মাঝ রাতে অকস্মাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল শরীফের। কোনো কারণ ছাড়াই সে ধড়মড় করে উঠে বসল বিছানায়। কেন যেন অস্থির লাগছে। তার পানি পিপাসা লেগেছে। সে পাশের টেবিলে রাখা পানির বোতল থেকে পানি খেয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকল। সে মনে করতে পারল না সে কী কোনো স্বপ্ন দেখেছে? তাহলে এমন লাগছে কেন?
কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে সে আবার যখন শুয়ে পড়তে যাবে তখন হঠাৎ কি মনে করে পাশের টেবিল থেকে তার মোবাইল ফোনটা হাতে নিল। শরীফ একবার ঘুমাতে গেলে কখনোই ফোন খুলে দেখে না। রাত-বিরাতে কেউ যে তাকে ফোন করে তাও না—তবু সে ফোন বন্ধ করে ঘুমায়।
ফোনটা হাতে নিতেই স্ক্রিনের লাইট জ্বলে উঠল। সে দেখল একটা টেক্সট মেসেজ। শরীফের মনে হলো তার জীবনে এত সুন্দর মেসেজ সে আর কোনদিনই দেখেনি। খুশীতে তার চোখ ছল ছল করে উঠল। সে মেসেজটা আবার দেখল। রুবিনা লিখেছে, প্লিজ কল মি!
শরীফ ঘড়ি দেখল। রাত তিনটা বেজে তের মিনিট। এত রাতে কি ফোন করা ঠিক হবে? কিন্তু, রুবিনা নিশ্চয়ই কোনো বিপদে পড়েছে—না হলে ফোন করতেই বা বলবে কেন? রুবিনা ওকে ছেড়ে চলে গেছে দু’সপ্তাহ হয়ে গেল। এর মাঝে কখনোই সে শরীফকে ফোন করতে বলেনি। রুবিনা নিজে থেকেই দু’একবার ফোন করেছে—ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বলেছে, যেন তাকে সে তাড়াতাড়ি ডিভোর্স দিয়ে দেয়। রুবিনার পক্ষে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কাজেই তার জন্যে অপেক্ষা করে থাকারও কোনো দরকার নেই। শরীফ অবশ্য কিছুই বলেনি তাকে। কোনো অনুনয় বিনয় বা অনুরোধ কিছুই করেনি।
শরীফ টেক্সট মেসেজের সময় দেখল। রুবিনা মেসেজটি পাঠিয়েছে রাত বারোটা বেজে বিশ মিনিটে। তার মানে মাত্র তিন ঘণ্টা আগে। এত রাতেই বা সে কোথায়? অনেক ভেবে শরীফ সিদ্ধান্ত নিল—ফোন করবে রুবিনাকে। কিন্তু যদি সে ঘুমিয়ে থাকে? যেখানেই থাকুক এত রাতে নিশ্চয়ই সে জেগে নেই। ফোন করে ঘুম নষ্ট না করে বরং টেক্সট মেসেজে রিপ্লাই দিয়ে দেখলে কেমন হয়? ও যদি জেগে থাকে কিংবা সত্যিই কোনো বিপদে পরে তাহলে নিশ্চয়ই সে উত্তর দিবে। শরীফ রিপ্লাই বাটনে চাপ দিয়ে লিখল, ‘আর ইউ আপ?’
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শরীফের ফোনে উত্তর এলো, ‘ইয়েস।’
শরীফ ফোনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এবং ঠিক সে সময় আরো একটি মেসেজ এলো। রুবিনা লিখেছে, ‘ক্যান উই টক?’
রুবিনা কথা বলতে চাইছে। কিন্তু সে বলেনি এখনি না অন্য যে কোনো এক সময়। বলেছে, ক্যান উই টক? বলেনি, ক্যান উই টক নাও? শরীফ কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেল। তার কি এখনি কল করা উচিৎ এই এত রাতে নাকি সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। সে আবার ঘড়ি দেখল, রাত তিনটা সতের। শরীফ চুপ করে বসে রইল।
শরীফের চিন্তার ব্যাঘাত ঘটিয়ে হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল। রুবিনার ফোন। শরীফ ফোন ধরে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল, ‘হ্যালো!’
রুবিনা কোনো কথা বলল না। চুপ করে রইল। তার নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে—ভারী নিঃশ্বাস।
শরীফ আবার বলল, ‘রুবি!’
রুবিনা এবারো নিশ্চুপ। সে নিজেকে স্থির করার চেষ্টা করছে। প্রচণ্ড অভিমান আর অপমানে তার বুক ভারী হয়ে আছে। তার চোখ ভিজে যাচ্ছে।
‘তুমি কোথায়? কী হয়েছে?’ উৎকণ্ঠা নিয়ে শরীফ জানতে চাইল।
‘এয়ারপোর্টে।’ ভাঙা কণ্ঠে বলল রুবিনা।
‘কোন এয়ারপোর্টে?’
‘লাগোর্ডিয়া।’
‘এত রাতে? কোথায় যাচ্ছ?’
‘জানিনা।’
‘মানে কী?’ শরীফ ঠিক বুঝতে পারল না। সে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি ঠিক আছো তো? ইজ এভ্রিথিং অলরাইট?’
‘নো।’ আস্তে করে ভারী কণ্ঠে কোনো রকমে ছোট এক শব্দে উত্তর দিল রুবিনা।
‘কী হয়েছে? আমাকে বলা যাবে?’
রুবিনা চুপ করে গেল আবার। নীরবতা কাঁটিয়ে একসময় সে অস্ফুটে বলল, ‘আমি চলে এসেছি।’
শরীফ বুঝতে পারল না কী বলবে। তার কি খুশি হওয়া উচিৎ? ক্ষীণভাবে একটা সূক্ষ্ম জয়ের আনন্দ কি সে অনুভব করছে? শরীফের সব সময়ে মনে হয়েছে, রুবিনা একদিন ফিরে আসবে। এমন একটা ফোন কল তার আসবে—বলবে, আমি চলে এসেছি। যদি সত্যিই তাই হয়, তখন সে কী করবে? গ্রহন করবে রুবিনা কে? সম্পর্কটা কি আগের মতো আর হবে? রুবিনার যা ব্যক্তিত্ব, তাতে মনে হয় না সে কখনও নিজ থেকে বলবে, আমার ভুল হয়েছিল। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। শরীফ যথাসম্ভব তার উত্তেজনাকে সংযত রেখে বলল, ‘চলে এসেছি মানে কী? কী হয়েছে তোমার?’
সে কথার উত্তর না দিয়ে হু হু করে কেঁদে ফেলল রুবিনা। দু’হাতে মুখ চেপে কাঁদতে লাগল। কেন কাঁদছে সে নিজেও জানেনা। অনেক চেষ্টা করেও সে তার কান্নার বাঁধ সংবরণ করতে পারল না। রাত বাড়ার সাথে সাথে সিটি নেভার স্লিপস—নিউ ইয়র্কের ব্যস্ততম এয়ারপোর্টের ব্যস্ততা কমে এসেছে অনেকটাই। আর মাত্র ঘণ্টা খানিক পরেই শুরু হয়ে যাবে এয়ারপোর্টের ব্যস্ততা। শেষ রাতের এই থমথমে আওয়াজের সাথে রুবিনার কান্নার আওয়াজ মিশে গেল।
শরীফ আর কিছু না বলে চুপ করে রইল। ওকে কাঁদতে দিল। কিছু সময় পরে রুবিনার কান্নার বেগ কমে এলো। একটু সময় নিয়ে শরীফ বলল, ‘আমাকে কি বলবে, কী হয়েছে?’
‘তুমি শুনে কী করবে শরীফ?’ হঠাৎ ঝাঁঝাল কণ্ঠে বলে উঠল রুবিনা। ‘তোমার মতো একজন নির্জীব, অনুভূতিহীন মানুষের পক্ষে কি কিছু করা সম্ভব?’
শরীফ কোনো কথা খুঁজে পেল না। কী বলবে? রুবিনা ইচ্ছে করেই তাকে একটা খোঁচা দিয়েছে—শরীফ অপ্রস্তুত হয়ে বসে রইল।
অপরপ্রান্তে রুবিনা কেঁদেই চলেছে। সবকিছু সহ্য করা যায় কিন্তু একটা মেয়ের কান্না সহ্য করা যায় না। শরীফের কেমন যেন মায়া লাগতে লাগল মেয়েটির জন্য। যদিও সে জানে রুবিনা একটা ভুল করেছে, বেশ বড় ধরণের ভুল—তাই বলে কি সারাজীবন তাকে সাফার করতে হবে? শরীফের বিশ্বাস রুবিনা একদিন তার ভুল বুঝতে পারবে। এমন একটা ফোনের অপেক্ষায় কি সে থাকেনি? সত্যি বলতে কী—সে অপেক্ষাতেই ছিল। তাহলে কি রুবিনা সত্যি সত্যিই তার ভুল বুঝতে পেরেছে? সে জন্যেই কি সে চলে এসেছে? নাকি অন্য কিছু? কোনো বিপদও তো হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রুবিনা কিছুই বলছে না।
‘আমি অনলাইনে টিকেট কেটে দিচ্ছি—তুমি নেক্সট ফ্লাইট ধরে চলে এসো।’ রুবিনাকে আশ্বস্ত করে বলল শরীফ।
‘না।’
‘না, কেনো?’
‘সেটা তুমি ভালো করেই জানো। আমার পক্ষে তো আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।’
‘তুমি না বললে তুমি চলে এসেছে? তাহলে কোথায় যাবে, কী করবে তুমি?’
‘জানি না।’
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শরীফ বলল, ‘তুমি ফিরে এসো রুবি। আমরা আবার নতুন করে শুরু করি সব কিছু।’
‘করুণা?’
‘মোটেই না।’ একটু থেমে শরীফ আবার বলল, ‘দায়িত্ব। ভালোবাসা।’
এরপর রুবিনা কোনো কিছু আর বলতে পারল না। অঝরে কাঁদতে থাকল।
নিঃশব্দের কান্না কিন্তু কান্নার গভীরতা বুঝতে শরীফের কষ্ট হলো না। তার ইচ্ছে হলো এখুনি গিয়ে রুবিনা যেখানে আছে সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসতে। রুবিনার নিঃশব্দ কান্নার শব্দ তার কর্ণ কুহরে প্রবেশ করে এখন হৃদয় ক্ষরণ শুরু করে দিয়েছে। সে কালক্ষেপণ না করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল—তাকে যেতে হবে এবং এখুনি। শরীফ বলল, ‘তুমি যেখানে আছো—সেখানেই থাকো। কোথাও যাবে না। আমি আসছি।’
‘তোমাকে আসতে হবে না।’
‘শোনো রুবি, আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি আসছি না। তুমি না চাইলে আসবে না—কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তোমার একটা ব্যবস্থা তো হওয়া দরকার। নিউ ইয়র্কে কি তোমার পরিচিত কেউ আছে? তুমি কি সব কিছু চেন? নতুন একটা জায়গায় সেটেল হতেও সময় লাগে। আমি শুধু তোমার একটা ব্যবস্থা করে দিয়েই আবার চলে আসব।’
‘আমি একটা খারাপ মেয়ে—আমার জন্য কেন তুমি কষ্ট করবে?’
‘ভালো-খারাপ বিবেচনার সময় এখন না রুবি। আর তুমি ভালো না খারাপ সে বিচার করারও আমি কেউ নই। তুমি যা করেছ, সেটা তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষের জন্য করেছ। এটা নিয়ে আমার জন্য কোনো আক্ষেপ নেই। তবে হ্যাঁ ব্যাপারটার একটা সমাধান অন্য ভাবেও করা যেত। কিন্তু আমরা কি সব সময় সঠিক কাজটি করি? ভুল করি বলেই আমরা মানুষ—নাহলে অন্য কেউ হতাম।’
রুবিনা মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলল। সে কিছু একটা বলতে চাইল কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। শরীফ বুঝতে পেরে তাকে আশ্বস্ত করল এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। তাঁর নিজেরও একটা ব্রেক দরকার। রুবিনা দেশ থেকে আসার পর ওকে নিয়েও কোথাও যাওয়া হয়নি। সেই অর্থে মেয়েটিকে সময়ও দেয়া হয়নি। সে-ই বা ওকে কতটুকু চিনেছে। শরীফের মনের মধ্যে এক ধরণের খচখচানি শুরু হলো। সে দ্রুত একটা ব্যাগ গুছিয়ে নিল। কিছু কাপড়, সেভিং কীটস, টুথ পেস্ট-ব্রাশ, মেডিসিন, ল্যাপটপ, ফোন চার্জার আর টুকিটাকি কিছু জিনিস ব্যাগে ভরে নিয়ে বের হয়ে পড়ল। গন্তব্য এয়ারপোর্ট।
ভোরের আলো তখনো ফোটেনি ভালভাবে। আধো আলো আধো অন্ধকার। পূবের আকাশে কমলা আভা। শিকাগোর রাস্তা একদমই ফাঁকা। অল্প কিছু গাড়ি চলাচল করছে। এয়ারপোর্টে পৌঁছতে বেশি দেরি হলো না শরীফের। এয়ারপোর্টে পৌঁছে নিউ ইয়র্কের ফ্লাইট কাউন্টারে দিয়ে দাঁড়াল সে। খোঁজ নিয়ে দেখল কোনো স্ট্যান্ডবাই টিকেট পাওয়া যাবে কিনা। শরীফের ভাগ্য সহায় হলো। শেষ মুহূর্তে একটা ক্যানসেলেশনের কারণে সে শিকাগো-নিউ ইয়র্কের প্রথম ফ্লাইটের একটা সীট পেয়ে গেল।
সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে শরীফের ফ্লাইট নিউ ইয়র্কের লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করল। দুরুদুরু বক্ষে সে বের হয়ে এলো প্লেন থেকে। সে জানে রুবিনা এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের কোথাও বসে আছে—কিন্তু এত বড় এয়ারপোর্টে অবস্থান না জেনে খুঁজে বের করা কিছুতেই সম্ভব হবে না। শরীফ ফোন করল রুবিনাকে। রুবিনা ঘুম জড়ানো কণ্ঠে হ্যালো বলতেই শরীফ উত্তেজিত হয়ে বলল, কোথায় তুমি? রুবিনা চারিদিকে তাকিয়ে তার অবস্থান জানাল শরীফকে। রুবিনা কোথায় আছে সেটা জেনে নিয়ে শরীফ এগিয়ে গেল।
সাউথওয়েষ্ট এয়ারলাইন্সের লাউঞ্জে এসে একবার চারিদিকে দেখেই দূর থেকে শরীফ দেখতে পেল রুবিনাকে—লাউঞ্জের একটি কর্নারে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কেমন জবুথবু হয়ে বসে রয়েছে মেয়েটি। জানালার কাঁচ ভেদ করে আসা রোদের আলোতে আরো মায়াবী দেখাচ্ছে তার ছিপছিপে শরীরটাকে। দেখেই ভীষণ মায়া লাগল তার। শরীফ রুবিনাকে দেখতে পেলেও প্যাসেঞ্জারদের ভীরে রুবিনা শরীফকে দেখতে পেল না। শরীফ খুব দ্রুতই পৌঁছে গেল রুবিনার কাছে।
শরীফ রুবিনার পেছনে গিয়ে দাঁড়াতেই রুবিনার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যেন বুঝতে পারল কিছু। সে তড়িৎ গতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েই দেখল শরীফকে। দাঁড়িয়ে আছে ঠিক তার চোখের সামনে—মুখে এক প্রশস্ত নির্ভরতার হাসি। ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা টেনে বলল, ‘দেখলে, ঠিকই চলে এসেছি।’
রুবিনার চোখ দুটি ছলছল করে উঠল। পারিপার্শ্বিকতা সব ভুলে আবেগে সে জড়িয়ে ধরল শরীফকে। আহা বেচারি, কেমন ফুলে ফুলে কাঁদছে।
শরীফও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরল রুবিনাকে। ওর মতো আবেগহীন মানুষের কাছ থেকে এরকম উষ্ণ আলিঙ্গন ভাবাই যায় না।
রুবিনার গাল বেয়ে নেমে এলো উষ্ণ চোখের জল। তির তির করে কেঁপে উঠতে লাগল তার সমস্ত হৃদয়। শরীফের আলিঙ্গনে সে নিজেকে আবিষ্কার করল সম্পূর্ণ এক অন্য রুবিনাকে।
অপ্রাপ্ত ভালোবাসার দুজন মানুষ আওয়াজহীন ভালোলাগায় বুঁদ হয়ে রইল।
(সমাপ্ত)
পরিশিষ্ট: এই পর্বটি অনুরোধের ঢেঁকি গেলা জাতীয় লেখা। দুবছর আগে যখন মূল গল্পটি ক্যানভাস এবং পেন্সিলে পোষ্ট করেছিলাম, তখন এই পর্বের কোনো অস্তিত্বই ছিল না এবং কখনো লিখতে হবে সেটাও ভাবি নি। তবে গল্পের ওপেন এন্ডিং এর বিষয়টি অনেকে সহজে নিতে পারেন নি—তারা চেয়েছিলেন হ্যাপি এন্ডিং। কিছুদিন আগে অন্যপ্রকাশে গল্পটি পূণঃপ্রকাশ করার পরে সেই একই ধরণের মন্তব্য এবং অনুরোধ আসতে থাকে। এই পর্যায়ে এসে পাঠকদের ইচ্ছাটাকেই প্রাধান্য দিতে চাইলাম।
কিছু কিছু গল্প থাকে, লেখক তাঁর নিজের খুশি মতন লিখে যায়। বাস্তবে আসলে কী ঘটে সে তাঁর ধাঁর ধাঁরে না। মূল গল্পে রুবিনা, সোহেলের বাসা থেকে বের হয়ে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় হারিয়ে যায়। সেখানেই আমাদের গল্পটি শেষ হয়েছিল। তারপর রুবিনা কী করল? আসলে আদৌ কি সে এয়ারপোর্টে গিয়ে বসে ছিল? সে কি সত্যি সত্যিই শরীফকে মেসেজ পাঠিয়েছিল? শরীফ কি সত্যি সত্যিই এসেছিল রুবিনার কাছে? বাস্তবে এসব কিছু ঘটেছে কি না আমরা জানি না, তবে এভাবে ভাবতে ভালো লেগেছে বিধায় এই পর্বটি এভাবে লেখা হয়েছে। লেখকের স্বাধীনতা বলে কথা।
যারা চেয়েছিলেন শরীফ আর রুবিনার মিল হোক, এই পর্বটি তাদের জন্য। বাকীদের জন্য আগের শেষটাই শেষ।
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

