marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-১৪)

গাঢ় সন্ধ্যা।
মিসেস জাহানারা আবার এলো শাহেদের রুমে। এমন অসময়ে ছেলেটা কেন এভাবে ঘুমাচ্ছে। তিনি বিচলিত বোধ করলেন। শাহেদের কপালে হাত দিয়ে দেখলেন, সামান্য গরম তবে জ্বর বলে মনে হল না। তিনি বসলেন তার ছেলের পাশে। ‘শাহেদ, এই শাহেদ ওঠ বাবা। সন্ধ্যার সময় ঘুমতে নেই। ওঠ।’ তিনি শাহেদের পিঠে হাত রেখে মৃদু ঝাঁকি দিলেন।
শাহেদ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ঝাকাঝাকি কর না তো মা।’
‘তাহলে ওঠ। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সন্ধ্যার সময় ঘুমতে নেই।’
‘সন্ধ্যার সময় ঘুমলে কী হয়, মা?’ শাহেদ না ঘুরেই বলল।
‘কী হবে আবার? আয়ু কমে যায়।’
শাহেদ তার মায়ের দিকে ঘুরে শোল। ‘এসব থিওরি যে কোথায় পাও? যাও তো মা, বিরক্ত কর না। আমি আরও একটু ঘুমব।’
‘তোর কি শরীর খারাপ লাগছে, বাবা?’
‘না। শরীর ঠিকই আছে।’
মিসেস জাহানারা শাহেদের কপালে হাত রাখলেন। মুখ নামিয়ে মুখের একপাশ শাহেদের কপাল স্পর্শ করলেন। ছোটবেলা থেকেই শাহেদ আর সোমার গায়ের তাপমাত্রা তিনি মেপে আসছেন এভাবেই। তিনি শঙ্কিত কণ্ঠে বললেন, ‘গা তো গরম! জ্বর-জারি বাধাস নি তো আবার? সারাদিন রোদে রোদে ঘুরলে জ্বর তো আসবেই।’
‘গা ঠিকই আছে মা, তোমার হাত ঠাণ্ডা। তুমি নিশ্চয় রান্নাঘর থেকে এসেছ।’
‘যা হাত মুখ ধুয়ে আয়। চা দিচ্ছি।’
একটু চুপ করে থেকে শাহেদ বলল, ‘সোমা কোথায়?’
‘ও তো এখনও ফেরে নি।’
‘আর বাবা?’
‘সে একটু হাঁটতে বেরিয়েছে। চলে আসবে এখুনি।’
‘তা তুমিওতো বাবার সঙ্গে যেতে পারতে। তুমি সারাক্ষণ এমন একা একা থাক কেন, বল তো মা?’
‘কী যে সব বলিস না। আমি কি এখন তোর বাবার হাত ধরে রাস্তায় হাঁটতে যাব নাকি?’
‘হ্যাঁ যাবে, তাতে অসুবিধা কোথায়? তুমি তো আর অন্য কারো হাত ধরছ না!’
‘বাজে বকিস না। আয়, তাড়াতাড়ি উঠে আয়।’
মিসেস জাহানারা উঠে চলে যাচ্ছিলেন। শাহেদ ডাকল, ‘মা!’
মিসেস জাহানারা ঘুরে তাকালেন। শাহেদ উঠে বসল। জাহানারা এগিয়ে এলেন ছেলের কাছে। শাহেদ বলল,
‘আমার মনটা ভাল নেই, মা। কেন, জিজ্ঞেস করবে না। আমি আজ রাতে খাব না। ঘর থেকেও বের হব না। বাবা এলেও না। সোমাকেও পাঠাবে না।’
মিসেস জাহানারা শাহেদের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলেন চিন্তিতমুখে।

শাহেদ প্রতিদিন একবার করে ইজি ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে এসে ঘুরে যায়। তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে আশেপাশে। কাউকে অবশ্য দেখা যায় না। কিছুক্ষণ বসে থেকে সে চলে যায়।
শাহেদ উদ্ভ্রান্তের মত হেঁটে বেড়ায়। পার্কে যায়। রাস্তায় হাটে। তাকিয়ে থাকে পথচারীদের দিকে—অসহায় ভাবে। তার চোখ দুটি আকুলি বিকুলি খুঁজে কিছু মুখ। কোথায় হারিয়ে গেল সবাই?

সকাল ১১টা।
সোমা তার বিছানায় শুয়ে আছে। আজ সে সকালে নাস্তা করে নি। শাহেদের জন্য চা নিয়েও যায় নি। মিসেস জাহানারা মেয়ের খোঁজ নিতে এলেন। সোমার বিছানার কাছে এসে চিন্তিত মুখে বললেন, ‘কি রে ক্লাসে যাবি না আজ?’
সোমা না তাকিয়েই শীতল কণ্ঠে বলল, ‘না।’
‘কেন? শরীর খারাপ?’
‘না।’
‘তাহলে?’
‘মন খারাপ।’
‘কী? মন খারাপ?’ মিসেস জাহানারা খুবই অবাক হলেন। সোমার মন খারাপ? তার এই মেয়েটিকে কখনোই মন খারাপ করে থাকতে দেখে কেউ। যে মেয়ে অন্য সবার মন ভাল করে দেয় তার কি না মন খারাপ! তিনি বললেন, ‘বলিস কি, তোর আবার মন খারাপ কেন?’
‘কেন মা, আমার মন খারাপ হতে পারেনা?’
মিসেস জাহানারা অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন সোমার দিকে। ‘উঠে আয়। কিছু খেয়ে নে।’
‘তুমি যাও মা। বিরক্ত কর না।’
‘কী জানি, তোদের ব্যাপার স্যাপার কিছু বুঝি না। এসব কিসের আলামত?’ মিসেস জাহানারা তার মেয়ের আচরণে আহত হলেন। সে চিন্তিত মুখে বের হয়ে গেলেন।

রমনা পার্ক।
পার্কের একটি বেঞ্চে বসে রয়েছে। সেদিনও সে এই বেঞ্চেই বসে ছিল। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে সে ফোন করল একটা নাম্বারে। অপর প্রান্ত থেকে কোন সাড়া পেল না। সে চুপ করে উদাস ভঙ্গিতে বসে রইল।
‘ছার, চা খাবেন? চা দেই, গরম চা…’
শাহেদের নিরবিচ্ছিন্ন ধ্যান ভেঙে গেল চা বিক্রেতার ডাকে। সে তাকিয়ে দেখল সেই চা বিক্রেতা ছেলেটি। শাহেদ কিছু না বলে তাকিয়ে রইল ছেলেটির দিকে। কী ভেবে সে মাথা নেড়ে জানাল চা দিতে। ছেলেটি পরম উৎসাহ নিয়ে চা ঢেলে শাহেদের দিকে চায়ের গ্লাস এগিয়ে দিল। শাহেদ চুপচাপ চায়ে চুমুক দিল।

প্রতিদিনের রুটিন মাফিক যা করেন, আজও তাই করছেন রাকিবউদ্দিন সাহেব। বাসার বারান্দায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আজকের নিউজপেপারে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন তিনি। সকালে এক রাউন্ড পত্রিকা পড়া শেষ হয়েছে তার। আবারো পড়ছেন। পাশে পিরিচ উল্টো করে ঢেকে রাখা এক কাপ চা।
শাহেদ বারান্দায় এসে বলল, ‘বাবা, আমাকে ডেকেছ?’
‘হ্যাঁ। বস। চা খাও।’ পাশের খালি চেয়ারে শাহেদকে বসার ইঙ্গিত করলেন তিনি।
শাহেদ বসে পিরিচ সরিয়ে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ছোট একটা চুমুক দিল।
রাকিব সাহেব পত্রিকা নামিয়ে বললেন, ‘শুনলাম, তোমার মন খারাপ। আমি কি জানতে পারি কেন?’
শাহেদ ইতস্তত করে বলল, ‘অন্য আরেকদিন বলব, বাবা।’
‘আজ বলত অসুবিধা কি?’
‘অসুবিধা নেই, তবে বলতে ইচ্ছা করছে না।’
‘সোমা বলল তুমি নাকি সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুর। পার্কে বসে থাক? কারণটা কী?’
‘কোন কারণ নেই, বাবা। এমনি।’
রাকিব সাহেব চিন্তিত ভঙ্গিতে চায়ে চুমুক দিলেন। শাহেদও চুপচাপ। সে বুঝতে পারছে তার বাবা তাকে আবার কি বলবে। চলে যেতে পারলে ভাল হত কিন্তু সে চলে যেতেও পারছে। যেই ভয় পাচ্ছিল তাই ঘটল। রাকিবউদ্দিন সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার লাইফ টাইম অপরচুনিটি প্রোজেক্টের কার্যক্রম কি আপাতত বন্ধ?’
শাহেদ নিশ্চুপ রইল। কী বলবে সে?
রাকিবউদ্দিন সাহেব আবার বলল, ‘আমার ধারণা, তুমি বড় ধরণের একটা সমস্যায় পড়েছ। আমার ধারণা কি ঠিক?’
‘নট শিওর, বাবা। ঠিক বলতে পারছি না।’
‘ঠিক আছে, যখন শিওর হবে তখন বল।’
শাহেদ আমতা আমতা করে বলল, ‘আমার চা খাওয়া শেষ। আমি এখন আসি, বাবা।’ শাহেদ চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল।
‘শাহেদ, সমস্যাটা তোমার একার হলেও সাফারার কিন্তু আমরা সবাই। সমস্যা যত কঠিনই হোক, তোমার উচিত হবে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা। ব্যাপারটা খুলে বলা। সমস্যাটা কি, সেটা জানলে সমাধানের একটা রাস্তাও নিশ্চয়ই খুঁজে বের করা যাবে।’
শাহেদ নিশ্চুপ।
‘ঘটনার গুরুত্বটা কি তুমি বুঝতে পারছ?’
‘জি পারছি।’
‘আচ্ছা, ঠিক আছে তুমি যাও।’
শাহেদ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে উঠে চলে গেল।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
সোমা আজ ক্লাসে করে নি তবুও সে ক্লাস শেষের বন্ধুদের আড্ডায় যোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেল। ওকে দেখে সবাই কিছুটা চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকাল। সোমার মন ভাল নেই। তার চেহারায় বিষণ্ণতার ছায়া স্পষ্ট।
সোমা বলল, ‘রাজন এসেছিল এদিকে? তোরা কেউ দেখেছিস ওকে?’
ইরা বলল, ‘না তো! সেদিন তুই ক্লাসে আসিস নি, রাজন ভাইও ক্যাম্পাসে আসে নি। আমরা তো ভাবলাম…’ ইরা কথা শেষ না করে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টি বিনিময় করল সিন্থিয়ার সাথে।
বাপ্পী বলল, ‘আমরা তো ভাবলাম, দু’জনে মিলে অভিসারে গিয়েছিস!’
সোমা কিছু বলল না। তার চিন্তাযুক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে সিন্থিয়া বলল, ‘ফোন করেছিস? ফোন করে দ্যাখ।’
‘করেছি, ফোন ধরছে না। এসএমএস করেছি, নো রিপ্লাই।’
বাপ্পী বলল, ‘হুমম, কোথাও কোন সমস্যা হয়েছে। যে তোকে একদিনও না দেখে থাকতে পারে না আর সে কি না ফোনই ধরছে না। সামথিং ইজ রং।’
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সোমা বলল, ‘আমি আসিরে।’
সজল বলল, ‘চলে যাচ্ছিস? থাক না, আমাদের সাথে একটু আড্ডা দে—তোকে তো পাওয়াই যায় না।’
সোমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অন্যমনস্কভাবে ঘুড়ে দাঁড়াল। সে হাঁটা শুরু করতেই বাপ্পী বলল, ‘রাজন ভাইকে বলিস আমাদের খাওয়াটা কিন্তু এখনও পাওয়া আছে।’
সোমা ঘুরে তাকিয়ে বলল, ‘দেখা হলে বলব।’
সোমা চলে যেতেই সব বন্ধুরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল।

রাতের আলো আঁধারিতে বিষণ্ণ শাহেদ বসে রয়েছে তার ছোট ব্যালকনিতে। আবাসিক এলাকার অট্টালিকার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে জোছনার আলো এসে পড়েছে। শাহেদ উদাস নয়নে তাকিয়ে আছে বাইরে। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। নীরবতা ক্ষণে ক্ষণে ভিতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বের করে নিয়ে আসছে। প্রতিটা নিশ্বাস যেন কিসের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। কেমন জানি অস্থিরতা। কী একটার জন্য অপেক্ষা।
শাহেদের ফোন বেজে উঠল। শাহেদ ফোনের দিকে একবার তাকাল। কিন্তু সে উঠে ফোন ধরল না। কয়েকবার রিং বেজে থেমে গেল ফোন। শাহেদ আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ফোনটা আবার বাজল। বেজে বেজে থেমে গেল। উঠে গিয়ে শাহেদ ফোনটা হাতে নিলেই দেখতে পেত—যেই ফোনের অপেক্ষায় তার দীর্ঘ প্রতীক্ষা, এটি ছিল সেই কাঙ্ক্ষিত ফোন।
ঝির ঝির বাতাস বইছে। হিমেল হাওয়া। কেমন শীত শীত লাগছে শাহেদের। শাহেদ উঠে দাঁড়াল। ধীর পায়ে হেঁটে ভেতরে গেল। অন্যমনস্কভাবে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল—নাতাশার নামের পাশে দুটো মিসকল দেখা যাচ্ছে। নাতাশা ফোন করেছিল। নাতাশার উপর তার প্রচণ্ড ক্ষোভ আবার একই সাথে অভিমান। ফোনটা বিছানায় ফেলে দিয়ে শাহেদ গা এলিয়ে দিল। কয়েক মুহূর্তে না যেতেই শাহেদের ফোন বেজে উঠল। শাহেদ ফোন স্ক্রিনে দেখল—অপরিচিত নাম্বার। শাহেদ ভাবল, হয়ত নাতাশার কল আগে ধরি নাই, তাই আরেকটা নাম্বার থেকে ফোন করেছে। শাহেদ ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো?’
‘আপনি কি শাহেদ?’ অপর প্রান্ত থেকে একটি অপরিচিত পুরুষ কণ্ঠ শোনা গেল।
শাহেদ ভ্রূ কুঁচকে বলল, ‘জি।’
অপরিচিত কণ্ঠ বলল, ‘আপনার সঙ্গে আমি কিছু কথা বলতে চাই। সামনা-সামনি বলতে পারলে ভাল হয়…’
‘আপনি কে বলছেন?’
‘পরিচয় দিলে অবশ্যই চিনবেন।’
অসহিষ্ণু কণ্ঠে শাহেদ বলল, ‘তাহলে পরিচয় দিন…’
‘ঐ যে সেদিন…’ অপরিচিত কণ্ঠ আবার বলল, ‘বসুন্ধরা শপিং মলে দেখা হল। আপনার সাথে একটা মেয়ে ছিল—সোনিয়া। মনে পড়ছে?’
শাহেদের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। মনে না পড়ার তো কোন কারণ নেই। খুব বেশিদিন আগের ঘটনা তো নয়। শাহেদ মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘হ্যাঁ।’
‘আমরা কি কোথাও বসে কথা বলতে পারি?’
শাহেদ একটু ভেবে বলল, ‘বলুন, কবে কখন কোথায় বসতে চান?’
‘আমি বলছি আপনি লিখুন।’
শাহেদ টেবিল থেকে এক টুকরো ছোট কাগজে তারিখ, সময় আর ঠিকানা লিখে রাখল। অপর প্রান্ত থেকে ফোন কেটে গেল। শাহেদ ফোন হাতে ভাবতে থাকল।

ঢাকা শহরের ব্যস্ততম আবাসিক এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে এসে দাঁড়াল শাহেদ। তার হাতে এক টুকরা কাগজ। সেখানে লেখা সাইনবোর্ডের নাম মিলিয়ে সে ভিতরে প্রবেশ করল।
ভিতরে ঢুকে সে চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। তার চোখের দৃষ্টিতে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে সে কারো সংগে দেখা করতে এসেছে। সে আরো কয়েক পা এগিয়ে গেল সামনের দিকে আর তখনই তার দৃষ্টি থেমে গেল কোনার দিকের একটি টেবিলে বসা যুবকের দিকে। যুবকের নাম ইমরান। ঝাঁকরা চুল, একহারা লম্বা গড়ন। শাহেদ এগিয়ে কাছে যেতেই ইমরান মাথা তুলে তাকিয়ে দেখল তাকে। তারপর আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘শাহেদ?’
শাহেদ হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল।
‘আমি ইমরান। ইমরান হোসেন খান। ঐ যে সেদিন…’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।’
‘প্লিজ বসুন।’
শাহেদ বসতেই ইমরান বলল, ‘কী খাবেন বলুন?
‘না, কিছু খাব না।’
‘এদের বিফ সমুচাটা খুব ভাল। আমি দুটো খেয়েছি। সাথে এক কাপ চা। খেয়ে দেখুন না।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে, সমুচা দিতে বলুন।’
ইমরান একজন ওয়েটার ডেকে আরো চারটা সমুচা আর দু’কাপ চা দিতে বলল।
কিছুক্ষণের নীরবতা ভেঙে শাহেদ জানতে চাইল, ‘আমার নাম্বার কোথায় পেলেন?’
ইমরান একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি বের করে শাহেদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই ছবিটার পেছনে লেখা ছিল।’
শাহেদ ছবিটা হাতে নিয়ে দেখল, এটি তারই ছবি এবং ছবির পেছনে ওর পুরা নাম আর ফোন নাম্বারটা লেখা। সে খানিকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘বলুন কী ব্যাপারে ডেকেছেন?’
‘সোনিয়ার ব্যাপারে…। ওর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কি, ওকে কিভাবে চেনেন, কিভাবে পরিচয় হল, এইসব আর কি…’
শাহেদ বোঝার চেষ্টা করল। কিছু বলল না।
ইমরান আবার বলল, ‘বুঝতে পেরেছি, আপনি হয়তো ভাবছেন এটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, আমাকে কেন বলবেন, এইতো?’
শাহেদ সরাসরি তাকাল ইমরানের মুখের দিকে। তার চেহারায় ইতস্তত ভাবটা স্পষ্ট।
ইমরান মরিয়া হয়ে বলল, ‘আই নিড ইয়োর হেল্প শাহেদ, এন্ড আই অ্যাম প্রিটি শিওর, ইউ নিড মাইন। এখন আমাদের উচিত দুজন দুজনকে সাহায্য করা।’
শাহেদ একবার তাকাল বাইরে, আবার তাকাল ইমরানের দিকে। মনে হচ্ছে সে বিষয়টার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছে। তার চোখের দৃষ্টিতে তাই বলে। শাহেদ নিজেও বুঝতে চায়, ইমরানের সম্পৃক্ততাই বা কী?
ইমরান সমুচার প্লেট সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘নিন খান। খেতে খেতে বলুন।’
শাহেদ অন্যমনস্ক ভাবে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তার ইতস্তত ভাবটা কাটতে কিছুটা সময় লাগছে। সে তার হাতের ফোনটি নিয়ে টেবিলের উপরে ঘুরাতে লাগল।
শাহেদ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে সব ঘটনা খুলে বলল। ম্যারেজ মিডিয়া, এজাজ, জামান, নাতাশা, সোনিয়া—সবার কথা শুনে ইমরান বলল, ‘এখন কি করবেন?’

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *