Meyeti-Ekhon-Kothay-Jabe

মেয়েটি এখন কোথায় যাবে (পর্ব-৮)

‘হ্যালো, এটা ফরিদ ভাইর বাসা না?’
ওপাশ থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এলো। কিন্তু কণ্ঠটি সোমার পরিচিত নয়। সে বলল, ‘জি।’
‘আপনি কে?’
‘আমি সোমা।’
‘সোমা… ও বুচ্ছি বুচ্ছি বুচ্ছি। ভালো আছেন আপনি?’
‘হ্যাঁ ভালো।’
‘ফরিদ ভাই বাসায় নাই?’
‘জি জি আছেন। আপনি একটু ধরুন।’ সোমা ফরিদকে ফোনটা এগিয়ে দিল।
ফরিদ ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে ইকবাল বলল, ‘সবগুলি হসপিটালের ইমারজেন্সিতে খোঁজ নিসি বস, শহীদুল ইসলাম নামে কোনো পেসেন্টের ইনফরমেশন নাই। আর কই যামু বস?’
‘দেখো ইকবাল, তুমি কোথায় যাবা তোমার ব্যাপার। আমি চাই, তুমি রাতের মধ্যেই শহীদের খোঁজ বের করবা—কোথায় যাবা, কার কাছে যাবা আমি কিছু জানিনা। আল্লাহর ওয়াস্তে যেভাবেই হোক তুমি ছেলেটার একটা ট্রেস বের করবা।’
‘আচ্ছা বস—আপনি টেনশন নিয়েন না। আমি দেখতেছি।’
ফরিদ ফোন কেটে দিয়ে বলল, ‘ধুর।’
সোমা মুখ অন্ধকার করে বসে আছে। মুহূর্তের মধ্যেই মেয়েটির হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি কেমন মলিন হয়ে গেছে। ফরিদ সোমার কাছে গিয়ে বসল। একটু সময় নিয়ে বলল, ‘সোমা, সব মানুষের জীবনেই একটা গল্প থাকে—আমারো আছে। শুনবে?’
সোমা বলল, ‘শোনান।’
‘তখন তোমাকে আমি মিথ্যে বলেছি।’
সোমা ভ্রূ কুঁচকে তাকাল ফরিদের দিকে?
‘আমার একটা বিয়ে হয়েছিল—দেশে। তখন আমি বেকার। সদ্য পাশ করে বেরিয়েছি। মেয়েটিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। আমার পরিচিত ছিল। মেয়েটি সুশ্রী এবং শিক্ষিত। খুব ভালোবাসতাম—খুব। কিন্তু আমাদের বেশিদিন একসাথে থাকা হয়নি।’
‘কেন?’
‘ভাগ্য বদলানোর জন্যে আমি আমেরিকায় চলে আসি—একা।’
সোমা তাকিয়ে আছে ফরিদের মুখের দিকে।
একটু গুছিয়ে নিয়ে ফরিদ বলল, ‘এদেশে আসার অনেকদিন পর—যেহেতু আমার কাগজপত্র তৈরী হচ্ছিল না, আমিও দেশে যেতে পারছিলাম না—তার সঙ্গে দেখাও হচ্ছিল না। তার ভিসাও হচ্ছিল না। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল টেলিফোন। আমরা টেলিফোনে অনেক কথা বলতাম। তখন তো এমন ফোন কার্ড ছিল না। যা টাকা বানাতাম তার সবটাই খরচ হয়ে যেত ফোনের বিল দিতেই।’ এটুকু বলে ফরিদ থামল।
সোমা জিজ্ঞেস করল, ‘তারপর?’
‘তারপর? তারপর যখন আর কোনো উপায়ই বের করতে পারলাম না তখন একটা শেষ চেষ্টা করলাম। ঢাকায় আমার খুব কাছের এক বন্ধু ছিল। খুবই পাওয়ারফুল। বড় লোকের ছেলে—অনেক টাকা পয়সা। তাকে বললাম—দোস্ত, আমার বৌটাকে তোর বৌ সাজিয়ে এদেশে নিয়ে আয় এবং আমার বৌ আমার কাছে দিয়ে যা।’
‘কি বলেন? তাও কি সম্ভব নাকি?’
‘কি করব—আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ওকে ছাড়া সারাটা জীবন কাঁটিয়ে দিব নাকি—সেটা কি সম্ভব?’
‘তারপর?’
‘অনেক অনুরোধের পরে আমার বন্ধু রাজি হলো। সত্যি সত্যি ওরা স্বামী-স্ত্রী সেজে ভিসার জন্যে দাঁড়াল এবং ভিসা পেয়েও গেল।’
‘ওয়াও। তারপর?’
‘তারপর ওরা দু’জন একসময় এক সঙ্গে এদেশে চলেও এলো। কিন্তু—’
‘কিন্তু?’
‘আমার বৌ আর আমার কাছে ফিরে এলো না। সে আমার বন্ধুর সঙ্গে চলে গেল অন্য একটা স্টেটে এবং সেখানেই সেটেলড হলো। শুনেছি তারা খুবই ভালো আছে।’
‘কি বলেন?’
‘সত্যি বলছি। সুতরাং, অতীতের দিকে তাকিয়ে তুমি যদি সামনের দিকে চলতে চাও—তাহলে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে। সামনে তাকাও—সামনে। জীবনটা অনেক সুন্দর হবে।’
সোমা অবাক হয়ে ভাবছে তার সামনে বসে থাকা মানুষটার কথা। মানুষের জীবনে আসলেই কত ঘটনা ঘটে। একজনকে কাছে থেকে না দেখলে, তার সম্পর্কে না জানলে—কিছু জানা হয় না। দূর থেকে বোঝাও যায় না। ইশ, মানুষের জীবনটা এমন কেন?
সোমা বলল, ‘আপনি আবার বিয়ে করেন নি কেন?’
‘ঐ যে বললাম, কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করেনি তাই।’
‘আপনার কাউকে ভালো লাগেনি?’
ফরিদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর যখন কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল। ফরিদ বলল, ‘এটা নিশ্চয়ই বাদশা। আমি ধরছি।’
ফরিদ ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে চিৎকার দিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে কথা বলল একজন মেয়ে—স্লামালিকুম।
ফরিদ বলল, ‘জি, ওয়ালাইকুম সালাম।’
‘আমি সোমার বোন বলছি।’ বলেই সে কান্না শুরু করল।
ফরিদ চুপ করে রইল। রুমা বলল, ‘বুঝতেই তো পারছেন আমাদের মনের অবস্থা। মেয়েটা একা এই প্রথম আমেরিকা গেছে। আপনি আমাদের বড় ভাইয়ের মত। প্লীজ আপনি ওকে একটু হেল্প করেন।’
‘আচ্ছা শুনুন, আপনাকে একটা কথা বলি। আমার নাম ফরিদ আহমেদ। আমি এই শিকাগো শহরে অনেক বছর ধরে আছি। আপনার ছোট বোন সোমা—সে এই মুহূর্তে আমার কাছে আছে এবং সে খুব ভালো আছে। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আর আমার ব্যাপারে যদি কোনো সন্দেহ থাকে—আপনি যদি চান, আমার নাম, ঠিকানা, ড্রাইভার্স লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার—সবকিছু আপনাকে দিতে পারি।’
‘না না তার কোনো কিছুরই দরকার হবে না। আপনি আমাদের বড় ভাইয়ের মত—আপনি শুধু ওকে একটু দেখে রেখেন।’
‘অবশ্যই দেখে রাখব। আপনি এত উতলা হবেন না। এমনিতেই সোমা খাচ্ছে না—সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। এর মধ্যে আপনি এভাবে কাঁদলে ওতো ভেঙে পড়বে।’
কাঁদতে কাঁদতেই রুমা বলল, ‘আচ্ছা আচ্ছা কাঁদব না।’
‘ইটস আ ম্যাটার অফ টাইম। আমি কথা দিচ্ছি যে করেই হোক কাল সকালের মধ্যে শহীদুল ইসলামকে খুঁজে বের করব আমরা। আপনি কোন টেনশন করবেন না।’ এবার ফরিদ কণ্ঠস্বর নিচু করে বলল, ‘আপনি এক কাজ করুন—সোমার সঙ্গে একটু কথা বলুন। ওকে একটু বোঝান—সান্ত্বনা দিন। মেয়েটা সারাক্ষণ কাঁদছে। আর শুনুন, আপনি আবার কাঁদবেন না যেন, তাহলে ও আরো নার্ভাস হয়ে যাবে। আমি সোমাকে দিচ্ছি… নিন কথা বলুন।’ বলেই সে ফোনটা দিল সোমাকে।
সোমা ফোন হাতে নিয়েই কেঁদে ফেলল। ‘হ্যালো আপা, তোরা আমাকে কোথায় পাঠালি?’ এই একটি কথা বলেই তার কান্নার বেগ বেড়ে গেল—অঝোরে কাঁদতে থাকল। আর কোনো কথাই বলতে পারল না।
রুমা বলল, ‘সোমা, তুই কিছু চিন্তা করিস না। ফরিদ ভাই বলেছেন, সে যে করেই হোক শহীদকে খুঁজে বের করে দিবে… তুই কাঁদিস না বোন। একটু ধৈর্য্য ধর—সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এরপর চলল দু’বোনের কিছুক্ষণ নীরব কান্না—তারপর এক সময় ফোন রেখে দিল সোমা।
ফরিদ হাত ঘড়ি দেখে বলল, ‘এখন রাত বাজে প্রায় দশটা। শীতের দিনে এটা অনেক রাত। দেখো, তুমি প্লেন থেকে নামার পর এখন পর্যন্ত কিছুই খাওনি। প্লেনে কি খেয়েছো আমি জানি না। তোমাকে লাঞ্চ করাতে নিয়ে গেলাম, তুমি কিছুই খেলে না। তোমার জন্যে রান্না করেছি—একসঙ্গে খাবো বলে আমিও বসে রয়েছি।’
‘আমার খিদে নেই—খেতে ইচ্ছে করছে না। আপনি খেয়ে নিন।’
‘না খেলে তো তোমার ব্রেইন কাজ করবে না—মাইগ্রেন অ্যাটাক করবে। যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারবে না। তাছাড়া না খেয়ে থাকলে তোমার সমস্যার কোনো সমাধান তো হবে না।’
‘আমি খাবো না।’ বলে উঠে চলে গেল সোমা।
ফরিদ তাকিয়ে রইল চিন্তিত মুখে।
রাতে এক ফোঁটা ঘুম হলো না সোমার। সমস্ত দিনের উত্তেজনা আর ক্লান্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে আগামী দিনের দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তা।
প্রচণ্ড শীত পড়েছে। ঘরের মধ্যে হিটিং সিস্টেম চালু আছে। থার্মোস্ট্যাট অটো সেট-আপ করা থাকে। তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মানের নিচে নেমে গেলে একা একাই হিটিং সিস্টেম চালু হয়ে যায়। তখন এক ধরনের আওয়াজ বের হয়। শুরুতে একটু ভয় লাগলেও এখন আর কোনো রকম ভয় লাগছে না সোমার।
রাতের তুষারপাতে সারা শহর ঢেকে গেছে। এখনো ঝরছে ঝিরঝিরি। সোমা জানালার পর্দা সরিয়ে তাকাল বাইরে। হালকা মেঘের মত ভেসে আসা তুষারগুলো আছড়ে পরছে জানালার কাঁচের গায়ে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে নেশা ধরে যায়। তাকিয়ে থাকতে থাকতে নেশাগ্রস্তের মতো হলো সোমার। তার চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে।
ক্ষণে ক্ষণে শহীদের কথা মনে হচ্ছে। কেন শহীদ তাকে আনতে গেল না? মানুষটা ভালো আছে তো? কোনো বিপদ হয়নি তো? মানুষের বিপদের কথা কিছু কি বলা যায়? সোমার মাথা ভার হয়ে এলো। সে আর কিছু ভাবতে পারছে না। চোখ খুলেও থাকতে পারছে না—এক সময় তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো।
একটি সুন্দর সকালের শুরু। আকাশে নীলের ছড়াছড়ি। ঝকঝকে রোদ দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ করেই টেম্পারেচার বেড়ে গিয়ে চারিদিকের বরফ গলা শুরু হয়েছে। গ্লুমি ভাবটা কেটে গেছে—সবার মধ্যেই এক ধরনের প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
ঝলমলে রৌদ্রস্নাত এই সকালে একটা সাদা রঙের জীপ চেরকি ফরিদের টাউন-হোম সংলগ্ন পার্কিং-এ এসে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নেমে এলো ঝাঁকড়া চুলের এক যুবক। বয়স ত্রিশের কোঠায়। কমও হতে পারে। কলিং বেলে কয়েকবার চাপ দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর ফরিদ নিচে নেমে দরজা খুলে দেখল একজন অপরিচিত লোক দাঁড়িয়ে আছে। ‘আপনি?’ ফরিদ জিজ্ঞেস করল।
অপরিচিত লোকটি সালাম দিয়ে বলল, ‘জি আমার নাম শহীদ। শহীদুল ইসলাম।’
‘আরে মিয়া কোথায় ছিলেন আপনি!’ ফরিদ প্রায় চিৎকার দিয়ে বলল, আপনার সমস্যা কি? বাসার ঠিকানা কোথায় পেলেন?’
‘ইকবাল ভাই, বাদশা—ওদের কাছ থেকে।’
‘ও আচ্ছা আচ্ছা। ওদের সাথে যোগাযোগ হয়েছিল না?’
‘জি ভাই। আমি যখন বাসায় ফিরে আসি—উনারা আমার বাসার সামনে গাড়িতে বসা ছিল। তাদের কাছ থেকেই সবকিছু জেনেছি। শুনলাম, সোমা আপনার এখানে…’
‘তো আপনি ছিলেন কোথায়?’
‘একটা সমস্যা হয়েছিল। সোমা কি এখানে আছে?’
‘হ্যাঁ আছে।’ শহীদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো মত একবার দেখে নিয়ে খানিকটা রুক্ষ স্বরে বলল, ‘আসুন।’ বলেই সে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে থাকল। শহীদ উঠে এলো তার পিছে পিছে।
ফরিদকে মনে হলো যেন হঠাৎ করেই কিছুটা ক্ষেপে গেল। কারণটা ঠিক বোঝা গেল না।
লিভিং রুমে এসে শহীদকে সোফা দেখিয়ে বলল, ‘এসো। বসো।’
শহীদ বসল না—দাঁড়িয়ে রইল কাঁচুমাচু হয়ে।
ফরিদ বলল, ‘তোমার ঘটনাটা কি আমাকে বলো তো। দেশ থেকে তোমার স্ত্রী এসেছে—তাকে তোমার রিসিভ করতে যাওয়ার কথা। আর তুমি উধাও?’
শহীদ বলল, ‘না আসলে আমার সত্যিকারের একটা সমস্যা হয়েছিল। এটা না বললে বুঝতে পারবেন না। কিন্তু তারচেয়ে বড় কথা—আপনি যা করলেন…’
‘আরে ভাই আমার কথা বাদ দাও। আমি তো শিকাগোতেই থাকি আর আমি তো কোনো বিপদে পড়িনি। একটা মেয়ে বাংলাদেশ থেকে এসেছে—সে এখানকার কাউকে চিনেনা, কিচ্ছু জানে না। শুধু তোমার নামটা জানে, তোমাদের দেখা পর্যন্ত হয়নি, বিয়ে করেছো টেলিফোনে—তুমি এটা কি করেছ বলো তো?’
‘ফরিদ ভাই, সত্যি আমি এমন একটা বিপদের মধ্যে পড়েছিলাম যে সেটা বলে বোঝাতে পারব না।’
‘কি এমন বিপদে পড়েছিলে… তোমার বাসার সামনে কাগজে লিখে এসেছি, ফোন নাম্বার দিয়ে এসেছি। এয়ারপোর্টেও ফোন নাম্বার রেখে এসেছিলাম।’
‘জি দেখেছি–তাই তো সরাসরি চলে এলাম।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে বসো।’
তারা দুজনেই বসল। শহীদ একটু ইতস্তত করে জানতে চাইল, ‘সোমা কোথায়?’
‘সোমা আছে উপরে। সারারাত নিশ্চয়ই ঘুমায়নি—সকালে ঘুমিয়েছে কিনা বলতে পারছি না। আচ্ছা আমি ডাকছি।’
ফরিদ কয়েক পা এগিয়ে সিঁড়ির কাছে যেয়ে উপরে তাকিয়ে ডাকল, ‘সোমা? এই সোমা, একটু নীচে এসো তো ভাই।’
ফরিদ ফিরে এসে আবার বসল শহীদের পাশে। এবার একটু বিরক্ত হয়েই বলল, ‘কি যে টেনশনে ফেলেছিলে আমাদেরকে—উফ।’
‘আসলেই অনেক ঝামেলা গেছে আপনাদের উপর দিয়ে।’
‘তারপরে এখানে তোমার কোনো বন্ধু নেই, তোমার কোন রুমমেট নেই, এত বড় একটা কমিউনিটি কিন্তু কোনো বাঙালী লোক তোমাকে চেনে না—তুমি কারো সঙ্গে মিশো না নাকি?’
শহীদ চুপ করে রইল।
‘আমেরিকায় থাকো অথচ একটা ইমারজেন্সি কন্টাক্টও তোমার নেই—এটা কোনো কথা?’
ফরিদের কথা শেষ হবার আগেই শহীদ লক্ষ্য করল সোমা এসে দাঁড়িয়েছে সামনে। সোমাকে দেখে সে উঠে দাঁড়াল। ফরিদও দাঁড়িয়ে পড়ল।
সোমা শহীদের দিকে তাকালো কিন্তু তার মধ্যে কোনো ধরনের এক্সাইটমেন্ট দেখা গেল না। কোনো রকম উত্তেজনা নেই—ভাবাবেগ নেই। নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সে।
শহীদ কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল সোমার দিকে তারপর কোনো রকমে সাহস সঞ্চয় করে বলল, ‘চলো।’
‘কোথায়?’ শীতল কণ্ঠে সোমা জানতে চাইল।
‘কোথায় মানে? বাসায় চলো।’
‘কেন?’
সোমার এমন প্রশ্নে ভড়কে গেল শহীদ। সে একবার পাশে দাঁড়ানো ফরিদের মুখের দিকে তাকাল আবার তাকাল সোমার মুখের দিকে। তারপর বোকার মত হেসে দিয়ে বলল, ‘বাসায় যাবে না?’
একই রকম শীতল কণ্ঠে সোমা প্রশ্ন করল, ‘তুমি আমাকে এয়ারপোর্টে নিতে আসোনি কেন?’
শহীদ আবার তাকাল ফরিদের দিকে। ফরিদ কি বলবে ভেবেও বলল না।
শহীদ বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করল, ‘একটা ঝামেলা হয়েছিল সোমা। একটা বিপদের মধ্যে পড়েছিলাম—সমস্যা হয়েছিল যা তোমাকে…।’
‘কি সমস্যা?’ কথা শেষ করতে না দিয়েই সোমা জানতে চাইল।
‘আগে বাসায় চলো, সবই বলব তোমাকে।’
‘আমি তো তোমার সঙ্গে যাবো না।’ সোমার কণ্ঠস্বর হঠাৎ করেই বদলে গেল যেন। কঠিন স্বরে বলল সে, ‘তোমার মত একজন ইরেস্পন্সিবল মানুষের সঙ্গে তো আমি কোত্থাও যাব না।’

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *