marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-১৯)

ম্যারেজ মিডিয়া অফিস বন্ধ করে এজাজ আর জামান তাদের ঠিকানা বদলে নতুনভাবে ব্যবসার ধান্ধা শুরু করেছে। তারা তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে কথা বলছে। জামান চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ‘এজাজ, তোমার ম্যাডামের কোন হদিস পেলে? ওর বোনের বাসায় গেছিলা?’
‘গেছিলাম বস, নাই। বুঝতেছি না কোথায় যে গা ঢাকা দিল? শালী তো ফোন ধরে না।’
‘ওর গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিতে হবে। ও ধরা পরলে কিন্তু আমাদের বিপদ হবে।’
‘আমার তো মনে হয় না বস, সে শহরেই আছে কোথাও।’
‘হুম, কিন্তু আমাদের তো আর এভাবে বসে থাকলে চলবে না।’
‘তাইলে নতুন পাত্রীর অ্যাড দিয়া দেই।’
‘নতুন পাত্রীর অ্যাড দিবা?’
‘জি বস।’
‘মডেল ঠিক আছে?’
‘ঠিক আছে। এই যে দেখেন।‘ একটা ফোল্ডার বের করে এজাজ মডেলের ছবি দেখাল জামানকে। মডেলের ছবি হাতে নিয়ে ভালোমতো পরখ করে সন্তুষ্ট চিত্তে ছবি ফিরিয়ে দিয়ে বলল, ‘প্রোফাইল ঠিক করছ?’
‘জি বস।’ এজাজ পড়ল, ‘বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সিটিজেন পাত্রীর জন্য জরুরী ভিত্তিতে একজন পাত্র প্রয়োজন। পাত্রকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হবে।’
‘মডেলের নাম কী রাখছ?’
‘নাম ঠিক করছি জেরিন।’
‘জেরিন, বাহ সুন্দর নাম।’ বলল জামান, ‘ঠিক আছে, পেপারে অ্যাডটা দিয়ে দাও। তবে আপাতত আমরা কাজ করব বাসা থেকে। আর তুমি হবে পাত্রীর ভাই। আইডিয়াটা কেমন?’
‘আইডিয়াটা খারাপ না।’ বলেই এজাজ হাসল খুশি মনে।

সুজন বসে বসে ভাবছিল, নতুন কী ব্যবসা কিংবা কাজ করা যায়? সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জমির দালালি সে আর করবে না। তার নিরবচ্ছিন্ন ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে তাঁর ফোন বেজে উঠল। ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে বিল্টুর কণ্ঠ শোনা গেল। সুজন বলল, ‘হ্যাঁ বিল্টু, খোঁজ বাইর করতে পারলি কিছু?’
বিল্টু বলল, ‘কিছু কিছু খোঁজ বাইর করছি, তয় পুরাপুরি লিস্ট করতে আরও কয়দিন সময় লাগবে। ফার্মগেট, শান্তিনগর, কাকরাইল, পল্টন, উত্তরার কয়টার খোঁজ পাইছি। আমি নামগুলি পড়তেছি, আপনি শুনেন—’ বিল্টু একটা কাগজ বের করে কিছু নাম পড়ে শোনাল। ‘ঘটক সাথী, সন্ধি মিডিয়া, কানেকশন, ঘটক রিয়া, ঘটক কেয়া, মিস ওয়ার্ল্ড, রয়েল মিডিয়া, ঘটক কাজি ভাই, ঘটক রত্না, নান্টু ঘটক, ঘটক ঝুমা…’ এটুকু পড়ে বিল্টু থেমে বলল, ‘বস, লম্বা লিস্ট, আরো শুনবেন?’
‘না, না আর শুনতে হবে না। এবার তুই আরেকটা কাজ কর।’
‘বলেন বস।’
‘এইগুলার সব ফোন নাম্বার আছে না?’
‘জি বস, আছে।’
‘এইবার শোন… এজাজ, জামান, মিজান কিংবা মাহবুব এই চার নামের যেকোনো একজনের হদিস পাইলে সাথে সাথে আমারে জানাবি, ঠিক আছে?’
‘ঠিক আছে, বস।’
সুজন ফোন কেটে দিয়ে পুনরায় তার ভাবনার জগতে ডুবে গেল।

ইমরানকে সুজনের বাসার ঠিকানা দিয়ে দেখা করতে বলল শাহেদ। যত দ্রুত সম্ভব। ইমরান ঠিকানা খুঁজে দরজায় নক করতেই শাহেদ দরজা খুলে দিল। শাহেদ ইমরানকে ভেতরে আসতে বলল। ইমরান কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে ঘরে ঢুকে দেখতে পেল সুজনকে। ইমরান বলল, ‘কী ব্যাপার শাহেদ?’
‘ব্যাপার আছে। একটু বস। একটা সারপ্রাইজ দেব। তার আগে পরিচয় করিয়ে দেই।’ সুজনের দিকে তাকিয়ে শাহেদ বলল, ‘সুজন ভাই, এই হচ্ছে ইমরান। ওর কথাতো আপনাকে বলেছি।’
ইমরান হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করল সুজনের সাথে। তারপর শাহেদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী সারপ্রাইজ?’
‘গেস হোয়াট! আই ফাউন্ড দেম, অ্যাটলিস্ট ওয়ান অফ দেম। এক মিনিট। দেখতো চিনতে পার কি না?’
শাহেদ একটা নাম্বারে ফোন করল। অপরপ্রান্ত থেকে যার কণ্ঠ ভেসে এলো—তার কণ্ঠ খুবই পরিচিত ঠেকল। সে এজাজ। শাহেদ ফোন চাপা দিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘ইট’স হিম।’ শাহেদ স্পিকার বাটন অন করে দিল। এবার এজাজের কণ্ঠ পরিষ্কার শুনতে পেল সবাই।
এজাজ আবার বলল, ‘হ্যালো? হ্যালো, হ্যালো কে?’
ইমরান, শাহেদ আর সুজন মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। সবার মধ্যে একধরণের চাঁপা উত্তেজনা কাজ করছে। সবাই তাকিয়ে আছে ফোনের স্পিকারের দিকে। এজাজ আবার বলল, ‘কী যন্ত্রণা, কথা বলে না কেন?’
শাহেদ লাইন কেটে দিল। ইমরান উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘ইটস হিম। ইট’স ডেফিনিটলি হিম। আই’ম শিওর। মোর দ্যান হান্ড্রেড পারসেন্ট।’

এজাজের দিকে তাকিয়ে জামান প্রশ্ন করল, ‘কে?’
এজাজ বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘আরে কোন হারামজাদা যেন বারে বারে ফোন করতেছে, কিন্তু কথা বলে না। হ্যালো বললে, চুপ করে থাকে।’
‘মনে হয় নতুন অ্যাডটা দেখে কল করছে। নেটওয়ার্কেরও সমস্যা হতে পারে, মে বি সিগন্যাল পাচ্ছেনা।’
‘তা-ই হবে। অনেকক্ষণ ধইরা চেষ্টা করতেছে।’
‘যাই হোক, আমাদের রেডি হয়ে থাকতে হবে। কেউ কল করলে তুমি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে দাও। লেটস গেট ব্যাক টু বিজনেস।’
এজাজ আর জামান ঠিকানা বদলে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। সেই সাথে দু’জনেই বদলে ফেলেছে তাদের বাহ্যিক রূপ। এজাজ চুল লম্বা করে অনেকটা বাউল-সাঁইদের মত করেছে। থুতনির কাছে অল্প একটু দাড়ি রেখেছে। চোখে চিকণ ফ্রেমের জিরো-পাওয়ারের চশমা। অন্যদিকে, জামান রেখেছে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি। সাথে লম্বা মোচ। চুলের কাট আর দাড়ির স্টাইল নিমেষেই ভোল পাল্টে দিতে পারে যে কোন মানুষের। এজাজ আর জামান ভোল পাল্টে নেমে পড়েছে। চুপচাপ বসে থাকলে তো চলবে না।
উত্তরা আবাসিক এলাকায় একটা বাসা ভাড়া নিয়েছে তারা। দু’রুমের বাসা। সাথে বসার ঘর, রান্নাঘর, কমন বাথরুম আর ছোট একটা বারান্দা। বসার ঘর থেকেই তাদের অফিসের কাজ চলছে আপাতত।
লম্বা লম্বা মোচ থাকার সুবিধা অনেক! কাজ না থাকলে টেনে টেনে সময় পার করা যায়। জামান তার লম্বা মোচ টানতে টানতে সোফায় বসে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘জেরিন?’
জেরিন, এজাজ আর জামানের নতুন টোপ। পঁচিশ বছরের অনিন্দ্যসুন্দরী। স্মার্ট। ইংরেজিতে পারদর্শী। ব্রিটিশ উচ্চারণেও কথা বলতে পারে। সে সপ্রতিভভাবে তাকাল জামানের দিকে।
‘কি তুমি রেডি তো?’ জামান জানতে চাইল।
‘জি। রেডি।’
‘ঠিকমত বলতে পারবে তো, সবকিছু?’
‘অবশ্যই পারব। কি বলেন!’ জেরিনের কণ্ঠে দৃঢ়তা স্পষ্ট।
‘গুড। আই লাইক দ্যা কনফিডেন্স।’ বলেই জামান তাকাল এজাজের দিকে। বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলল, ‘গুড সিলেকশন!’
এজাজের মুখে তৃপ্তির হাসি। এজাজের হাসির মধ্যেই তার ফোন বেজে উঠল আবার। সে হ্যালো বলতেই অপরপ্রান্ত থেকে কেউ বলল, ‘হ্যালো, স্লামালিকুম। আমি পত্রিকায় অ্যাড দেখে কল করেছি। একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে চাই।’
এজাজ ফোনটা সামনে এনে নাম্বার দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কোথা থেকে কল করতেছেন?’
‘ঢাকা থেকে।’
‘আচ্ছা একটু ধরেন।’ এজাজ দ্রুত তার নোটবুক খুলে তারিখ দেখে বলল, ‘আগামীকাল দুপুরের পরে আসেন।’
‘ভাই ঠিকানাটা একটু দেন।’
‘আচ্ছা, লেখেন।’ এজাজ ঠিকানা বলল। ‘কী নাম আপনার?’
‘আমার নাম সুজন জোয়ার্দার।’ ঠিকানা লিখতে লিখতে সুজন বলল।
ঠিকানা লেখা শেষ করে যুদ্ধ জয়ের হাসি নিয়ে সুজন তাকাল শাহেদ আর ইমরানের দিকে।

গভীর রাত।
সোমার ঘুমের সমস্যা দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে। কিছুতেই ঘুম আসে না। প্রায় রাত সে নির্ঘুম কাটায়। সারাদিন মাথা ধরা নিয়ে দিন কাটে তার।
সোমা বসে আছে তার ঘরের বারান্দায়। বেশিরভাগ সময় তার কাটে বারান্দায় বসে থেকে। সে একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে বসে আছে। তার শীত শীত লাগছে একটু। সোমার ফোন বাজল। এত রাতে কে ফোন করতে পারে ভাবতে ভাবতে সে ঘরে এসে ফোন ধরল। ফোনের কোন নাম্বার উঠে নি। সে ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো?’
অপরপ্রান্ত থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এলো। কণ্ঠস্বর চিনতে সোমার কষ্ট হল না মোটেও। সোমার অনেক পরিচিত কণ্ঠ। সোমা চুপ করে রইল। হঠাৎই তার শরীর কেঁপে উঠল। নিজেকে স্থির রাখতে কষ্ট হচ্ছে।
‘সোমা, আমি রাজন।’
সোমা খুব স্বাভাবিক ভাবে বলল, ‘বল শুনছি।’
‘তুমি কি জানো আমি এখন কোথায়?’
‘কোথায়?’
‘নিউইয়র্কে।’
‘ও।’
সোমা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চুপ করে রইল।
‘সোমা।’
‘বল।’
‘আমি জানি, তুমি কী ভাবছ।’
‘কী ভাবছি?’
‘ভাবছ, কেন আমি এমন করলাম?’
সোমা কিছুই বলল না।
রাজন আবার বলল, ‘আমি জানি তুমি আমাকে ঘৃণা করছ। আর সেটাই স্বাভাবিক।’
আবারো নীরবতা। কিছু সময় নিয়ে রাজন বলল, ‘আজীবন লালিত স্বপ্ন পূরণের স্বার্থে তোমার সাথে বড় ধরণের একটা অন্যায় করেছি সোমা। আমি যা করেছি তার কোন ক্ষমা নেই জানি, তবুও যদি পার, আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
‘আমি আমার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি।’ সোমা নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, ‘তবে আমার কষ্ট একটাই—আমি আমার সব কিছু দিয়ে একজন ভুল মানুষকে ভালবেসেছিলাম। তুমি অন্তত নিজের কাছে সৎ থাকতে পারতে, রাজন।’
রাজন কিছু বলতে পারল না। কিছু বলার মত মনের জোর তার নেই—থাকার কথাও না।
সোমা শীতল কণ্ঠে বলল, ‘ক্যান ইউ ডু মি অ্যা ফেভার? আমার একটা কথা রাখবে, রাজন?’
রাজন আগ্রহ নিয়ে বলল, ‘বল?’
‘ভবিষ্যতে আমাকে আর কখনও কল করবে না। যোগাযোগেরও চেষ্টা করবে না। প্লিজ আমার এই একটি কথা অন্তত রাখার চেষ্টা কর।’
রাজন চুপ করে রইল। সোমাও চুপ। কিছুক্ষণ শুধু দু’জনের নিঃশ্বাসের শব্দ ভেসে এলো। হঠাৎ করেই ফোনটা কেটে দিয়ে মূর্তির মত বসে রইল সোমা। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়ল। ফুলে ফুলে কাঁদতে থাকল।
সোমাদের বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে আছে সোমা আর ইমরান।
ইমরান অনেক ভেবেও সোমাকে সান্ত্বনা দেবার মত কোন ভাষা খুঁজে পেল না। সে চুপ করে সোমাকে কাঁদতে দিল কিছুক্ষণ। সোমার জীবনের এই অন্ধকার দিকটার কথা জানার পর থেকে সোমার প্রতি ওর মমতা আরো বেড়ে গেল। মেয়েটা এভাবে কষ্ট পাচ্ছে!
কান্নাটা একটু ধরে এলে সোমা বলল, ‘ঐদিন প্রথমবারের মত সত্যি সত্যিই বুঝলাম, রাজন চলে গেছে। অথচ, ওর ফোন আসার একমুহূর্ত আগে পর্যন্ত আমি কারো কথাই বিশ্বাস করি নি। অ্যান্ড দেন আই অ্যাকচুয়ালি রিয়ালাইজড ইট ওয়াজ ওভার ফর গুড!’
ইমরানের এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। সে বলল, ‘আমি ভাবতেই পারিনা, তোমার মত একটা মেয়ের সাথে কীভাবে কেউ প্রতারণা করতে পারে?’
সোমা কিছু বলল না। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল যতদূর দৃষ্টি যায়।
ইমরান একটু সময় নিয়ে বলল, ‘আমার কি মনে হয় জান? আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে প্রতারিত হচ্ছি। কে জানে, এটাই হয়তো নিয়ম।’
সোমা চকিতে একবার তাকাল ইমরানের দিকে। তারপর আবার ঘুরে তাকিয়ে রইল সম্মুখ পানে।
ইমরান বলল, ‘সবার জীবনে কিছু স্বপ্ন থাকে। কারোটা পূরণ হয়, কারোটা ভেঙে যায়। তাই বলে জীবনতো থেমে থাকে না। লাইফ গোজ অন।’
সোমা শুনছে ইমরানের কথা। ইমরান বলে চলল, ‘একটা মেয়ে যখন কোন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, সে তখন নিজের মধ্যে হারিয়ে যায়। তার সমস্ত চিন্তা ভাবনা ঐ সম্পর্কের আবর্তে ঘুরপাক খায়। দ্যাট ক্যান বি ডেঞ্জারাস সামটাইম।’
দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে ইমরানের কথা শুনেছে সোমা। এবার সে সাড়া দিয়ে বলল, ‘কেন?’
‘কেননা, ঐ সম্পর্কের বাইরে সে আর কিছুই ভাবতে পারে না।’ ইমরান সোমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঐ ঘূর্ণির বলয় থেকে তোমাকে বের হয়ে আসতে হবে সোমা।’
‘কিভাবে?’ প্রশ্ন করে সোমা তাকিয়ে রইল ইমরানের মুখের দিকে।
‘কিভাবে…?’ ইমরান বলল, ‘একদিন ঘুম থেকে উঠে সারাদিনের জন্যে পেছনের কথা ভুলে যাবে। ভুলে যাবে যে মানুষটাকে বিশ্বাস করে মনে প্রাণে ভালবেসেছিলে, তার কথা। একটা দিন কাটিয়ে দেবে, তার কথা একবারের জন্যেও মনে করবে না। তারপরের দিন দেখবে, তুমি একজন নতুন মানুষ। দেখবে, তার কথা না ভেবেও বেঁচে থাকা সম্ভব।’
‘তারপর?’
‘তারপর আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, নিজেকে দেখবে, সুন্দর করে হাসবে। আয়নার মধ্যে আবিষ্কার করবে একজন নতুন সোমাকে।’
সোমা দু’হাত ভাঁজ করে বলল, ‘আয়নার সামনে দাঁড়াব, নিজেকে দেখব, সুন্দর করে হাসব—তারপর নিজেকে আবিষ্কার করব নতুনভাবে। ইজ দ্যাট সিম্পল?’
‘ইট ইজ!’
সোমা অবাক চোখে দেখল ইমরানকে। তারপর বলল, ‘ভাবতে অবাক লাগে, আপনার মত এমন স্মার্ট ছেলেও কিভাবে ভুল করে, প্রতারিত হয়?’
‘জীবনে আমরা সবাই ভুল করি। কেউ বুঝে, কেউ না বুঝে। সবাই কোন না কোন ভাবে ঠকি। বিশ্বাস করি, আবার ঠকি। আই গেস, ইটস এ পার্ট অফ লাইফ।’
ইমরানের কথাগুলো একরাশ মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিল সোমার মনে। সে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল ইমরানের মুখের দিকে।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *