নতুন গল্প শুরু করলেও শেষ করতে পারছি না। নিজের উপরেই বিরক্ত লাগছে। কী আর করা—আপাতত পুরনো গল্প দিয়েই চালিয়ে দেই। অনেকেই হয়ত গল্পটি আগে পড়েছেন তবে এই গ্রুপে প্রথম!
এবার ডালাস নয় বরং হাযির হলাম আমেরিকার সানসাইন স্টেট নামে পরিচিত রৌদ্রকরোজ্জ্বল ফ্লোরিডার গল্প নিয়ে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। সবাইকে আগাম ধন্যবাদ।]
‘এই শোন, আজ কিন্তু তুমি আমাকে বাইরে নিয়ে যাবে। কফিটা খেয়ে রেডি হয়ে নাও।’ কফির কাপটা শোভনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল নীলিমা।
ছুটির দিনে সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি করা শোভনের স্বভাব। শোভন উঠে বসে কফির কাপ হাতে নিয়ে একটা চুমুক দিয়ে বলল, ‘আমি যেতে পারবো না। আমার কাজ আছে।’
‘তোমার তো সব সময়ই কাজ থাকে।’ একটু কপট রাগ করে নীলিমা বলল, ‘ঠিক আছে না গেলে, গ্রোসারিটা অন্তত করে নিয়ে আসি চলো।’
‘বললাম তো যেতে পারবো না। আমার অন্য কাজ আছে। তুমি একাই যাও। তাছাড়া তোমার ঐ বাংলাদেশী মাছ তরকারি কিনে আনা কিংবা খাওয়া কোনোটার ইচ্ছেই আমার নেই।’
শোভনের এমন কথায় নীলিমার মনটা বিষণ্ণ হলো। কিন্তু সে কিছু বলল না।
‘কী যে রান্না করো না, সারা এপার্টমেন্ট গন্ধ হয়ে যায়। বাইরে বেরুলে সবাই এমন ভাবে তাকায় যেন মনে হয় আমরা অন্য কোন গ্রহ থেকে এসেছি।’ শোভন কটাক্ষ করে বলল।
নীলিমা আহত দৃষ্টিতে তাকাল শোভনের দিকে। তার মুখ লাল হয়ে গেল।
‘ওসব স্পাইস এন্ড স্মেলি ফুড রান্না না করলে কি হয় না? প্যাকেট ফুড মাইক্রোওয়েভে গরম করে খেয়ে নিলেই তো হয়। রান্নার ঝামেলা নেই, ক্লিনিং এর ঝামেলা নেই। গন্ধও ছড়ায় না। আমেরিকায় এসেছো, একটু আমেরিকান হও।’
‘দেখো শোভন, তোমার মত সবাই তো আর আমেরিকান হয়ে যায়নি যে শুধু প্যাকেট ফুড খেতে হবে। আর তাছাড়া স্পাইসি ফুড শুধু আমি একাই রান্না করি না—অন্য বাঙালিরাও করে। ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী, মেক্সিকানরাও করে। আর ক্লিনিংতো তুমি করো না—ঘর গোছানো, রান্না করা, লন্ড্রি করা কোনো কিছুতেই তুমি হেল্প করো না। তাহলে এত কথা কেন বলছো!’ নীলিমা তীব্র প্রতিবাদ করে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
শোভন ভ্রূ কুঁচকে তাকাল নীলিমার চলে যাওয়ার দিকে।
দরজার সামনে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াল নীলিমা। শীতল কণ্ঠে বলল, ‘তুমি না যাবে না যাও, অত ফালতু কথা বলার দরকার কি।’
শোভন নীলিমার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে কফিতে চুমুক দিল।
কিছুক্ষণ পর বাইরে যাওয়ার জন্যে তৈরী হয়ে নীলিমা আবার আসল বেডরুমে। ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে তার পার্সটা নিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় শোভনকে বলল, ‘ঠিক আছে আমি যাচ্ছি। টেবিলে ব্রেকফাস্ট দেয়া আছে, ইচ্ছে হলে খেয়ে নিও।’
শোভন তাকাল নীলিমার দিকে। দেখল নীলিমা গ্রোসারী করতে যাচ্ছে সাধারণ সালোয়ার-কামিজ পড়ে। সে কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এটা কী পড়ে যাচ্ছ?’
‘দেখতেই তো পাচ্ছ!’ নীলিমা ইচ্ছে করেই বাঁকা উত্তর দিলো।
‘তোমাকে না বলেছি এ ধরনের ড্রেস পরে বাইরে যাবে না। আমেরিকায় এসেছো, অথচ গেয়ো স্বভাবটা এখনো গেলো না। একটু স্মার্ট হবার চেষ্টা করো।’
নীলিমা শীতল দৃষ্টিতে তাকাল শোভনের দিকে। তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলল, ‘তো তোমার কি ধারণা যারা সালোয়ার কামিজ কিংবা শাড়ি পড়ে তারা স্মার্ট নয়? সরি, তোমার এই কথাটা মেনে নিতে পারছি না।’ একটু থেমে সে আবার বলল, ‘আচ্ছা আমার শাশুড়ি আম্মা, আই মিন তোমার মা, যখন এই দেশে আসবেন, তাকে তুমি কি পরতে বলবে শোভন, জিন্স আর টি-শার্ট?’
শোভন কোনো উত্তর দিলো না। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে কফিতে চুমুক দিলো। নীলিমা এক দৃষ্টিতে শোভনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বের হয়ে গেল ঘর থেকে।
শোভন কফিতে শেষ চুমুক দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। হেঁটে গিয়ে দাঁড়াল জানালার সামনে। পর্দা সরিয়ে তাকাল নীচে। তাকিয়ে থাকল নীলিমার গাড়ি বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। নীলিমার গাড়ি আড়াল হতেই সে হাতে ফোন নিল তারপর ডায়াল করল একটা নাম্বারে।
…
নীলিমা আর শোভন দম্পতি বসবাস করে সূর্যের আলোয় আলোকিত শহর যুক্তরাষ্ট্রের সানশাইন স্টেট নামে খ্যাত ফ্লোরিডা রাজ্যের আলো ঝলমল মায়ামি শহরের প্রাণকেন্দ্রে। আটলান্টিক মহাসাগরের সবুজাভ জলঘেরা তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি এপার্টমেন্ট। তারই একটিতে তাদের বসবাস।
নীলিমার ঘরটি সুন্দর করে সাজানো। পরিপাটি বিছানা। ছিমছাম আসবাবপত্র। রুচি ও ঐতিহ্য দু’য়েরই পরিচয় পাওয়া যায়। আধুনিকতার ছোঁয়া মানানসই। সবকিছুতেই শিল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট। ঘরের দক্ষিণে উন্মুক্ত জানালা। বাতাসের ঝাপটায় মাঝে মাঝে পর্দাগুলো উড়ে উড়ে খেলা করে। জানালাটি নীলিমার খুব প্রিয়। কারণে, অকারণে খুব বেশি মন খারাপ হলে, বা সময় কাটানোর জন্য ঐ জানালাটায় গিয়ে দাঁড়ায় সে। বাইরের ফুরফুরে বাতাস উদাস করে দেয় তার মনকে। ঐ জানালাটায় দাঁড়ালে দূরের সমুদ্র দেখা যায়।
গাড়ি চালাতে চালাতে আনমনা হয়ে যায় নীলিমা। শোভনের কিছু কথা কিছু ব্যবহার তাকে ভীষণ আহত করে। সে জানালার কাচ নামিয়ে দিল। একবার ভাবল গ্রোসারী বাদ দিয়ে কাছের কোন বিচে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকবে। সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার এই একটা সুবিধা। যখন তখন চলে যাওয়া যায়।
নীলিমার খুব পছন্দের শহর মায়ামি। মায়ামি নামের মধ্যেই কেমন যেন একটা রোমান্টিক আবেশ মাখানো রয়েছে। দেশ থেকে এসেই সে এই শহরটিকে ভালোবেসে ফেলে। ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র দেখার খুব শখ ছিল নীলিমার। ইচ্ছে ছিল কক্সবাজার যাবে। কিন্তু যাওয়া হয়নি। সব সময় ভাবত বিয়ের পর তার স্বামীকে নিয়ে প্রথমেই চলে যাবে সমুদ্র সৈকতে। লোনা পানিতে পা ভেজাবে। বেলাভূমিতে হাত ধরাধরি করে হাঁটবে। সূর্যাস্ত দেখবে। এক সঙ্গে পাশাপাশি বসে জ্যোৎস্নার আলো দেখবে।
নীলিমার ভালো লাগে শাড়ি পরতে। সমুদ্র সৈকতে বালিতে হাঁটতে। আকাশের নীল তার পছন্দের রঙ। জ্যোৎস্নার আলোতে তার মন উচাটন হয়। সে কবিতা ভালোবাসে, একা একা মাঝে আবৃত্তিও করে। ভালো বাসে বাংলা গান। প্রবাসে থেকেও সে হৃদয়ে ধারণ করে এক টুকরো বাংলাদেশ।
অন্যদিকে শোভন, পুরোপুরিই আমেরিকান জীবন ধারা। কোনো বাঙালি অনুষ্ঠানে সে যায় না। বাংলাদেশীদের সাথে মেলামেশাও করে না। তার একটা জগত আছে। সম্পূর্ণই আলাদা।
ফ্লোরিডায় প্রায় ২০ হাজারের মত বাংলাদেশীর বসবাস। মায়ামিতে আছে ৫ থেকে ৬ হাজার। মায়ামি তথা ফ্লোরিডার আবহাওয়া পুরোটাই বাংলাদেশের মত। গরম, আর্দ্রতা বাংলাদেশের মতই। আবার শীতকালে তাপমাত্রা ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যেই থাকে। শুধু আবহাওয়া নয়, গাছপালাগুলাও দেশের মতই পরিচিত।
গ্রোসারী শেষ করে, পছন্দের কিছু মাছ কিনে নিয়ে এসে রান্নার কাজটা শেষ করল নীলিমা। রান্না শেষ করেই শুরু হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান। প্রথমেই ধরল লিভিং রুমের কার্পেট। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ক্লিনিং শুরু করতেই বেজে উঠল ফোন। কিন্তু ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দে ফোন রিং এর শব্দ নীলিমার কানে পৌঁছল না। ক্লিনিং শেষ করে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সুইচ বন্ধ করতেই ফোনের শব্দ শুনতে পেল সে।
নীলিমা এগিয়ে গিয়ে ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে রিনরিনে কণ্ঠ ভেসে এলো, ‘তোর ব্যাপারটা কি বলতো? ইদানীং যে কল করা একেবারে ছেড়েই দিয়েছিস? কী করিস সারাদিন? কল করে ম্যাসেজ রাখলেও তো তুই কল ব্যাক করিস না। আজব।’
নীলিমা হেসে ফেলল। অপর প্রান্তের রিনরিনে কণ্ঠের মেয়েটির নাম মুনা। নীলিমা প্রিয় বান্ধবী। খুব চটপটে আর ছটফটে স্বভাবের মেয়ে মুনা। তার চোখে মুখে দুষ্টুমি খেলা করে সারাক্ষণ।
মুনা বলল, ‘হাসছিস যে?’
‘মুনা, তোর এই ব্যাপারটা না আমার খুব ভালো লাগে, তাই হাসছি।’
‘কোন ব্যাপারটা?’
‘এইযে, হাই হ্যালো না বলে হঠাৎ করে মাঝখান থেকে কথা বলা শুরু করে দিস।’
‘হ্যাঁ হয়েছে, আর বলতে হবে না। কি করছিলি?’
‘এইতো, কার্পেট ভ্যাকুয়াম করছিলাম। যা ধুলা জমে।’
‘তুই এত পিকি কেন রে? সারাক্ষণ শুধু ক্লিনিং আর পলিসিং, পারিসও বাবা।’
নীলিমা আবারো হাসলো। মুনা বলল, ‘এই শোন, যে জন্য তোকে ফোন করেছি—এই শনিবার বিকেলে তোদের কোন প্লান আছে?’
একটু ভেবে নিয়ে নীলিমা বলল, ‘এই শনিবার? আমারতো নেই। তবে শোভনের কথা জানিনা, ও-তো আমাকে কিছু বলে না। কেনরে?’
‘তোর জন্য একটা দারুণ খবর আছে?’
‘কি খবর?’ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল নীলিমা।
‘তোর প্রিয় কবি মাহমুদ সাজ্জাদ ফ্লোরিডায় আসছেন।’
‘সত্যি বলছিস? কোথায়? কখন?’
‘ইয়েস মাই ক্লিনিং লেডী, সত্যি বলছি। জামান ভাই ফোন করেছিলেন। উনারা প্রতি মাসে যে কাব্য জলসা করেন, এ মাসে কবি সাহেব স্পেশাল গেস্ট হয়ে আসছেন। নিজে কবিতা আবৃত্তি করবেন, ভক্তদের অটোগ্রাফ দেবেন। যাবি নাকি?’
‘যাবো না মানে? কি বলছিস তুই? অফকোর্স যাবো।’ নীলিমার কণ্ঠে উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ল।
‘শোভন ভাই তো যাবে বলে মনে হয় না—উনি তো আবার বাঙ্গালিদের কোনো অনুষ্ঠানে যান না। না গেলে বলিস, আ’উইল পিক ইউ আপ অন দ্য ওয়ে।’
‘আমি শোভনকে নিয়েই যাবো। যেতে না চাইলেও জোর করে নিয়ে যাবো।’
‘তাহলে তো ভালোই। কল করিস, জাস্ট ইন কেস, ইউ নিড মি।’
‘থ্যাঙ্ক ইউ বন্ধু!’
‘থ্যাঙ্ক ইউ দিতে হবে না। আমাকে জানাস কিন্তু।’
‘হ্যাঁ জানাবো।’
মুনা ফোন কেটে দিল।
নীলিমা ফোন হাতে খুশী মনে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল আনমনে।
কবি মাহমুদ সাজ্জাদের নাম শুনেই নীলিমার মনটা কেমন জানি আনচান করতে থাকে। কখন হবে সেই কাব্য জলসা?
রাতে খাবার টেবিলে নীলিমা আর শোভনের মধ্যে সাধারণত প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা হয় না। শোভন যেহেতু দেশী খাবার খুব একটা পছন্দ করে না, তাই সে সাধারণত নীলিমার রান্নার তেমন কোনো প্রশংসাও করে না। খেতে কেমন হয়েছে সে ব্যাপারে তার তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। নীলিমা মাঝে মাঝে আগ্রহ নিয়ে রান্না কেমন হয়েছে জিজ্ঞেস করলে সে ‘হয়েছে’, ‘ভালোই’ জাতীয় উত্তর দেয়। তাই নীলিমাও খুব একটা আগ্রহ নিয়ে আর জিজ্ঞেস করে না।
শোভন চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। নীলিমা কয়েকবার তাকাল তার দিকে। শোভন অবশ্য লক্ষ করল না। সে তার মত করে খেয়ে চলেছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নীলিমা আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, ‘এই শনিবার বিকেলে তোমার কি কোন প্লান আছে?’
‘কেন?’
‘বাংলাদেশ থেকে কবি মাহমুদ সাজ্জাদ আসছেন এখানকার একটা সেমিনার এ গেস্ট হয়ে।’
‘মাহমুদ সাজ্জাদ? এটা আবার কে? এই নামের কোন কবি সাহিত্যিকের নাম তো শুনি নাই।’
‘আশ্চর্য! তুমি তাঁকে চেনো না?’ নীলিমা অবিশ্বাস্য চোখে তাকাল শোভনের দিকে।
‘এমন ভাবে তাকাচ্ছ যেন তাকে না চিনে আমি মস্ত বড় অপরাধ করে ফেলেছি।’
নীলিমার ইচ্ছে হলো বলে একজন বাঙালি হয়ে কবি মাহমুদ সাজ্জাদকে চিনতে না পারাটা অপরাধেরই শামিল। কিন্তু সেসব কিছু না বলে, একটু ভেবে নিয়ে নীলিমা বলল, ‘আমরা যাচ্ছি কিন্তু।’ নীলিমার কণ্ঠে একধরনের উত্তেজনা স্পষ্ট।
‘আমরা যাচ্ছি মানে? তুমি কি আমাকে নিতে চাইছো? ওসব আঁতেলদের আঁতলামি দেখতে যাওয়ার ইচ্ছে বা সময় কোনোটাই আমার নেই। তোমার ইচ্ছে হয় তুমি যাও।’
শোভনের এমন করে বলায় নীলিমা একটু আহতই হলো। সে মন খারাপ করে বলল, ‘বাংলাদেশের কোন অনুষ্ঠানে তুমি যাওনা বলে আমারও যাওয়া হয় না। আর একা যেতে আমার ভাল লাগে না তা তুমি জানো।’
‘ভালো না লাগলে যেও না।’ নির্লিপ্ত উত্তর শোভনের।
‘তাই বলে কোন অনুষ্ঠানেই আমার যাওয়া হবে না?’ নীলিমার কণ্ঠ ধরে এলো। সে অভিমানী গলায় আবার বলল, ‘ঠিক আছে তোমার যেতে হবে না, আমি একাই যাবো।’ বলেই সে খাবার শেষ না করেই উঠে চলে গেলো।
শোভন তার চলে যাওয়ার দিকে একবার তাকিয়ে আবার খেতে শুরু করল।
নীলিমা কিছুতেই নিজেকে সংযত রাখতে পারছে না। বাচ্চা মেয়েদের মত ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না আসছে। সে এখন বাথরুমের দরজা বন্ধ করে নিঃশব্দে কিছুক্ষণ কাঁদবে। নীলিমা বাথরুমে গিয়ে ঢুকল। বেসিনের কল ছেড়ে দিল। সে চায়না শোভন তার কান্নার শব্দ শুনুক। যার কাছে সামান্য আবেগের মূল্য নেই, তাকে তার কান্না শুনিয়ে নিজেকে ছোট করার কোনো মানে হয় না।

