বায়তুল মোকাররম চত্বরে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ করেই দেখা গেল হায়দার হোসেনকে। পাঠক, মনে আছে হায়দার হোসেনের কথা? ম্যারেজ মিডিয়া অফিসে বসে যিনি অনর্গল কথা বলে যাচ্ছিল, নায়াগ্রা ফলসের সব বরফ জমে যাওয়ার ইতিহাস বলছিল তাঁর পাশের আরেক প্রার্থীর কাছে।
ভীড় ঠেলে এগিয়ে আসছিল অতি কথক হায়দার। হঠাৎ তাঁর চোখ আঁটকে গেল পাশের একটি দোকানে। সে থমকে দাঁড়াল। ধীর পায়ে সে এগিয়ে গেল। দোকানে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনের কাভার দরদাম করছে মানুষটাকে তাঁর পরিচিত মনে হল। বেশ কিছুদিন সে এই লোক আর তাঁর পার্টনারকে খুঁজছে। হায়দার আরো কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আরে, এজাজ সাহেব না?’ সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ আপনিই তো!’
এজাজ হকচকিয়ে গেল। ঘুরে তাকিয়ে দেখল হায়দারকে। সে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কী করতে হবে। এজাজ হাসি হাসি মুখ করে বলল, ‘আরে ভাই আপনি? কী খবর, কেমন আছেন?’
‘কেমন আছি জানস না? শুয়োরের বাচ্চা—তোরে খাইছি, আইজক্যা! শালা ফ্রড। এই ধর।’
এজাজ হাত থেকে ফোনের কাভার ফেলে দিয়ে দিগ্বিদিক দৌড়ে মিশে গেল ভিড়ের মধ্যে।
হায়দার আশেপাশের সবাইকে দেখিয়ে বলল, ‘ভাই ধরেন তো। ঐ ব্যাটারে ধরেন।’
এজাজ দ্রুত রাস্তা টপকে এক দৌড়ে জিপিওর সামনের রাস্তায় একটা খালি সিএনজিতে লাফ দিয়ে উঠে পরল। পেট চেপে কোঁকাতে কোঁকাতে বলল, ‘ভাই, তাড়াতাড়ি একটা হসপিটালে যান। ইমারজেন্সি। মরে গেলাম। আহ, উহ।’
হায়দার পেছনে দৌড়ে এসেও এজাজকে ধরতে পারল না। সিএনজি চালক ঝরের গতিতে বের হয়ে গেল ভিড়ের মধ্য থেকে।
সিএনজি চালক জিপিও মোড় পার হয়ে কিছুদূর এগিয়ে যেতেই এজাজ বলল, ‘এই থামেন।’
চালক অবাক হয়ে পেছনে তাকাল। এজাজ আবার বলল, ‘থামাইতে বলতেছি কানে যায় না কথা?’
চালক গাড়ি থামাতেই এজাজ সুস্থ মানুষের মত নেমে বলল, ‘কত হইছে?’
চালকের মুখে কোন কথা নেই। সে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে এজাজের দিকে।
‘ধুর মিয়া, এই ধরেন।’ এজাজ তাঁর পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট চালকের হাতে দিয়ে দ্রুত রাস্তার উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করল।
সিনএনজি চালক হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল এজাজের গমন পথের দিক।।
…
শাহেদের সব কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে সুজন বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না শাহেদ এই প্রতারক চক্রের হাতে নাকানি চুবানি খাচ্ছে। সে গম্ভীর হয়ে বলল, ‘তুমি তো দেখি বড় রকমের ধরা খাইছ, শাহেদ।’
শাহেদ বিচলিত কণ্ঠে বলল, ‘এখন আমি কী করব?’ সে ভেঙে পড়ল। তার চোখ ভিজে এলো।
‘ব্যবস্থা নিতেছি, তুমি চিন্তা কইর না।’ সুজন তাকে আশ্বস্ত করে বলল, ‘আমার নেটওয়ার্কের কারো না কারো কাছ থেকে খবর বের করে ফেলব। দাঁড়াও এক মিনিট।’
সুজন তাঁর ফোন থেকে কাউকে ফোন করল। অপর প্রান্ত থেকে হ্যালো বলতেই সুজন বলল, ‘হ্যালো, কে বিল্টু? আমি সুজন।’
‘জি বস।’
‘বিল্টু শোন, জরুরী একটা কাজ করে দিতে হবে তোর।’
‘কাজটা কী বস?’
‘কাজটা হল, ঢাকা শহরের যত ম্যারেজ মিডিয়া এজেন্সি আছে, তার একটা লিস্ট কালকের মধ্যেই আমি চাই। পারবি না বাইর করতে?’
‘কী মিডিয়া কইলেন বস?’
‘ম্যারেজ মিডিয়া।’
‘ম্যারেজ মিডিয়াটা কী জিনিস?’
‘ম্যারেজ মিডিয়া জানস না? আরে গর্দভ, ম্যারেজ মিডিয়া হইল ঘটকালির কারখানা। সোজা বাংলায় বিয়ার দালালি করে যারা। এইবার ক্লিয়ার?’
‘জি, বস, ক্লিয়ার। আমারে একটা দিন সময় দেন।’
সুজন ফোন কেটে দিয়ে শাহেদের দিকে ফিরে হেসে দিল। ‘দেখলা তো? কাজ শুরু করে দিলাম। তুমি একেবারেই চিন্তা করবা না। এখন তুমি নিশ্চিন্তে বাসায় যাও। আমি খবর হলেই তোমারে জানাব।’
‘থ্যাঙ্ক ইউ, সুজন ভাই।’
‘আরে থ্যাঙ্ক ইউ পরে দিলেও চলবে। কাজটা হোক আগে।’
কৃতজ্ঞতায় শাহেদের চোখ ভিজে এলো। এই মানুষটারে কত তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে সবাই—অথচ, কত বড় হৃদয়ের। তবুও সুজনের ব্যবসার ধরণটা তার পছন্দ না বলেই শাহেদ একবার বলল, ‘সুজন ভাই, এত বড় মনের একজন মানুষ হয়ে আপনি কেন ক্ষুদ্র কাজ করেন? আপনার উচিৎ…’
‘শাহেদ, আমি বুঝছি তুমি কী কইতে চাও। এই কাজ আমিও আর করব না। মানুষের দীর্ঘশ্বাস খুব খারাপ জিনিষ—অভিশাপ লাগে। যাও তোমারে কথা দিলাম। এখন থেকে অন্য কাজের ধান্দা করব। দরকার হইলে, গ্রামে যাইয়া চাষাবাদ করব।’
শাহেদের চোখ আবার ভিজে এলো। সে সুজনকে জড়িয়ে ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল কয়েকমুহূর্ত—তারপর বের হয়ে গেল ঘর থেকে।
…
অনেকক্ষণ থেকে ডোরবেলটা বাজছে।
সোমা দরজা খুলে দিল। শাহেদ আর ইমরান দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসল শাহেদ। সোমা কোন প্রতিক্রিয়া কিংবা উচ্ছ্বাস দেখাল না। সে সরে দাঁড়িয়ে ওদেরকে ভেতরে ঢুকতে দিল। শাহেদ ঘরে ঢুকে বলল, ‘কিরে, তুই ক্লাসে যাসনি আজ?’ শাহেদ প্রাণপনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল। যেন কিছুই ঘটে নি, এমন ভাবে কথা বলার চেষ্টা করল।
‘না।’
‘কেন?’
‘তোমার শোকে ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’
‘গুড। এই না হলে ছোট বোন। বাবা কোথায়রে?’
‘বারান্দায়। পেপার রিভাইজ দিচ্ছে।’
যেন সোমা খুব মজার একটা কথা বলেছে, শাহেদ হেসে দিয়ে বলল, ‘আর মা?’
‘কোথায় আবার—রান্নাঘরে।’
শাহেদ ইমরানের দিকে ঘুরে বলল, ‘ইমরান, তুমি একটু বস, আমি আসছি।’ বলেই শাহেদ ভেতরে চলে গেল।
ইমরান তবুও দাঁড়িয়ে রইল। সোমা বলল, ‘আপনি বসুন।’ বলেই সোমা ভেতরের দিকে চলে যাচ্ছিল। ইমরান বলল, ‘এক্সিউজ মি। আমাকে এক গ্লাস পানি খাওয়াতে পারবেন?’
সোমা একবার তাকাল ইমরানের দিকে। কিছু না বলে সে ভেতরে চলে গেল।
ইমরান বসে রইল চুপচাপ।
…
শাহেদ বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
শাহেদের উপস্থিতি টের পেয়ে রাকিবউদ্দিন পেপার নামিয়ে রাখলেন।
‘বাবা, আই এম সরি।’
‘এভাবে বাসা থেকে চলে গিয়ে কাজটা তুমি ভাল করনি। আই এক্সপেক্টেড ইউ টু বি লিটিল মোর রেস্পনসিবল। আমাদের বয়স হয়েছে—এ বয়সে হার্টের উপর প্রেশার পড়ে, এমন কাজ না করাই ভাল।।।
‘এমন কোন কাজ আর করব না বাবা, আই প্রমিজ।’
‘প্রমিজ করতে হবে না। তোমার মা’র সঙ্গে দেখা করেছ?’
‘না।’
‘যাও আগে তার কাছে যাও।’
‘বাবা, আই’ম সরি এগেইন।’
‘ইমরানও কি এসেছে তোমার সাথে?’
‘হ্যাঁ।’
‘ঐ বুদ্ধিমান গাধাটাকে বল, দুপুরে খেয়ে যেতে।’
শাহেদ হেসে ফেলল।
…
সোমা রান্নাঘরে এসে ঢুকল। সে ফ্রিজ খুলে এক বোতল ঠাণ্ডা পানি বের করে গ্লাসে ঢালল। পানি নিয়ে বের হয়ে যাবার মুহূর্তে জাহানারা জানতে চাইলেন, ‘পানি নিচ্ছিস কার জন্যে?’
‘ইমরান সাহেবের জন্যে।’
‘ইমরান সাহেবটা আবার কে?’
‘ভাইয়ার বন্ধু। বুদ্ধিমান গাধা।’
‘বুদ্ধিমান গাধা মানে?’
‘মানে বাবাকে জিজ্ঞেস কর।’
জাহানারা বিরক্ত কণ্ঠে বললেন, ‘তোর বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে কেন? আর তুই এমন রোবটের মত কথা বলছিস কেন?’
‘এত কেন কেন কর না তো মা। তুমি বড় যন্ত্রণা কর। রোবটের মত কথা বলছি কেননা আমার অনুভূতিগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে আর এই বুদ্ধিমান গাধাটা হচ্ছে ভাইয়ার বন্ধু। ঐ যে সেদিন এসেছিল—সে আজকে তোমার ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছে।’
জাহানারা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন, ‘শাহেদ এসেছে? কোথায়? আমার শাহেদ কোথায়?’
বলতে বলতেই শাহেদ রান্নাঘরে এসে ঢুকল। সোমা বলল, ‘এই যে তোমার শাহেদ এসে গেছে।’
শাহেদ তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মা।’
আনন্দে জাহানারা কেঁদে ফেললেন। তিনি শাহেদের মুখে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘এ’কদিনেই কেমন কালো হয়ে গেছিস তুই। মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে।’
মায়ের আহ্লাদ দেখে সোমা মৃদু হাসল। তারপর পানি নিয়ে বেরিয়ে গেল।
শাহেদ বলল, ‘মা, আমি কালোও হই নি, শুকিয়েও যাই নি। আমি যেমন ছিলাম তেমনই আছি। এখানে আলো কম বলে তুমি আমাকে ভালোমতো দেখতে পাচ্ছ না। আজকের মেন্যু কি, মা? খুব খিদে পেয়েছে।’
‘মেন্যু নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। তুই যা, হাত মুখ ধুয়ে নে। আমি খাবার দিচ্ছি।’
‘আমার বন্ধুও কিন্তু খাবে আমাদের সঙ্গে।’
‘তো খাবে, অসুবিধা কি?’
শাহেদ খুশি মনে তার ঘরে গেল ফ্রেশ হবার জন্য।
…
দুপুরে সবাই খেতে বসল একসঙ্গে।
খাওয়ার মধ্যে বেশিরভাগ কথাই হল ইমরানের সঙ্গে। খেতে খেতেই ইমরান বেশ কয়েকবার তাকাল সোমার দিকে। সোমার সঙ্গে কয়েকবার চোখাচোখিও হল। প্রতিবারই সোমা চোখ সরিয়ে নিল। ইমরান মৃদু হাসল।
…
মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। তবু কিছু মানুষ জেগে আছে, অন্যরা নিদ্রিত।
শাহেদের চোখে ঘুম নেই। বিছানায় শুয়েই সে খোলা জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরে। শাহেদের প্রায়ই নাতাশার কথা মনে পড়ে। মেয়েটা কোথায় গেল। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার সে চেষ্টা করেছে—কিন্তু প্রতিবারই কল চলে গেছে ভয়েজ মেসেজে। নাতাশার কথা ভাবতে ভাবতেই শাহেদের ফোন বেজে উঠল। তিন রিং-এর মাথায় শাহেদ ফোন নিয়ে দেখল অপরিচিত নাম্বার। তবুও সে বলল, ‘হ্যালো?’
অপর প্রান্ত থেকে কোন কথা শোনা গেল না।
‘হ্যালো? কে?’
অপর প্রান্ত থেকে একটা দীর্ঘশ্বাসের মত ভেসে এলো।
‘কথা বলছেন না কেন? হ্যালো? আপনি কে?’
অপর প্রান্ত নিশ্চুপ।
‘কথা না বললে ফোন করেছেন কেন? এত রাতে এধরণের রসিকতা করার কোন মানে হয়না। যত্তসব!’
হঠাৎই ফোন কেটে গেল। শাহেদ ফোন সামনে নিয়ে এসে দেখল।
…
সকাল দশটা।
ইমরান দাঁড়িয়ে আছে শাহেদদের বাসার দরজায়। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেল সে ডোরবেল চেপেছে। এত সকালে আরো একবার বেল বাজাবে কি না ভাবতে ভাবতেই দরজা খুলে গেল। দরজা খুলে সোমা দেখল ইমরানকে। কয়েক মুহূর্তের জন্য সোমার চেহারায় একটা খুশির ঝিলিক এসেই মিলিয়ে গেল। এত সকালে ইমরানকে দেখে সোমা অবাক হল। তাঁর কৌতূহলী দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ইমরান ইতস্তত করে বলল, শাহেদ… আসতে বলেছিল… সকালে। ও কি উঠেছে?’
‘ভাইয়া তো ঘুমাচ্ছে এখনো। অনেক রাত পর্যন্ত ওর ঘরে লাইট জ্বলতে দেখেছি। হয়তো রাতে দেরিতে ঘুমিয়েছে। আপনি বসুন, আমি চা নিয়ে আসি।’
‘ব্যস্ত হতে হবে না।’
‘অসুবিধা নেই। চা বানানোই আছে। আপনি বসুন।’
সোমা ভেতরে চলে গেল। ইমরান বসে রইল চুপচাপ।
রাকিবউদ্দিন সাহেব বসার ঘরে আসলেন আজকের খবরের কাগজ এসেছে কিনা দেখার জন্য। দেখলেন ইমরান বসে আছে। ইমরান উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিল। সালামের উত্তর দিয়ে রাকিবউদ্দিন সাহেব বললেন, ‘তারপর ইয়াংম্যান, কালপ্রিট দু’টোর কোন খোঁজ বের করতে পারলে?’
‘এখনো পারি নি, তবে পারব। ঢাকায় যত ম্যারেজ মিডিয়া আছে, সবগুলোই আমরা খুঁজে দেখছি। বের করে ফেলব।’
‘দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই বুঝলে।’ রাকিব সাহেব হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘চোখের সামনে দিয়ে এত বড় বড় এক একটা প্রতারণার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, অথচ… যাকগে, বাদ দাও এসব কথা, তুমি চা-টা কিছু খেয়েছ?’ ইমরান কিছু বলার আগেই তিনি আবারো বললেন, ‘আশ্চর্য, ছেলেটা এতক্ষণ ধরে বসে আছে… গেল কোথায় সবাই? সোমা, এই সোমা?’
‘আঙ্কেল, ব্যস্ত হতে হবে না। আমি সকালে তেমন কিছু খাই না।’
ইমরানের কথার কোন গুরুত্ব না দিয়ে রাকিবউদ্দিন সোমার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ভেতরে চলে গেলেন।
কিছুক্ষণ পরেই ট্রে-তে নাস্তা সাজিয়ে সোমা এসে ঢুকল বসার ঘরে। ট্রে-টা নামিয়ে রেখে ইমরানের দিকে নাস্তার প্লেট আর চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। ইমরান চায়ে চুমুক দিল। সোমা বসে রইল চুপচাপ।
কিছু সময় নীরবে পার হল। ইমরান ইতস্তত করে বলল, ‘আপনি অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন তাই না?’
‘কী করে জানলেন?’ সোমা অবাক হয়ে জানতে চাইল।
‘আপনিই তো বললেন, অনেক রাত পর্যন্ত শাহেদের রুমে লাইট জ্বলতে দেখেছেন!’
সোমা মৃদু হাসল। এত সুন্দর মুখের একটা মেয়ে, এত সুন্দর করে হাসছে, তবুও কোথায় যেন একটা বিষণ্ণতার ছায়া লুকিয়ে আছে। ইমরান বলল, ‘একটা কথা জিজ্ঞেস করি, ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড।’
‘করুন।’
‘আপনি সবসময় ডিপ্রেসড থাকেন কেন? ইজ এনিথিং রং?’
‘নাথিং রং।’
‘ইট একচুয়ালি.. ডাজন’ট গো উইথ ইউ।’
‘এক্সকিউজ মি?’
‘তোমার চেহারায় বিষণ্ণতা মানায় না। সরি, মানে আপনার চেহারায়।’
‘তাই? কি মানায় আমার চেহারায়?’
ইমরান ঠিক কী বলবে বুঝতে পারল না। সে নীরবে তাকিয়ে রইল সোমার মুখের দিকে।
‘আমাকে তুমি করে বলায় আমি কিছু মনে করি নি। ভাইয়াকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি আরেকটু বসুন।’
সোমা চলে গেল ভেতরে। ইমরান তাকিয়ে রইল। সোমার প্রতি মায়ায় মোড়ানো তীব্র এক টান অনুভব করল সে।
ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-১৮)
with
no comment

