সোমা, তোর বাবাকে এই চা- টা দিয়ে আয় তো।’
সোমা চোখ ঘুরিয়ে বলল, ‘আমি পারব না, মা। আমার ক্লাসের দেরী হয়ে যাচ্ছে। তুমি যাও না?’ সোমা এগিয়ে এসে মায়ের পাশে দাঁড়াল। ‘এক কাজ কর মা। তুমি দু’কাপ চা নিয়ে যাও। বাবাকে এক কাপ দাও, তুমিও এক কাপ তার সাথে বসে খাও। দেখবে তোমারও ভাল লাগবে, বাবাও খুশি হবে।’
জাহানারা কপট রাগ দেখিয়ে বলল, ‘আমার এখন এত কিছুর সময় নেই। রান্না ফেলে আমি এখন তোর বাবার সাথে বসে চা খাই!’
‘আচ্ছা না খেলে নাই। আমি গেলাম।’
‘তুই কিছু খেয়ে গেলি না।’
‘না মা, খাওয়ার সময় নেই।’
‘সেকিরে, তুইও খেলি না, শাহেদও নাস্তা না করেই চলে গেল!’
সোমা কিছু না বলে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল। সোমা বেরিয়ে যেতেই জাহানারা নিজের জন্য আরেক কাপ চা ঢেলে, দু’কাপ চা নিয়ে বের হয়ে হয়ে গেল।
শাহেদ যখন ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে পৌঁছল তখন দুপুর গড়িয়ে গেছে।

জামান এবং এজাজ বসে আছে তাঁদের অফিসে। অফিস মোটামুটি ফাঁকা। নতুন কোন পাত্রকে দেখা যাচ্ছে না। শাহেদ ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই এজাজ বলল, ‘কি ভাইজান খালি হাতে আসলেন, মিষ্টি কোথায়?’
শাহেদ বিব্রত ভঙ্গিতে হাসল।
এজাজ আবার বলল, ‘ম্যাডাম আপনারে পছন্দ করছে। উনি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনাকে বিয়ে করে কানাডা নিয়ে যাবেন।’
শাহেদ অবিশ্বাস্য চোখে তাকাল এজাজ এবং জামানের দিকে। দুজনেই হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে আছে শাহেদের দিকে। শাহেদ ইতস্তত করে বলল, ‘জি, সত্যি বলছেন?’
এজাজ বলল, ‘মিথ্যা বলব ক্যান, মিথ্যা বইলা আমাদের কী লাভ?’
জামান সায় দিয়ে বলল, ‘নাতাশা ম্যাডাম অনেক পাত্র দেখেছেন, কিন্তু আপনাকেই উনার বেশি পছন্দ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত লটারিটা আপনিই জিতেছেন।’
এজাজ বলল, ‘আপনার তো ভাই বিরাট ভাগ্য!’
শাহেদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দেখা দিল। সে আগ্রহ নিয়ে বলল, ‘এখন আমাকে কি করতে হবে?’
এজাজ বলল, ‘কি করতে হবে সেইটা বলার জন্যেই তো আপনাকে আসতে বলছি।’
জামান জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার পাসপোর্ট করা আছে?’
‘না।’
জামান এজাজের দিকে তাকাল। তারপর শাহেদের দিকে ঘুরে বলল, ‘অসুবিধা নাই, পাসপোর্ট আমরা তৈরি করে দেব। আমাদের লোক আছে।’ বলেই তাকাল এজাজের দিকে,
এজাজ সায় দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ আমাদের লোক আছে।’
একটু থেমে জামান বলল, ‘শুনেন শাহেদ সাহেব, আপনাকে তো আগেই বলেছিলাম, কিছু খরচ আছে।
কানাডায় যাবার জন্যে মেডিকেল টেস্ট এবং কনসালটেন্সি ফি জমা দিতে হবে।’
‘কত?’
‘চল্লিশ হাজার। তবে হাজার পঞ্চাশেক সাথে রাইখেন—চা পানি খাওয়ানোর ব্যাপার আছে।’
‘কবে দিতে হবে?’
‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।’ বলেই জামান তাকাল এজাজের দিকে।
এজাজ সাথে সাথে বলল, ‘পারলে আজকেই নিয়ে আসেন। ম্যাডামের ছুটি প্রায় শেষ, উনাকে ফেরত যেতে হবে না? উনাকে তো আর এইখানে বসে থাকলে চলবে না, তাইনা?’
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শাহেদ বলল, ‘আমি কি উনার সাথে একটু দেখা করতে পারি?’
‘অবশ্যই পারেন। আরে আপনার ওয়াইফ আর আপনে. ইয়ে মানে দুইদিন পরে যে আপনের ওয়াইফ হবে তার সাথে দেখা করতে পারবেন না, কি বলেন?’
শাহেদ এজাজের মুখের দিকে তাকাল প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে। এজাজ দ্রুত তাকাল জামানের দিকে।
‘আসলে একটানা অনেকদিন বিভিন্ন ধরনের মানুষজনের সঙ্গে কথা বার্তা বলতে হয়েছে। উনি নিজেও একটু টায়ার্ড, তাই আজ একটু আর্লি বাসায় চলে গেছেন।’ জামান ব্যাখ্যা করল।
এজাজ বলল, ‘আপনে আসার এই কিছুক্ষণ আগেই উনি চলা গেলেন। আপনে তো দেরী করে ফেলছেন। ইশ, আর একটু আগে আসলেই কিন্তু দেখাটা হয়ে যাইত।’
শাহেদ বলল, ‘উনার মোবাইল নাম্বার কিংবা ল্যান্ড ফোন নাম্বারটা যদি…’
জামান বলল শাহেদকে থামিয়ে দিয়ে, ‘কিছু মনে করবেন না, ম্যাডামের ফোন নাম্বার কাউকে দেবার পারমিশন আমাদের নাই। তবে আপনার চিন্তার কারণ নাই, কেননা-’
এজাজ আশ্বস্ত করে বলল, ‘উনি নিজেই আপনাকে ফোন করবেন। সে আপনার ফোন নাম্বার নিয়া গেছেন। আমি নিজেই লেইখা দিছি।’
শাহেদ সন্তুষ্টচিত্তে বলল, ‘ও আচ্ছা, ঠিক আছে তাহলে আমি আসি।’
‘আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে।’
শাহেদ ইতস্তত করে উঠে দাঁড়াল।

শাহেদদের বাসা। রাতে খাবার টেবিলে বসে সবাই খাচ্ছে। চুপচাপ।
শাহেদের মুখ অন্ধকার। সে অন্যমনস্কভাবে প্লেটে হাত নাড়ছে কিন্তু খাচ্ছে না কিছুই। জাহানারা লক্ষ করলেন। তিনি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন, ‘কিরে শরীর খারাপ করেছে না কি? খাচ্ছিস না যে?’
সবাই তাকাল শাহেদের দিকে। শাহেদ দ্রুত মুখে খাবার তুলে মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘কই খাচ্ছি তো।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন শাহেদের দিকে। মুখের খাবার শেষ করে বললেন, ‘তারপর ইয়াংম্যান, এনি নিউজ? অ্যাটলিস্ট শো মি সাম স্পার্ক!’
শাহেদ অনেকক্ষণ থেকেই ভাবছিল টাকার প্রসঙ্গটা তুলবে কিন্তু কিভাবে বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। সে দ্রুত বলে ফেলল, ‘বাবা, আমার কিছু টাকা দরকার। দু’একদিনের মধ্যেই। খুবই জরুরী।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপ্র তাকালেন তার স্ত্রীর দিকে। তিনি উৎসুক দৃষ্টিতে বলল, ‘কত টাকা শুনি?’
‘পঞ্চাশ হাজার।’
রাকিবউদ্দিন সাহেব খাওয়া বন্ধ করলেন। তাকালেন সোমা আর জাহানার দিকে। তারপর শেহেদের দিকে ঘুরে বললেন, ‘তা এত টাকার প্রয়োজন পরল কেন জানতে পারি?’
শাহেদ ইতস্তত করে বলল, ‘সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না।’
জাহানারা ধমকের সুরে বললেন, ‘বলতে চাচ্ছি না মানে কী? এতোগুলো টাকা দিয়ে তুই কি করবি?’
শাহেদ নিরুত্তর। সে খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিল।
রাকিবউদ্দিন সাহেব বললেন, ‘এখন বলতে না চাইলে অসুবিধা নেই। তবে কারণ না জেনে তো টাকার ব্যবস্থা করা যাবে না। আমাকে তো বুঝতে হবে।’
শাহেদ বাবার দিকে না তাকিয়েই বলল, ‘একটা কাজের ধান্ধা করছি।’
সোমা এতক্ষণ কোন কথা বলে নি। সে মুচকি হেসে বলল, ‘তুমি করছ কাজের ধান্ধা? ঘুষ টুসের ব্যাপার না কি, ভাইয়া? তুমি তো ঘুষ দিয়ে চাকরি করবে না বলেই জানতাম।’
‘ভাল একটা সুযোগ পেয়েছি। বলতে পারিস লাইফ টাইম অপরচুনিটি। সবাই পায় না, আমি পেয়েছি। সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাচ্ছি না। এজন্যে অবশ্য সামান্য কিছু টাকা পয়সা খরচ করতে হবে।’
শাহেদের দিকে তিন জোড়া চোখ তাকিয়ে আছে। সবার দৃষ্টি দেখলেই বোঝ যায়, সবার মনে একই প্রশ্ন—ব্যাপারটা কী?
রাকিবউদ্দিন বললেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের মত এখনো অনেক ফ্যামিলি আছে যাদের জন্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা অনেক টাকা, সামান্য নয়। এ তথ্যটা নিশ্চয়ই তোমার অজানা নয়?’
শাহেদের মন খারাপ হল। টাকাটা না পেলে এমন একটা সুযোগ পেয়েও হাত ছাড়া হয়ে যাবে। এটা সে মেনে নিতে পারছে না। সে চুপ করে বসে রইল।
‘কোন লেজিটিমেট রিজন যদি দেখাতে পার, তাহলে আমি ভেবে দেখব।’
শাহেদের চেহারায় আনন্দের ঝিলিক দেখা দিল। সে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে একবার তাকাল তার বাবার দিকে। তারপর সোমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল।
সোমা আগ্রহ নিয়ে বলল, ‘তোমার লাইফ টাইম অপরচুনিটিটা কী বল না ভাইয়া।’
‘বলব বলব, কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর। সবই জানতে পারবি।’
সে দ্রুত খাওয়া শেষ করে চলে গেল তার রুমে।

শাহেদ নিবিষ্ট মনে তার ল্যাপটপ খুলে গুগল সার্চ দিয়ে কানাডার প্রসিদ্ধ স্থান এবং স্থাপনাগুলো দেখছে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত এবং টরেন্টো শহরের বিখ্যাত সিএন টাওয়ারের ছবি এবং ভিডিও খুঁজে খুঁজে সে মুগ্ধ নয়নে অবলোকন করছে।
পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে, যা দেখে আমাদের মনে বিস্ময় জাগে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত এদের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত এটি। আমেরিকার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের দু’দিকজুড়ে বিস্তৃত। এই অপরূপ জলপ্রপাতের জলধারা নায়াগ্রা নদীতে গড়িয়ে পড়ে অবিরত। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। এর নাম ‘আমেরিকান ফলস’, অন্য নাম ব্রাইডল ভেইল ফলস। বাকি দুভাগ কানাডায়। এর নাম ‘কানাডিয়ান ফলস’। এটার আকার অনেকটা ঘোড়ার খুরের মতো বাঁকা। তাই একে ‘হর্সসু ফলস’ও বলা হয়। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা ১৬৭ ফুট। জলপ্রপাত থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৬৪ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পানি নদীতে আছড়ে পড়ে। উত্তর আমেরিকায় এটি সবচেয়ে জোরালো জলপ্রপাত। শুধু সৌন্দর্যে নয়, এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও এক বিরাট উৎস।
শাহেদ খুব মনোযোগ সহকারে প্রতিটি তথ্য বের করে পড়ছে। ভিডিও দেখছে। কল্পনায় সে নিজেকে আবিষ্কার করছে কখনো নায়াগ্রার তলদেশে আবার কখনো অবজারভেশন ডেকের উপর—যেখান থেকে
আমেরিকান ও কানাডিয়ান উভয় জলপ্রপাতের মনোহর দৃশ্য অবলোকন করা যায়। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের শ্বাসরুদ্ধকর নৈসর্গিক সৌন্দর্য দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়ল শাহেদ।
শাহেদের নিশ্ছিদ্র ধ্যানের বিঘ্ন ঘটিয়ে তার মোবাইল ফোন বেজে উঠল। কিঞ্চিত মেজাজ খারাপ করে শাহেদ ফোনের দিকে তাকাল। ফোন সামনে এনে দেখল অপরিচিত নাম্বার। তবুও সে বলল, ‘হ্যালো।’
‘হাই।’ অপরপ্রান্ত থেকে রিনরিনে কণ্ঠ ভেসে এল।
শাহেদ আবার ফোনের নাম্বার দেখে বলল, ‘হ্যালো, কে?’
‘আমি!’
‘আমি কে?’
‘আমি নাতাশা!’
শাহেদ যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না। সে বলল, ‘না-নাতাশা! আই মিন আপনি! আমি স্বপ্ন দেখছি না তো? আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না।’ বলতে বলতে শাহেদ উত্তেজনায় উঠে দাঁড়াল।
নাতাশা হেসে দিল খিলখিল করে। দুষ্টুমির হাসি। হাসতে হাসতেই বলল, ‘না হবারই কথা। সামনা সামনি হলে অন্তত চিমটি কেটে দেখতে পারতেন। ফোনে তো আর সেটা সম্ভব নয়।’
‘তা অবশ্য ঠিক। তা সামনা সামনি আবার কবে দেখা হবে?’
‘দেখতে ইচ্ছে করছে বুঝি?’ নাতাশার কণ্ঠে দুষ্টুমির হাসি।
‘হুমম।’
‘হবে, খুব শীঘ্রই। আগে ফরমালিটিজ গুলো সেরে ফেলুন।’
‘ফরমালিটিজ? ও হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি।’
‘আমি আসলে আপনাকে সরি বলার জন্যে ফোন করেছি।’
‘কেন, সরি কেন?’
‘এই যে আপনি আসবেন জেনেও দেরী না করে বাসায় চলে এসেছি, সে জন্যে। আসলে আমার শরীরটা ভাল লাগছিল না। Hope you didn’t mind.’
নাতাশার সৌজন্যবোধে শাহেদ অত্যন্ত খুশি হল। সে সাথে সাথেই বলল, ‘না- না, আমি কিছু মনে করি নি।’
‘That’s like a real gentleman. এনিওয়ে, আমি এখন রাখছি।’
শাহেদ দ্রুততার সাথে বলল, ‘প্লিজ রাখবেন না, শুনুন।’
‘বলুন।’
শাহেদ সলজ্জ কণ্ঠে বলল, ‘আপনি খুব সুন্দর।’
নাতাশা বালিকার মত হেসে উঠল। সে হাসিতে যেন সমুদ্রের ফেনিল উচ্ছ্বাস! ‘তাই নাকি? ধন্যবাদ।’
শাহেদ আরো কিছু শোনার জন্য অধীরভাবে অপেক্ষা করে রইল কিন্তু নাতাশা চুপ।
‘হ্যালো! শুনছেন? হ্যালো?’ মুহূর্তেই অস্থির হয়ে পড়ল শাহেদ।
‘উঁহু, এখন থেকে আর শুনছেন নয়—শুনছো। শুনুন নয়—শোন। আপনি নয়—তুমি। Ok Mr. Nervous? Now good night and have a sweet dream!’
‘Hello, don’t hang up! শুনুন, শোন!’
অপরপ্রান্ত থেকে কোন সারা এল না। হঠাৎ নীরবতা। শাহেদ ফোন নামিয়ে চোখে সামনে ধরে রইল কিছুক্ষণ। মনে হচ্ছে যেন সে নাতাশাকে দেখতে পাচ্ছে। সে গভীর কণ্ঠে বলল, ‘Good night.’

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *