Anya-Kew

অন্য কেউ (শেষ পর্ব)

আজকে পেশেন্টের ভিড় খুব একটা নেই ড. জোনসের অফিসে তবুও বেশ দেরি করেই ডাক পড়ল ফরিদের। ফরিদ ভিতরে ঢুকতেই ড. জোনস প্রাথমিক কুশলাদি সেরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রথম কবে আপনার মনে হলো আপনার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ?’
মিলি মানসিকভাবে অসুস্থ! কথাটা শুনতে ফরিদের মোটেও ভালো লাগল না। মিলির মধ্যে সামান্য অস্বাভাবিকতা আছে এটা ঠিক কিন্তু তাই বলে ওকে কি অসুস্থ বলা যাবে? কিন্তু যে অস্বাভাবিকতা ওর মধ্যে আছে কিংবা ঢুকে পড়েছে, তার একটা চিকিৎসা হওয়া দরকার, সেটা ফরিদ বিশ্বাস করে।
ফরিদ চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। কিন্তু একদিনের ঘটনা সে কিছুতেই ভুলতে পারবে না। তার মনে পড়ে গেল সেদিনটির কথা।
গভীর রাতে একদিন হঠাৎ ঘুম ভেঙে ফরিদ দেখল, মিলি বিছানায় নেই। চারিদিকে শুনশান নীরবতা। ফোনের পর্দায় সময় দেখল রাত দুটা বেজে তেইশ মিনিট। নিশ্চয়ই বাথরুমে গেছে, এতরাতে আর যাবেই বা কোথায়। ফরিদ অন্যদিকে ঘুরে ঘুমানোর চেষ্টা করল আবার।
মিলি সাধারণত একবার ঘুমিয়ে পড়লে সকালের আগে ঘুম থেকে উঠে না। বাথরুমে যেতে হবে সেই ভয়ে রাতে সে বেশি পানিও খায় না। প্রায় দশ মিনিট হয়ে গেল মিলির ফিরে আসার নাম নেই। বাথরুমে যদি যেয়েও থাকে, এতক্ষণ সেখানে সে কী করছে? ছোট বড় যেই কাজই হোক, এত সময় তো লাগার কথা না।
ফরিদ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে নেমে পড়ল সে। লক্ষ করল বাথরুমের দরজার ফাঁক গলে আলো দেখা যাচ্ছে। সে এগিয়ে গিয়ে আস্তে করে টোকা দিল দরজায়। মিলি কোনো উত্তর দিল না। কমোডে বসে আবার ঘুমিয়ে পড়ল নাকি। ফরিদ দরজার নব ঘুরাতেই খুলে গেল খানিকটা। আস্তে করে দরজা সরিয়ে মাথা ঢুকিয়ে দেখল, কিন্তু মিলিকে দেখা গেল না। সে আর একটু ঢুকে মাথা ঘোরাতেই তার চোখ চলে গেল বাথটাবের দিকে। এবং সঙ্গে সঙ্গেই তার সমস্ত শরীরটা প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে শক্ত হয়ে গেল। মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। ফরিদ দেখল, বাথটাব পূর্ণ হয়ে আছে পানিতে—সেই পানিতে উপুড় হয়ে ভাসছে মিলির শরীর—সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায়। মিলি এভাবে কতক্ষণ ধরে মাথা ডুবিয়ে আছে কে জানে। হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেয়ে দ্রুত মিলির শরীরটা ঘুরিয়ে টেনে তুলল ফরিদ। মাথাটা উঁচু করে ধরতেই বড় করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে চোখ মেলে তাকাল মিলি।
ফরিদ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে মিলির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘মিলি, কী হয়েছে তোমার? তুমি এভাবে…’
ফরিদের কথা শেষ হবার আগেই মিলি বলল, ‘কিছু হয় নি তো! কী হবে আবার?’
চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল ফরিদ। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।
‘ভয় পেয়েছ?’ মিলি আবার তাকাল ফরিদের দিকে।
ফরিদের মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হলো না। তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, মিলি এভাবে পানি ভর্তি বাথটাবের মধ্যে মাথা ডুবিয়ে ছিল কেন—এসবের মানে কী?
মিলির চেহারায় একটা অপ্রকৃতিস্থ ভাব ফুটে উঠেছে। সে ঘোরলাগা মানুষের কণ্ঠে বলল, ‘একটা এক্সপেরিমেন্ট করছিলাম। টাওয়েলটা দাও তো, শীত লাগছে।’
ফরিদের ইচ্ছে হলো জিজ্ঞেস করতে, কীসের এক্সপেরিমেন্ট? ঠিক তক্ষুণি লক্ষ করল মিলির শরীর কাঁপছে থরথর করে। ফরিদ দ্রুত একটা তোয়ালে দিয়ে মিলিকে পেঁচিয়ে ধরে বিছানায় নিয়ে এলো। ব্লাঙ্কেট দিয়ে শরীর ঢেকে জড়িয়ে ধরে রাখল। ধীরে ধীরে উষ্ণতা ফিরে এলো মিলির দেহে। কিছুক্ষণের মধ্যে কাঁপুনির মাত্রাও কমে এলো এবং এক পর্যায়ে সে ঘুমিয়েও পড়ল।
ফরিদ জেগে রইল বাকি রাত। ঘুমন্ত মিলির পাশে বসে আকাশ-পাতাল ভাবতে লাগল সে।
সব শুনে ড. জোনস গম্ভীর হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ একমনে কী যেন ভাবলেন তিনি। নোটপ্যাডে কিছু লিখলেন আবার কেটেও দিলেন। কিছু একটা মেলানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ফরিদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনাদের বাচ্চাটি মারা যাবার কতদিন পরের ঘটনা এটি?’
‘দেড় কি দুমাস পর, সঠিক মনে নেই।’
‘আর কোনো অস্বাভাবিক আচরণ কিংবা এমন কিছু কী সে করে যা দেখে মনে হতে পারে সে অসুস্থ?’
‘না। তবে মাঝে মাঝে ও খুব আনমনে তাকিয়ে থাকে একদিকে।’
‘এনিথিং এলস?’
একটু ভেবে নিয়ে ফরিদ বলল, ‘বাথটাবে শুয়ে থাকে।’
‘পানি ছেড়ে?’
‘হ্যাঁ।’
ড. জোনসের একবার মনে হলো এটা পোস্ট-পারটাম ডিপ্রেশনের কেস। সন্তান জন্ম দেয়ার পরপরই অনেক মা সন্তান জন্মদান পরবর্তী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু পরিবারের নিকটজনেরা অনেকক্ষেত্রেই এই বিষণ্নতাকে চিহ্নিত করতে পারে না। ফলে ঘটে দুঃখজনক পরিণতি।
ড. জোনসের লিলিয়ান নামের এক পেসেন্টের কথা মনে পড়ে গেল। সন্তান জন্মদানের পর ইনসমনিয়াতে আক্রান্ত হয় লিলিয়ান এবং সব মিলিয়ে তাল সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে। এই পরিস্থিতিই ধীরে ধীরে মনোরোগ হিসেবে দেখা দেয় এবং ড. জোনসের পরামর্শক্রমে ওষুধ সেবনও শুরু করে সে। তারপরেও একদিন লিলিয়ানের স্বামী বাড়ি ফিরে দেখে তাদের সাত মাসের শিশুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। আর তার স্ত্রীকে পাওয়া যায় শহরের সন্নিকটে একটি লেকের ধারে। পরবর্তীতে জানা যায়, নিজের সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে মারার পর লিলিয়ান নিজেও ডুবে মরতে গিয়েছিল এবং সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকে।
নিজের সন্তানকে মেরে ফেলার আগে অন্তত আশি ভাগ নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় এবং মাথা ব্যথা, ঘুমহীনতা ও অনিয়মিত পিরিয়ডের ব্যাপারে পরামর্শ নেয়।
মিলির অস্বাভাবিকতাকে হালকাভাবে নেবার কোনো সুযোগ নেই। খতিয়ে দেখতে হবে সেও কোনো রকম ডিপ্রেশনে ভুগছে কি না। শিশুটি মারা যাবার পর থেকেই মিলি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তীব্র অপরাধবোধের কারণে বাথরুমে গেলেই তাঁর মনে হয় শিশুটি তার অবহেলার কারণে মারা গেছে। মিলিকে সুস্থ করতে হলে যেভাবেই হোক ওর মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে যে বিষয়টি ছিল নেহায়েত দুর্ঘটনা।

ফরিদের সঙ্গে কথা শেষ করে ড. জোনস মিলিকে ডাকলেন।
‘আপনার ঘুম কেমন হয়?’ মিলির সঙ্গে কথা বলার সময় ড. জোনস জিজ্ঞেস করলেন।
‘আমার ঘুমে কোনো সমস্যা নেই। ঘুম ভালই হয়।’ মিলির সাবলীল উত্তর।
‘আপনার স্বামী বলছিল আপনি ঘুমের মধ্যে বাথরুমের মধ্যে গিয়ে বসে থাকেন।’
‘ঘুমের মধ্যে যাই না তো! আমি তো জেগেই থাকি।’
‘আপনি মাঝে মাঝেই এটা করেন?’
‘জি।’
‘কেন?’
‘এমনিই—কোনো কারণ নেই।’
‘বিনা কারণে কি কেউ কিছু করে মিস মিলি?’
‘আমি তো নিজের ইচ্ছেয় করি না।’
‘তবে?’
‘অন্য কেউ একজন আমাকে দিয়ে করায়।’
‘কে সে?’
‘তা তো বলতে পারব না।’
‘মিস মিলি—বিষয়টা আমার জানা দরকার!’
মিলি কোনো উত্তর দিল না। সে উঠে গিয়ে চুপ করে তাকিয়ে রইল অন্যদিকে।
ড. জোনস আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। তার যা বোঝার তিনি বুঝে ফেলেছেন। মিলির ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছেন বলেই তার ধারণা।

মিলির যেটা হয়েছে—মেডিক্যাল টার্মে তাকে বলে অডিটরি হ্যালুসিনেশন। মানসিকভাবে আঘাত প্রাপ্ত অনেকের এরকম হয়। অনেকটা সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের মতো। খুব সম্ভব মেয়েটি সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছে। এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে—যাকে বলে নিউরোসিস। তবে এখনই চিকিৎসা না করালে সাইকোসিস পর্যায়ে চলে যাবে। সে পর্যায়ে গেলে ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটতে থাকবে। তাই ব্যবস্থা যা করার এখনই করতে হবে।
ড. জোনস মিলিকে তার নির্বাহী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিলেন ফরিদকে। কিছু ক্লিনিক্যাল টেস্ট অ‍্যান্ড ট্রায়ালের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চান তিনি।
ফরিদ উৎসুক হয়ে জানতে চাইল, ‘কতদিন লাগতে পারে বলে আপনার ধারণা?’
‘ফরিদ সাহেব, মানসিক রোগ তো কোনো জীবাণুঘটিত রোগ না যে এন্টিবায়োটিক দিয়ে দিলাম—আট ঘণ্টা পর পর একটি করে ক্যাপসুল সাত দিন খেল—ভালো হয়ে গেল। শরীরের রোগ-ব্যাধি ওষুধ দিয়ে সারানো যায়, কিন্তু মনের ব্যাধির তেমন কোনো ওষুধ নেই। কঠিন মানসিক ব্যাধি সারতে সময় লাগে। অনেক সময় সারেও না। কিন্তু আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। মনের রোগ তাড়াবার ব্যবস্থা করতে হবে।’
ফরিদ মাথা নেড়ে চুপ করে রইল।
ড. জোনস আবার বললেন, ‘আপনার স্ত্রীর মাথায় অনেক এলোমেলো ব্যাপার আছে—যা আপনি কিংবা ভিকি কেউই বুঝতে পারছেন না। আপাত: দেখতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও মিস মিলি কিন্তু মোটেও স্বাভাবিক নয়। আমার ধারণা মিলি তার মনের অসুখটা লুকিয়ে রাখতে চাইছে। শরীরে যেমন ক্ষত থাকলে মানুষ তা লুকিয়ে রাখতে চায়—মনের ক্ষতও তাই। মনের অসুখও বিষাক্ত ঘায়ের মতো—কেউ দেখাতে চায় না। মিস মিলি এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগছে। আমাদের কাজ হবে তাকে সেই অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করা। কাজটা সহজ নয়—তবে চেষ্টা করলে সফল হবার সম্ভাবনা আছে বৈ কি।’
এক নাগারে থেমে থেমে কথাগুলো বলে ড. জোনস থামলেন। ফরিদ তাকিয়ে আছে তার মুখের দিকে। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনল সে।
একটু বিরতি দিয়ে ড. জোনস আবার বললেন, ‘অসুখের মূল কারণটি বুঝতে পারলেই অসুখ সেরে যায়।’
ফরিদ কী বলবে কিছু ভেবে পেল না। তবে বুঝতে পারল, মিলির চিকিৎসা সম্ভব। ড. জোনসের কথাগুলো তার মনে ধরেছে। সে আশার আলো দেখতে পেল। বেশ খুশি মনেই মিলিকে নিয়ে ফরিদ ড. জোনসের অফিস থেকে বের হয়ে এলো সে।
অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই মিলিকে ড. জোনসের ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে দিল ফরিদ।

মিলির সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে বেশিদিন সময় লাগল না।
একমাসের অল্প কিছু বেশি সময় ধরে মিলির চিকিৎসা চলল ড. জোনসের ক্লিনিকে তার বিশেষ তত্বাবধানে। বিভিন্ন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং থেরাপির মাধ্যমে মিলিকে সুস্থ করে তুললেন তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায়।
ক্লিনিক থেকে যেদিন রিলিজ পেল মিলি, সেদিন সে এক অন্যরকম মিলি।
ফরিদ আর ভিকি মিলিকে নিয়ে যখন বাসায় ফিরল তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমেছে চারিদিকে।
বাসায় ফিরে মিলিকে শোবার ঘরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল ফরিদ।
মিলি বলল, ‘তুমি একটা কাজ করো—তুমি ভিকিকে নিয়ে তোমার রুমে চলে যাও। তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে না, কেউ সহসা ঘুমবে। আমি একটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ব।’
ফরিদ বলল, ‘আমি তোমার পাশে বসে থাকব। তোমাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাচ্ছি না। তুমি হাতটা দাও তো—আমি তোমার হাতটা একটু ধরি।’
মিলি হাত বাড়িয়ে দিল। ফরিদ আলতো করে মিলির হাতখানি ধরল।
ভিকি দৌড়ে এসে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ইটস ফ্যামিলি টাইম। ক্যান উই অল স্লিপ টুগেদার লাইক বিফোর—প্লিজ মামি!’
মিলি হেসে দিয়ে বলল, ‘আয় পাগলা, আজ আমরা আগের মতো সবাই এক সঙ্গেই ঘুমাব।’
ভিকির চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে ফরিদের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমির ভঙ্গিতে বলল, ‘বাট বাবা, ইউ ক্যাননট স্নোর ওকে?’
ফরিদ হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই বলল, ‘কই, আমি কি স্নোর করি নাকি? আই ডোন্ট ডু দ্যাট এনিমোর!’
‘ইয়েস ইউ ডু।’ ভিকি দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল, ‘রিমেম্বার লাস্ট টাইম, আই ভিডিও টেপড ইয়োর স্নোরিং। ইউ ওয়ানা সি?’
ফরিদ আর মিলি একসঙ্গে হেসে দিল। মিলি বলল, ‘ফরিদ, একটা গল্প বলো। গল্প বলে আমার মনটা ভালো করে দাও।’
ইতিমধ্যেই ভিকি বাবা-মায়ের মাঝখানে তার জায়গা করে নিয়ে গুটিসুটি শুয়ে গল্প শোনার জন্যে তৈরি হয়ে গেল।
ফরিদ তার গল্প বলা শুরু করল…
মিলি চোখ বন্ধ করে আছে। বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে গল্প শুনছে ভিকি।
কী আনন্দময় সময়! আহারে!
(সমাপ্ত)

আগের পর্ব

Tags: No tags

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *