Abinashi-Shabdo-Rashi

অবিনাশী শব্দরাশি (পর্ব-৩)

ডিনার শেষে মাহমুদ সাহেবকে স্থানীয় সংগঠকদের একজন তার হোটেলে পৌঁছে দিয়ে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগেই। তাকে বেশ ক্লান্ত লাগছে। ঢাকা থেকে মায়ামির লম্বা প্লেন জার্নিতে এমনিতেই বেশ ধকল গেছে। তার উপর জেটল্যাগ এখনো কাটেনি। তিনি রুমে ঢুকেই হ্যান্ডপার্সটি বিছানার পাশের টেবিলে রেখে দিলেন। তারপর কাপড় বদলানোর সময় পাঞ্জাবীর পকেট থেকে কিছু কাগজ বের করে টেবিলের উপর রাখলেন। অনেকগুলো বিজনেস কার্ড, ভক্তদের দেয়া ফোন নাম্বারের ছোট ছোট কাগজের টুকরাগুলো ছড়িয়ে রাখলেন। হঠাৎ করেই চোখে পড়ল একটা কাগজ যেখানে মুনা আর নীলিমার ফোন নাম্বার লেখা। সে কাগজটি তুলে ধরলেন একবার চোখের সামনে। তারপর রেখে দিয়ে বাথরুমে ঢুকে হাত মুখ ধুয়ে এসে বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
প্রত্যুষে নীলিমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। পর্দার ফাঁক গলে ভোরের সূর্যের আলো এসে নীলিমার চোখ ছুঁয়ে দিল। অভ্যাস মতো ঘুম চোখ রগড়ানোর জন্যে হাত তুলে চোখের কাছে নিতেই, নীলিমা তার ভেজা গালটা অনুভব করল। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে এলোমেলো ভাবতেই মনে পড়ল কাল রাতের কথা। আর সেটা মনে পড়তেই ভোরের সতেজ মনটা মরে সেখানে জায়গা নিলো এক রাজ্যের বিষণ্ণতা। তখন খেয়াল করল সে, সারাটা রাত ঠিক করে শোয়নি পর্যন্ত সে, এককোণে পড়ে আকাশ পাতাল ভাবছিল। কাঁদছিল না, চোখ দিয়ে আপনাতেই জল গড়াচ্ছিল। কখন যে তারমধ্যেই চোখ লেগে গিয়েছিল টের পায়নি সে।
নীলিমা আপ্রাণ চায় শুয়ে পড়া মাত্রই তার দুচোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসুক। মুক্তি মিলুক কুঁড়ে কুঁড়ে খাওয়া এই ভাবনার বেড়াজাল থেকে। কিন্তু চাইলেই ভাবনা থেকে মানুষের মুক্তি মেলে? যে কথা কাউকে বলা যায় না, সে কথার তো মনই আধার। ঘুরে ফিরে সে ভাবনা নিজেকেই কুঁড়ে খায়।
প্রতিদিনের রুটিন মাফিক সকালে উঠেই শোভনের জন্যে কফি আর সাথে হালকা নাস্তা তৈরী করে বসে থাকে নীলিমা। শোভন তৈরী হয়ে এসে নাস্তার প্লেট থেকে তড়িঘড়ি করে কিছু একটা মুখে দিয়ে কফির মগ নিয়ে কাজে চলে গেছে। নীলিমার কফি খাওয়ার অভ্যাস নেই। তার পছন্দ চা। সে দেশের মতই চা বানিয়ে নিয়ে বসে রইল চুপচাপ।
সকালে একটু দেরী করেই ঘুম ভাঙ্গল মাহমুদ সাজ্জাদের। শেষ রাতের দিকে তার একবার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করে সে উঠে পড়েছিল। কাগজ কলম নিয়ে একটি কবিতার কয়েকটি লাইন লিখে রেখেছে। রুমের ভিতর কিছুক্ষণ পায়চারী করে ভোরের দিকে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে।
ফোনের শব্দে মাহমুদ সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল। বেডসাইড টেবিল থেকে ফোনটা কানে নিয়ে হ্যালো বলতেই অন্য প্রান্ত থেকে জামানের কণ্ঠ শোনা গেল। জামান বলল, ‘মাহমুদ ভাই, উঠেছেন? রেডি হয়ে যান, আমি আপনাকে ঠিক এগারোটায় পিক করবো। মনে আছে তো আপনাকে নিয়ে আজ ডীপ সি ফিশিং-এ যাচ্ছি? তারপর বিকেলে ফিরে এসে বোট রাইড। অনেক এলিগেটর দেখতে পাবেন।’
‘আজ শরীরটা বেশী ভাল না।’ বললেন মাহমুদ সাহেব, ‘আজ থাক, কাল পরশু না হয় যাই?’
জামান একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘তাহলে দুপুরে এসে আমি আপনাকে লাঞ্চে নিয়ে যাবো। ঠিক আছে, আপনি রেস্ট নিন।’
‘না না আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে না। আমি রুম সার্ভিসে অর্ডার করে কিছু খেয়ে নেবো। আপনি বরং অন্যদেরকে বলে দেবেন, আমি আজ বের হবো না।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে। আমি না হয় বিকেলের দিকে একবার খোঁজ নেবো।’
‘ধন্যবাদ।’ বলেই মাহমুদ সাহেব ফোন রেখে দিলেন।
ফোন রেখে দিয়ে বেড সাইড টেবিলে রাখা কাগজের টুকরোগুলো থেকে মাহমুদ সাহেব একটা কাগজ হাতে নিলেন। সেখানে দুটো ফোন নাম্বার লেখা আছে। একটা মুনার আর একটা নীলিমার। সে কলম দিয়ে নীলিমার নাম্বারটাকে বৃত্তাকারে দাগ দিলেন। তারপর ফোনটা নিয়ে কাগজে লেখা নাম্বার দেখে একটা একটা নাম্বার চেপে ঠিক শেষ নাম্বারটাতে এসে থেমে গেলেন। কী ভেবে শেষ নাম্বারটা না চেপে ফোনটা নামিয়ে রাখলেন।
সকাল থেকেই নীলিমা ক্ষণে ক্ষণে ফোনের দিকে তাকাচ্ছে। অন্য কোনো কাজের মধ্যেও সে সজাগ রাখছে নিজেকে। কোনো এক বিচিত্র কারণে তার মনে হচ্ছে, তার কাছে একটা ফোন আসবে। কেউ একজন তাকে ফোন করবে। সে অপেক্ষা করছে। সব কাজের ফাঁকে সেই কাঙ্ক্ষিত ফোনের জন্যে অপেক্ষা করতে তার খারাপ লাগছে না।
সময় গড়িয়ে দুপুর। নীলিমা রান্নার আয়োজন করতে কিচেনে গেল আর তখনই হঠাৎ বাসার ফোন বেজে উঠল। এর আগে সকালে একবার একটা ফোন এসেছিল। সে আগ্রহ নিয়ে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে এক মহিলার কণ্ঠ শোনা গেল। ‘May I speak to Mr. or Ms. Amed, please?’ সে জানতে চাইল।
‘Speaking…’ নীলিমা বলল। যদিও তার শঙ্কা হলো এটা হয়ত কোনো সেলস কল হতে পারে। সকাল থেকেই এমন অনেক উদ্ভট ফোন আসা শুরু হয়। তবুও সে ভদ্রতা করে জানতে চাইল, ‘what is this call about?’
‘Ms. Amed, we have very exciting news for you. You are pre-approved for a home equity loan with the lowest interest rate of…’
‘Sorry, we’re not interested at this time. Thank you.’ মহিলার কথা শেষ হবার আগেই লাইন কেটে দিল নীলিমা। তার বুঝতে বাকী রইল না যে এটা সত্যি একটা সেলস কল। কোনো এক মর্টগেজ কোম্পানি টাকা ধার দিতে চায় কম ইন্টারেস্ট রেটে নতুন বাড়ি কেনার জন্যে অথবা পুরনো বাড়ি মেরামত করার জন্যে। মাঝে মাঝে এভাবে কথা শেষ না করে ফোন কেটে দিতে ওর খারাপ লাগে কিন্তু না দিয়েও উপায় থাকে না। এদের হাত থেকে সহজে নিস্তার পাওয়া যায় না। একটার পর একটা অফার দিতেই থাকে।
ফোন কেটে দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল নীলিমা। তারপর কিচেনে ফিরে রান্নার কাজ শুরু করতেই ফোনটা আবার বেজে উঠল। এটা কি সেই কাঙ্ক্ষিত ফোন না কি আবারো সেলস কল। নীলিমা দ্বিধা নিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বলল, ‘হ্যালো?’
‘বল তো কে ফোন করেছিল আমাকে?’ অপর প্রান্ত থেকে মুনার স্বভাবসুলভ কণ্ঠ ভেসে এলো।
‘কে?’ কিছুটা অবাক হয়ে জানতে চাইল নীলিমা।
‘কে আবার? কবি সাহেব!’
‘রিয়েলি? কি বললেন?’ কিছুটা নির্লিপ্ত কণ্ঠে জানতে চাইল নীলিমা।
মুনা হেসে দিয়ে বলল, ‘আমি তোর চেহারাটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি—মুখটা অন্ধকার করে ফেলেছিস। আই’ম জাস্ট কিডিংরে বাবা। আমাকে উনি ফোন করেন নি। তোকে নিশ্চয়ই করেছেন। এই তোর সাথে কি নিয়ে কথা হলো, বল না?’
‘আমাকে উনি ফোন করেন নি।’ একটু থেমে নীলিমা বলল, ‘তুই কি আমার নাম্বারটা ঠিকমত লিখেছিলি?’
‘কি বলছিস তুই, আমি তোর নাম্বারটা ঠিকমত লিখে দেই নি? এর মানে কি নীলি! তুই আমাকে এই ভাবছিস?’ মুনা রাগ করেই কথা গুলো বলল। ‘Ok then call him up, if you don’t trust me. Hotel Garden Inn, Room #724.’
‘তুই জানলি কিভাবে?’ অবাক হয়ে জানতে চাইল নীলিমা।
‘That’s not important.’ মুনার কণ্ঠে উষ্মা প্রকাশ পেল। সে বলল, ‘মেসেজটা তোকে দেবার জন্যেই ফোন করেছিলাম। I better hang up now.’
‘মুনা শোন, প্লীজ ডোন্ট হ্যাং আপ… আমি কিছু মীন করে বলিনি।’
অপর প্রান্ত থেকে মুনার কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। সে ফোন রেখে দিয়েছে। নীলিমার মনটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে মুনা ওকে আবার ভুল না বোঝে। ফোন রেখে কিচেনে চলে গেল নীলিমা। হঠাৎ তার মনে হলে সে কেনই বা অপেক্ষা করছে। আর তারই বা কি দায় পড়েছে নীলিমাকে ফোন করার। এমন জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিকদের হাজারো ভক্ত তাদেরকে ফোন নাম্বার দেয়, তাই বলে সবার সাথেই কি আর কথা হয়?
এর মধ্যে এক দিন কেটে গেছে। মাহমুদ সাজ্জাদকে নিয়ে ফ্লোরিডার বেশ কিছু জায়গা ঘুরিয়ে দেখিয়েছে জামান আর আতিকুর রহমান। গতকাল রাতে ছিল ডিনার রিসেপশন, ফ্লোরিডার স্বনামধন্য বাঙালি ব‍্যবসায়ী নৌশাদ চৌধুরীর বাসায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং কর্মী যারা নিরলসভাবে এই প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করে যাচ্ছেন। মাহমুদ সাহেব তাদের সবার সাথে মত বিনিময় করেছেন। কথা বলেছেন। তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন। এবং এই ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন।
বাংলা সাহিত্যে ভাষার প্রয়োগ, আঞ্চলিক ভাষা, প্রবাসের নতুন প্রজন্মের ভাষা, বাংলাদেশের এফএম ব্যান্ডগুলোর আর জে’দের ভাষার অপব্যবহার—বিকৃত উচ্চারণ, সাহিত্যর নানা বিবর্তন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সকলে মতামত তুলে ধরেন। সবার সঙ্গে প্রাণবন্ত একটা সন্ধ্যা কাটান কবি মাহমুদ সাজ্জাদ।
আজ সকাল থেকে সেদিনের অসমাপ্ত কবিতাখানি আবার লেখার চেষ্টা করছেন কবি। কোনো এক বিচিত্র কারণে তার লেখা আসছে না। বেশ কয়েকবার কাগজ কাটাকুটি করে ট্র্যাস বিনে ফেলে দিয়েছেন। এখন জানালার পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছেন বাইরে। হঠাৎ তার ভাবনায় ছেদ পড়ল দরজায় টোকার শব্দে। কিছুক্ষণ আগেই তিনি রুম সার্ভিসে অর্ডার করেছেন। এত তাড়াতাড়ি রুম সার্ভিস চলে এলো? তিনি কিছুটা অবাক হয়েই দরজা খুলে দিলেন এবং ততোধিক অবাক হয়ে দেখলেন হাসি হাসি মুখ করে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে।
মাহমুদ সাহেব নির্লিপ্ত নয়নে তাকালেন। হালকা সবুজ সুতোর কাজ করা তাঁতের শাড়িতে অপূর্ব লাগছে মেয়েটিকে। আঁচলটা ছেড়ে দেওয়া। কপালে কালো টিপ। দু’হাতে সবুজ আর নীল রংয়ের মিশ্রণে কাঁচের চুড়ির রিনিক ঝিনিক। চুলগুলো খোলাই ছিল। মেয়েটির এলোচুল থেকে মিষ্টি এক সুঘ্রাণ আবিষ্ট করল কবিকে।
মেয়েটিকে দেখে কবি সাহেবের তেমন কোনো ভাবান্তর হলো না। তিনি যে খুব একটা অবাক হয়েছেন তাও মনে হচ্ছে না। দরজায় দাঁড়ানো মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে খুব পরিচিত এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললেন, ‘এসো, ভিতরে এসো।’
মেয়েটি ভিতরে ঢুকল। তিনি ঘুরে তাকালেন মেয়েটির দিকে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ‘কেমন আছো তুমি?’
‘ভালো।’ রুমের ভিতরে সামনে দিকে এগিয়ে গেল মেয়েটি। চারিদিকটা একটু চোখ বুলিয়ে নিল। তারপর খুব স্বচ্ছন্দে বলল, ‘আপনি কি সব মেয়েদেরই তুমি করে বলেন না কি? বয়সে ছোট হলেই কি তুমি বলা যায়?’
‘সব মেয়েদেরকে নয়, যাদেরকে বলা যাবে বলে আমার মনে হয়, শুধু তাদেরকেই বলি। অবশ্য তোমার আপত্তি থাকলে বলবো না।’
‘আপত্তি নেই।’
‘বেশ।’
‘আপনাকে দেখে কিন্তু মনে হচ্ছে না যে আমাকে দেখে আপনি খুব অবাক হয়েছেন।’
‘কারণটা সহজ, তুমি আসবে সেটা আমি জানতাম।’
‘আপনি জানতেন?’ মেয়েটি অবাক হবার ভঙ্গি করে বলল। ‘আমি তো ভেবেছিলাম আপনি শুধু কবিতাই লিখেন—ভবিষ্যৎও যে দেখতে পান তা তো জানতাম না?’
‘সব সময় দেখতে পাই না, মাঝে মাঝে আমার ইনটুইশন কাজ করে।’
‘তাহলে লবিতে কেন অপেক্ষা করলেন না?’
‘সেটা খুব একটা বিজ্ঞান সম্মত হত না। তাছাড়া, মনের সব খেয়ালকে বেশি প্রশ্রয় দেয়াও ঠিক নয়।’
‘কিসে আপনার মনে হলো যে আমি আসব?’
‘তা জানি না। ঐযে বললাম, ইনটুইশন। সকাল থেকেই মনে হচ্ছিল আজ তোমরা দুজনে আসতে পারো। তুমি একা আসবে সেটা বুঝিনি।’
‘ও আসতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মাইন্ড চেঞ্জ করেছে।’ ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসি নিয়ে মেয়েটি বলল।
মাহমুদ সাহেব মৃদু হাসলেন। প্রশ্রয়ের হাসি।
মেয়েটির মনে হলো—তিনি সম্ভবত ওর কথা বিশ্বাস করেননি। প্রসঙ্গ বদলে ও বলল, ‘আমি আসায় আপনি খুশী হয়েছেন?’
‘প্রত্যাশায় প্রাপ্তি এলে, খুশী না হওয়ার কোনো কারণ তো থাকতে পারে না।’
‘আই সি!’ একটা অর্থপূর্ণ হাসি দিয়ে মেয়েটি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। পর্দা সরিয়ে তাকাল বাইরে।
ফ্লোরিডার নীল আকাশে ঝলমল করছে সোনালী রোদ। মেয়েটি তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। নীল রঙের প্রতি তার দুর্বলতা অস্বাভাবিক রকমের। বাইরে রোদ-ঝলমল নীল আকাশ আর তার চেয়েও বেশি নীল সমুদ্র দু’বেলা হাতছানি দিয়ে ডাকলে কি আর ঘরে বসে থাকা যায়? তাই তো মাঝে মাঝেই সে ছুটে যায় এই নীলের কাছাকাছি। তার ধারণা এই নীলের বাড়াবাড়ির জায়গাটাই হলো ফ্লোরিডা।
সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল কবির দিকে। তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার নির্জন তপস্যায় ব্যাঘাত ঘটালাম না-তো আবার?’
‘আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। আমার আবার তপস্যা কী? তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে লেখার জন্যে কিছুটা তপস্যার মতো করতে হয় বৈকি।’
‘অতি সাধারণ হওয়াটা তো অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার—সবাই সাধারণ হতে পারে না। অসাধারণ হওয়াটাই বরং সহজ। যে কেউ হতে পারে।’
‘বাহ! চমৎকার।’ কবি চমৎকৃত হলেন এবং তার মুগ্ধতা প্রকাশে কোনো রকম কার্পণ্য করলেন না। তিনি বললেন, ‘তুমি তো বেশ গুছিয়ে কথা বলো!’
‘সত্যি বলছেন?’
‘হুম!’
‘সত্যি না ছাই।’
মেয়েটির কথার ধরনে মাহমুদ সাহেব হেসে ফেললেন।
‘কোথাও যাননি যে? কেউ নিতে আসেনি আজ?’
‘আসতে চেয়েছিল, না করে দিয়েছি। এখন তুমি এলে। রুম সার্ভিসে অর্ডার দিয়েছি—কিছু খেয়ে তারপর তোমার সাথে না হয় বাইরে ঘুরতে যাবো।’
‘অর্ডার ক্যান্সেল করে দিন। আজ আমি আপনাকে আমার প্রিয় একটা জায়গায় লাঞ্চ করাতে নিয়ে যাবো। আপনি তৈরী হয়ে নিন।’
কিছুক্ষণ ভেবে মাহমুদ সাহেব সম্মতি দিয়ে বললেন, ‘বেশ চলো তাহলে যাওয়া যাক।’

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *