Abinashi-Shabdo-Rashi

অবিনাশী শব্দরাশি (পর্ব-৫)

পরেরদিন বিকেলে মুনা এলো নীলিমার সঙ্গে দেখা করতে। দরজা খুলে দিতেই মুনা ভিতরে ঢুকল এবং সাথে সাথেই বলল, ‘কিরে এরই মধ্যে দেখি সিএনএন-এর হেডলাইনে চলে এসেছিস। তলে তলে এতদূর?’
‘দ্যাখ মুনা, সবসময় ভণিতা করবি না। ব্যাপারটা কী সেটা বল?’ ভ্রূ কুঁচকে নীলিমা বলল।
‘খবরের জন্ম দিয়েছিস আর নিজেই জানিস না?’
‘আহা, বাবা বল না, ব্যাপারটা কী?’
‘তোকে নাকি কবি সাহেবের হোটেল রুম থেকে বের হতে দেখেছে কেউ কেউ এবং খুবই আপত্তিকর অবস্থায়?’
‘কেউ কেউ এবং খুবই আপত্তিকর অবস্থায়!’ হতবাক হয়ে নীলিমা নিজেকেই বলল। তারপর মুনার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হুম, ইন্টারেস্টিং। এ তো দেখছি তিলকে তাল নয়, রীতিমত কুমড়ো বানিয়ে ফেলেছে।’
‘শোভন ভাইয়ের কানে কথাটা গেলে উনিতো যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলবেন। এখন কী করবি?’
‘আমি শোভনকে নিয়ে ভাবছি না। ভাবছি যাকে জড়িয়ে কথাটা রটানো হলো, উনি কী ভাববেন?’
নীলিমা জানালার কাছে গিয়ে বাইরে তাকাল। দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ চুপ করে। এই মুহূর্তে তার মনের ভিতরে একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সে মেলাতে পারছে না—এভাবেও কথা ছড়াতে পারে। তার প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হলো এই কমিউনিটির মানুষজনের উপরে। সেই সাথে অভিমানও হলো। মুনার দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘কথাটা যেহেতু এভাবে রটেছে, তাহলে ব্যাপারটাকে জাস্টিফায়েড করা উচিৎ কি বলিস?’
নীলিমার কথা মুনা কিছুই বুঝতে পারল না। সে প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে তাকিয়ে থাকল নীলিমার মুখের দিকে।
মুনার প্রশ্নবোধক চোখের দিকে তাকিয়ে নীলিমা বলল, ‘ভাবছি সত্যি সত্যি আপত্তিকর কিছু একটা করলে কেমন হয়।’
‘আর ইউ আউট অফ ইয়োর মাইন্ড?’ মুনা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাল। সে বুঝতে পারছে না নীলিমা কী বলছে এসব?
‘চোখ কান খোলা রাখ। দেখ, সিএনএন হেডলাইনে আর কি কি নিউজ আসে। তুই আর কিছু বলবি?’
‘আমার কথায় রাগ করিস না। I’m your best friend, Neeli. I do care for you.’
‘I know dear. Don’t worry, I’ll handle it.’ নীলিমা হঠাৎ করেই খুব ইমোশনাল হয়ে পড়ল। সে আর কোনো কথা বলতে পারল না। উদাস নয়নে তাকিয়ে থাকল বাইরে।
মুনার খুব খারাপ লাগতে লাগল। সে চায়নি বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে কিন্তু নীলিমাকে সাবধান করার জন্যেই সে এসেছিল। নীলিমা ওর একমাত্র ভালো বন্ধু এখানে। তাকে নিয়ে মানুষ কথা বলে বেড়াবে তা কি করে হয়। নীলিমাকে ওর চেয়ে ভালো আর কেউ চিনে বলে মনে হয় না। এমনকি শোভনও নয়। মুনা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নীলিমার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়াল। তারপর কোনো কিছু আর না বলে প্রায় নিঃশব্দেই চলে গেল সে। পেছন থেকে দরজা বন্ধ হবার শব্দ পেয়ে ঘুরে তাকাল নীলিমা। ততক্ষণে মুনা চলে গেছে।

অফিসে ভীষণ ব্যস্ততায় কাটছে শোভনের সময়। লাঞ্চের পরেই তার বস ক্যাথলিনের সঙ্গে মিটিং ছিল। প্রায় একঘণ্টার মিটিং শেষ করে তার ডেস্কে ফিরে এলো সে। এবং এসেই তার মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল ৫টা মিসকল। কেউ একজন তাকে ৫বার ফোন করেছে!
ফোনটা হাতে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই শোভনের অফিস ফোন বেজে উঠল। সে ফোন তুলে কলার আইডি দেখে বলল, ‘Hi sweetie!’
অপর প্রান্ত থেকে রিনরিনে কণ্ঠে কেউ একজন বলল, ‘Aren’t you supposed to see me today?’
‘I’ve been really busy today, but I’ll be coming in an hour, ok haan?’
‘One hour?’
‘Ok, 30 minutes, how’bout that?’
‘Ok!’
শোভন ফোন কেটে দিয়ে কিছু একটা ভাবল এবং সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করল নীলিমাকে।
নীলিমা তখনও দাঁড়িয়ে ছিল জানালার পাশে। তার মনটা ভারী হয়ে আছে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফোনটা ধরল সে।
ওপাশ থেকে শোভন বলল, ‘এই শোনো, আমার ফিরতে একটু দেরী হবে। অফিসের কাজে ভীষণ ব্যস্ত আজকে। কাজের শেষে আবার যেতে হবে এক ক্লায়েন্টের সাথে দেখা করতে। বেশি রাত হলে তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমার জন্যে বসে থেকো না।’
নীলিমা চুপ করে শুনল। শোভন আবার বলল, ‘কী যে করো না, বাংলাদেশের মায়েদের মতো না খেয়ে বসে থাকা। এসব কী বাজে অভ্যাস। এটা আমেরিকা—এখানে কেউ কারো জন্যে না খেয়ে বসে থাকে না। তোমার যখন খিদে পাবে খেয়ে নিবে। ব্যাস।’
নীলিমা কিছুই বলল না। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে চুপ করে রইল।
শোভন বলল হ্যালো। কোনো সাড়া না পেয়ে ফোন রেখে দিলো সে।
নীলিমা অনেকক্ষণ ফোন হাতে দাঁড়িয়ে রইল। সে জানে শোভন দেরী করে ফেরার যে অজুহাত দিলো সেটা মিথ্যা। শোভনের যে কাজ সেখানে অফিসের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ক্লায়েন্টের সঙ্গে দেখা করতে হয় না। ইদানীং সে প্রায় এই অজুহাতটি দেয়। নীলিমার স্বভাবের বাইরে বলেই সে এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলে না।
হঠাৎ করেই নীলিমা খুব অসহায় বোধ করতে লাগল। তার মায়ের কথা মনে পড়ল। ইচ্ছে হচ্ছে তার মা-কে জড়িয়ে ধরে বলে, এই দেখো মা আমি কেমন আছি—কত সুখে আছি? বলেছিলে না, তুই অনেক সুখে থাকবি? স্বপ্নের আমেরিকায় আমি কেমন সুখে আছি একবার দেখে যাও মা। ভাবতে ভাবতেই নীলিমার চোখ ভিজে উঠল।
দীর্ঘ সময় পাড় হলো। কিন্তু মনের অস্থিরতাটা কিছুতেই কাটছে না নীলিমার। এই মুহূর্তে তার খুব ইচ্ছে হচ্ছে তার প্রিয় কবির সংগে কিছুক্ষণ কথা বলতে। তার সাথে কথা বললে কি অস্থিরতাটা একটু কমবে? নীলিমা তার হাতের ফোনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। কী ভেবে ফোন করল হোটেল গার্ডেন ইনে।
ফ্রন্ট ডেস্কের রিসেপশনিস্ট ফোন ধরতেই নীলিমা বলল, ‘Can I get transferred to room 724 please?’
‘Just a moment please.’ বলেই রিসেপশনিস্ট লাইন বদলি করে দিল ৭২৪ নাম্বার রুমে।
কয়েকবার রিং বাঁজার পর মাহমুদ সাহেব ফোন ধরলেন।
‘আপনার কি অনেক ব্যস্ততা আজকে? কোথাও যাচ্ছেন?’ অপরপ্রান্তে মাহমুদ সাহেব ফোন ধরা মাত্রই অস্থির হয়ে জানতে চাইল নীলিমা।
‘কেন বলতো?’
‘আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিল।’
‘দেখা করতে চাও?’
‘হ্যাঁ।’
‘তাহলে চলে এসো। আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করছি।’
‘আমি না আসা পর্যন্ত আপনি কোত্থাও যাবেন না।’
মাহমুদ সাজ্জাদ হেসে ফেললেন। মেয়েটি এমন ভাবে অধিকার নিয়ে কথা বলে যে মায়াই লাগে। তিনি বললেন, ‘তুমি না আসা পর্যন্ত আমি কোত্থাও যাবো না।’
ফোন রেখে দিয়ে নীলিমা বাথরুমের বেসিনে ঠাণ্ডা পানির ট্যাপ ছেড়ে দিল। বেশ কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিল মুখে। তারপর ঝটপট তৈরী হয়ে বের হয়ে গেল বাসা থেকে।
গাড়ি চালাতে চালাতে নীলিমা ঠিক করল আতিক ভাইর সঙ্গে দেখা করে যাবে। সে আজ একবার ফোন করেছিলেন, বলল জরুরী কথা আছে সময় করে কলব্যাক করতে। তাকে কলব্যাক করা হয়নি। যেতে পথেই তার কনভিনিয়েন্ট স্টোরটা পড়বে। বরং সামনাসামনিই শোনা যাক কী কথা। দশ মিনিটের মাথায় নীলিমা পৌঁছে গেল আতিকুর রহমানের গ্যাস স্টেশন কাম কনভিনিয়েন্ট স্টোরের সামনে। গাড়ি পার্ক করে ভিতরে ঢুকতেই নীলিমা দেখল আতিক সাহেব কথা বলছেন একজন কাস্টমারের সঙ্গে। কথা শেষ হতেই নীলিমা এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘আতিক ভাই, স্লামালাইকুম।’
মাথা না তুলেই তিনি সালামের উত্তর দিলেন, ‘ওয়ালাইকুমস্লাম।’ তারপর তাকিয়ে দেখলেন নীলিমা দাঁড়িয়ে সামনে। তিনি হেসে দিয়ে বললেন, ‘আরে নীলিমা, এসো।’
‘কি ব্যাপার জরুরী তলব?’
‘বলছি। জাস্ট এ মিনিট। চলো, অফিস রুমে বসে কথা বলি। কফি খাবে?’
‘আজকে না। আরেকদিন খাবো। আজ একটু তাড়া আছে।’
‘ঠিক আছে। এসো।’
আতিকুর রহমান তার অফিস রুমে গিয়ে ঢুকলেন। নীলিমা হেঁটে এলো পিছনে। আতিক সাহেব বললেন, ‘বসো।’
নীলিমা বসতেই তিনি বললেন, ‘তারপর বলো, কেমন আছো?’
নীলিমা কোনো উত্তর দিল না। বসে রইল চুপ করে। আতিকুর রহমান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে নীরবতা ভাঙলেন। তিনি বললেন, ‘এসব কী শুনছি নীলিমা?’
নীলিমা মাথা তুলে তাকাল আতিকুর রহমানের দিকে। তারপর অসহিষ্ণু ভাবে বলল, ‘তাহলে এ জন্যেই ডেকেছেন? আমি বুঝতে পারছিনা হোয়াই দিস হ্যাজ বিকাম সাচ অ্যা বিগ ডিল? আচ্ছা আতিক ভাই, আপনি তো মাঝে মাঝে আমার বাসায় যান আমার খোঁজখবর নেবার জন্যে। শোভন হয়তো বাসায়ও থাকে না অনেক সময়—তারমানে কি আপনার সাথে আমার সম্পর্ক? কেউ কারো সাথে দেখা করলে, খোঁজখবর নিলেই কি কিছু হয়ে যায়? ব্যাপারটা কি এতই সহজ?’
আতিকুর রহমান থতমত খেয়ে তাকিয়ে রইলেন নীলিমার মুখের দিকে। তিনি বুঝতে পারেন নি নীলিমা এভাবে রিয়্যাক্ট করবে। তার চোখে-মুখে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। নীলিমা আবারো বলল, ‘আমি ভাবতে পারছিনা মানুষের মন এতো নোংরা হয় কী করে? আবার এরাই কিনা করছে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা। সুস্থ সংস্কৃতি—হাহ! পরচর্চা করে যাদের এত আনন্দ, তারা কাব্য জলসা না করে পরনিন্দা জলসা করলেই তো পারে। দর্শকের অভাব হবে না, হল ভরে যাবে দর্শকে।’
‘এত উত্তেজিত হলে তো চলবে না। মাথা ঠাণ্ডা করে আমাকে ব্যাপারটা খুলে বলো।’
দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকল নীলিমা। তারপর ধীরে ধীরে সব ঘটনা খুলে বলল।

শোভন অনেকক্ষণ থেকে বসে বসে ভাবছে কী করে কাজ থেকে কয়েক ঘণ্টা আগে বের হওয়া যায়। ইতোমধ্যেই সে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন রকমের কারণ দেখিয়ে কাজ থেকে ছুটি নিয়েছে। আজকে কী বলবে সে ভেবে পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ চিন্তা করে সে গেল তার ম্যানেজারের রুমে।
ক্যাথলিন ফোনে কথা বলছিল। হাত ইশারায় শোভনকে বসতে বলল। কথা শেষ করে ক্যাথি শোভনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘What’s up?’
‘My wife is sick. She’s not feeling good. I’m taking rest of the day off.’ চেহারার মধ্যে যথাসম্ভব করুণ একটা ভাব ফুটিয়ে কথাগুলো বলল শোভন।
শোভনের এভাবে প্রায়ই হুট-হাট করে চলে যাওয়াটা ক্যাথির পছন্দ না। তাছাড়া ওর কাজের গতিও আগের মতো নেই। কেন যেন সময় মতো কোনো এসাইনমেন্ট শেষ করতে পারছে না। ক্যাথি এর আগে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, সমস্যাটা কী? কিন্তু শোভন কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেনি। শুধু বলেছে এরপর থেকে অফিসের কাজে আরো মনোযোগী হবে সে। কিন্তু তেমন অগ্রগতি ক্যাথির চোখে পড়ছে না। ক্যাথি কিছুটা বিরক্তি নিয়েই বলল, ‘Don’t you already owe me a bunch of hours?
‘Yes, I know. Don’t worry Kathy, I’ll make my time up.’
স্ত্রীর অসুস্থতার অজুহাতে কোনো স্বামী মিথ্যে বলবে, কোনো বসই হয়তো সেটা ভাববে না। শোভন সে সুযোগটাই নিল। ক্যাথি বলল, ‘Ok, go home. Make sure you take good care of her.’
‘Of course, I will.’ শোভন বের হয়ে এলো ক্যাথির রুম থেকে। রুমের বাইরে এসে বড় করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর দ্রুত অফিস থেকে বের হয়ে গেল।

সেদিন হোটেলের লবিতে নীলিমা এবং কবি মাহমুদ সাজ্জাদের সঙ্গে জামানের দেখা হয়েছিল সে বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলল নীলিমা আতিকুর রহমানকে। সব কথা শুনে তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, ব্যাপারটা আমি দেখছি। তুমি এ নিয়ে একটুও ভাববে না।’
নীলিমার শঙ্কা তবু কাটল না। সে বলল, ‘শোভন ব্যাপারটা জানলে কী যে করবে… জানেনই তো ওর মেজাজ কেমন?’
‘আমি ভেবে অবাক হই, শোভনকে এখনো তুমি যেভাবে কেয়ার করো, প্রিভিলেজ দাও, অথচ সে যদি একবারও তোমার কথা ভাবতো। একটা ট্যালেন্টেড মেয়ে কীভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।’ আতিকুর রহমান আফসোস করে বললেন।
নীলিমা কিছু বলল না। আতিক সাহেব আবার বললেন, ‘একটা কথা তোমাকে বলা দরকার। জানিনা কথাটা তুমি কীভাবে নেবে।’
‘আতিক ভাই, আমি জানি আপনি কী বলতে চান—তবুও শুনি, বলুন।’
একটু ইতস্তত করে আতিকুর রহমান বললেন, ‘একটা কিউবান মেয়ে কি যেন নাম, মার্সা। হ্যাঁ ঐ মেয়েটির সঙ্গে শোভনের সম্পর্কের ব্যাপারটা কমিউনিটির অনেকেই বলাবলি করে, শুনতে খারাপ লাগে। ওদের দুজনকে নাকি একসাথে ঘুরতেও দেখেছে অনেকে। কিছু মনে করো না, তোমাকে পছন্দ করি বলেই বলছি। তুমি ওকে একটু বোঝাও।’
‘সে চেষ্টা কি আর করিনি। But, he does not find me attractive anymore! আমার প্রয়োজন হয়ত ফুরিয়ে গেছে ওর কাছে। অবশ্য প্রয়োজন ছিলই বা কবে? আমিতো গেঁয়ো। গায়ে দেশের গন্ধ। এতদিনেও আমেরিকান হতে পারিনি। আসলে সাদা চামড়ার মোহে ও এখন আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অন্ধ হয়ে গেছে।’
আতিকুর রহমান আর কিছু বললেন না। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে তারও ভালো লাগছে না। সে অস্বস্তি নিয়ে অন্য দিকে তাকালেন।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নীলিমা বলল, ‘আমি এখন আসি আতিক ভাই।’
আতিকুর রহমান ঘুরে তাকাল।
নীলিমা উঠে দাঁড়াল এবং আতিকুর রহমান কিছু বলার আগেই দ্রুত বের হয়ে গেল তার ষ্টোর থেকে।

শোভন অফিস থেকে বের হয়েই সোজা চলে গেল মার্সার এপার্টমেন্টে। মায়ামি ডাউনটাউনের ওর অফিস থেকে মাত্র বিশ মিনিট দূরেই একটা স্টুডিও এপার্টমেন্টে একা থাকে মার্সা। মার্সার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মায়ামি শহরেই। ওর বাবা-মা কিউবান অভিবাসী—মায়ামিতে এসেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে।
২২ বছর বয়সী মার্সা কলেজ ড্রপ আউট। নিজের পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের মতো থাকছে। কাজ করে মায়ামি বিচ সংলগ্ন একটা রেস্টুরেন্টে ওয়েট্রেস হিসেবে। সাত-আট মাস আগে মার্সার সঙ্গে পরিচয় ঘটে শোভনের। একদিন দুপুরে অফিস কলিগদের সঙ্গে লাঞ্চ খেতে এসে দেখা হয় মার্সার সঙ্গে। রেস্টুরেন্ট ওয়েট্রেস মার্সা শোভনদের টেবিলে অর্ডার সার্ভ করতে এসে পানির গ্লাস ফেলে দেয়। মুহূর্তেই মার্সার চেহারা বদলে যায়। সে তাৎক্ষণিক ক্ষমা প্রার্থনা করে। লজ্জা আর ক্ষমার মিশ্রণের এক চিলতে হাসি দিয়ে মার্সা দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেয়। এরপর থেকে শোভন প্রায়ই এই রেস্টুরেন্টে খেতে আসত মার্সার সঙ্গে যাতে দেখা হয়। বিষয়টি মার্সার দৃষ্টি এড়ায় না। ঐ সময়ে মার্শার বয়-ফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেক-আপ সেইসাথে চলছিল টাকা-পয়সার টানাটানি। চতুর শোভন বুঝতে পেরে সেই সুযোগটাই কাজে লাগায়। নিজেকে সিঙ্গেল হিসেবে পরিচয় দিয়ে মার্শার সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। সেই সম্পর্ক ধাপে ধাপে এমন এক পর্যায়ে চলে এসেছে সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়া সহজ সাধ্য নয়।
শোভনের কাছে মার্শার এপার্টমেন্টের সিকিউরিটি কোড আছে। সে কোড টিপে ঢুকে পড়ল মেইন গেট দিয়ে। এলিভেটর দিয়ে উপরে উঠে হলওয়ে দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে চলে এলো মার্শার রুমের সামনে। দরজায় টোকা দিতেই হাসি হাসি মুখ করে দরজা খুলে দিল মার্শা।
শোভন ভিতরে ঢুকেই মার্শাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘Marsha, my sweet heart!’ বলেই তার ঠোঁটে গভীর চুম্বন দিলো।
মার্শা শোভনকে ছাড়িয়ে নিয়ে কপট রাগ করে বলল, ‘What made you so late, I’ve been waiting for… since who knows how long, since morning.’
‘I know honey. Been busy at work, you know?’
‘You must be thirsty; can I get you something to drink? How bout a cold beer or gin and tonic?’
‘I’m thirsty and hungry. Bring me a super cold beer and a super hot Marsha. I’m heading to bedroom.’ চোখ টিপে কিছু একটা ইঙ্গিত দিয়ে শোভন বেডরুমে দিকে হেঁটে গেল।
মার্শা হেসে দিয়ে চলে গেল কিচেনে। ফ্রিজ থেকে একটা বরফ শীতল বিয়ারের ক্যান নিয়ে ঢুকল বেডরুমে।

শেষ পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *