marriage-media

ম্যারেজ মিডিয়া (পর্ব-১৭)

শাহেদ আর ইমরান একগাদা নিউজপেপার নিয়ে বসেছে। তারা ম্যারেজ মিডিয়ার যত বিজ্ঞাপন আছে, একে একে সবগুলিতে ফোন করে দেখছে, এজাজ কিংবা জামানের কণ্ঠস্বর শোনা যায় কি না। এক পর্যায়ে শাহেদ ধৈর্যহারা হয়ে পড়ল। ‘এভাবে কল করে কি কোন লাভ হবে, ইমরান? আই’ম গেটিং ফ্রাস্ট্রেটেড। বাদ দাও।’
‘না, না বাদ দেব কেন? এত তাড়াতাড়ি রণে ভঙ্গ দিলে তো বন্ধু চলবে না। উই হ্যাভ টু ফাইন্ড দেম।’
‘আমার মনে হয়না কিছু হবে। আমরা চরম ধরা খেয়েছি। উই আর স্ক্রুড!’
‘জানি। কিন্তু আমি এত তাড়াতাড়ি হাল ছাড়ছি না।’
ইমরান হঠাৎ লক্ষ করল শাহেদের মুখ অন্ধকার। অন্য কোন ব্যাপার হতে পারে। সে কৌতূহলী দৃষ্টিতে বলল, ‘তোমার কি কোন কারণে মন খারাপ, শাহেদ? খুব ডিপ্রেসড লাগছে।’
‘এখন পর্যন্ত এমন একটা কাজও আমি করতে পারি নি ইমরান, যা কি না খুশি হবার মত যথেষ্ট কারণ হতে পারে! ডিপ্রেসড থাকাটাই তো স্বাভাবিক তাই না?’
‘হুমম।’
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শাহেদ বলল, ‘আমার একটা কাজ করে দেবে ইমরান?’
‘অবশ্যই। বল, কি করতে হবে?’
শাহেদ তার রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে আসার বিষয়টি বলল ইমরানকে। ‘একটা নাম্বার দিচ্ছি, সেখানে ফোন করে বলবে, আমি ভাল আছি—আমাকে নিয়ে বিশেষ চিন্তা না করতে। পারবে?’
‘না পাড়ার তো কিছু নেই। অবশ্যই পারব। দাও—নাম্বারটা দাও।’

পূর্ব নির্ধারিত সময় মোতাবেক সুজন বদরুল সাহেবের বাসায় যেয়ে হাজির হল। বদরুল সাহেব দরজা খুলতেই সুজন সময় ক্ষেপণ না করে বলল, ‘টাকা রেডি করেছেন?’
‘জি।’
‘তাহলে দিন, আমাকে আবার কোর্টে যেতে হবে। দলিল বের করা, মিউটেশন করা, হাজারো ঝামেলা।’
‘আরে বসেন একটু। চা-পানি খান। এত তাড়া কিসের?’
‘বসলে তো আঙ্কেল আমার চলবে না। হাতে অনেক কাজ। আরও দু’জায়গায় যেতে হবে। ঠিক আছে, বলেন চা দিতে।’
বদরুল সাহেব ভেতরে গিয়ে দু’কাপ চায়ের কথা বলে এলেন। বসলেন সুজনের সামনের সোফায়। একটু সময় নিয়ে ইতস্তত করে বললেন, ‘ছোট একটা সমস্যা হয়ে গেছে সুজন সাহেব।’
‘কী সমস্যা?’
‘বায়নার সব টাকাটা জোগাড় হয় নাই।’
‘মানে?’
‘না মানে, পুরো টাকাটা এখন দিতে পারছি না। তবে এখন পঞ্চাশ দিচ্ছি, বাকিটা কাল নাগাদ দিয়ে দিতে পারব।’
‘কথা তো এমন ছিল না, আপনি বলেছিলেন পুরো টাকাটা একসাথে দেবেন। এখন বলছেন, পঞ্চাশ দিচ্ছি- এর মানে কী? এভাবে তো আঙ্কেল জমি কিনতে পারবেন না।’
‘হ্যাঁ বলেছিলাম, কিন্তু…’
কাজের ছেলে দু’কাপ চা, এক গ্লাস পানি আর কিছু বিস্কিট একটা ট্রে-তে সাজিয়ে টেবিলে নামিয়ে রাখল।
সুজন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, দেন পঞ্চাশই দেন। তবে কালকের মধ্যে বাকি টাকাটা রেডি রাখবেন। বারে বারে আসাতো অনেক খরচের ব্যাপার তাইনা?’
বদরুল সাহেব মুখ উজ্জ্বল করে বললেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ। থ্যাঙ্ক ইউ ফর ইয়োর আন্ডারস্ট্যান্ডিং। খরচ নিয়ে ভাববেন না। আমি আপনার আসা-যাওয়ার খরচ দিয়ে দেব।’
‘আপনি কি জানেন, কত ঝামেলা করে আপনাকে প্লটটা ম্যানেজ করে দিচ্ছি? আমার বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার জোগাড় হয়েছিল প্রায়…’
‘থ্যাঙ্ক ইউ। থ্যাঙ্ক ইউ।’ বদরুল অমায়িক কণ্ঠে বললেন, ‘আমি টাকাটা নিয়ে আসি। আপনি চা খান। প্লিজ!’ বলে বদরুল সাহেব উঠে চলে গেলেন ভেতরে।
সুজন মৃদু হেসে চায়ে চুমুক দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বদরুল একটা বাদামি রঙের কাগজের ঠোঙা নিয়ে এলো। তাঁর মধ্যে এক বান্ডিল নোট। সুজনের হাতে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এখানে পঞ্চাশ আছে। আর এই নেন-
আপনার আসা যাওয়ার খরচ। এক হাজার।’
‘থ্যাংকস!’ সুজন উঠে দাঁড়াল।
‘সুজন সাহেব, টাকাটা গুনে নিলেন না?’
‘তার কি কোন প্রয়োজন আছে? আর তাছাড়া কাল তো আমি আসছিই। কমবেশি হলে কাল বুঝে নেব।’ সুজন হাসিমুখে বের হয়ে গেল। বদরুল সাহেব তাকিয়ে রইল অবাক দৃষ্টিতে।
সুজন জানে, বদরুল সাহেবের বাসার ত্রিসীমানায় সে আর কোনদিন ফিরে আসবে না। যা হাতানো গেছে তাই সই।

ভর সন্ধ্যা।
সোমা তার ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দিল। কোন রকমের আলোই তার সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু ঘর পুরোপুরি অন্ধকার হল না। পাশের ঘর থেকে আলো আসছে। বারান্দায় লাইট জ্বলছে। সে আধো আলোর মধ্যেই বিছানায় শুয়ে রইল।
মিসেস জাহানারা কি মনে করে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে সোমার ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকল, ‘মা! একটু এখানে আসবে?’
জাহানারা দাঁড়িয়ে সোমার ডাক শুনলেন দ্বিতীয়বার। সে তার ঘরে এসে দেখলেন, সোমা ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছে। ঘরে ঢুকেই তিনি লাইট জ্বালিয়ে দিলেন। ভ্রূ কুঁচকে জানতে চাইলেন, ‘কী রে কী হয়েছে?’
‘এখানে আস একটু, তোমার সাথে কথা বলব।’
জাহানারা মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন। কপালে আর চিবুকে হাত রেখে গায়ের তাপ অনুভব করলেন। তারপর উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন, ‘তোর কি শরীর খারাপ?’
‘না, শরীর ঠিকই আছে।’
‘বল কি বলবি?’
‘ভাইয়াকে নিয়ে এত অস্থির হবার দরকার নেই।’
জাহানারা অবাক কণ্ঠে বললেন, ‘দরকার নেই কেন?’
‘ভাইয়া ভাল আছে। আর কোথায় আছে আমি জানি। কিন্তু বাবাকে কিছু বলবে না।’
‘কেন? তাকে বললে অসুবিধা কী?’
‘অসুবিধা আছে। ভাইয়া চায় না বাবা জানুক, না জেনে একটু হার্ড টাইম পাক।’
‘হার্ড টাইম পাক মানে কী?’
‘মানে কিছু না। মানে বাবা মনে মনে একটু কষ্ট পাক। এই আর কী।’
‘কষ্ট কী আর এমনিতেই সে কম পাচ্ছে!’ একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে জাহানারা বললেন, ‘এখন তোর কী কথা সেটা বল। অবেলায় শুয়ে আছিস! মন খারাপ?’
‘লাইটটা অফ করে দাও, মা।’
‘লাইট অফ করতে হবে কেন?’
‘আমার যা কথা, লাইট থাকলে বলতে পারব না।’
জাহানারা সোমার কথা কিছুই বুঝতে পারলেন না। এই মেয়েটার কার্যকলাপ মাঝে মাঝে তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না। তিনি জানেন, কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। তিনি লাইট বন্ধ করে পাশে এসে বসলেন সোমার।
সোমা উঠে বসল। একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল, ‘আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, মা। রাতে ঘুমাতে পারি না। সারারাত ছটফট করি। রাতে ঘুমাতে পারিনা বলেই দিনে এত ঘুমাই।’
জাহানারা ভীত কণ্ঠে বললেন, ‘তোর কী হয়েছে?’
‘আমি বড় একটা ভুল করে ফেলেছি।’ বলতে বলতে সোমা ডুকরে কেঁদে ফেলল।
‘আমাকে বল, সোমা। কাঁদিস না। আমাকে বল।’
‘আমি বলতে পারব না।’
‘আমি তোর মা, আমাকে না বললে তুই কাকে বলবি।’
সোমার শরীর ফুলে ফুলে উঠছে। বুকে চাঁপা কষ্ট নিয়ে সে কাঁদতে কাঁদতেই বলল, ‘আমি, আমি একজনকে ভালবেসেছিলাম। তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।’
‘ঠিক আছে, এই নিয়ে এত ভাবনার কী আছে?’ জাহানারা মেয়েকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বললেন, ‘তো ছেলেটাকে আসতে বল। তোর বাবার সাথে কথা বলতে বল।’
‘ছেলেটা আর নেই।’
জাহানারার বুক ধক করে উঠল। তিনি বললেন, ‘নেই মানে?’
‘ও চলে গেছে।’
‘কোথায়?’
‘আমেরিকায়।’
‘আর আসবে না?’
‘জানি না।’
সোমা ভেবেছিল সে কঠিন পাথর হয়ে থকবে। এই প্রতিজ্ঞা সে রাখতে পারল না। মাকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মত কাঁদতে লাগল।
জাহানারা সোমাকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার আদরের মেয়ের সব কষ্ট শুষে নিতে চাইল।

বেশ খানিকটা রাত করে শাহেদ এলো সুজনের বাসায়। সুজন দরজা খুলে দিতেই শাহেদ ঘরে ঢুকল। সুজনের বসার ঘরে আলাদা কোন টেবিল চেয়ার না থাকায় বেশিরভাগ লেখালেখির কাজ ডাইনিং টেবিলে বসেই করতে হয়। সেটাও যে বড় কোন টেবিল তাও না। দেয়ালের সাথে মিশিয়ে লাগানো ছোট একটা টেবিল আর দু’পাশে দুটো চেয়ার। সুজন সেই টেবিলে বসে খাতায় কিছু একটা লিখছে। লেখাটা শেষ করে শাহেদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী অবস্থা শাহেদ, তোমার কাজ-টাজ কিছু হয়েছে?’
শাহেদ হ্যাঁ না কিছু বলল না।
সুজন চিন্তিত কণ্ঠে বলল, ‘তোমার ঘটনাটা কী? ধরা টরা খাইছ নাকি?’
‘ধরা খাব মানে?’
‘মানে কিছু না। তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। তেমন কিছু হয়ে থাকলে আমাকে বলতে পার।’
সুজনের কথার উত্তর না দিয়ে শাহেদ বলল, ‘আপনি কী করছেন?’
‘এইতো পত্রিকায় জমি বিক্রির একটা অ্যাড দিব। ওটার খসরা তৈরি করছি। দেখত, কেমন হল? আমি পড়ছি, শোন’
ঢাকার অদূরে, এই মুহূর্তে বাড়ি করার মত উপযুক্ত উঁচু জমির উপরে ৫ কাঠার একটি প্লট জরুরী ভিত্তিতে বিক্রয় হইবে। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার্থে জরুরী ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন। সত্ত্বর যোগাযোগ করুন: সুজন জোয়ারদার । মোবাইল ০১৭১-
শাহেদ কৌতূহলী কণ্ঠে জানতে চাইল, ‘জমিটা কার?’
‘আছে, আমার এক পরিচিত।’
‘কার ক্যান্সার হয়েছে?’
সুজন নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, ‘কারো না।’
শাহেদ বিস্মিত কণ্ঠে বলল, ‘কারো না? তাহলে লিখছেন কেন?’
‘আরে এটা হচ্ছে বিজ্ঞাপনের ভাষা, মুল আকর্ষণ বলতে পার।’ সুজন ব্যাখ্যা করার ভঙ্গিতে বলল, ‘ক্যান্সারের কথা না বলে অন্যভাবে বলা যেত। এই যেমন ধর, আমি যদি বলতাম জমিতে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সামান্য জটিলতা আছে, তাহলেও চলত। দয়া পরবশ হয়ে অথবা সামান্য জটিলতার লোভে পার্টি ইন্টারেস্টেড হবে। এদের মধ্যে থেকে কাউকে বেছে নিয়ে টোপ ফেলতে হবে।’
শাহেদ থমথমে গলায় বলল, ‘তার মানে এটা তো এক ধরণের প্রতারণা!’
‘এক এক ব্যবসার, এক এক ধরণ। এইটা তুমি বুঝবা না। এখন বল, তোমার সমস্যা কী?’
শাহেদ নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, ‘আমার কোন সমস্যা নেই।’
সুজনের ব্যবসার ধরণটা শাহেদের ভাল লাগল না। ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার্থে জমি বিক্রয় আর ডিভোর্সি মেয়েকে বিয়ে করে কানাডা যাবার সুযোগ—এসব বিজ্ঞাপনের ভাষায় শাহেদ কোথায় যেন একটা মিল খুঁজে পেল। এসবই সরল মনের মানুষদেরকে ফাঁদে ফেলার কৌশল। শাহেদ মুখ অন্ধকার করে বসে রইল।
‘শাহেদ শোন, সেদিন তোমার চেহারা দেখেই আমি বুঝেছি তুমি বড়সড় রকমের একটা ঝামেলায় পড়েছ। আমি যে লাইনে কাজ করি, তাতে মানুষের চেহারা দেখেই বলে দিতে পারি। তুমি আমাকে বল- দেখি আমি কিছু করতে পারি কি না।’
‘কী বলব। দেশটা ছেয়ে গেছে প্রতারক আর প্রতারণায়। কে যে আসল আর কে নকল বোঝা মুস্কিল।’ কথা বলতে বলতে শাহেদ চলে গেল সুজনের সামনে থেকে—শোবার ঘরের বিছানার ওপর গা এলিয়ে তাকিয়ে রইল শূন্য দৃষ্টিতে।
সুজন অবাক দৃষ্টিতে একবার তাকাল শাহেদের দিকে, তারপর খাতায় লেখা বিজ্ঞাপনের দিকে মনোযোগ দিল।

জাহানারা উদ্বেগের সাথে রাকিবুদ্দিন সাহেবকে সোমার ব্যাপারে বললেন।
রাকিবুদ্দিন বললেন, ‘সোমার সঙ্গে কথা বলেছ?’
‘হ্যাঁ, তোমার কথাই ঠিক। ও একটা ছেলেকে ভালবেসেছিল। তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিল।’
রাকিবউদ্দিন ভ্রূ কুঁচকে বললেন, ‘পাস্ট টেন্সে কথা বলছ কেন? ভালবেসেছিল, বিয়ে করতে চেয়েছিল, এর মানে কী? এখন আর ভালবাসে না?’
‘না।’
‘কেন?’
‘ছেলেটা আমেরিকায় চলে গেছে, ওকে না জানিয়ে।’
‘ও।’ রাকিবুদ্দিন অদ্ভুতভাবে তাকালেন। বিষয়টি যে তিনি ঠিক মত বুঝলেন কি না বোঝা গেল না। তবে তিনি এ নিয়ে আর কিছু বললেন না। কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন।

দুপুরের দিকে শাহেদদের বাসার কলিংবেল বেজে উঠল।
বেশ কিছুক্ষণ পরে সোমা এসে দরজা খুলে দিয়ে দেখল, লম্বা, ঝাঁকড়া চুলের এক সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। সোমা অবাক হয়ে তাকাল। সোমা কিছু বলার আগেই যুবক তার পরিচয় জানাল।
‘আমার নাম ইমরান। শাহেদের বন্ধু। আপনি নিশ্চয়ই সোমা?’
‘জি।’
‘আমি কি একটু ভিতরে আসতে পারি?’
‘আপনাকে কি ভাইয়া পাঠিয়েছে?’ সোমা পাল্টা প্রশ্ন করল।
‘জি। আমি আপনার বাবার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই।’
‘আসুন।’
সোমা দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে ইমরানকে ঢুকতে দিল। ‘আপনি বসুন, আমি বাবাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’
ইমরানকে বসতে বলে সোমা ভেতরে চলে গেল। ইমরান মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকল সোমার চলে যাওয়ার দিকে। প্রথম দর্শনেই সোমার সৌন্দর্য, নমনীয়তা এবং কোমল কণ্ঠ তাকে মুগ্ধ করল। কিন্তু চেহারাটা এত মলিন কেন? ইমরান চারিদিকে তাকিয়ে সোফাতে বসল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রাকিবউদ্দিন সাহেব এসে তাকালেন ইমরানের দিকে। ইমরান বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘স্লামালাইকুম আঙ্কেল।’
‘ওয়ালাইকুম সালাম।’ না চেনার ভঙ্গিতে তিনি বললেন, ‘তুমি…?’
‘আমার নাম ইমরান, শাহেদের বন্ধু। আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাচ্ছিলাম।’
‘বস।’
রাকিবুদ্দিন সাহেব বসলেন সোফাতে। ইমরানও বসল।
‘বল, কি বলতে এসেছ?’
‘আঙ্কেল, আমিও শাহেদের মত একজন ভিক্টিম। শাহেদের মত আমিও ধরা খেয়েছি। অনেকগুলো টাকা হারিয়েছি।’
‘ধরা খেয়েছ মানে কি?’
‘মানে, শাহেদ যাদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে, আমিও তাদের কাছ থেকেই প্রতারিত হয়েছি।’
রাকিবউদ্দিন ভ্রূ কুঞ্চিত করলেন। ‘তাহলে তুমিও ঐ বুদ্ধিমান গাধাদের একজন।’
‘জি?’
সোমা বসার ঘরে ফিরে আসতেই শুনতে পেল তার বাবা ইমরানকে বলছে বুদ্ধিমান গাধা। সোমা হেসে ফেলল। সোমার হাতে একটি ট্রে-তে এক গ্লাস লেবুর শরবত আর এক গ্লাস পানি। সে সামনের টেবিলে ট্রে নামিয়ে রাখল।
রাকিবউদ্দিন সাহেব বললেন, ‘শাহেদ কি তোমার সঙ্গেই থাকছে? গাধাটা আছে কোথায়?’
ইমরান তাকাল সোমার দিকে। সোমা মৃদু হাসল। ইমরান ঘুরে বলল, ‘কেন, সোমা তো জানে। ও বলে নি আপনাদেরকে?’
‘কই, ওতো কিছু বলেনি।’ বলেই রাকিবুদ্দিন তাকালেন সোমার দিকে। সোমা মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।
‘শাহেদ আসলে লজ্জা আর ভয়ে বাসায় আসছে না।’
‘এখন আর লজ্জা বা ভয় পেয়ে কী হবে।’ রাকিবউদ্দিন বললেন, ‘যা হবার হয়েছে। এখন কিভাবে রিকভার হবে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। তুমি ওকে নিয়ে আস, যাও।’ রাকিব সাহেব ভেতরে চলে গেল।
ইমরান চলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়াল।
‘শরবৎটা খেয়ে যান’ সোমা বলল, ‘গরমের মধ্যে এসেছেন। শরবৎটা খান—ভাল লাগবে।’
ইমরান আবার বসল। সোমা শরবতের গ্লাস এগিয়ে দিল ইমরানের হাতে। ইমরান গ্লাসে ছোট একটা চুমুক দিয়ে তাকাল সোমার দিকে। সোমা তাকিয়ে আছে তার দিকে। সোমার চোখের দিকে তাকিয়ে গ্লাসে চুমুক দিতে গিয়ে ইমরান শরবৎ ফেলে দিল খানিকটা। সোমা হেসে ফেলল।
মানুষের হাসি এত সুন্দর হয়? ইমরান আবারো মুগ্ধ হল।

পরের পর্ব

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *